দুই পা অকেজো, তবু থামেননি আশির; এখন মানুষের ভরসার নাম

দিগন্ত প্রতিবেদন
দিগন্ত প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৯ মে, ২০২৬ | দুপুর ১২:১৩

জন্ম থেকেই দুই পা অকেজো। তাই অন্যদের মতো দৌড়ে বেড়ানো, স্বাভাবিকভাবে হাঁটা কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো চলাফেরা—এসব কখনোই ছিল না আশির উদ্দিনের জীবনের অংশ। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাকেই শক্তি বানিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আস্থার নাম।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের কলিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আশির উদ্দিন। প্রায় দেড় যুগ ধরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন তিনি। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদন, সরকারি বিভিন্ন ফরম পূরণ—এসব কাজের জন্য প্রতিদিনই তার কাছে ভিড় করেন এলাকার মানুষ।

দুই পায়ে দাঁড়াতে না পারলেও থেমে থাকেননি আশির। বিশেষ ধরনের জুতা ও দুই হাতের ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন একসময়। এখন একটি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন কর্মস্থলে যান। তবে পুরোনো গাড়িটি মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

আশির উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। হোসেনগাঁও ইউনিয়নের মুন্সি আব্দুল জব্বার দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর কৃষিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে টিউশনি করিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণও নেন। সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়ে গত ১৫ বছর ধরে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো নিজেকে অসহায় ভাবিনি। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন মানুষের কাজে লাগতে পারি, এটাই বড় পাওয়া। তবে পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। যদি সরকারি আরও সহযোগিতা পেতাম, তাহলে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারতাম।’

স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার পাঁচ সদস্যের সংসার। মানুষের দেওয়া সম্মানী দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের জীবন।

সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আশির উদ্দিন শুধু একজন উদ্যোক্তাই নন, তিনি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণাও। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি, বরং নিজের যোগ্যতায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

হোসেনগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আশির উদ্দিন কখনো নিজেকে দুর্বল ভাবেননি। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি মানুষের সেবা দেন। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার কাজে সন্তুষ্ট।’

রাণীশংকৈল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, সমাজসেবা অফিস থেকে আশির উদ্দিনকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঋণ সুবিধা নিয়েও তিনি নিজের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তার সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে কয়েক বছর আগে তাকে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসেবেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরো

আরো দেখুন
বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের জন্ম, মৃত্যু হলো হামে
বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের জন্ম, মৃত্যু হলো হামে

ঢাকাঃ বিয়ের ১১ বছর পর ঘরে এসেছিল ছোট্ট ফাইয়াজ হাসান তাজিম। অনেক অপেক্ষা, অনেক কষ্ট আর ঝুঁকির পর আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হয়েছিল শিশুটির। ছেলেকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন মা ফারজানা ইসলাম ও বাবা হেলাল ভূঁইয়া। সেই সন্তানই মাত্র ৮ মাস ১৮ দিনের মাথায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাজিমের মা নিজের ফেসবুক আইডির নামও রেখেছিলেন ‘তাজিম এর আম্মু’। ছেলেকে নিয়েই ছিল তার পৃথিবী। এখন সেই ফেসবুকজুড়ে শুধু ছেলের স্মৃতি আর মায়ের কান্না। গত ২২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাজিম। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছেন মা-বাবা। প্রথমে নিউমোনিয়া, পরে পাতলা পায়খানা, এরপর হাম একটার পর একটা জটিলতায় ভুগছিল শিশুটি। ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এটা ছিল আমার বাবুর জীবনের শেষ হাসির ছবি।’ মেসেঞ্জারে ছেলের একটি ছবি পাঠিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, শুধু হামের চিকিৎসাতেই ১৭ দিনে চার লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন। কোথাও বেড পাননি, কোথাও আইসিইউ খালি ছিল না। কখনো অ্যাম্বুলেন্সে, কখনো কোলে করে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ছুটেছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। ১৮ মার্চ প্রথমে নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাজিমকে। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২৫ মার্চ বাড়ি ফিরলেও চার দিনের মাথায় আবার জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। ৫ এপ্রিল ছেলেকে নিয়ে যান রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। সেখানে বেড না পেয়ে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে সেখান থেকে আরও কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কোথাও স্থায়ীভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেননি। ফারজানা বলেন, এক হাসপাতালে ক্যানোলা দেওয়ার পর ছেলের পা ফুলে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার কোথাও পিআইসিইউতে মা-বাবার থাকার অনুমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল আবার নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাজিমকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি। হাসপাতালের অনেক কাগজপত্র থাকলেও শেষ ছাড়পত্রের নথিটা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। ফারজানা বলেন, ‘ছেলের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার সময় কারও আর ওই কাগজটার কথা মনে ছিল না।’ ফেসবুকে এখনো ছেলের ছবি, পায়ের ছবি আর স্মৃতিগুলো পোস্ট করেন তাজিমের মা। তিনি জানান, ১ মে ছিল তাজিমের হামের প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার তারিখ। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ছোট্ট শিশুটি। ক্ষোভ আর কষ্টে ফারজানা লিখেছেন, ‘দুই মাস ধরে নিষ্পাপ শিশুরা মরে যাচ্ছে, এ নিয়ে সংসদে আলাপ নেই। কারও কোনো দায় নেই। কেউ ব্যর্থতা স্বীকার করছে না। সব দোষ মা ও শিশুর। শিশুরা এই দেশে জন্ম নিল কেন? মা সন্তানের জন্ম দিল কেন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯ মে, ২০২৬ 0

দুই পা অকেজো, তবু থামেননি আশির; এখন মানুষের ভরসার নাম

দাওয়াত না পেয়ে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে হট্টগোল

দাওয়াত না পেয়ে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে হট্টগোল করলেন বিএনপির সাবেক নেতা

বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে সেই কবরেই লুটিয়ে আরেক বন্ধুর মৃত্যু

বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে সেই কবরেই লুটিয়ে আরেক বন্ধুর মৃত্যু