গরমের কথা উঠলেই অনেকের মনে আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি? এর উত্তর শুধু তাপমাত্রা দিয়ে নির্ধারণ করা হয় না। বিজ্ঞানীরা সাধারণত বার্ষিক গড় তাপমাত্রা, দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া এবং মরুভূমির পরিস্থিতি বিবেচনা করেন।
বাংলাদেশে যখন গরম পড়ে, তখন অনেকেই বলেন “এবারের মতো গরম জীবনে দেখিনি।” কিন্তু পৃথিবীর এমন কিছু দেশ আছে, যেখানে বছরের বড় একটা সময় ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্বাভাবিক ঘটনা। ২০২৬ সালের জলবায়ু গবেষণা, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ অঞ্চলগুলো এখন মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় কেন্দ্রীভূত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মরুভূমির বিস্তার, কম বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে এসব দেশে গরম আরও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক জলবায়ু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার "মালি" কে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। দেশটির বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। সাহারা মরুভূমির প্রভাবের কারণে এখানে প্রায় সারা বছরই তীব্র গরম অনুভূত হয়।
তবে “সবচেয়ে বেশি রেকর্ড তাপমাত্রা”র দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। কুয়েতের মিত্রিবা এলাকায় অতীতে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা।
কুয়েতঃ গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। মরুভূমি অঞ্চল হওয়ায় বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক। বৃষ্টিপাত খুব কম।
মালিঃ বিশ্বের সবচেয়ে গরম দেশগুলোর একটি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা থাকে। সাহারা মরুভূমির প্রভাব এখানে প্রবল।
সৌদি আরবঃ বিশেষ করে রিয়াদ ও মরুভূমি অঞ্চলগুলোতে তীব্র গরম পড়ে। হজ মৌসুমে অনেক সময় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ দুবাই ও আবুধাবিতে আর্দ্র গরমের মাত্রা বেশি। কখনো কখনো “Feels Like” তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির ওপরে অনুভূত হয়।
ইরাকঃ ইরাকের কিছু এলাকায় গ্রীষ্মে ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি এখন আরও ঝুঁকিতে।
ইরানঃ ইরানের কিছু মরুভূমি অঞ্চলে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা যায়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল বিশেষভাবে উষ্ণ।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জলবায়ু গবেষকদের মতে, কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, এসব দেশের বড় অংশ মরুভূমি এলাকা। ফলে মাটিতে আর্দ্রতা কম এবং সূর্যের তাপ দ্রুত শোষিত হয়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ায় পরিবেশ ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কম থাকে। তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশের তালিকায় না থাকলেও গত কয়েক বছরে দেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ তাপপ্রবাহ এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের বিভিন্ন জলবায়ু প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়াকে “উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চল” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবীর কিছু অঞ্চল মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যৌথ প্রভাব মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
গরমের কথা উঠলেই অনেকের মনে আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি? এর উত্তর শুধু তাপমাত্রা দিয়ে নির্ধারণ করা হয় না। বিজ্ঞানীরা সাধারণত বার্ষিক গড় তাপমাত্রা, দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া এবং মরুভূমির পরিস্থিতি বিবেচনা করেন। বাংলাদেশে যখন গরম পড়ে, তখন অনেকেই বলেন “এবারের মতো গরম জীবনে দেখিনি।” কিন্তু পৃথিবীর এমন কিছু দেশ আছে, যেখানে বছরের বড় একটা সময় ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্বাভাবিক ঘটনা। ২০২৬ সালের জলবায়ু গবেষণা, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ অঞ্চলগুলো এখন মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় কেন্দ্রীভূত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মরুভূমির বিস্তার, কম বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে এসব দেশে গরম আরও বাড়ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি? সাম্প্রতিক জলবায়ু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার "মালি" কে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। দেশটির বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। সাহারা মরুভূমির প্রভাবের কারণে এখানে প্রায় সারা বছরই তীব্র গরম অনুভূত হয়। তবে “সবচেয়ে বেশি রেকর্ড তাপমাত্রা”র দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। কুয়েতের মিত্রিবা এলাকায় অতীতে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা। বর্তমানে পৃথিবীতে সবচেয়ে উষ্ণ কয়েকটি দেশের তালিকা কুয়েতঃ গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। মরুভূমি অঞ্চল হওয়ায় বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক। বৃষ্টিপাত খুব কম। মালিঃ বিশ্বের সবচেয়ে গরম দেশগুলোর একটি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা থাকে। সাহারা মরুভূমির প্রভাব এখানে প্রবল। সৌদি আরবঃ বিশেষ করে রিয়াদ ও মরুভূমি অঞ্চলগুলোতে তীব্র গরম পড়ে। হজ মৌসুমে অনেক সময় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ দুবাই ও আবুধাবিতে আর্দ্র গরমের মাত্রা বেশি। কখনো কখনো “Feels Like” তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির ওপরে অনুভূত হয়। ইরাকঃ ইরাকের কিছু এলাকায় গ্রীষ্মে ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি এখন আরও ঝুঁকিতে। ইরানঃ ইরানের কিছু মরুভূমি অঞ্চলে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা যায়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল বিশেষভাবে উষ্ণ। কেন এসব দেশে এত গরম? বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জলবায়ু গবেষকদের মতে, কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, এসব দেশের বড় অংশ মরুভূমি এলাকা। ফলে মাটিতে আর্দ্রতা কম এবং সূর্যের তাপ দ্রুত শোষিত হয়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ায় পরিবেশ ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কম থাকে। তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ কি আরও গরম হয়ে উঠছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশের তালিকায় না থাকলেও গত কয়েক বছরে দেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ তাপপ্রবাহ এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের বিভিন্ন জলবায়ু প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়াকে “উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চল” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কী হতে পারে জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবীর কিছু অঞ্চল মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যৌথ প্রভাব মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .