সন্তান জন্মের পর নতুন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। তবে অনেক সময় না বুঝেই মায়েরা এমন কিছু খাবার খান, যা নবজাতকের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নিই নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা।
সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা যেমন প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন, সন্তান জন্মের পর সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মায়ের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন উপাদান বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্তন্যদানকালীন সময়ে অসচেতন খাদ্যাভ্যাস কেবল শিশুর অস্বস্তি নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মা নিজের পছন্দমতো খাবার খেয়ে ফেলেন, যার তীব্র ঘ্রাণ বা শক্তিশালী উপাদান বুকের দুধের স্বাদ বদলে দেয়। অনেক শিশু এই স্বাদের পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না, ফলে তারা দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে।
সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে প্রসূতি মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিছু খাবার বুকের দুধের গুণমান পরিবর্তন করে দেয়। এতে শিশুর পেটে গ্যাস, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
নতুন মায়েদের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এতে নবজাতকের ঘুমের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে এবং শিশু সারাক্ষণ খিটখিটে মেজাজে থাকে। তাই কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
সব সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। টুনা, কিং ম্যাকেরেল বা শার্কের মতো মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ বা মার্কারি থাকে। এই উপাদানটি শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে পারদযুক্ত মাছ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
আমাদের দেশের মায়েরা ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে।
ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত টক ফল যেমন লেবু বা কমলা মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে থাকা এসিড শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং অনেক সময় ডায়াপার র্যাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিমিত পরিমাণে টক খাবার গ্রহণ করুন।
রাস্তার ধারের ভাজা পোড়া কিংবা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব খাবার মায়ের বুকের দুধের পুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করে। কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার নবজাতকের সেনসিটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
যদি পরিবারের কারো আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে মাকেও সাবধান হতে হবে। যেমন; চিনাবাদাম, গরুর দুধ বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর যদি দেখেন শিশুর শরীরে র্যাশ হচ্ছে, তবে সেই খাবারটি তৎক্ষণাৎ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন।
কিছু সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি মায়ের শরীরে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসের প্রভাব অনেক সময় শিশুর পেটে ব্যথার কারণ হয়। যদি দেখেন এসব সবজি খাওয়ার পর শিশু অস্বাভাবিক কাঁদছে, তবে কিছুদিন এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাকেই তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হতে হবে। কোনো নতুন খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, মায়ের সচেতনতাই শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের প্রধান চাবিকাঠি।
সন্তান জন্মের পর নতুন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। তবে অনেক সময় না বুঝেই মায়েরা এমন কিছু খাবার খান, যা নবজাতকের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নিই নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা। সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা যেমন প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন, সন্তান জন্মের পর সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মায়ের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন উপাদান বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্তন্যদানকালীন সময়ে অসচেতন খাদ্যাভ্যাস কেবল শিশুর অস্বস্তি নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মা নিজের পছন্দমতো খাবার খেয়ে ফেলেন, যার তীব্র ঘ্রাণ বা শক্তিশালী উপাদান বুকের দুধের স্বাদ বদলে দেয়। অনেক শিশু এই স্বাদের পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না, ফলে তারা দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবার সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে প্রসূতি মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিছু খাবার বুকের দুধের গুণমান পরিবর্তন করে দেয়। এতে শিশুর পেটে গ্যাস, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চা ও কফির অতিরিক্ত ক্যাফেইন নতুন মায়েদের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এতে নবজাতকের ঘুমের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে এবং শিশু সারাক্ষণ খিটখিটে মেজাজে থাকে। তাই কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ সব সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। টুনা, কিং ম্যাকেরেল বা শার্কের মতো মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ বা মার্কারি থাকে। এই উপাদানটি শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে পারদযুক্ত মাছ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। অতিরিক্ত ঝাল ও কড়া মশলা আমাদের দেশের মায়েরা ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত টক ফল যেমন লেবু বা কমলা মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে থাকা এসিড শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং অনেক সময় ডায়াপার র্যাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিমিত পরিমাণে টক খাবার গ্রহণ করুন। প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড রাস্তার ধারের ভাজা পোড়া কিংবা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব খাবার মায়ের বুকের দুধের পুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করে। কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার নবজাতকের সেনসিটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার যদি পরিবারের কারো আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে মাকেও সাবধান হতে হবে। যেমন; চিনাবাদাম, গরুর দুধ বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর যদি দেখেন শিশুর শরীরে র্যাশ হচ্ছে, তবে সেই খাবারটি তৎক্ষণাৎ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। গ্যাস উৎপাদনকারী সবজি কিছু সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি মায়ের শরীরে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসের প্রভাব অনেক সময় শিশুর পেটে ব্যথার কারণ হয়। যদি দেখেন এসব সবজি খাওয়ার পর শিশু অস্বাভাবিক কাঁদছে, তবে কিছুদিন এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাকেই তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হতে হবে। কোনো নতুন খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, মায়ের সচেতনতাই শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের প্রধান চাবিকাঠি।
বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের কম সময়ে একশোরও বেশি শিশুর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক আক্রান্ত এবং কানাডার মতো উন্নত দেশের হামমুক্ত মর্যাদা বাতিল , সব মিলিয়ে হাম এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্বেগজনক খবর আসতে শুরু করে। ছোট ছোট শিশুদের গায়ে লাল ফুসকুড়ি, তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের খবর দ্রুত হাসপাতালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬,৪৭৬টি শিশু সন্দেহভাজন হামের লক্ষণ নিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে বারো হাজার। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশীদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে ভিন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যু উভয়ই বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুইজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষঃ ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভি জোটের সহায়তায় ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে সারা দেশে এই অভিযান সম্প্রসারিত হবে। কেন এত শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেল? প্রশ্নটি স্বাভাবিক, কারণ বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের গল্প বলে আসছিল। ২০২৪ সালে প্রথম ডোজ বা এমআর-১ এর আওতা ছিল ৯৬.৬১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ ছিল ৯৬.১৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা নেমে আসে যথাক্রমে ৯২.৭৩ এবং ৯০.৭৮ শতাংশে। সমস্যা হলো, হামকে ঠেকাতে হলে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজ পেতে হয়। সেই সীমা পেরোতে না পারলেই ভাইরাসের জন্য ফাঁক তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রথম ডোজ সত্যিকারের কভারেজ আসলে ৮৬.১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এই ঘাটতি জমতে জমতে এখন প্রায় এক কোটি শিশু প্রথম ডোজ থেকে এবং দুই কোটি শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত। "আমরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কার্যক্রমের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।" মাহমুদুর রহমান, প্রধান, হাম ও রুবেলা জাতীয় যাচাই কমিটি, বাংলাদেশ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও এতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরে নির্ধারিত হাম অভিযান পিছিয়ে যায়। গ্যাভি জোট ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য প্রায় ছয়শো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান ডিসেম্বর ২০২৫ বা জানুয়ারি ২০২৬-এ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে যায়। ২০২৫ সালে কোনো টিকাই কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাবেক ইপিআই কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বারী। ছয় মাসের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এবারের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো আক্রান্তদের বয়স। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে প্রথম হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, অনেক আক্রান্ত শিশুর বয়স মাত্র ছয় মাস, যারা এখনো টিকার বয়সে পৌঁছায়নি। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সে টিকা দেওয়ার সুযোগ এখনো তৈরিই হয়নি। ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালের উপপরিচালক ফাতেমা আসমা খান বলেছেন, শিশুর জ্বর, বিশেষত ১০১, ১০২ বা তার বেশি হলে স্থানীয় ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। পেশাদার চিকিৎসকরাই সঠিক সহায়তা দিতে পারবেন। বিশ্বের চিত্র: কানাডাও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সংকট বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে মিলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকা অঞ্চলে আগস্ট ২০২৫ নাগাদ ১০টি দেশে প্রায় দশ হাজার ১৩৯ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ গুণ বেশি। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কানাডায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা বা পাহো কানাডার হামমুক্ত মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। ২০২৫ সালে কানাডায় ৫,৪৬৩টি সংক্রমণের খবর নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০০ সালে হাম নির্মূলের পর এবারই প্রথম একদশকের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে মারা গেছে তিনজন। "প্রতিটি সম্প্রদায়ে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত না হলে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ না হলে এবং সময়মতো প্রাদুর্ভাবে সাড়া না দেওয়া হলে এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে।" ডা. হান্স হেনরি পি. ক্লুজ, আঞ্চলিক পরিচালক, WHO ইউরোপীয় অঞ্চল ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমে ৩৩,৯৯৮-এ নেমেছে বটে, তবে WHO এবং ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, এই অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর। ২০২৬ সালেও সেই অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে। টিকাবিরোধী মনোভাব এবং মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ছায়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা কর্মসূচির ব্যর্থতা নয়, আরও দুটি বৈশ্বিক শক্তি এই পুনরুত্থানকে জটিল করে তুলছে। একটি হলো টিকাবিরোধী মনোভাব বা ভ্যাকসিন হেজিতেন্সি, যা কোভিড মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, মিথ্যা তথ্যের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। অন্যটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন হ্রাস। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন অর্থায়নে বড় কাটছাঁট হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত WHO-এর গ্লোবাল মিজেলস ও রুবেলা ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক তার বার্ষিক বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশ পেয়েছে। গ্যাভি জোটও তার ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কৌশলের জন্য তিন বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হামের টিকা সরবরাহে। আমাদের করণীয় এখন কী? বাংলাদেশের জন্য পথ একটাই এবং সেটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন। দেশের প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজের আওতায় আনতে হবে। সরকার তিনটি ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথম ধাপে ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় অভিযান চলছে। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপে মে মাসের ৩ তারিখ থেকে ছয় মাস থেকে দশ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলছেন, শিশুর জ্বর হলে ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান। হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক সহায়তা চিকিৎসায় জটিলতা কমানো সম্ভব। ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক বলে WHO নিজেই বলছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর টিকার কার্ড নিয়মিত আপডেট রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ে টিকা দিন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামের এই প্রত্যাবর্তন একটি সতর্কবার্তা। রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, প্রমাণিত টিকা আছে, অথচ বারবার একই ভুলের কারণে শিশুরা মরছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক মিথ্যা তথ্যের জোয়ারে এই সংকট কতটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে এখনই নেওয়া পদক্ষেপের উপর।
ছোটবেলা থেকে মা-খালারা বলতেন, "দিনে আট গ্লাস পানি খাবি।" স্কুলের স্বাস্থ্য বইয়েও একই কথা। এমনকি অফিসের ক্যান্টিনে দেওয়ালে সাঁটানো পোস্টারেও লেখা থাকে, দৈনিক ৮ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পান করুন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই "৮ গ্লাস" সংখ্যাটা আসলো কোথা থেকে? সত্যি বলতে, কেউ জানে না। জেনে নেই দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্যের পেছনে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ১৯৪৫ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল একটি গাইডলাইন দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল প্রতি ক্যালোরি খাবারের জন্য ১ মিলিলিটার পানি দরকার। কিন্তু সেই গাইডলাইনের পরের অংশটা কেউ পড়েনি, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল, এই পানির বেশিরভাগ আসবে খাবার থেকেই। সেই "পরের অংশ" হারিয়ে গেল। রয়ে গেল শুধু "৮ গ্লাস।" তাহলে সঠিক পরিমাণ কতটুকু? এর সরল কোনো উত্তর নেই এবং এটাই আসল সত্যি। একজন ৫০ কেজির অফিসকর্মী যিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করেন, আর একজন ৮০ কেজির রিকশাচালক যিনি কড়া রোদে সারাদিন পরিশ্রম করেন, দু'জনের পানির চাহিদা কখনো এক হতে পারে না। তারপরও আমরা দু'জনকেই বলছি "৮ গ্লাস খাও।" ইউএস ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিনের সর্বশেষ গবেষণা বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক মোট পানির চাহিদা প্রায় ৩.৭ লিটার এবং নারীর ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার। কিন্তু এই পানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে আমাদের খাবার থেকে। শসা, তরমুজ, কমলা, শাকসবজি, এগুলোর ৮০ থেকে ৯৫ ভাগই পানি। মানে আপনি যদি ভালো খাবার খান, তাহলে আপনি ইতিমধ্যে অনেকটা পানি পাচ্ছেন। শরীর নিজেই জানে কখন পানি দরকার মানবদেহ অসাধারণ একটি যন্ত্র। তৃষ্ণা লাগা মানেই শরীর সংকেত দিচ্ছে, এখন পানি দরকার। চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ একজন মানুষের জন্য তৃষ্ণাকে গাইড হিসেবে মানাটাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তবে কিছু মানুষকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। বয়স্করা, কারণ বয়সের সাথে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে আসে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা। যারা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন। এবং যারা গরম আবহাওয়ায় থাকেন, বাংলাদেশের মতো দেশে এটা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কীভাবে বুঝবেন পানি যথেষ্ট পান করছেন? সহজ একটা পরীক্ষা আছে। প্রস্রাবের রঙ দেখুন। হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হলে বুঝবেন সব ঠিক আছে। গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙ হলে বুঝবেন পানি কম হচ্ছে। একদম রঙহীন হলে বুঝবেন হয়তো বেশি হয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, বেশি পানি পানও ক্ষতিকর হতে পারে। একে বলে হাইপোনেট্রেমিয়া। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা, বমি এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথা আমাদের দেশে গরম আবহাওয়া, রোজা, কায়িক পরিশ্রম, এই সব মিলিয়ে পানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে চলার বদলে শরীরের সংকেত বোঝাটা শেখা দরকার। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, তাঁর কাছে অনেক রোগী আসেন যারা জোর করে পানি পান করেন, কারণ "৮ গ্লাসের টার্গেট পূরণ করতে হবে।" এটা দরকার নেই। শরীরকে বিশ্বাস করুন। সত্যি হলো, পানির কোনো সর্বজনীন ডোজ নেই। প্রতিটি মানুষ আলাদা, প্রতিটি দিন আলাদা। আজ গরম বেশি? একটু বেশি খান। আজ সারাদিন ঘরে শুয়ে থাকলেন? হয়তো কম লাগবে। তৃষ্ণা পেলে পানি খান। প্রস্রাবের রঙ দেখুন। এটুকুই যথেষ্ট। আর "৮ গ্লাস" মিথটা, এবার বিদায় দেওয়ার সময় হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .