গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি মায়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে গর্ভের শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি হওয়া শুরু হয়। তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি হবু মায়ের জন্যই একটি বিশেষ এবং স্পর্শকাতর সময়। এই শুরুর দিনগুলোতে গর্ভের শিশুর শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো তৈরি হওয়া শুরু হয়, তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ধকল কাটাতে সাহায্য করে। এই সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু সহজ ও পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত যা হজম করা সহজ এবং যা শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে। প্রথম ৩ মাসে ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক গঠনের জন্য প্রথম ৩ মাস ফলিক অ্যাসিড খাওয়া অনেক জরুরি। এর জন্য আপনার প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, লাল শাক এবং ব্রকলি রাখা উচিত। পাশাপাশি ডাল, শিম এবং বিভিন্ন ধরণের লেবুতে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই খাবারগুলো মায়ের শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতেও দারুণ কাজ করে। ডিম ও চর্বিহীন মাংস ডিমকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউজ। গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রতিদিন অন্তত একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ডিমে থাকা প্রোটিন এবং কোলিন শিশুর কোষ গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া চর্বিহীন মুরগির মাংস এবং ছোট-বড় মাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়, যা এই সময়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করে। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করার জন্য এই সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম দরকার। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস ফোটানো তরল দুধ বা এক বাটি টকদই খাওয়ার চেষ্টা করুন। যারা সরাসরি দুধ খেতে পারেন না বা যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা ছানা বা পনির খেতে পারেন। এটি মায়ের শরীরের হাড়ের ক্ষয় রোধ করতেও সাহায্য করে। শুকনো ফল ও বাদাম প্রথম ৩ মাসে অনেক মায়েরই সকালের দিকে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরার সমস্যা হয়। এই সময়ে এক মুঠো কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা চিনা বাদাম খেলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। শুকনো ফল যেমন খেজুর বা কিসমিসও এই সময়ে বিকেলের নাস্তা হিসেবে খুব ভালো ও পুষ্টিকর অপশন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার এই সময়ে শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। বমি বা গ্যাস্ট্রিকের কারণে শরীর যেন ডিহাইড্রেটেড না হয়ে পড়ে, সেজন্য দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করুন। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের রস খেতে পারেন। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রথম ৩ মাসে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন কিছু খাবার গর্ভাবস্থার শুরুতে বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম ও মাংস, অপাস্তুরিত দুধ, এবং কাঁচা পেঁপে বা আনারস। এই খাবারগুলো গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এবং বাইরের খোলা বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত। প্রথম ৩ মাসের কিছু জরুরি টিপস একবারে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে ৪-৫ বার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে বমি ভাব ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক কমে আসবে। খাবার তালিকায় বৈচিত্র্য রাখুন যেন সব ধরণের পুষ্টি শরীর সমানভাবে পায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে অবহেলা করবেন না। উপসংহার গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস একটু সাবধানে এবং নিয়ম মেনে চললে পুরো জার্নিটা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের পছন্দের এবং পুষ্টিকর খাবারগুলো তালিকায় রাখুন। যেকোনো নতুন খাবার নিয়মিত শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার গাইনি ডাক্তারের সাথে একবার কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। মুক্ত বাতাসে হালকা হাঁটাচলা করুন এবং সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত ও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।
দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজন রোগীর পাঁচজনই নারী। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬০ ভাগই জানেন না যে তারা এই নীরব ঘাতক রোগে ভুগছেন; তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে জন্মের পরপরই শিশুদের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬ ও ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক ও সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, গলার সামনের দিকে থাকা ছোট প্রজাপতি আকৃতির এই থাইরয়েড গ্রন্থিটি মানুষের শরীরের ওজন, হৃদস্পন্দন ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে অনেকেই অকারণে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শীত লাগা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই অবহেলা বন্ধ্যাত্ব থেকে শুরু করে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার মতো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একটু সচেতনতা আর প্রাথমিক একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি শনাক্ত করে সাধারণ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। বৈঠকে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগতভাবেই থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে বড় হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর মতোই থাইরয়েড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ধারণা করা হয়, দেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। কিন্তু নিজস্ব কোনো গবেষণার অভাবে প্রকৃত হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী আক্ষেপ করে বলেন, থাইরয়েড শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সরকারিভাবে তেমন কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বা কর্মসূচি নেই। তাই পরিবারে কারও থাইরয়েড থাকলে সবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন গোলটেবিল বৈঠকের পাশাপাশি নিনমাসের অডিটোরিয়ামে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ.এম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।
এখন অনেক মানুষই রাতে দেরি করে খাবার খান। কেউ অফিস থেকে দেরিতে ফেরেন, কেউ আবার রাত জেগে মোবাইল দেখেন বা কাজ করেন। ফলে রাত ১১টা কিংবা তারও পরে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো না। আমাদের শরীরেরও একটা নির্দিষ্ট রুটিন আছে। রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন বেশি দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে কি হয়? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং রাত জাগার অভ্যাস স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, গভীর রাতে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ার ওপর চাপ পড়ে। মূলত রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হতে পারে তা হলো- ১. গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে রাতে দেরি করে খাওয়ার পর অনেকেই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। পাকস্থলীর গ্যাস বা টক পানি উপরের দিকে উঠে এসে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। ঢাকার অনেক চিকিৎসক বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২ ঘণ্টা জেগে থাকা ভালো। ২. শরীর মোটা হতে পারে রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে। তখন বেশি খেলে সেই খাবার সহজে চর্বি হয়ে জমে যেতে পারে। বিশেষ করে বিরিয়ানি, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া বা বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার রাতে দেরি করে খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। ৩. ঘুম ভালো নাও হতে পারে অনেকে ভাবেন পেট ভরে খেলেই ভালো ঘুম হবে। কিন্তু অনেক সময় উল্টোটা হয়। রাতে বেশি বা ভারী খাবার খেলে শরীর খাবার হজম করতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে গভীর ঘুম আসে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত লাগার সমস্যাও হতে পারে। ৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে ডাক্তাররা বলছেন, প্রতিদিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের চিনির ভারসাম্যে সমস্যা করতে পারে। বিশেষ করে যারা রাত জাগেন এবং অনিয়ম করে খান, তাদের ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৫. হার্টের ওপর চাপ পড়তে পারে দেরি করে খেলে শরীরে চর্বি বাড়ে, ওজন বাড়ে এবং অনেক সময় রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হার্টের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়াই না, সঠিক সময়েও খাওয়া জরুরি। রাতে খাবার খাওয়ার ভালো সময় কখন ডাক্তারদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া ভালো। যদি রাত ১১টায় ঘুমান, তাহলে চেষ্টা করুন রাত ৮টার মধ্যে খাওয়া শেষ করতে। রাতে সুস্থ থাকতে যা করতে পারেন ১ - রাতে খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না, ২- খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না, ৩- রাতে কম মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, ৪- খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, ৫ - রাতে বেশি কোমল পানীয় বা কফি না খাওয়াই ভালো অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করছে। রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাসও তেমন একটি বিষয়। তাই সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন না, কখন খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারনেটে প্রায়ই দেখা যায় ‘এই একটি কাজ করলে জীবনেও ডায়াবেটিস হবে না’ জাতীয় নানা চটকদার বিজ্ঞাপন বা ভিডিও। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ডায়াবেটিসের মতো একটি জটিল ও জিনগত রোগকে শতভাগ ঠেকিয়ে রাখার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত একটি সত্য হলো, রাতের বেলার মাত্র একটি ছোট অভ্যাস আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। আর সেই জাদুকরী অভ্যাসটি হলো, রাতের খাবার খাওয়ার পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা। আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা অনেকেই রাতের ভারী খাবার খেয়েই সোজা বিছানায় চলে যাই বা শুয়ে শুয়ে মোবাইল দেখি। চিকিৎসকদের মতে, এই একটি ভুল অভ্যাসই শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রাতের এই ১৫ মিনিটের হাঁটা কীভাবে জাদুর মতো কাজ করে, তার একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আমরা যখন খাবার খাই, তখন তা হজম হয়ে গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে মিশে যায়, ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। খাবার খাওয়ার পরপরই যদি আমরা শুয়ে পড়ি, তবে শরীর সেই গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে পোড়ানোর সুযোগ পায় না। কিন্তু ঘুমানোর আগে যদি আমরা মাত্র ১০-১৫ মিনিট হালকা মেজাজে হাঁটি, তখন আমাদের মাংসপেশিগুলো রক্তে থাকা সেই অতিরিক্ত গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে ফেলে। ফলে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ওপর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির চাপ পড়ে না এবং ব্লাড সুগার প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশ্বখ্যাত জার্নালগুলোর গবেষণাতেও দেখা গেছে, সারা দিনে একটানা ভারী ব্যায়াম করার চেয়ে, প্রতিবেলা খাওয়ার পর বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর। শারীরিক এই উপকারের পাশাপাশি এই অভ্যাসটির একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও স্নায়বিক প্রভাবও রয়েছে। রাতে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হওয়ার শঙ্কা কমে। একই সঙ্গে হাঁটার ফলে শরীরের 'স্ট্রেস হরমোন' বা কর্টিসলের মাত্রা কমে গিয়ে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা গভীর ও শান্তির ঘুম নিশ্চিত করে। গবেষকরা জানান, যাদের রাতে ঘুম ভালো হয় না, তাদের শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাওয়া এবং বিছানায় যাওয়ার আগে একটু হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাটা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখার এক অব্যর্থ দাওয়াই। মনে রাখতে হবে, শুধু একটি অভ্যাসই সব রোগের ওষুধ নয়; এর পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনও ডায়াবেটিস দূরে রাখতে সমানভাবে জরুরি।
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে মায়ের শরীরের পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধিও নির্ভর করে সঠিক পুষ্টির ওপর। ফল এমন একটি খাবার যা ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও প্রাকৃতিক পুষ্টিতে ভরপুর। তাই অনেকেই জানতে চান গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত এবং কোন ফল মা ও শিশুর জন্য বেশি উপকারী। গর্ভাবস্থায় ফল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়। এছাড়া এটি হজম ভালো রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার উপকারিতা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ফল খাওয়া মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের নানা ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। এই সময়ে সঠিক পুষ্টি না পেলে মা দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা জরুরি। ১. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে বিভিন্ন ফলে থাকা ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক, হাড় ও শরীরের স্বাভাবিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিড শিশুর জন্মগত কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ২. মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় গর্ভাবস্থায় শরীর তুলনামূলক সংবেদনশীল থাকে। কমলা, মাল্টা, পেয়ারা বা আমলকির মতো ফলে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ৩. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কলা, আপেল, পেয়ারা ও নাশপাতির মতো ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। ৪. শরীরে পানির ঘাটতি কমায় তরমুজ, কমলা, মাল্টা বা আঙুরের মতো ফলে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এতে ক্লান্তি ও দুর্বলতাও কিছুটা কমে। ৫. রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ডালিম, খেজুর ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। এতে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় একটি সাধারণ সমস্যা। ৬. প্রাকৃতিকভাবে শক্তি যোগায় গর্ভাবস্থায় দ্রুত ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। তাই অনেক চিকিৎসক হালকা ক্ষুধা লাগলে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ফল সাধারণত কম চর্বিযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুডের বদলে ফল খেলে অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমে। ৮. ত্বক ও শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে অনেক ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীর সতেজ ও ফ্রেশ অনুভব করতেও সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত ১. কলা কলা গর্ভবতী নারীদের জন্য খুব উপকারী একটি ফল। এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ফাইবার থাকে। উপকারিতা: বমিভাব কমাতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, শরীরে শক্তি যোগায় ২. আপেল আপেলে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। উপকারিতা:, হজম ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শিশুর ফুসফুসের বিকাশে সহায়ক হতে পারে ৩. কমলা ও মাল্টা কমলা জাতীয় ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকে। উপকারিতা: শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীরকে হাইড্রেট রাখে ৪. ডালিম গর্ভাবস্থায় ডালিম খুবই উপকারী বলে মনে করেন অনেক পুষ্টিবিদ। উপকারিতা:, রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে, আয়রনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক, শিশুর বৃদ্ধি ভালো রাখতে সাহায্য করে ৫. আম পরিমাণমতো পাকা আম খাওয়া যেতে পারে। উপকারিতা: ভিটামিন এ ও সি সরবরাহ করে, শরীরের শক্তি বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে তবে অতিরিক্ত আম খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে। ৬. পেয়ারা পেয়ারায় ভিটামিন সি ও ফাইবার অনেক বেশি থাকে। উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে ৭. আঙুর পরিমাণমতো আঙুর খাওয়া যেতে পারে। উপকারিতা: শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে , ক্লান্তি কমাতে সহায়ক, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে ৮. অ্যাভোকাডো অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফলিক অ্যাসিড থাকে। উপকারিতা: শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক, মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কমায় গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন ফল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপরে পরিমাণমতো খান , কারন অতিরিক্ত ফল খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তারপর আবার কাটা ফল বাইরে থেকে না খাওয়াই ভালো , রাস্তার কাটা ফল অনেক সময় জীবাণুযুক্ত হতে পারে। আর অবশ্যই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল নির্বাচন করুন কারন ব্যক্তিভেদে খাদ্য চাহিদা ভিন্ন হতে পারে, তাই বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে সম্প্রতি আবারও হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, আর বাংলাদেশে বর্তমানে এটি তীব্রতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে । তাই এমন সময় কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন তা আপনার অবশ্যই জানতে হবে। এটি এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট শিশুদের জন্য অনেক সময় মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে শিশুদের এই সংক্রামক রোগ থেকে নিরাপদে রাখতে। হাম কী এবং কীভাবে বুঝবেন? চিকিৎসকরা জানান, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কাছাকাছি সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও, ৩ থেকে ৫ দিনের মাথায় শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, শরীর দুর্বল লাগা এবং শিশুর খেতে না চাওয়া। কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন? ১. সময়মতো টিকা দিন হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলা (MR) টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যদিও দীর্ঘদিন টিকা দেয়া বন্ধ থাকলেও বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে পুনরায় হামের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা অবশ্যই সম্পূর্ণ করুন। টিকা মিস হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। ২. অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে রাখুন হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই কেউ আক্রান্ত হলে শিশুকে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন। ৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা শিশুর ব্যবহার করা জিনিস পরিষ্কার রাখা এসব অভ্যাস সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ৪. শিশুর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে প্রতিদিন ফল শাকসবজি ডিম মাছ দুধ এবং পর্যাপ্ত পানি খেতে দ্দিন। ৫. লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে? নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান: শ্বাসকষ্ট খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া খিঁচুনি শিশু পানি বা খাবার খেতে না পারা জ্বর অনেক বেড়ে যাওয়া কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়েই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার পেছনে এটি অন্যতম একটি কারণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় টিকা নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা বা গুজব কাজ করে, যা শিশুদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বাবা-মায়েরা যদি শিশুর সামান্য উপসর্গকেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে এই রোগের মৃত্যুঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এই প্রতিবেদনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সাধারণ চিকিৎসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর যেকোনো শারীরিক উপসর্গে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
গরমের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, কখনো হঠাৎ বৃষ্টি আবার কখনো তীব্র রোদ। আর রোদে বাইরে বের হলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি অনেক সময় হিট স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জীবনঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। হিট স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা যখন শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সাধারণত দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পর এটি ঘটে। হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সহজ অভ্যাস মানলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রথমত, রোদে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সম্ভব হলে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তৃতীয়ত, বাইরে গেলে হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা ভালো। এতে শরীর সহজে বাতাস পায় এবং ঘাম শুকাতে সাহায্য করে। চতুর্থত, মাথায় টুপি, ছাতা বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে সরাসরি রোদের তাপ কম লাগে। পঞ্চমত, দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝেমধ্যে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। ষষ্ঠত, শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা মাথা ঘুরলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জায়গায় চলে যাওয়া উচিত। সপ্তমত, সম্ভব হলে লবণ ও পানি মিশ্রিত পানীয় বা ওআরএস খাওয়া শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত শীতল স্থানে যেতে হবে এবং শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন হিট স্ট্রোক বাড়ছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরমের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শহরে কংক্রিটের ঘনত্ব, গাছপালা কমে যাওয়া এবং যানবাহনের চাপও তাপমাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন। হিট স্ট্রোক কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়, এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই গরমে শরীরকে অবহেলা করা ঠিক নয়। পানি পান, বিশ্রাম এবং রোদের সময় সচেতনতা এই তিনটি অভ্যাসই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে। গরম যতই বাড়ুক, একটু সচেতন থাকলেই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
গরমে ফ্রিজের বরফঠান্ডা পানি খেতে খুব ভালো লাগে। মুখে দিলেই যেন শরীরটা একদম শান্ত হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত খুব ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো গলা ব্যথা, টনসিলের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, হজমে ধীরগতি এবং অনেকের ক্ষেত্রে দাঁতে সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে খাওয়ার ঠিক পরপরই খুব ঠান্ডা পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, কারণ খাবারের চর্বি দ্রুত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়। এছাড়া গরম শরীর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে মাথা ভারী লাগা বা অস্বস্তি অনুভব করা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে আসল বিষয়টা আরও গভীর, যা খুব কম মানুষ জানে অনেকেই ভাবেন ঠান্ডা পানি শুধু গলা বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ফিজিওলজিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খুব ঠান্ডা পানি পান করার পর শরীরের ভ্যাগাস নার্ভ সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এই নার্ভ হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিছু সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি পান করলে “vagal response” নামে একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেখানে সাময়িকভাবে হার্ট রেট কমে যায় বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। এটি খুবই বিরল হলেও পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। আরেকটি কম আলোচিত বিষয় হলো ঠান্ডা পানির কারণে খাদ্যনালীর মাংসপেশি সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে, ফলে কারও কারও বুকের মাঝখানে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হয়, যা অনেক সময় গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে ভুল করা হয়। আরো পড়ূনঃ দিনে কত টুকু পানি খাওয়া উচিৎ গরমে কীভাবে পানি খাওয়া সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকদের মতে গরমে হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি সবচেয়ে নিরাপদ। একসাথে অনেক ঠান্ডা পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। বিশেষ করে ব্যায়াম বা রোদে বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি না খাওয়াই ভালো। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করা একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে খুব বেশি ঠান্ডা পানি খেলে শরীর কিছুটা স্ট্রেসে পড়তে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটি যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে ক্ষতির কারণ না হয়, সেটাই খেয়াল রাখা দরকার।
হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো, ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন । খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সন্তান জন্মের পর নতুন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। তবে অনেক সময় না বুঝেই মায়েরা এমন কিছু খাবার খান, যা নবজাতকের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নিই নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা। সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা যেমন প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন, সন্তান জন্মের পর সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মায়ের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন উপাদান বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্তন্যদানকালীন সময়ে অসচেতন খাদ্যাভ্যাস কেবল শিশুর অস্বস্তি নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মা নিজের পছন্দমতো খাবার খেয়ে ফেলেন, যার তীব্র ঘ্রাণ বা শক্তিশালী উপাদান বুকের দুধের স্বাদ বদলে দেয়। অনেক শিশু এই স্বাদের পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না, ফলে তারা দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবার সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে প্রসূতি মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিছু খাবার বুকের দুধের গুণমান পরিবর্তন করে দেয়। এতে শিশুর পেটে গ্যাস, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চা ও কফির অতিরিক্ত ক্যাফেইন নতুন মায়েদের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এতে নবজাতকের ঘুমের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে এবং শিশু সারাক্ষণ খিটখিটে মেজাজে থাকে। তাই কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ সব সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। টুনা, কিং ম্যাকেরেল বা শার্কের মতো মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ বা মার্কারি থাকে। এই উপাদানটি শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে পারদযুক্ত মাছ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। অতিরিক্ত ঝাল ও কড়া মশলা আমাদের দেশের মায়েরা ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত টক ফল যেমন লেবু বা কমলা মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে থাকা এসিড শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং অনেক সময় ডায়াপার র্যাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিমিত পরিমাণে টক খাবার গ্রহণ করুন। প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড রাস্তার ধারের ভাজা পোড়া কিংবা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব খাবার মায়ের বুকের দুধের পুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করে। কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার নবজাতকের সেনসিটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার যদি পরিবারের কারো আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে মাকেও সাবধান হতে হবে। যেমন; চিনাবাদাম, গরুর দুধ বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর যদি দেখেন শিশুর শরীরে র্যাশ হচ্ছে, তবে সেই খাবারটি তৎক্ষণাৎ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। গ্যাস উৎপাদনকারী সবজি কিছু সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি মায়ের শরীরে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসের প্রভাব অনেক সময় শিশুর পেটে ব্যথার কারণ হয়। যদি দেখেন এসব সবজি খাওয়ার পর শিশু অস্বাভাবিক কাঁদছে, তবে কিছুদিন এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাকেই তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হতে হবে। কোনো নতুন খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, মায়ের সচেতনতাই শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের প্রধান চাবিকাঠি।
আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, "দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।" কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণাটি সবার জন্য সঠিক নয়। আর এই তীব্র গরমে আমাদের মনে হতে পারে অতিরিক্ত পানি খেলে হয়তো শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ হবে এমনকি বারবার পিপাসা পেলে আমরা অধিক পরিমাণ পানি খাই। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান আপনার শরীরের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানবো, আপনার শরীরের ওজন এবং কাজের ধরন অনুযায়ী ঠিক কতটুকু পানি আপনার জন্য প্রয়োজন। ৮ গ্লাস পানির ধারণা কি ভুল? ১৯৪৫ সালে প্রথম '৮ গ্লাস পানি'র একটি গাইডলাইন সামনে আসে। কিন্তু মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যায়—আমরা প্রতিদিন যে খাবার (ফলমূল, সবজি, ডাল) খাই, তার থেকেও প্রচুর পানি শরীরে প্রবেশ করে। তাই ঢকঢক করে আলাদাভাবে ৮ গ্লাস পানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? পুষ্টিবিদদের মতে, পানির চাহিদা নির্ভর করে আপনার ওজনের ওপর। একটি সহজ হিসাব মনে রাখতে পারেন: আপনার শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩৫ মিলি পানি প্রয়োজন। হিসাবটি এমন: যদি আপনার ওজন ৬০ কেজি হয়, তবে ৬০ × ৩৫ = ২১০০ মিলি (অর্থাৎ ২.১ লিটার)। যদি আপনার ওজন ৮০ কেজি হয়, তবে ৮০ × ৩৫ = ২৮০০ মিলি (অর্থাৎ ২.৮ লিটার)। পিপাসা লাগলেই কি পানি খাবেন? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শরীর যখন পানির অভাব বোধ করে, তখন সে 'পিপাসা'র মাধ্যমে সংকেত দেয়। তাই জোর করে পানি পান করার চেয়ে পিপাসা মেটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে বয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পিপাসার সংকেত অনেক সময় কাজ করে না, তাদের নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করানো উচিত। কীভাবে বুঝবেন আপনি কম পানি খাচ্ছেন? আপনার শরীর নিজেই জানান দেবে যে সে তৃষ্ণার্ত। যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়, বুঝবেন আপনি ডিহাইড্রেটেড। আদর্শ রং হবে একদম হালকা হলুদ বা পানির মতো হয়। যদি বারবার ঠোঁট বা মুখ শুকিয়ে আসে। তারপরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ।এবং সবশেষে কোনো কারণ ছাড়াই দুর্বল লাগা। এই লক্ষণ গুলো দেখলেই বুঝবেন আপনার পানি খাওয়া কম হচ্ছে তাই নির্ধারিত পরিমাণ পানি অবশ্যই খাবেন অতিরিক্ত পানি পানে যে সমস্যা হতে পারে বেশি পানি পান করলে রক্তের সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপোনাট্রেমিয়া' বলে। এর ফলে মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া বা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই 'বেশি ভালো' মনে করে লিটার লিটার পানি পান করা বন্ধ করুন। কখন পানি পান করা জরুরি? ১. ঘুম থেকে উঠে: শরীরকে সচল করতে এক গ্লাস পানি চমৎকার কাজ করে। ২. ব্যায়ামের আগে ও পরে: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে। ৩. তীব্র গরমে: আমাদের দেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বেশি হয়, তাই পানির পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো উচিত।
দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা শিশুর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় আধুনিক চিকিৎসার বদলে কবিরাজি বা কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই হাম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, হাম হলে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। অনেকে মনে করেন শরীর ভেজালে হামের গুটি ভেতরে বসে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। হাম হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই কুসুম কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে গোসল করানো অত্যন্ত জরুরি। শরীর পরিষ্কার না রাখলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেকটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস হলো, হাম হলে শিশুকে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ানো যাবে না। বলা হয় এসব খাবার খেলে রোগ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, হামের সময় শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে শিশুকে আরও বেশি করে প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন যাতে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে মনে করেন হাম বা 'বসন্ত' কোনো দৈব ঘটনা, তাই এর জন্য ঝাড়ফুঁক বা নিমপাতা দিয়ে শরীর ঝাড়ানোই যথেষ্ট। এই কুসংস্কারের কারণে অনেক বাবা-মা শিশুকে হাসপাতালে নিতে দেরি করেন। মনে রাখবেন, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেইন ইনফেকশন বা অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে লালচে দানা বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে কোনো কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আরো পড়ুনঃ হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে? অনেকে মনে করেন একবার হামের টিকা দিলে আর কখনোই হাম হবে না, তাই দ্বিতীয়বার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি বড় ভুল। শিশুদের সুরক্ষার জন্য হামের দুটি ডোজই পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটি না দিলে শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই সরকারি টিকা কার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, হাম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আপনার অবহেলা বা ভুল বিশ্বাসের কারণে শিশুর বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার শিশুর জীবন বাঁচাতে।
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে, আর বাকি দুজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে এই উদ্বেগজনক খবর জানানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হিসেব করলে দেখা যায়, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি প্রায় ১৬৬ জন। কেবল মৃত্যুই নয়, প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ছুঁইছুঁই, আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৯ হাজার। ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকা এখন হামের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকাতেই ৫০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং এর মধ্যে ৬১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। একদিনে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুজনই ঢাকার। ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তবে রাজধানীর তুলনায় সেখানে আক্রান্তের হার কিছুটা কম। হাসপাতালে বাড়ছে ভিড় হামের প্রকোপ বাড়ায় দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম থেকে বাঁচতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। বিশেষ করে বর্তমানে ঢাকার যে পরিস্থিতি, তাতে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামান্য জ্বর বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের কম সময়ে একশোরও বেশি শিশুর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক আক্রান্ত এবং কানাডার মতো উন্নত দেশের হামমুক্ত মর্যাদা বাতিল , সব মিলিয়ে হাম এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্বেগজনক খবর আসতে শুরু করে। ছোট ছোট শিশুদের গায়ে লাল ফুসকুড়ি, তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের খবর দ্রুত হাসপাতালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬,৪৭৬টি শিশু সন্দেহভাজন হামের লক্ষণ নিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে বারো হাজার। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশীদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে ভিন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যু উভয়ই বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুইজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষঃ ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভি জোটের সহায়তায় ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে সারা দেশে এই অভিযান সম্প্রসারিত হবে। কেন এত শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেল? প্রশ্নটি স্বাভাবিক, কারণ বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের গল্প বলে আসছিল। ২০২৪ সালে প্রথম ডোজ বা এমআর-১ এর আওতা ছিল ৯৬.৬১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ ছিল ৯৬.১৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা নেমে আসে যথাক্রমে ৯২.৭৩ এবং ৯০.৭৮ শতাংশে। সমস্যা হলো, হামকে ঠেকাতে হলে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজ পেতে হয়। সেই সীমা পেরোতে না পারলেই ভাইরাসের জন্য ফাঁক তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রথম ডোজ সত্যিকারের কভারেজ আসলে ৮৬.১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এই ঘাটতি জমতে জমতে এখন প্রায় এক কোটি শিশু প্রথম ডোজ থেকে এবং দুই কোটি শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত। "আমরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কার্যক্রমের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।" মাহমুদুর রহমান, প্রধান, হাম ও রুবেলা জাতীয় যাচাই কমিটি, বাংলাদেশ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও এতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরে নির্ধারিত হাম অভিযান পিছিয়ে যায়। গ্যাভি জোট ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য প্রায় ছয়শো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান ডিসেম্বর ২০২৫ বা জানুয়ারি ২০২৬-এ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে যায়। ২০২৫ সালে কোনো টিকাই কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাবেক ইপিআই কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বারী। ছয় মাসের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এবারের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো আক্রান্তদের বয়স। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে প্রথম হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, অনেক আক্রান্ত শিশুর বয়স মাত্র ছয় মাস, যারা এখনো টিকার বয়সে পৌঁছায়নি। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সে টিকা দেওয়ার সুযোগ এখনো তৈরিই হয়নি। ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালের উপপরিচালক ফাতেমা আসমা খান বলেছেন, শিশুর জ্বর, বিশেষত ১০১, ১০২ বা তার বেশি হলে স্থানীয় ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। পেশাদার চিকিৎসকরাই সঠিক সহায়তা দিতে পারবেন। বিশ্বের চিত্র: কানাডাও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সংকট বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে মিলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকা অঞ্চলে আগস্ট ২০২৫ নাগাদ ১০টি দেশে প্রায় দশ হাজার ১৩৯ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ গুণ বেশি। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কানাডায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা বা পাহো কানাডার হামমুক্ত মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। ২০২৫ সালে কানাডায় ৫,৪৬৩টি সংক্রমণের খবর নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০০ সালে হাম নির্মূলের পর এবারই প্রথম একদশকের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে মারা গেছে তিনজন। "প্রতিটি সম্প্রদায়ে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত না হলে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ না হলে এবং সময়মতো প্রাদুর্ভাবে সাড়া না দেওয়া হলে এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে।" ডা. হান্স হেনরি পি. ক্লুজ, আঞ্চলিক পরিচালক, WHO ইউরোপীয় অঞ্চল ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমে ৩৩,৯৯৮-এ নেমেছে বটে, তবে WHO এবং ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, এই অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর। ২০২৬ সালেও সেই অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে। টিকাবিরোধী মনোভাব এবং মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ছায়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা কর্মসূচির ব্যর্থতা নয়, আরও দুটি বৈশ্বিক শক্তি এই পুনরুত্থানকে জটিল করে তুলছে। একটি হলো টিকাবিরোধী মনোভাব বা ভ্যাকসিন হেজিতেন্সি, যা কোভিড মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, মিথ্যা তথ্যের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। অন্যটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন হ্রাস। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন অর্থায়নে বড় কাটছাঁট হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত WHO-এর গ্লোবাল মিজেলস ও রুবেলা ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক তার বার্ষিক বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশ পেয়েছে। গ্যাভি জোটও তার ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কৌশলের জন্য তিন বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হামের টিকা সরবরাহে। আমাদের করণীয় এখন কী? বাংলাদেশের জন্য পথ একটাই এবং সেটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন। দেশের প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজের আওতায় আনতে হবে। সরকার তিনটি ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথম ধাপে ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় অভিযান চলছে। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপে মে মাসের ৩ তারিখ থেকে ছয় মাস থেকে দশ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলছেন, শিশুর জ্বর হলে ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান। হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক সহায়তা চিকিৎসায় জটিলতা কমানো সম্ভব। ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক বলে WHO নিজেই বলছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর টিকার কার্ড নিয়মিত আপডেট রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ে টিকা দিন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামের এই প্রত্যাবর্তন একটি সতর্কবার্তা। রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, প্রমাণিত টিকা আছে, অথচ বারবার একই ভুলের কারণে শিশুরা মরছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক মিথ্যা তথ্যের জোয়ারে এই সংকট কতটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে এখনই নেওয়া পদক্ষেপের উপর।
দেশে হামের পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিনজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে সারাদেশে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই নতুন করে ৯৪৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিভাগওয়ারি চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগ। এখানে এক দিনেই ৩১৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং নতুন শনাক্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনই ঢাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে রংপুরের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে কম ৪২ জন ভর্তি রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোববার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
দেশজুড়ে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। গত বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ (GAVI) থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার নেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে শিশুদের দেওয়া হবে। এতদিন নিয়মিত কর্মসূচিতে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা টিকার আওতায় থাকত। কিন্তু এবারের আপৎকালীন কর্মসূচিতে বয়সসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে ৬ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত সব শিশু-কিশোর টিকা নিতে পারবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ভেসে বেড়ানো ড্রপলেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ভাইরাস বাতাসে বা কোনো বস্তুর উপরিভাগে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। রোগটি শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত '৩C' সূত্র অনুসরণ করেন কফ, কোরাইজা অর্থাৎ তীব্র সর্দি এবং কনজাংকটিভাইটিস বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া। এর পাশাপাশি থাকে তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিনের মধ্যে মুখ থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া র্যাশ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ এবং এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাম প্রতিরোধে টিকাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। সাধারণত এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুটি ডোজে দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। আক্রান্ত শিশুর সেবায় মন্ত্রণালয় কয়েকটি বিষয়ে জোর দিয়েছে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা মাত্রাতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, কোনো এলাকায় রোগের বিস্তার ঠেকাতে হলে সেখানকার অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। তাই নিজের সন্তানের পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকা নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতন থাকতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
রমজান মাসে গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে কী খাবেন সেটা ঠিক করা। ভুল খাবার খেলে সারারাত পেটে জ্বালাপোড়া, বুকে ব্যথা, বমি বমি ভাব। আর সঠিক খাবার বেছে নিলে রোজাটা বরং গ্যাস্ট্রিকের জন্য উপকারীও হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা রোজায় কী খাবেন কী খাবেন না? ময়মনসিংহের একজন গৃহিণী প্রতি বছর রমজানে ভোগেন একই সমস্যায়। ইফতারে বেগুনি, পেঁয়াজু, হালিম আর তেলেভাজা খেয়ে রাত্রে পেট জ্বালায় ঘুম হয় না। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের কাছে গিয়ে জানলেন, সমস্যা রোজায় নয়, সমস্যা খাবারের ধরনে। গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য ইফতারে প্রথমেই তেলেভাজা খাবার এড়িয়ে যাওয়াটা জরুরি। বেগুনি, পেঁয়াজু, সমুচা, জিলাপি এগুলো পেটের অ্যাসিড বাড়িয়ে দেয় দ্রুত। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও উপকারী, কারণ এটা পাকস্থলীকে নরমভাবে সক্রিয় করে। সাথে পানি আর হালকা কিছু খেয়ে একটু বিরতি নিন, তারপর মূল খাবার খান। সেহরিতে ভাত, রুটি, ডাল, সবজি এই ধরনের সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো। অনেকে সেহরিতে ভারী মশলাদার খাবার খান ভেবে যে সারাদিন পেট ভরা থাকবে, কিন্তু গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য এটা উলটো ফল দেয়। মশলা বেশি হলে সারাদিন পেটে অ্যাসিড তৈরি হতে থাকে। চা আর কফি থেকে দূরে থাকুন। ইফতারে চা খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে, কিন্তু খালি পেটে চা পাকস্থলীর দেয়ালে সরাসরি অ্যাসিড তৈরি করে। কোল্ড ড্রিংকস তো একদমই না, এটা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য রমজানেও রমজানের বাইরেও বিপজ্জনক। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত যতটা সম্ভব পানি পান করুন। পানি কম খেলে অ্যাসিড ঘন হয়ে পেটে জ্বালাপোড়া বাড়ে। রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করুন। খেয়েই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড গলায় উঠে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনে অ্যান্টাসিড বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ওষুধ সেহরির আগে খেয়ে নিতে পারেন। এটা সারাদিন পেটকে সুরক্ষিত রাখে। তবে নিজে নিজে ওষুধ না বেড়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। রোজা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং নিয়মিত খাওয়ার বিরতি পেটকে কিছুটা বিশ্রাম দেয়। শুধু দরকার সঠিক খাবারের বাছাই। ডা. তন্ময় সাহা এমবিবিএস (গ্যাস্ট্রোলজি ) , ল্যাব এইড হাসপাতাল মালিবাগ
ছোটবেলা থেকে মা-খালারা বলতেন, "দিনে আট গ্লাস পানি খাবি।" স্কুলের স্বাস্থ্য বইয়েও একই কথা। এমনকি অফিসের ক্যান্টিনে দেওয়ালে সাঁটানো পোস্টারেও লেখা থাকে, দৈনিক ৮ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পান করুন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই "৮ গ্লাস" সংখ্যাটা আসলো কোথা থেকে? সত্যি বলতে, কেউ জানে না। জেনে নেই দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্যের পেছনে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ১৯৪৫ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল একটি গাইডলাইন দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল প্রতি ক্যালোরি খাবারের জন্য ১ মিলিলিটার পানি দরকার। কিন্তু সেই গাইডলাইনের পরের অংশটা কেউ পড়েনি, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল, এই পানির বেশিরভাগ আসবে খাবার থেকেই। সেই "পরের অংশ" হারিয়ে গেল। রয়ে গেল শুধু "৮ গ্লাস।" তাহলে সঠিক পরিমাণ কতটুকু? এর সরল কোনো উত্তর নেই এবং এটাই আসল সত্যি। একজন ৫০ কেজির অফিসকর্মী যিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করেন, আর একজন ৮০ কেজির রিকশাচালক যিনি কড়া রোদে সারাদিন পরিশ্রম করেন, দু'জনের পানির চাহিদা কখনো এক হতে পারে না। তারপরও আমরা দু'জনকেই বলছি "৮ গ্লাস খাও।" ইউএস ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিনের সর্বশেষ গবেষণা বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক মোট পানির চাহিদা প্রায় ৩.৭ লিটার এবং নারীর ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার। কিন্তু এই পানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে আমাদের খাবার থেকে। শসা, তরমুজ, কমলা, শাকসবজি, এগুলোর ৮০ থেকে ৯৫ ভাগই পানি। মানে আপনি যদি ভালো খাবার খান, তাহলে আপনি ইতিমধ্যে অনেকটা পানি পাচ্ছেন। শরীর নিজেই জানে কখন পানি দরকার মানবদেহ অসাধারণ একটি যন্ত্র। তৃষ্ণা লাগা মানেই শরীর সংকেত দিচ্ছে, এখন পানি দরকার। চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ একজন মানুষের জন্য তৃষ্ণাকে গাইড হিসেবে মানাটাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তবে কিছু মানুষকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। বয়স্করা, কারণ বয়সের সাথে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে আসে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা। যারা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন। এবং যারা গরম আবহাওয়ায় থাকেন, বাংলাদেশের মতো দেশে এটা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কীভাবে বুঝবেন পানি যথেষ্ট পান করছেন? সহজ একটা পরীক্ষা আছে। প্রস্রাবের রঙ দেখুন। হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হলে বুঝবেন সব ঠিক আছে। গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙ হলে বুঝবেন পানি কম হচ্ছে। একদম রঙহীন হলে বুঝবেন হয়তো বেশি হয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, বেশি পানি পানও ক্ষতিকর হতে পারে। একে বলে হাইপোনেট্রেমিয়া। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা, বমি এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথা আমাদের দেশে গরম আবহাওয়া, রোজা, কায়িক পরিশ্রম, এই সব মিলিয়ে পানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে চলার বদলে শরীরের সংকেত বোঝাটা শেখা দরকার। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, তাঁর কাছে অনেক রোগী আসেন যারা জোর করে পানি পান করেন, কারণ "৮ গ্লাসের টার্গেট পূরণ করতে হবে।" এটা দরকার নেই। শরীরকে বিশ্বাস করুন। সত্যি হলো, পানির কোনো সর্বজনীন ডোজ নেই। প্রতিটি মানুষ আলাদা, প্রতিটি দিন আলাদা। আজ গরম বেশি? একটু বেশি খান। আজ সারাদিন ঘরে শুয়ে থাকলেন? হয়তো কম লাগবে। তৃষ্ণা পেলে পানি খান। প্রস্রাবের রঙ দেখুন। এটুকুই যথেষ্ট। আর "৮ গ্লাস" মিথটা, এবার বিদায় দেওয়ার সময় হয়েছে।
আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত? আর সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, এই রোগীদের বড় একটি অংশ নিজেরাই জানেন না যে তারা ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস একবার হলে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। কিন্তু সঠিক অভ্যাস থাকলে এই রোগকে দূরে রাখা সম্ভব। আজ আমরা জানবো রাতে ঘুমানোর আগে এমন একটি সহজ কাজের কথা, যা নিয়মিত করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এবং এই কাজটি করতে আপনার মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময় লাগবে। রাতের খাবারের পর হাঁটুন, বাঁচুন ডায়াবেটিস থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাসটি ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ। রাতে খাওয়ার পর রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ে, কিন্তু শুয়ে পড়লে শরীর নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় সেই সুগার পোড়ে না। বছরের পর বছর এই চক্র চলতে থাকলে একসময় শরীর ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তখনই ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এর সমাধান হিসেবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন রাতের খাবারের ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটার। ঘরের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ঘরের ভেতরেই বা বারান্দায় হাঁটলেই কাজ হবে। গবেষণা কী বলছে নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দীর্ঘ গবেষণায় দেখেছেন, একটানা আধঘণ্টা হাঁটার চেয়ে খাবারের পর তিনবার ১০ মিনিট করে হাঁটা রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর। বিশেষত রাতের খাবারের পর এই হাঁটাটা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, হাঁটার সময় পেশি সক্রিয় হয় এবং রক্ত থেকে সুগার সরাসরি পেশিতে চলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ইনসুলিনের প্রয়োজন হয় না। ফলে প্যাংক্রিয়াসের উপর চাপ কমে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। কাদের জন্য এই সতর্কতা বেশি জরুরি চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, বয়স চল্লিশ বছরের বেশি, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিংবা যারা সারাদিন বসে কাজ করেন — তাদের জন্য এই অভ্যাসটি রপ্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া যারা প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় আছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে ডায়াবেটিস ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। চিকিৎসকের পরামর্শ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ওষুধের চেয়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অনেক বেশি কার্যকর। রাতের হাঁটার পাশাপাশি মিষ্টি ও কোমল পানীয় কমানো এবং নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চলার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। উপসংহার ডায়াবেটিস একবার হলে সারাজীবন ওষুধ খেতে হয়, নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু রাতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের হাঁটা এই রোগটিকে দূরে রাখতে পারে বহু বছর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ থেকেই এই অভ্যাস শুরু করুন — অপেক্ষা করলে পস্তাতে হতে পারে।
রমজান মাস এলেই লাখো মানুষ রোজা রাখেন আধ্যাত্মিক শুদ্ধির এই মাসে খাবার-দাবারের ছন্দটাই আমূল বদলে যায়। কিন্তু যাঁরা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস-এ ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তনটা শুধু কষ্টকর নয় কখনো কখনো রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক। জানুন আইবিএস আক্রান্ত রোগীরা ইফতার ও সেহেরি কী কী খাবেন এবং কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন। দীর্ঘ উপবাসের পর হঠাৎ ভাজাপোড়া আর মশলাদার খাবার পেটে পড়লে গ্যাস, পেট ফাঁপা আর খিঁচ ধরার মতো উপসর্গ চোখের পলকে মাথাচাড়া দেয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটু সচেতনভাবে খাবার বেছে নিলে আইবিএস রোগীরাও সুস্থভাবে রোজা পালন করতে পারেন। ইফতারে প্রথম কামড়টা হোক হালকা সারাদিন না খেয়ে থাকার পর পেট সহজেই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাই ইফতারে একেবারে প্রথমেই বেগুনি-পিঁয়াজু দিয়ে শুরু করার প্রবণতাটা আইবিএস রোগীদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবর্তে শুরু হোক চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা ডাবের পানি দিয়ে। ইসবগুলের ভুসি মেশানো পানি অন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। ফলের মধ্যে কলা সবচেয়ে নিরাপদ। পাকা পেঁপে বা বেলের শরবতও হজমে চমৎকার সহায়তা করে। চিড়া আর টক দই একসঙ্গে খেলে প্রোবায়োটিকের কাজ হয় — পেট ঠাণ্ডা থাকে, অস্বস্তি কম হয়। প্রোটিনের জন্য সেদ্ধ ডিম বা গ্রিলড চিকেন যথেষ্ট। এতটুকুই যথেষ্ট ইফতারের জন্য। অতিরিক্ত ঝাল-মশলার ছোলা ভুনা, কৃত্রিম রঙের শরবত — এগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। রাতের খাবার হোক সাদামাটা ইফতার ও সেহরির মাঝের রাতের খাবারটা আইবিএস রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এ সময় পেটে খুব বেশি চাপ দেওয়া ঠিক না। সাদা ভাত, পাতলা মাছের ঝোল আর লাউ বা পেঁপে দিয়ে রান্না করা তরকারি — এই সংমিশ্রণ আদর্শ। ডাল অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস তৈরি করে, তাই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করুন। সেহরিতে যা দিনভর শক্তি জোগাবে সেহরিতে দরকার এমন খাবার যা ধীরে ধীরে হজম হবে, দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেবে, আর পেটে ঝামেলা করবে না। লাল চাল বা সাদা ভাতের সঙ্গে চালকুমড়া, ঝিঙে বা পটলের মতো নরম সবজি এবং অল্প তেলে রান্না করা মাছ বা মুরগি ভালো বিকল্প। যাঁরা ভারী ভাত খেতে পারেন না, তাঁরা ওটস বা দই-চিড়া দিয়েও সেহরি সারতে পারেন। পানি পানের ব্যাপারে একটু কৌশলী হতে হবে। সেহরির শেষ মুহূর্তে এক নিঃশ্বাসে দুই গ্লাস পানি না খেয়ে, ইফতারের পর থেকে পুরো রাতটা জুড়ে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি যেমন পূরণ হবে, পেটেও চাপ পড়বে না। কিছু ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইবিএস রোগীদের জন্য খাবারের পাশাপাশি খাওয়ার ধরনটাও সমান জরুরি। তাড়াহুড়ো করে না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া উচিত — তাড়াতাড়ি খেলে পেটে বাতাস ঢোকে, যা আইবিএস-এর লক্ষণ বাড়িয়ে দেয়। যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাঁরা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। চা-কফি পেটের অন্ত্রে চাপ তৈরি করে, তাই ইফতারে চায়ের কাপের পরিবর্তে হার্বাল চা বা আদার পানি বেছে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রমজান আত্মসংযমের মাস। একটু সচেতনতা আর সঠিক পরিকল্পনা — এই দুটো থাকলে আইবিএস রোগীরাও এই মাসে সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে পারবেন।
সাধারণ সর্দি-জ্বর-কাশি বা শ্লেষ্মাজনিত কারণে হওয়া সারা বছরের চেনা ‘ফ্লু’ শীত বা বসন্ত এলেই কেমন বদলে যায়। চারিত্রিক বদল ঘটিয়ে অনেকের শরীরে হানা দেয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। নাক বন্ধ, গলায় খুসখুসানি, কাশতে কাশতে রাতের ঘুম হারাম। বছরের পর বছর ধরে মানুষ এই যন্ত্রণা বহন করে আসছে, আর চিকিৎসকরা বলে আসছেন — সাধারণ সর্দি-কাশির কোনো স্থায়ী টিকা নেই। কিন্তু এবার সেই চিরচেনা বাস্তবতা বদলে দেওয়ার দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স'-এ প্রকাশিত তাদের নতুন গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, একটিমাত্র টিকা একসঙ্গে ফ্লু, সাধারণ সর্দি, কোভিড, ব্যাকটেরিয়াজনিত ফুসফুসের সংক্রমণ এবং এমনকি ঘরের ধুলিকণায় অ্যালার্জির বিরুদ্ধেও শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। নাসিকায় স্প্রে করার মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য এই টিকা প্রাথমিকভাবে প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক বালি পুলেন্দ্রান। তিনি বলেছেন, এই টিকার পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। এডওয়ার্ড জেনারের হাত ধরে দুই শতাব্দী আগে যে টিকাবিদ্যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখানে একটি টিকা কেবল একটি নির্দিষ্ট রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু এই নতুন টিকা শরীরের রোগপ্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন নকল করে সমস্ত রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত ঢাল তৈরি করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড্যানিয়েলা ফেরেইরা গবেষণাটিকে বড় অগ্রগতি বলে স্বীকার করলেও জানান, মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল আসার আগে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জনাথন বল আরেকটু সতর্কতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত সক্রিয় রাখলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রায় সারা বছরই লেগে থাকে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শীত মৌসুমে বহির্বিভাগে রোগীর চাপ দ্বিগুণ হয়ে যায়, যার বড় অংশই ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত। এখন বছরে একবার ফ্লু টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও সচেতনতার অভাব ও খরচের কারণে অধিকাংশ মানুষ তা নেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশে ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি। স্ট্যানফোর্ডের এই গবেষণা সেই প্রয়োজনীয়তাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মানব শরীরে পরীক্ষা শুরু হতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু গবেষণাটি যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে প্রতিটি শীতের আগে একটিমাত্র টিকা নিয়েই সব ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হতে পারে। সেদিন এলে লক্ষ কোটি মানুষের জীবন থেকে শীতের অনেক কষ্টের অধ্যায়টুকু মুছে যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .