লাইফস্টাইল

ঘুম থেকে উঠেই ভুলেও মোবাইল দেখবেন না, নতুন গবেষণায় মিলল ভয়ংকর তথ্য

অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৪ মে, ২০২৬ 0
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো

বাংলাদেশে পরিবর্তনশীল ঋতুতে গরম পড়লেই ছোট বাচ্চাদের ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ঘামাচি, র‍্যাশ, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা শুষ্কতা অনেক পরিবারের জন্য সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যেসব শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তাদের ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় গরমে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও ত্বক চিকিৎসকদের মতে, গরমে বাচ্চাদের জন্য লোশন বাছাই করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেটি যেন মাইল্ড, হালকা এবং কম কেমিক্যালযুক্ত হয়। কারণ অনেক সুগন্ধিযুক্ত বা বেশি কেমিক্যাল থাকা লোশন শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে শিশুদের জন্য ওয়াটার বেসড ও নন স্টিকি লোশন তুলনামূলক ভালো কাজ করে। যেসব লোশনে অ্যালোভেরা, ওটমিল, ক্যামোমাইল বা নারিকেল নির্যাস থাকে, সেগুলো অনেক সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক বর্তমানে বেবি লোশন কেনার সময় “Hypoallergenic”, “Paraben Free” এবং “Dermatologically Tested” লেখা আছে কি না সেটি দেখেন। কারণ এসব বৈশিষ্ট্য সাধারণত সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। চিকিৎসকরা কোন ধরনের লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন ঢাকার কয়েকজন শিশু বিশেষজ্ঞের মতে, গরমের সময় ভারী ক্রিম বা অতিরিক্ত তেলতেলে লোশন ব্যবহার না করাই ভালো। এতে শিশুর ঘাম আরও আটকে যেতে পারে এবং ঘামাচি বাড়তে পারে। তারা বলেন, গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে অল্প পরিমাণ লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। তবে দিনে বারবার লোশন লাগানোর প্রয়োজন হয় না, যদি না শিশুর ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়। গরমে বাচ্চাদের জন্য জনপ্রিয় কিছু লোশন বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যে বর্তমানে কয়েকটি বেবি লোশন বেশি ব্যবহার হতে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে: Johnson’s Baby এর Milk + Rice Lotion Aveeno Baby Daily Moisture Lotion Cetaphil Baby Daily Lotion Sebamed Baby Lotion Kodomo Baby Lotion তবে চিকিৎসকদের মতে, সব শিশুর ত্বক এক রকম না। তাই একটি লোশন অন্য বাচ্চার জন্য ভালো হলেও আপনার শিশুর ত্বকে সেটি মানাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ভুলগুলো অনেক অভিভাবক করেন অনেকেই গরমে বাচ্চার ত্বক ঠান্ডা রাখতে বড়দের মেনথলযুক্ত লোশন ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এসব উপাদান শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। আবার অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত লোশনও অনেক শিশুর ত্বকে অ্যালার্জির কারণ হয়। শিশুর ত্বক ভালো রাখতে আরও যা করবেন গরমে শিশুকে ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরানো ভালো। নিয়মিত গোসল করানো এবং ঘাম হলে দ্রুত শরীর মুছে দেওয়া দরকার। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার শিশুর শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও শিশুর ত্বককে ভালো রাখতে তেল এবং ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর ত্বকে যদি লালচে দাগ, ফুসকুড়ি বা অতিরিক্ত চুলকানি দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আরো পড়তে পারেনঃ গরমে শিশুদের কোন তেল এবং কোন ক্রিম ব্যবহার করা ভালো মূল কথা হচ্ছে গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো, তার উত্তর সবার জন্য এক রকম না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালকা, কম কেমিক্যালযুক্ত এবং শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তৈরি লোশনই সবচেয়ে নিরাপদ। লোশন কেনার আগে শুধু বিজ্ঞাপন না দেখে উপাদান, ত্বকের ধরন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১২ মে, ২০২৬ 0
গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়
গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়

গরম পড়লেই অনেকের ত্বকে শুরু হয় নতুন সমস্যা। কারও মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়, কারও ব্রণ বাড়ে, আবার অনেকে ঘামাচি, র‍্যাশ কিংবা রোদে পোড়া ত্বকের সমস্যায় ভোগেন। বাংলাদেশের বৈচিত্রময় ঋতুতে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের যত্ন না নিলে এসব সমস্যা দ্রুত বাড়তে পারে। নিজেকে পরিপাটি ও সৌন্দর্য বর্ধন করতে অবশ্যই জানুন গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায় সমূহ।  ত্বক নিয়ে যারা গবেষণা করেন কিংবা পড়াশোনা করেন তাদের অভিজ্ঞতার মতে, গরমে ঘাম, ধুলাবালি ও অতিরিক্ত রোদ ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তবে সবসময় দামি স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করতেই হবে এমন না। ঘরেই থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ত্বককে ভালো রাখা সম্ভব। গরমে ত্বকের সমস্যা কেন বাড়ে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ঋতুতে গরমের সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে শরীরে ঘাম বেশি হয়। ঘাম ও ধুলাবালি মিলে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ব্রণ, ফুসকুড়ি, চুলকানি ও তৈলাক্তভাব বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে, রোদে অতিরিক্ত থাকা ত্বকের ক্ষতিও বাড়ায়। বিশেষ করে দুপুরের রোদ ত্বকের জন্য বেশি ক্ষতিকর। গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়ে নেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি প্রত্যেক ডাক্তারই বলেন ত্বক ভালো রাখার অত্যন্ত সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায় হল প্রতিদিন পরিমিত পানি খাওয়া। এক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি খাওয়া যথেষ্ট আবার কেউ কেউ উল্টো মনে করেন। তবে বাস্তবতা হলো প্রতিদিন কতটুকু পানি খাবেন সেটি নির্ভর করবে আপনার উপর। এই নিয়ে আমাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন দিনে কতটুকু পানি খাওয়া দরকার । শুধুই কি পানি? পানি ছাড়াও যে সমস্ত ঘরোয়া উপায়ে ত্বককে ভালো রাখতে পারবেন তাহলো -  অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখতে অ্যালোভেরা খুব জনপ্রিয় একটি উপাদান। এটি ত্বকে আরাম দেয় এবং হালকা জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোদে পোড়া ত্বকে অ্যালোভেরা অনেক সময় উপকারী অনুভূতি দেয়। ব্যবহারের আগে হাতে অল্প লাগিয়ে দেখে নিন অ্যালার্জি হয় কি না। শসা ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে গরমে চোখের নিচে ফোলা ভাব বা মুখে জ্বালাপোড়া কমাতে শসা ব্যবহার করা হয় বহু বছর ধরে। ঠান্ডা শসা কেটে মুখে কিছুক্ষণ রাখলে অনেকেই আরাম অনুভব করেন। গোলাপ জল ব্যবহার করা যেতে পারে পরিষ্কার তুলায় অল্প গোলাপ জল নিয়ে মুখ মুছে নিলে অনেক সময় ফ্রেশ অনুভূতি আসে। তবে অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত বা কেমিক্যাল বেশি থাকা গোলাপ জল ব্যবহার না করাই ভালো। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন গরমে দিনে দুই থেকে তিনবার মুখ ধোয়া ভালো। এতে ঘাম ও ধুলাবালি কমে যায়। খুব বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। যদি পারেন প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত পানি ফ্রিজের মধ্যে রেখে সেটা বরফ করতে, এরপর প্রতিদিন সকালে ওই বরফ দিয়ে ত্বকের উপর হালকা হালকা মালিশ করতে।  টক দই ও মধুর প্যাক অনেকেই গরমে টক দই ও অল্প মধু মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করেন। এতে ত্বকে কিছুটা শীতল অনুভূতি আসতে পারে। তবে সেনসিটিভ স্কিন হলে আগে অল্প ব্যবহার করে পরীক্ষা করা ভালো। গরমে ত্বকের যত্নে কী খাবেন ত্বক শুধু বাইরে থেকে না, ভেতর থেকেও ভালো রাখতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরমে বেশি পানি পান করার পাশাপাশি তরমুজ, শসা, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফল খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। তাই এসব খাবার আপনার নিত্য দিনের প্রয়োজনীয়তায় রাখুন।  গরমে ত্বকের যত্নে যেসব ভুল করবেন না অনেকেই গরমে বারবার মুখে সাবান ব্যবহার করেন। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভারী ক্রিম ব্যবহার করলেও ব্রণ বাড়তে পারে। মুখরোচক কথায় বিক্রি হওয়া ফেসবুক বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে কোন ফেসওয়াস বা ফেসপ্যাক কিনে মুখে ব্যবহার করবেন না।  রোদে বের হলে ছাতা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। সমস্ত ঘরোয়া উপাদান অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে ত্বকে যদি অতিরিক্ত চুলকানি, লালচে ভাব, ইনফেকশন বা দীর্ঘদিনের ব্রণ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১০ মে, ২০২৬ 0
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো

গরম শুরু হলেই বাংলাদেশের অনেক পরিবারে একটা সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। ছোট বাচ্চার শরীরে ঘামাচি ওঠে, ঘাড় লাল হয়ে যায়, পিঠে ছোট ছোট দানা দেখা দেয়। তখন অনেকে ভাবেন, “তেল দিলে হয়তো শরীর ঠান্ডা থাকবে।” কিন্তু সব তেল বাচ্চার জন্য নিরাপদ না। বিশেষ করে গরমের সময় ভুল তেল ব্যবহার করলে শিশুর ত্বকে জ্বালা, র‍্যাশ, এমনকি ফাঙ্গাল সংক্রমণও বাড়তে পারে। আর শিশুর যত্নে অবশ্যই জেনে নিবেন গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো।  শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাচ্চাদের ত্বক খুব দ্রুত ঘেমে যায়। তাই ভারী, অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত বা বেশি স্টিকি তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এসব তেল ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় শিশুদের জন্য হালকা, কম কেমিক্যালযুক্ত এবং দ্রুত শোষিত হয় এমন তেল বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল সবচেয়ে ভালো অনেক শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্কিন কেয়ার বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে হালকা ধরনের তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। বাংলাদেশের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত তেল এই গরমে শিশুর স্কিনে দারুন প্রভাব ফেলবে তা হল নারিকেল তেল বাংলাদেশে গরমের সময় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও নিরাপদ তেলের মধ্যে নারিকেল তেল অন্যতম। বিশেষ করে ভার্জিন বা কোল্ড প্রেসড নারিকেল তেল শিশুর ত্বকে তুলনামূলক আরাম দেয়। ঢাকা মেডিকেলের শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসকদের মতে, হালকা নারিকেল তেল অনেক শিশুর ত্বকে শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চিটচিটে অনুভূতি তৈরি করে না। গরমে ঘামাচি প্রবণ বাচ্চাদের জন্যও এটি তুলনামূলক ভালো অপশন হিসেবে ধরা হয়। অলিভ অয়েল অনেক মা অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরমে ভারী অলিভ অয়েল কিছু শিশুর ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যেসব শিশুর একজিমা বা সেনসিটিভ স্কিন আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো। বাদাম তেল বাদাম তেলে ভিটামিন ই থাকায় অনেক পরিবার এটি ব্যবহার করে। তবে গরমে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বকে ঘাম জমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করাই নিরাপদ। বেবি অয়েল বাজারে অনেক ধরনের বেবি অয়েল পাওয়া যায়। কিন্তু সব বেবি অয়েল ভালো না। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন, “Paraben Free”, “Mineral Oil Free” এবং “Fragrance Free” লেখা পণ্য বেছে নেওয়া নিরাপদ। অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত বেবি অয়েল অনেক সময় শিশুর ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। গরমে কোন তেল এড়িয়ে চলা উচিত সরিষার তেল বাংলাদেশে আগে বাচ্চাদের গায়ে সরিষার তেল বেশি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেল কিছু শিশুর ত্বকে জ্বালা ও র‍্যাশ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নবজাতক ও সেনসিটিভ স্কিনের শিশুর ক্ষেত্রে এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত তেল অনেক তেলে কৃত্রিম পারফিউম থাকে। এগুলো শিশুর ত্বকে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাচ্চার ত্বকে অতিরিক্ত তেল লাগানোর প্রয়োজন নেই। হালকা করে ম্যাসাজ করলেই যথেষ্ট।তারা বলেন, তেল ব্যবহারের পর দীর্ঘ সময় শিশুকে গরম পরিবেশে রাখা ঠিক না। এতে ঘাম জমে ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। 

দিগন্ত প্রতিবেদন ১০ মে, ২০২৬ 0
ভারি বৃষ্টিতে রেইনকোট নাকি ছাতা

ভারি বৃষ্টি নামলেই অনেকের মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘোরে “আজ ছাতা নেব, নাকি রেইনকোট?” বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এই ছোট্ট সিদ্ধান্তটাই কখনো বড় ঝামেলা বাঁচায়, আবার কখনো পুরো দিনটাই ভিজিয়ে দেয়।  শহরের রাস্তায় দেখা যায় মজার এক দৃশ্য। কেউ মাথার ওপর বিশাল ছাতা ধরে যুদ্ধ করছেন বাতাসের সঙ্গে, আবার কেউ রেইনকোট পরে আরামে হাঁটছেন। তবে দুটোরই আছে আলাদা সুবিধা আর ঝামেলা। তবে মজার বিষয় হলো অনেকের কাছে ছাতা কিংবা রেইনকোট কোনোটিই নেই।   ভারি বৃষ্টিতে বেশিরভাগ মানুষ এখন রেইনকোটকেই বেশি ভরসা করেন। কারণ, বাতাস এলেও শরীর কম ভেজে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক বা যারা নিয়মিত বাইরে থাকেন, তাদের কাছে রেইনকোট যেন “বর্ষার বর্ম”। দুই হাত ফাঁকা থাকে, হাঁটাচলাও সহজ হয়। তবে রেইনকোট পরলেই যে সব সমস্যার শেষ, তা নয়। অনেকেই বলেন, “ভাই, রেইনকোট পরলে মনে হয় ভেতরে আলাদা একটা গরমের সিজন শুরু হয়!” বিশেষ করে গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রেইনকোট পরে থাকাটা বেশ অস্বস্তিকর। অন্যদিকে ছাতার আলাদা একটা “ক্লাসিক” আবেদন আছে। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী অনেকেই এখনও ছাতাকেই প্রথম পছন্দ বলেন। কারণ, এটা ব্যবহার করা সহজ, গরমও কম লাগে। আবার বৃষ্টি থেমে গেলে গুটিয়ে হাতে নিয়েই হাঁটা যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, একটু বাতাস হলেই ছাতা উল্টে যায়। তখন রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছাতার সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু হয়, সেটা আশপাশের মানুষও মজা নিয়ে দেখে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা বা মাঝারি বৃষ্টিতে ছাতা যথেষ্ট। তবে ঝড়ো হাওয়া আর টানা ভারি বৃষ্টিতে রেইনকোট বেশি কার্যকর। মজার বিষয় হলো, এখন অনেকেই “সেফ সাইডে” থাকতে দুটোই ব্যবহার করেন। ব্যাগে ছোট ছাতা, গায়ে রেইনকোট মানে বৃষ্টি যতই চালাকি করুক, ভেজানোর সুযোগ কম! শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা অনেকটাই অভ্যাস আর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। কেউ বলেন, “ছাতা ছাড়া বৃষ্টি জমে না”, আবার কেউ মনে করেন, “রেইনকোটই আসল লাইফ সেভার!”

দিগন্ত প্রতিবেদন ৯ মে, ২০২৬ 0
ফ্যান পরিষ্কার করলে কি আসলেই বাতাস বাড়ে?
ফ্যান পরিষ্কার করলে কি আসলেই বাতাস বাড়ে?

গরমের সময় অনেক বাসায় একটি সাধারণ অভিযোগ শোনা যায়। ফ্যান চলছে, কিন্তু আগের মতো বাতাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই তখন মনে করেন ফ্যানের মোটর নষ্ট হয়ে গেছে বা নতুন ফ্যান কেনার সময় হয়েছে। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয় জমে থাকা ধুলাবালি। গৃহস্থালি ইলেকট্রিক যন্ত্র মেরামতের সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের মতে, সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান কিংবা স্ট্যান্ড ফ্যান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ব্লেডের ওপর ধুলার স্তর জমে যায়। এতে ব্লেডের ডিজাইন অনুযায়ী বাতাস ঠেলার ক্ষমতা কমে যায়। ফল হিসেবে ফ্যান ঘুরলেও বাতাস দুর্বল লাগে। বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ৪ থেকে ৬ মাস পরিষ্কার না করা ফ্যান পরিষ্কার করার পর অনেক সময় ঘরের বাতাসের পার্থক্য সহজেই বোঝা যায়। বিশেষ করে যেসব ঘরে জানালা খোলা থাকে বা রাস্তার ধুলা বেশি ঢোকে, সেখানে ফ্যান দ্রুত নোংরা হয়। প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি সহজ। ফ্যানের ব্লেড নির্দিষ্ট কোণে তৈরি হয় যাতে ঘোরার সময় বাতাস নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যখন ব্লেডে ধুলা জমে, তখন তার মসৃণতা নষ্ট হয়। এতে বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্লেড ভারসাম্যও হারায়, ফলে শব্দ বাড়ে এবং কম্পন তৈরি হয়। তবে সব সময় শুধু পরিষ্কার করলেই সমাধান হবে, এমন নয়। যদি ক্যাপাসিটর দুর্বল হয়ে যায়, মোটরের কয়েল গরম হয়ে যায় বা বেয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বাতাস কমতেই পারে। সে ক্ষেত্রে একজন দক্ষ মিস্ত্রির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ইলেকট্রিক সার্ভিস সেন্টারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অনেক গ্রাহক নতুন ফ্যান কিনতে চান, কিন্তু পরিষ্কার ও ছোটখাটো সার্ভিস করার পর পুরোনো ফ্যানই আবার ভালো পারফরম্যান্স দেয়।  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্তত দুই থেকে তিন মাস পরপর ফ্যান পরিষ্কার করা উচিত। এতে বাতাস ভালো পাওয়া যায়, শব্দ কম হয় এবং মোটরের ওপর চাপও কম পড়ে। সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, ফ্যান পরিষ্কার করলে সত্যিই বাতাস বাড়ার অনুভূতি পাওয়া যায়। কারণ এতে ফ্যান তার স্বাভাবিক দক্ষতায় ফিরে আসে। তাই বাতাস কম মনে হলে নতুন ফ্যান কেনার আগে পরিষ্কার করাই হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান।

ডিপি প্রতিবেদন ২০ এপ্রিল, ২০২৬ 0
গরমে চার্জার ফ্যান কেনার আগে যে ৩টি বিষয় মনে রাখবেন
গরমে চার্জার ফ্যান কেনার আগে যে ৩টি বিষয় মনে রাখবেন

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে চার্জার ফ্যানের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা বাইরে ব্যবহারের সুবিধার কারণে এখন অনেক পরিবারেই চার্জার ফ্যান প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। তবে বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ড, বিভিন্ন দামের মডেল এবং আকর্ষণীয় অফারের ভিড়ে না বুঝে কিনলে সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন ক্রেতারা। অনেকেই শুধু বাহ্যিক ডিজাইন দেখে বা কম দাম দেখে চার্জার ফ্যান কিনে পরে হতাশ হন। কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাওয়া, বাতাস কম পাওয়া কিংবা চার্জ ধরে না রাখার মতো অভিযোগও কম নয়। তাই কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি। ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রথমেই দেখতে হবে ব্যাটারির মান ও ব্যাকআপ সময়। চার্জার ফ্যানের মূল শক্তি তার ব্যাটারি। অনেক বিক্রেতা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ব্যাকআপের দাবি করলেও বাস্তবে তা অনেক সময় মেলে না। ব্যাটারির ধরন, ক্ষমতা এবং চার্জ সাইকেল সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। লিথিয়াম ব্যাটারির ফ্যান সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দ্রুত চার্জ হয়। সস্তা ব্যাটারির ফ্যান শুরুতে ভালো চললেও অল্প সময়েই কর্মক্ষমতা হারাতে পারে। বাতাসের গতি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোটরের ক্ষমতা ও বাতাসের গতি। অনেক ফ্যান দেখতে বড় হলেও বাতাস কম দেয়। কারণ এর মোটর দুর্বল বা ব্লেডের নকশা কার্যকর নয়। কেনার আগে সম্ভব হলে চালিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। কম শব্দে বেশি বাতাস দিতে পারে এমন ফ্যান দীর্ঘমেয়াদে বেশি সুবিধাজনক। শুধু আকার বড় হলেই ভালো ফ্যান হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ওয়ারেন্টি তৃতীয় বিষয় হলো বিক্রয়োত্তর সেবা ও ওয়ারেন্টি। চার্জার ফ্যান একটি ইলেকট্রনিক পণ্য হওয়ায় ব্যবহারের সময় সমস্যা হতেই পারে। তাই পরিচিত ব্র্যান্ড বা নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা নিরাপদ। ওয়ারেন্টি আছে কি না, সার্ভিস সেন্টার কোথায়, ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না, এসব আগেই জেনে নেওয়া উচিত। অনেক সস্তা ফ্যানে কোনো গ্যারান্টি থাকে না, ফলে নষ্ট হলে পুরো টাকাই ক্ষতি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এখন অনলাইনে চার্জার ফ্যান বিক্রি বাড়লেও পণ্যের স্পেসিফিকেশন যাচাই না করে অর্ডার দিলে ঝুঁকি থাকে। রিভিউ, ব্যবহারকারীর মতামত এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার্জার ফ্যান কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম নয়, ব্যবহারকাল, নিরাপত্তা ও সার্ভিস সুবিধাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য সচেতনতা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হতাশা থেকে বাঁচাতে পারে। গরমের এই সময়ে প্রয়োজন মেটাতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে তথ্য জেনে কিনুন। নইলে কম দামের লোভে কিনে পরে ঠকতেই হতে পারে। 

ডিপি প্রতিবেদন ২০ এপ্রিল, ২০২৬ 0
সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক! জেনে নিন এই গোপন ট্রিকস।
সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক! জেনে নিন এই গোপন ট্রিকস।

তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে অনেকেই এখন সারারাত এসি (AC) চালিয়ে রাখছেন। কিন্তু মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কাগজ দেখে সেই স্বস্তি নিমেষেই দুশ্চিন্তায় রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু ট্রিকস বা কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা মেনে চললে এসি চললেও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক।  সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণই আসল ম্যাজিক অনেকেই মনে করেন এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং বিল কম আসে। এটি একটি ভুল ধারণা। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE) অনুযায়ী, এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানো সবচেয়ে সাশ্রয়ী। তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ালে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। তাই ২৪ ডিগ্রিতে এসি চালিয়ে একটি সিলিং ফ্যান হালকা গতিতে ছেড়ে দিন, এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমবে। টাইমার এবং স্লিপ মোডের ব্যবহার সারারাত এসি চালানোর ক্ষেত্রে ‘স্লিপ মোড’ (Sleep Mode) ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই মোড চালু থাকলে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘরের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি করে বাড়িয়ে দেয়। এতে রাতের শেষভাগে যখন বাইরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে, তখন এসি বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ করে না। এছাড়া ভোররাতের দিকে এসি বন্ধ হওয়ার জন্য ‘টাইমার’ সেট করে রাখতে পারেন, যা আপনার অজান্তেই বিল কমিয়ে আনবে। ঘর যাতে বাইরের বাতাসমুক্ত থাকে এসি চালানোর আগে নিশ্চিত করুন ঘরের জানালা ও দরজা পুরোপুরি বায়ুরোধী বা এয়ারটাইট কি না। ঘরের কোনো ছিদ্র বা জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে ঘর ঠান্ডা হতে সময় বেশি লাগে, ফলে কম্প্রেসর দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে। জানালার পর্দা টেনে দিলে বাইরের সূর্যের তাপ ঘরে ঢুকতে পারে না, যা এসিকে দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত সার্ভিসিং এবং ফিল্টার পরিষ্কার নোংরা ফিল্টার এসির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফিল্টারে ধুলো জমে থাকলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে এসিকে ঘর ঠান্ডা করতে দ্বিগুণ শক্তি ব্যয় করতে হয়। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এসির ফিল্টার নিজে পরিষ্কার করুন এবং মৌসুমে অন্তত একবার পেশাদার টেকনিশিয়ান দিয়ে সার্ভিসিং করান। পরিষ্কার এসি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচ করে। ইনভার্টার এসি এবং সঠিক স্টার রেটিং আপনার এসি যদি পুরনো মডেলের হয়, তবে সেটি পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারেন। আধুনিক ইনভার্টার এসিগুলো ঘর ঠান্ডা হওয়ার পর কম্প্রেসর পুরোপুরি বন্ধ না করে খুব ধীর গতিতে চালায়, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক। এছাড়া এসি কেনার সময় সবসময় ৫-স্টার রেটিং দেখে কেনা উচিত, কারণ এগুলো কম বিদ্যুৎ খরচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এই সহজ কিন্তু কার্যকর ট্রিকসগুলো মেনে চললে আপনি যেমন প্রাণভরে এসি ব্যবহার করতে পারবেন, তেমনি মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের বড় বোঝা থেকেও রেহাই পাবেন।

ডিপি প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ 0
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে আইপিএস নাকি সোলার? কোনটি বেশি লাভজনক?
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে আইপিএস নাকি সোলার? কোনটি বেশি লাভজনক?

গরমের শুরুতেই দেশজুড়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।  দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি এখন চরমে। এই সংকট মোকাবিলায় গৃহস্থালি ও ছোট অফিসের জন্য অনেকেই বিকল্প খুঁজছেন। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে আইপিএস (IPS) ভালো হবে নাকি সোলার (Solar) সিস্টেম? কোনটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক? খরচ ও সুবিধার নিরিখে এক তুলনামূলক বিশ্লেষণ। সারা বিশ্বের এমন উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের কোথাও দেখা যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই সময়টিতে নিজের ডিভাইস গুলোকে অবশ্যই চারজিং করার জন্য প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এমনকি অতিরিক্ত গরমে মানুষ চায় অন্ততপক্ষে একটু ফ্যানের বাতাস খেয়ে ঠান্ডা থাকতে। আর এই তীব্র লোডশেডিং এ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে এই দুটি সমাধানে বেশি ব্যবহৃত। তবে কোনটি আপনার জন্য সুবিধা জনক? আইপিএস: তাৎক্ষণিক সমাধান, কিন্তু নির্ভরশীলতা বিদ্যুতেই আমাদের দেশে আইপিএস সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধান। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রাথমিক খরচ অনেক কম। একটি সাধারণ মানের আইপিএস ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যেই সেটআপ করা সম্ভব। তবে এর বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটিও মূল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। আইপিএস মূলত ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ জমিয়ে রাখে। যখন দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হয়, তখন আইপিএস চার্জ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় না। ফলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে এবং বিদ্যুৎ বিলও কিছুটা বেড়ে যায়। এছাড়া প্রতি দুই-তিন বছর অন্তর ব্যাটারি পরিবর্তন করতে গিয়ে বড় অঙ্কের একটি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ পকেটে চাপে। সোলার: শুরুতে খরচ বেশি, ভবিষ্যতে নিশ্চিন্ত সোলার সিস্টেম বা সৌরবিদ্যুৎ এখন আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে অনেকে ব্যাবহার করছেন।ঙ্সোকারন লার প্যানেল দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এবং ব্যাটারি চার্জ করে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় কারেন্ট না থাকলেও আপনার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ে না। সোলারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একবার সেটআপ করলে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর প্যানেল নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। আইপিএসের তুলনায় সোলারে আপনার মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। বর্তমানে উন্নত মানের লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করায় এর স্থায়িত্বও অনেক বেড়েছে। তবে এর প্রাথমিক খরচ আইপিএসের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে। কোনটি বেশি লাভজনক? আপনি যদি শুধুমাত্র ফ্যান ও লাইট চালানোর জন্য সাময়িক সমাধান চান, তবে আইপিএস সাশ্রয়ী মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে সোলার অনেক বেশি লাভজনক। একটি তুলনামূলক হিসাব: আইপিএস: প্রাথমিক খরচ কম হলেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় এবং ২ বছর পর পর ব্যাটারি বদলাতে হয়। ৫-৭ বছরের হিসাবে এটি সোলারের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। সোলার: শুরুতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও মাসে মাসে কোনো বিল নেই। ৫ বছরের মধ্যে আপনার প্রাথমিক বিনিয়োগের টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের মাধ্যমে উঠে আসে। পরবর্তী ১৫-২০ বছর আপনি কার্যত ফ্রিতে বিদ্যুৎ সেবা পান। আপনার জন্য পরামর্শ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সোলার সিস্টেমে শিফট হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যারা ঢাকার মতো শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন, তারা চাইলে পোর্টেবল সোলার প্যানেল বা হাইব্রিড ইনভার্টার ব্যবহার করতে পারেন। আর যাদের নিজস্ব ছাদ ব্যবহারের সুযোগ আছে, তাদের জন্য সোলারই সেরা পছন্দ। পরিশেষে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার বাজেট এবং দৈনিক কত সময় বিদ্যুতের ব্যাকআপ প্রয়োজন তা যাচাই করে নিন। বাজেট একটু বেশি হলে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সোলার প্যানেল লাগানোই হবে সবচেয়ে টেকসই এবং স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

ডিপি প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ 0
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো?
গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো?

তীব্র গরমে বাচ্চাদের ত্বকের যত্নে সাধারণ ক্রিম ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঘামাচি, র‍্যাশ এবং কালচে ভাব দূর করতে এই সময় ভারী ক্রিমের বদলে হালকা বা ওয়াটার-বেসড ক্রিম বেছে নেওয়া প্রয়োজন। আপনার শিশুর ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোন ক্রিমটি সেরা হবে, বা গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো তা নিয়েই আজকের আলোচনা। গরমে শিশুর ত্বকে ক্রিম ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি অতিরিক্ত গরমে ভারী তৈলাক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে র‍্যাশ হতে পারে। তাই এই সময় এমন ক্রিম বাছাই করতে হবে যা: হালকা ও দ্রুত শোষণযোগ্য  প্যারাবেন ও কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ (অ্যালোভেরা বা ক্যালামাইন) গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো? ( সেরা ৫টি বেবি ক্রিম ) এখানে কয়েকটি জনপ্রিয় এবং চিকিৎসকদের পছন্দের ক্রিমের তালিকা দেওয়া হলো: ক. সেবামড বেবি প্রোটেক্টিভ ফেসিয়াল ক্রিম  এটি শিশুর ত্বকের পিএইচ (pH) ৫.৫ বজায় রাখে। গরমে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং অস্বস্তি কমাতে এটি বেশ কার্যকর। এটি মোটেও চটচটে নয়। খ. হিমালয়া বেবি ক্রিম  যাঁরা ভেষজ উপাদান পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালো। এতে আছে কান্ট্রি ম্যালো এবং অলিভ অয়েল, যা ত্বককে শীতল রাখে এবং পুষ্টি যোগায়। গ. আভিওনো বেবি ময়েশ্চারাইজিং লোশন  ওটমিল সমৃদ্ধ এই লোশনটি গরমের র‍্যাশ বা চুলকানি কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। এটি সেনসিটিভ ত্বকের জন্য সেরা। ঘ. জনসন’স বেবি ক্রিম (সোফ্ট ক্যাটাগরি) হালকা টেক্সচারের জন্য এটি গরমে ভালো কাজ করে। এটি দ্রুত ত্বকে মিশে যায় এবং কোনো আঠালো ভাব রাখে না। ঙ. ডাবর লাল টেইল বা ক্যালামাইন লোশন যদি শিশুর শরীরে ঘামাচি বা অতিরিক্ত ঘাম হয়, তবে সাধারণ ক্রিমের বদলে ভালো মানের ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। এটি ত্বককে ঠান্ডা রাখে। মনে রাখবেন - বাচ্চার ত্বকে নতুন কোনো ক্রিম ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট (Patch Test) করে নিন। অর্থাৎ বাচ্চার কানের পিছনে বা হাতের সামান্য অংশে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো লাল ভাব বা চুলকানি না হয়, তবেই পুরো শরীরে ব্যবহার করুন।

ডিপি প্রতিবেদন ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ ক্যানভা
নাক ডাকা শুধু বিরক্তির নয়, মৃত্যুর কারণও হতে পারে!

রাতের বেলা পাশের মানুষটার নাক ডাকার শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত বিরক্তি। অনেকে হাসিঠাট্টা করেন, কেউ কেউ বালিশ দিয়ে কান চাপেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নাক ডাকাকে শুধু বিরক্তির বিষয় ভাবলে ভুল হবে। কিছু ক্ষেত্রে এটা গুরুতর রোগের সংকেত। চট্টগ্রামের একটি ভুক্তভোগী পরিবার থেকে জানা গেছে, তাদের পরিবারের একজন মধ্যবয়স্ক সদস্য বছরের পর বছর ধরে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকতেন। পরিবার এটাকে স্বাভাবিক ধরেই নিয়েছিল। একদিন রাতে তিনি ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্লিপ অ্যাপনিয়াতে ভুগছিলেন, যেটা ধরা পড়েনি। নাক ডাকার পেছনে সাধারণ কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ওজন, ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি, নাকের হাড় বাঁকা বা অ্যালার্জি। এগুলো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু যখন নাক ডাকার সাথে হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরে আবার শুরু হয়, তখন সেটাকে বলা হয় অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই অবস্থায় ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বারবার কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সাথে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সরাসরি সংযোগ প্রমাণিত হয়েছে গবেষণায়। দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজ খিটখিটে থাকা এই রোগের সাধারণ লক্ষণ। বিপদের সংকেত হলো ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করা বা শ্বাস আটকে গিয়ে হঠাৎ জেগে ওঠা, পাশের মানুষ যদি লক্ষ্য করেন যে ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাচ্ছে এবং সারারাত ঘুমানোর পরেও সকালে ক্লান্ত লাগা। এই লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসা আছে এবং সেটা কার্যকর। ওজন কমানো, ঘুমানোর সময় পাশ ফিরে শোয়া, CPAP মেশিন ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সেজন্য আগে রোগটাকে রোগ বলে চিনতে হবে।

ডিপি প্রতিবেদন ৭ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ ইন্টারনেট
গরমে বিদ্যুৎ বিল কমাবেন যেভাবে

তীব্র গরমে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে এয়ার কন্ডিশনার ও ফ্যানের ব্যবহার বেড়ে যায়, যার ফলে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যায় আশঙ্কাজনক হারে। তবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু সহজ অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নিই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কিছু কার্যকর উপায়। এসি ব্যবহারে বুদ্ধিমত্তা এসি ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে না রেখে ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করুন। প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ালে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এছাড়া এসি চালানোর সময় হালকা গতিতে ফ্যান চালালে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হয় এবং এসির ওপর চাপ কম পড়ে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমে আসে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ঘর ঠাণ্ডা রাখুন দিনের বেলা, বিশেষ করে দুপুর ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জানালার পর্দা টেনে রাখুন। গাঢ় রঙের পর্দা ব্যবহার করলে রোদের তাপ ঘরে কম প্রবেশ করে। সন্ধ্যার পর জানালা খুলে দিলে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ঘরে আসবে, ফলে রাতে এসির প্রয়োজন কমবে। এছাড়া ঘরের বাতি বন্ধ রেখে জানালার পর্দা সরিয়ে দিনের প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। ফ্রিজ ব্যবহারে সচেতনতা ফ্রিজ দেয়াল থেকে অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে রাখুন যাতে গরম বাতাস সহজে বের হতে পারে। বারবার ফ্রিজ খোলা থেকে বিরত থাকুন এবং গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রেখে ঠাণ্ডা হওয়ার পর রাখুন। গরমকালে ফ্রিজের সেটিংস সামার মোড-এ রাখলে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্লাগ খুলে রাখার অভ্যাস করুন টিভি, ল্যাপটপ চার্জার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের পর শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও এগুলো সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে। তাই কাজ শেষ হওয়া মাত্রই সকেট থেকে প্লাগ খুলে রাখার অভ্যাস করুন। এলইডি বাতি ব্যবহার করুন সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্ব বা টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি বাতি অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং বেশি আলো দেয়। পুরনো বাতি বদলে এলইডি ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে আসবে। এই সহজ পদ্ধতিগুলো মেনে চললে গরমকালে বিদ্যুৎ বিলের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। ঘরের রং নির্বাচন হালকা রঙের দেয়াল ও ছাদ সূর্যের তাপ কম শোষণ করে। সাদা বা হালকা রঙের পেইন্ট ব্যবহার করলে ঘর তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা থাকে এবং এসির প্রয়োজন কমে। ছাদে বাগান বা সবুজায়ন ছাদে টবে গাছ লাগালে বা ছাদ বাগান করলে ঘরের তাপমাত্রা কমে আসে। গাছপালা সূর্যের তাপ শোষণ করে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন পুরাতন এসি, ফ্রিজ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। আধুনিক এনার্জি সেভিং মডেল কিনলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমে। গিজার ও ওয়াটার হিটার ব্যবহার কমান গরমকালে গরম পানির প্রয়োজন কম থাকে। গিজার বন্ধ রাখুন এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন। রান্নাঘরে সাবধানতা চুলা বা ওভেন ব্যবহারের পর রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখুন যাতে তাপ বের হয়ে যায়। মাইক্রোওয়েভ বা প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে কম সময় ও কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। কাপড় শুকানোর পদ্ধতি ড্রায়ার মেশিন ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবে রোদে কাপড় শুকান। গরমে কাপড় দ্রুত শুকায়। স্মার্ট মিটার ও টাইমার ব্যবহার স্মার্ট মিটার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়। এসিতে টাইমার সেট করে নির্দিষ্ট সময় পর অটো বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। ঘরের ভেন্টিলেশন উন্নত করুন ক্রস ভেন্টিলেশনের জন্য জানালা এমনভাবে খুলুন যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করে গরম বাতাস বের করে দিন। অফ-পিক আওয়ারে কাজ করুন ইস্ত্রি, ওয়াশিং মেশিন বা ডিশ ওয়াশারের মতো ভারী যন্ত্র রাতে বা সকালে ব্যবহার করুন যখন লোডশেডিং কম থাকে। এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে গরমকালে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডিপি প্রতিবেদন ৪ এপ্রিল, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন মাত্র ২ মিনিটে!

আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন। 

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসনে বিএনপির প্রার্থী কে, দেখে নিন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২৩৭ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকিগুলো জোটের শরিকদের জন্য এবং কিছু আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করার জন্য রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।  এই ঘোষণার আগে, দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করতে পারে এবং নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো–

সপ্তাহের সেরা

সেরা ফুটবলার - ছবি ফিফা
খেলাধুলা

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে, ২০২৬ 0

অনলাইন জরিপ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার কি বিএনপি সরকার করতে পারবে?