আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ১১০ ডলারের ঘরও স্পর্শ করেছে। একইভাবে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির আশা করা হয়েছিল, তা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়; এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় তেলের দামে এই উল্লম্ফন। দেশের বাজারেও অস্বস্তি আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ এপ্রিল) সরকার সব ধরণের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং ডিজেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। সরবরাহ সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক দাম বাড়ার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার দাবি করছে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে দেশে আরেক দফা দাম সমন্বয় বা সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বরাজনীতির এই টানাপোড়েন যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তেলের দাম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে কেবল যাতায়াত নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি খাতের খরচও আকাশছোঁয়া হয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে দেশটির মাটিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, মারা যাওয়া দুজন হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের মোহাম্মদ আবদুল হাই (৬১) এবং শেরপুরের শ্রীবরদীর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮)। আবদুল হাই মদিনায় এবং আল মামুন মক্কায় মারা যান। সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত ছয়জনই পুরুষ এবং তাদের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন মক্কায় ও পাঁচজন মদিনায় মারা গেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯২টি ফ্লাইটে ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ হজ মিশন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যে প্রচারে গিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, আম জনতা পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর প্রস্তাব দিলেও পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ মঙ্গলবার প্রচারের শেষ দিনে দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াং, বর্ধমানের কুলটি এবং মেদিনীপুরের শালবনীতে জনসভা করেন অমিত শাহ। আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হবে। জনসভায় অমিত শাহ বলেন, বাংলার দুর্নীতিবাজ তৃণমূল সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। এবার তাদের বিদায় নিতে হবে। দুর্নীতিবাজ তৃণমূল সরকারকে গদিতে আর না রাখার সিদ্ধান্ত রাজ্যবাসী ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছে। আম জনতা পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ গড়তে দেব না। অমিত শাহ আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দার্জিলিংয়ে গোর্খাদের সমস্যার সমাধান করা হবে। যেসব গোর্খার নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি, নির্বাচনের পর তাঁদের সবার নাম তোলা হবে। তৃণমূল সরকার গোর্খাদের সঙ্গে যে অন্যায় ও অবিচার করেছে, তা সংশোধন করে তাঁদের দাবি মেটানো হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৩ তারিখে তৃণমূলের কোনো গুন্ডা যেন ঘর থেকে বের না হয় এবং কোনো হাঙ্গামা না করে। করলেই তাদের কারাগারে ঢোকানো হবে। ৪ তারিখের পর অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলদিয়া, ব্যারাকপুর, জগদ্দল ও জোড়াসাঁকোয় জনসভা করেন। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি বলছে ঝুট, করছে লুট।’ বাংলার জন্য তারা এক পয়সাও দেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজেপি নারীদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে। বিজেপির দুই কোটি চাকরি আর ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? মমতা বলেন, আজ বিজেপিশাসিত রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ। তারা বাংলায় এসব খাওয়া বন্ধ করে দিলে মানুষ খাবে কী? তিনি আরও বলেন, ভোটের সময় ওরা এসে চমকায়, ভোট শেষ হলে পালিয়ে যায়। তাঁর কাছে কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এক। একসঙ্গে আছি, একসঙ্গে থাকি এবং একসঙ্গে থাকব। বিজেপিমুক্ত বাংলা গড়ব।’ খবর - নিউজ ১৮
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায়, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।” ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তেহরান নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারবে। তবে আলোচনায় না এলে ইরানের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। খবর - আল জাজিরা
ইরানের সঙ্গে নতুন দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানে এই বৈঠক হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই বুধবার পাকিস্তানে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে। এমনকি কোনো সমঝোতা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন। অন্যদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি তেহরান ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার আশায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে উত্তেজনা এখনো কাটেনি। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন অবরোধ ও ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। দেশটি আটক জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসবে। তবে তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। পাকিস্তান সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে পারে। ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদঃ রয়টার্স
জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের পর দেশটির ইওয়াতে উপকূল ঘিরে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন রাজধানী টোকিও পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। কয়েক মিনিট ধরে সেখানে ভবন দুলতে দেখা যায়। সুনামি সতর্কতার আওতায় রয়েছে ইওয়াতে প্রিফেকচার, আওমোরি প্রিফেকচার এবং হোক্কাইডোর কিছু উপকূলীয় এলাকা। জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টেলিভিশন সম্প্রচারে বারবার উপকূল ও নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জাপানি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সতর্কবার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, “Tsunami! Evacuate!” এবং “Don’t turn back.” ইওয়াতে প্রিফেকচারের মিয়াকো বন্দরে ইতিমধ্যে ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হেনেছে। আরও বড় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোক্কাইডোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল, টোকাচি বন্দর, এরিমো শহর এবং আওমোরির হাচিনোহে বন্দরে সুনামি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এনএইচকে জানিয়েছে, ইওয়াতে ও আওমোরি উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরেও সুনামির লক্ষণ ধরা পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঢেউ দ্রুত উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরের একটি সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, ছোট ঢেউয়ের প্রভাবে নোঙর করা জাহাজ দুলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার সহায়তায় জাপানের মেরিটাইম সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্স একটি এসএইচ-৬০কে হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। ভূমিকম্পের পর টোকিও থেকে শিন-আওমোরি পর্যন্ত তোহোকু শিনকানসেন লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে আকিতা শিনকানসেন লাইনের চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে স্বর্ণের দাম। হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ হওয়ার খবরের পর সোমবার বিশ্ববাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি হিসাব করছেন। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও মূল্যবান ধাতুর বাজারে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২১ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে দাম ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারও ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮১৩ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়। এদিকে দেশের বাজারে সোনার দাম এখনো স্থির দেখা গেছে। সবশেষ ১৫ এপ্রিল বাজুস এই দাম হালনাগাদ করেন। তবে যেহেতু বিশ্ববাজারে দামের পতন হয়েছে তাই আশা করা যায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের কর্মকর্তা ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বাজারে আবারও যুদ্ধকেন্দ্রিক লেনদেনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে মার্কিন ডলার ও সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। ডলারের মান বাড়লে অন্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। এক কথায় ডলার এর মান শক্তিশালি হওয়ায় স্বর্ণের দামের এমন পতন হয়েছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি কার্গো জাহাজ তারা জব্দ করেছে। জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ অবস্থায় দুই দেশের যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। কারণ, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বেশি সময় উঁচু রাখতে পারে। এতে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে। অন্যদিকে ভারতের একটি বড় উৎসবকে সামনে রেখে স্বর্ণের বাজারে চাহিদা বাড়ার কথা থাকলেও রেকর্ড দামের কারণে গয়না কেনা কম হয়েছে। অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্লাটিনাম কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ।
শেষ কয়েক ঘন্টা বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও আবারো এটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় একে জলদস্যুতা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে পুনরায় সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে থাকবে। ইরানের জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, "হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখন থেকে এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।" বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গত শুক্রবার ইরান হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আভাস দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ মার্কিন অবরোধ "পুরো শক্তিতে" জারি থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান শনিবার সকালে পুনরায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এমন আশায় তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু হরমোজ প্রণালী ফের বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর তিনি এই ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি বিশ্বের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখনো স্পষ্ট নয়, জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আবার ফিরে গেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়। তাঁর ভাষায়, ইরানের সঙ্গে লেনদেন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকবে। অন্যদিকে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, মার্কিন অবরোধ চলতে থাকলে প্রণালী খোলা রাখা সম্ভব নয়। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, পরিস্থিতি এমন হলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। একই সঙ্গে সামরিক জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর প্রবেশ এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় প্রায় ২০টি জাহাজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হলেও বেশিরভাগই মাঝপথে ফিরে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় একসঙ্গে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা ছিল। এদিকে হরমুজ প্রণালি খোলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব উপাদান অন্য কোথাও স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই। সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও ইরান সীমিত সময়ের জন্য বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে আলোচনায় বড় অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময় এই জলপথটি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে। ইরানের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম কমল ১০ ডলার ইরানের এই ইতিবাচক বার্তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ধাক্কায় ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ মাত্র একদিন আগে শুক্রবার সকালেও এই তেলের দাম ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম কমেছে প্রায় ১০ ডলার। সংঘাতের জেরে এক সময় তেলের দাম ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা এখন আবার ৯০ ডলারের নিচে নামল। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ? বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম সংকট ও মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। শুধু তেল নয়, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার তৈরির উপকরণও এই পথ দিয়ে আসে, যা সংকটের মুখে পড়েছিল। ট্রাম্পের স্বাগত বার্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ইরানের এই সিদ্ধান্তকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই জলপথকে আর ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। এদিকে ইরানের এই ঘোষণায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকসহ ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ঝুঁকি কি পুরোপুরি কেটেছে? তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিপিং সংস্থা ‘বিমকো’র মতে, এই জলপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে অনেক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এখনই এই পথ ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও (IMO) বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভোক্তাদের জন্য কতটা স্বস্তির? অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণাটি স্বস্তিদায়ক হলেও সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, যুক্তরাজ্যের মতো কিছু দেশে ইতিমধ্যেই পেট্রল ও ডিজেলের দাম সামান্য কমতে শুরু করেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিই ইরানকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে বাস্তবে এখনো খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ এ পথ ব্যবহার করছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নতুন শর্তের কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, লেবাননে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির বাকি সময় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খোলা থাকবে। তবে একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস নৌবাহিনী জানায়, প্রণালি ব্যবহার করতে হলে তাদের নির্ধারিত কিছু শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, জাহাজ চলাচলের আগে ইরানের অনুমতি নেওয়া। এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নিলে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল হবে নির্ধারিত রুটে এবং ইরানের অনুমোদন নিয়ে। ঘোষণার পরও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। শুক্রবারের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচটি কার্গো জাহাজ ও একটি তেলবাহী জাহাজ ওমান উপসাগরে পৌঁছেছে। পারস্য উপসাগর থেকে কোনো তেল ট্যাংকার বের হয়নি। যাত্রীবিহীন একটি ক্রুজ জাহাজও সতর্কভাবে এই পথ অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২১টি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতে কোনো টোল নেওয়া হবে না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধরনের টোল বা বাধা থাকবে না। এর আগে খবর আসে, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার দাবি তুলতে পারে। সবশেষ পরিস্থিতিতে বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো অপেক্ষা করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস সত্ত্বেও তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। সূত্রঃ CNN
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা সফল হোক বা না হোক, ইরানের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নেবে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তিই হতে পারে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় প্রায় সব বিষয়ে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুই দেশ যৌথভাবে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও। ট্রাম্প বলেন, এতে স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। তাঁর ভাষায়, চুক্তি হয়ে গেলে যুদ্ধের দরকার থাকবে না। তখন দুই পক্ষ একসঙ্গেই এই কাজ করবে। পরে অ্যারিজোনায় এক সমাবেশে একই বিষয়ে আবারও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ নিয়ে নেবে। আলোচনায় সমাধান না হলে অন্য পথেও তা নেওয়া হবে, যদিও সেটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পারমাণবিক খাতে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ নামে কোনো স্বীকৃত প্রযুক্তিগত শব্দ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প ইরানের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকেই এভাবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বিকল্প বাস্তবতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনোই তাদের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করার মার্কিন দাবিও ইরান মেনে নেবে না। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যতিক্রমী শর্ত ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। ফলে ট্রাম্প আশাবাদী বক্তব্য দিলেও সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত। সূত্রঃ CNN
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। দেশটির সারাওয়াক রাজ্য সরকার নীতিগতভাবে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তাদের সম্মতি জানিয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী আবাং হাজি আবদুল রহমান জোহারির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত উঠে আসে। সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন কৃষি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোতেও বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। হাইকমিশনার বাংলাদেশের বিশাল ও দক্ষ মানবসম্পদ এবং কৃষিখাতের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে জানান যে, দক্ষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণির শ্রমিক সরবরাহের মাধ্যমে সারাওয়াকের উন্নয়নে বাংলাদেশ আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। বৈঠকের অন্যতম প্রধান দিক ছিল শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা। এছাড়া কৃষি খাতে সহযোগিতা এবং সৌরশক্তিসহ সবুজ প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য আলাদা আরেকটি এমওইউ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই পক্ষ। সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাদের অঞ্চলের উন্নয়ন কৌশলে কৃষি ও নির্মাণ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে বাংলাদেশিদের অবদান অনস্বীকার্য। এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনার এই ফলাফলগুলো দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন। এর ফলে শুধু যে শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হবে তা নয়, বরং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের রাজনীতি ও নেতৃত্বে প্রভাবশালী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী 'টাইম'-এর ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় নাম উঠেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের এই তালিকাটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকীটি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নেতৃত্বের এই স্বীকৃতি দেশে ও বিদেশে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকায় বিভিন্ন বিভাগ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থান করে নিয়েছেন ‘লিডারস’ বা নেতা বিভাগে। এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনি ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন। ম্যাগাজিনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা এবং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়, আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতি বছরই টাইম সাময়িকী বিশ্বের এমন ১০০ জন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে, যারা তাদের কাজ, চিন্তা বা নেতৃত্বের মাধ্যমে সারা বিশ্বে পরিবর্তনের ছাপ রাখছেন। ২০২৬ সালের এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তিকে বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারেক রহমানের এই অর্জনে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। যদিও এর আগে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজনকে টাইমসের এই ১০০ জনের তালিকায় দেখা গেছে। এ বছরের টাইম ম্যাগাজিনের এই বিশেষ সংখ্যাটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাতও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত জীবনের এক ট্র্যাজিক মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান যখন ঢাকায় পা রাখেন, তার মাত্র পাঁচ দিন পরেই তার মা এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরলোকগমন করেন। মায়ের মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই তিনি দেশ পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। টাইম-এর সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত শোককে তিনি দেশের ১৭ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার শক্তিতে রূপান্তর করতে চান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূর করাকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে তলানিতে ঠেকে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করাও তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আদালত কর্তৃক খারিজ হওয়ার পর, তিনি এখন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। তারেক রহমান টাইম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তার হাতে নষ্ট করার মতো আর সময় নেই। তিনি বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে যাতে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।” দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। টাইমের এই স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অবস্থানকেই আরও দৃঢ় করল।
ভারতের ভিসা কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তাদের জন্য একটি বড় সুখবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই সফরের পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা ব্যবস্থা আবার সচল হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তারা বেশ সাড়া দিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ভিসার পাশাপাশি এখন থেকে ব্যবসায়িক ভিসাও চালু করতে ভারত সম্মত হয়েছে। যারা ব্যবসার প্রয়োজনে নিয়মিত ভারত যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এটি অনেক বড় একটি স্বস্তির খবর। হুমায়ূন কবির আরও জানিয়েছেন যে, সব ঠিক থাকলে হয়তো আগামী সপ্তাহ থেকেই ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একটি রুটিন বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তার কথা অনুযায়ী, মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা দ্রুত চালুর বিষয়ে ভারত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ভিসা বন্ধ বা সীমিত থাকায় যারা আটকে ছিলেন, তাদের অপেক্ষার প্রহর এবার শেষ হতে যাচ্ছে। সরকার আশা করছে, আগামী সপ্তাহ নাগাদ ভিসা নিয়ে যে অচলাবস্থা ছিল তা কেটে যাবে। তবে প্রথম দিকে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসাও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই যারা ভারত যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট এখনই গুছিয়ে রাখতে পারেন। আগামী সপ্তাহে ভিসা সেন্টারগুলো থেকে নতুন কোনো ঘোষণা এলেই আপনারা সরাসরি আবেদনের সুযোগ পাবেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের যাতায়াত এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আবার আগের মতো গতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আবারও হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববাজারের মানদণ্ড অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বের প্রায় সব দেশের জ্বালানি বাজেটে। উন্নত-উন্নয়নশীল নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশের সরকার এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়, সরকার ইতিমধ্যেই মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং আরোপ করেছে এবং তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা অপেক্ষা করছে। এই পরিস্থিতির ধাক্কা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিতেও লাগবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দেশে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই সমস্যায় বিদেশে