গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো

দিগন্ত প্রতিবেদন
দিগন্ত প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ | দুপুর ১:২১
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো
ছবি- পিক্সাবেই

গরম শুরু হলেই বাংলাদেশের অনেক পরিবারে একটা সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। ছোট বাচ্চার শরীরে ঘামাচি ওঠে, ঘাড় লাল হয়ে যায়, পিঠে ছোট ছোট দানা দেখা দেয়। তখন অনেকে ভাবেন, “তেল দিলে হয়তো শরীর ঠান্ডা থাকবে।” কিন্তু সব তেল বাচ্চার জন্য নিরাপদ না। বিশেষ করে গরমের সময় ভুল তেল ব্যবহার করলে শিশুর ত্বকে জ্বালা, র‍্যাশ, এমনকি ফাঙ্গাল সংক্রমণও বাড়তে পারে। আর শিশুর যত্নে অবশ্যই জেনে নিবেন গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো। 

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাচ্চাদের ত্বক খুব দ্রুত ঘেমে যায়। তাই ভারী, অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত বা বেশি স্টিকি তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এসব তেল ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় শিশুদের জন্য হালকা, কম কেমিক্যালযুক্ত এবং দ্রুত শোষিত হয় এমন তেল বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল সবচেয়ে ভালো

অনেক শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্কিন কেয়ার বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে হালকা ধরনের তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। বাংলাদেশের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত তেল এই গরমে শিশুর স্কিনে দারুন প্রভাব ফেলবে তা হল

নারিকেল তেল

বাংলাদেশে গরমের সময় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও নিরাপদ তেলের মধ্যে নারিকেল তেল অন্যতম। বিশেষ করে ভার্জিন বা কোল্ড প্রেসড নারিকেল তেল শিশুর ত্বকে তুলনামূলক আরাম দেয়।

ঢাকা মেডিকেলের শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসকদের মতে, হালকা নারিকেল তেল অনেক শিশুর ত্বকে শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চিটচিটে অনুভূতি তৈরি করে না।

গরমে ঘামাচি প্রবণ বাচ্চাদের জন্যও এটি তুলনামূলক ভালো অপশন হিসেবে ধরা হয়।

অলিভ অয়েল

অনেক মা অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরমে ভারী অলিভ অয়েল কিছু শিশুর ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

যেসব শিশুর একজিমা বা সেনসিটিভ স্কিন আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো।

বাদাম তেল

বাদাম তেলে ভিটামিন ই থাকায় অনেক পরিবার এটি ব্যবহার করে। তবে গরমে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বকে ঘাম জমতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করাই নিরাপদ।

বেবি অয়েল

বাজারে অনেক ধরনের বেবি অয়েল পাওয়া যায়। কিন্তু সব বেবি অয়েল ভালো না।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন, “Paraben Free”, “Mineral Oil Free” এবং “Fragrance Free” লেখা পণ্য বেছে নেওয়া নিরাপদ।

অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত বেবি অয়েল অনেক সময় শিশুর ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে।

গরমে কোন তেল এড়িয়ে চলা উচিত

সরিষার তেল

বাংলাদেশে আগে বাচ্চাদের গায়ে সরিষার তেল বেশি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেল কিছু শিশুর ত্বকে জ্বালা ও র‍্যাশ বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে নবজাতক ও সেনসিটিভ স্কিনের শিশুর ক্ষেত্রে এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত তেল

অনেক তেলে কৃত্রিম পারফিউম থাকে। এগুলো শিশুর ত্বকে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাচ্চার ত্বকে অতিরিক্ত তেল লাগানোর প্রয়োজন নেই। হালকা করে ম্যাসাজ করলেই যথেষ্ট।তারা বলেন, তেল ব্যবহারের পর দীর্ঘ সময় শিশুকে গরম পরিবেশে রাখা ঠিক না। এতে ঘাম জমে ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

লাইফস্টাইল থেকে আরো

আরো দেখুন
ঘুম থেকে উঠেই ভুলেও মোবাইল দেখবেন না, নতুন গবেষণায় মিলল ভয়ংকর তথ্য

অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৪ মে, ২০২৬ 0
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো

গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো

গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়

গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়

গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো

গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো

ভারি বৃষ্টিতে রেইনকোট নাকি ছাতা

ভারি বৃষ্টি নামলেই অনেকের মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘোরে “আজ ছাতা নেব, নাকি রেইনকোট?” বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এই ছোট্ট সিদ্ধান্তটাই কখনো বড় ঝামেলা বাঁচায়, আবার কখনো পুরো দিনটাই ভিজিয়ে দেয়।  শহরের রাস্তায় দেখা যায় মজার এক দৃশ্য। কেউ মাথার ওপর বিশাল ছাতা ধরে যুদ্ধ করছেন বাতাসের সঙ্গে, আবার কেউ রেইনকোট পরে আরামে হাঁটছেন। তবে দুটোরই আছে আলাদা সুবিধা আর ঝামেলা। তবে মজার বিষয় হলো অনেকের কাছে ছাতা কিংবা রেইনকোট কোনোটিই নেই।   ভারি বৃষ্টিতে বেশিরভাগ মানুষ এখন রেইনকোটকেই বেশি ভরসা করেন। কারণ, বাতাস এলেও শরীর কম ভেজে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক বা যারা নিয়মিত বাইরে থাকেন, তাদের কাছে রেইনকোট যেন “বর্ষার বর্ম”। দুই হাত ফাঁকা থাকে, হাঁটাচলাও সহজ হয়। তবে রেইনকোট পরলেই যে সব সমস্যার শেষ, তা নয়। অনেকেই বলেন, “ভাই, রেইনকোট পরলে মনে হয় ভেতরে আলাদা একটা গরমের সিজন শুরু হয়!” বিশেষ করে গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রেইনকোট পরে থাকাটা বেশ অস্বস্তিকর। অন্যদিকে ছাতার আলাদা একটা “ক্লাসিক” আবেদন আছে। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী অনেকেই এখনও ছাতাকেই প্রথম পছন্দ বলেন। কারণ, এটা ব্যবহার করা সহজ, গরমও কম লাগে। আবার বৃষ্টি থেমে গেলে গুটিয়ে হাতে নিয়েই হাঁটা যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, একটু বাতাস হলেই ছাতা উল্টে যায়। তখন রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছাতার সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু হয়, সেটা আশপাশের মানুষও মজা নিয়ে দেখে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা বা মাঝারি বৃষ্টিতে ছাতা যথেষ্ট। তবে ঝড়ো হাওয়া আর টানা ভারি বৃষ্টিতে রেইনকোট বেশি কার্যকর। মজার বিষয় হলো, এখন অনেকেই “সেফ সাইডে” থাকতে দুটোই ব্যবহার করেন। ব্যাগে ছোট ছাতা, গায়ে রেইনকোট মানে বৃষ্টি যতই চালাকি করুক, ভেজানোর সুযোগ কম! শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা অনেকটাই অভ্যাস আর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। কেউ বলেন, “ছাতা ছাড়া বৃষ্টি জমে না”, আবার কেউ মনে করেন, “রেইনকোটই আসল লাইফ সেভার!”

দিগন্ত প্রতিবেদন ৯ মে, ২০২৬ 0
ফ্যান পরিষ্কার করলে কি আসলেই বাতাস বাড়ে?

ফ্যান পরিষ্কার করলে কি আসলেই বাতাস বাড়ে?

গরমে চার্জার ফ্যান কেনার আগে যে ৩টি বিষয় মনে রাখবেন

গরমে চার্জার ফ্যান কেনার আগে যে ৩টি বিষয় মনে রাখবেন

সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক! জেনে নিন এই গোপন ট্রিকস।

সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক! জেনে নিন এই গোপন ট্রিকস।

বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে আইপিএস নাকি সোলার? কোনটি বেশি লাভজনক?
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে আইপিএস নাকি সোলার? কোনটি বেশি লাভজনক?

গরমের শুরুতেই দেশজুড়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।  দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি এখন চরমে। এই সংকট মোকাবিলায় গৃহস্থালি ও ছোট অফিসের জন্য অনেকেই বিকল্প খুঁজছেন। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে আইপিএস (IPS) ভালো হবে নাকি সোলার (Solar) সিস্টেম? কোনটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক? খরচ ও সুবিধার নিরিখে এক তুলনামূলক বিশ্লেষণ। সারা বিশ্বের এমন উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের কোথাও দেখা যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই সময়টিতে নিজের ডিভাইস গুলোকে অবশ্যই চারজিং করার জন্য প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এমনকি অতিরিক্ত গরমে মানুষ চায় অন্ততপক্ষে একটু ফ্যানের বাতাস খেয়ে ঠান্ডা থাকতে। আর এই তীব্র লোডশেডিং এ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে এই দুটি সমাধানে বেশি ব্যবহৃত। তবে কোনটি আপনার জন্য সুবিধা জনক? আইপিএস: তাৎক্ষণিক সমাধান, কিন্তু নির্ভরশীলতা বিদ্যুতেই আমাদের দেশে আইপিএস সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধান। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রাথমিক খরচ অনেক কম। একটি সাধারণ মানের আইপিএস ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যেই সেটআপ করা সম্ভব। তবে এর বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটিও মূল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। আইপিএস মূলত ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ জমিয়ে রাখে। যখন দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হয়, তখন আইপিএস চার্জ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় না। ফলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে এবং বিদ্যুৎ বিলও কিছুটা বেড়ে যায়। এছাড়া প্রতি দুই-তিন বছর অন্তর ব্যাটারি পরিবর্তন করতে গিয়ে বড় অঙ্কের একটি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ পকেটে চাপে। সোলার: শুরুতে খরচ বেশি, ভবিষ্যতে নিশ্চিন্ত সোলার সিস্টেম বা সৌরবিদ্যুৎ এখন আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে অনেকে ব্যাবহার করছেন।ঙ্সোকারন লার প্যানেল দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এবং ব্যাটারি চার্জ করে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় কারেন্ট না থাকলেও আপনার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ে না। সোলারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একবার সেটআপ করলে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর প্যানেল নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। আইপিএসের তুলনায় সোলারে আপনার মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। বর্তমানে উন্নত মানের লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করায় এর স্থায়িত্বও অনেক বেড়েছে। তবে এর প্রাথমিক খরচ আইপিএসের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে। কোনটি বেশি লাভজনক? আপনি যদি শুধুমাত্র ফ্যান ও লাইট চালানোর জন্য সাময়িক সমাধান চান, তবে আইপিএস সাশ্রয়ী মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে সোলার অনেক বেশি লাভজনক। একটি তুলনামূলক হিসাব: আইপিএস: প্রাথমিক খরচ কম হলেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় এবং ২ বছর পর পর ব্যাটারি বদলাতে হয়। ৫-৭ বছরের হিসাবে এটি সোলারের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। সোলার: শুরুতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও মাসে মাসে কোনো বিল নেই। ৫ বছরের মধ্যে আপনার প্রাথমিক বিনিয়োগের টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের মাধ্যমে উঠে আসে। পরবর্তী ১৫-২০ বছর আপনি কার্যত ফ্রিতে বিদ্যুৎ সেবা পান। আপনার জন্য পরামর্শ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সোলার সিস্টেমে শিফট হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যারা ঢাকার মতো শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন, তারা চাইলে পোর্টেবল সোলার প্যানেল বা হাইব্রিড ইনভার্টার ব্যবহার করতে পারেন। আর যাদের নিজস্ব ছাদ ব্যবহারের সুযোগ আছে, তাদের জন্য সোলারই সেরা পছন্দ। পরিশেষে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার বাজেট এবং দৈনিক কত সময় বিদ্যুতের ব্যাকআপ প্রয়োজন তা যাচাই করে নিন। বাজেট একটু বেশি হলে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সোলার প্যানেল লাগানোই হবে সবচেয়ে টেকসই এবং স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

ডিপি প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ 0
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো?

গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো?

ছবিঃ ক্যানভা

নাক ডাকা শুধু বিরক্তির নয়, মৃত্যুর কারণও হতে পারে!

ছবিঃ ইন্টারনেট

গরমে বিদ্যুৎ বিল কমাবেন যেভাবে