ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায়, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।”
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তেহরান নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারবে। তবে আলোচনায় না এলে ইরানের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
খবর - আল জাজিরা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায়, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।” ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তেহরান নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারবে। তবে আলোচনায় না এলে ইরানের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। খবর - আল জাজিরা
শেষ কয়েক ঘন্টা বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও আবারো এটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় একে জলদস্যুতা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে পুনরায় সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে থাকবে। ইরানের জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, "হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখন থেকে এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।" বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গত শুক্রবার ইরান হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আভাস দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ মার্কিন অবরোধ "পুরো শক্তিতে" জারি থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান শনিবার সকালে পুনরায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এমন আশায় তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু হরমোজ প্রণালী ফের বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা সফল হোক বা না হোক, ইরানের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নেবে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তিই হতে পারে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় প্রায় সব বিষয়ে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুই দেশ যৌথভাবে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও। ট্রাম্প বলেন, এতে স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। তাঁর ভাষায়, চুক্তি হয়ে গেলে যুদ্ধের দরকার থাকবে না। তখন দুই পক্ষ একসঙ্গেই এই কাজ করবে। পরে অ্যারিজোনায় এক সমাবেশে একই বিষয়ে আবারও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ নিয়ে নেবে। আলোচনায় সমাধান না হলে অন্য পথেও তা নেওয়া হবে, যদিও সেটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পারমাণবিক খাতে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ নামে কোনো স্বীকৃত প্রযুক্তিগত শব্দ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প ইরানের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকেই এভাবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বিকল্প বাস্তবতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনোই তাদের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করার মার্কিন দাবিও ইরান মেনে নেবে না। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যতিক্রমী শর্ত ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। ফলে ট্রাম্প আশাবাদী বক্তব্য দিলেও সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত। সূত্রঃ CNN
By using this site, you agree to our Cookie Policy .