থাকা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি প্রতিবছর পড়েন। অথচ এখন আর দেশে না গিয়েও বিদেশ থেকেই পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। প্রবাসীরা বিদেশ থেকে পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের মতোই প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়ন এবং নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবেন। আলাদা কোনো জটিল নিয়ম নেই। মালয়েশিয়া প্রবাসী এক বাংলাদেশি শ্রমিক জানিয়েছেন, আগে পাসপোর্ট করাতে কুয়ালালামপুর দূতাবাসে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হতো। এখন অনলাইনে আবেদন করে শুধু বায়োমেট্রিকের জন্য একবার দূতাবাসে যেতে হচ্ছে, বাকি সব ঘরে বসেই। প্রথমে যেতে হবে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে। সেখানে "ডিরেক্টলি টু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন" অপশনে ক্লিক করলে শুরুতেই জিজ্ঞেস করা হবে আবেদন বাংলাদেশ থেকে করা হচ্ছে কিনা। "না" উত্তর দিলে দেশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম বাছাই করার অপশন আসবে। সেখান থেকে নিজের অবস্থানের দেশ ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বেছে নিয়ে নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (মূল কপি ও ফটোকপি) অনলাইনে ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ পুরনো পাসপোর্ট এর মূল কপি ও ফটোকপি নির্ধারিত ফি জমার রসিদ অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে ২০ বছরের উপরে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক। তবে NID না থাকলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণযোগ্য, সেক্ষেত্রে পিতামাতার NID ও অনলাইন ভেরিফাইড কপি দাখিল করতে হবে। প্রবাসীরা ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ বা ৬৪ পাতার পাসপোর্ট করতে পারবেন এবং রেগুলার বা জরুরি ভিত্তিতে ডেলিভারি নিতে পারবেন। ফি দেশ ভেদে ভিন্ন হয়, কারণ স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর এবং কনস্যুলার সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়। অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে দূতাবাস থেকে নির্ধারিত তারিখে বায়োমেট্রিক দেওয়ার জন্য ডাক পাঠানো হবে। সেদিন ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হবে, আলাদা কোনো ছবি আনতে হবে না। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই নবায়নের আবেদন করা ভালো। বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে যা করবেন বিদেশে পাসপোর্ট হারানো মানে শুধু একটা কাগজ হারানো নয়, এটা পুরো পরিচয় হারানোর মতো। বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের কাছে ধরা খেলে সরাসরি জেল, জরিমানা হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সৌদি আরব প্রবাসী একজন কর্মী জানিয়েছেন, একবার পাসপোর্ট চুরি হওয়ার পর তিনি ভয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন। দূতাবাসে যোগাযোগ করার পর পুরো প্রক্রিয়াটা যতটা জটিল ভেবেছিলেন ততটা না, তবে জিডি না করার কারণে কিছুটা সময় বেশি লেগেছিল। বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমেই নিকটস্থ যেকোনো থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে। এরপর সেই দেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানাতে হবে। তারাই ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট রি-ইস্যু করে দেশে ফিরতে সহযোগিতা করবে। দূতাবাসে যাওয়ার সময় সাথে নিতে হবে জিডির কপি, হারানো পাসপোর্টের ফটোকপি যদি থাকে, কয়েক কপি ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি। সব কাগজের সাথে পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে জানিয়ে একটি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করার জন্য আবেদন লিখতে হবে মিনিস্টার কাউন্সিলর বরাবর। সাধারণত সমস্ত আবেদন সম্পন্ন করার কোনো সমস্যা না থাকলে সেদিনই ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হয়। এই ট্রাভেল পারমিট দিয়ে সাময়িকভাবে চলাফেরা করা এবং দেশে ফেরা সম্ভব হবে। একটা জরুরি পরামর্শ হলো, পাসপোর্টের একটা ফটোকপি এবং স্ক্যান কপি সবসময় ফোনে বা ইমেইলে সংরক্ষণ করে রাখুন। পাসপোর্ট হারালে এই কপিটাই দূতাবাসে সবচেয়ে বড় কাজে আসে।
প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুনরায় ভিসা কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসা প্রদান করা হচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এ অগ্রগতি ঘটেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছিলেন, তারা শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম চালু করবে। তার ঘোষণার পরের দিনই দিল্লিতে ভিসা ও কনস্যুলার সেবায় ফিরেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন। গত ডিসেম্বর মাসে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস এবং ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং মিশনে ঢিল ছোড়া হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। তবে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ভিসা সে সময় নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছিল। পরের দিন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মোদী। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ঢাকা। তবে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উসকানি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টায় জড়িত। ঢাকার এই অভিযোগের জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই বক্তব্য তারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রেস নোটে যা বলেছে ভারত তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছে। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে ভারতের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারত আরও জানিয়েছে, দেশটি কখনোই তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বন্ধুসুলভ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। ভারত আশা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। এর আগে আজ ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পলাতক শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ভারতে থাকা পলাতক আওয়ামী লীগ সদস্যরা বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ভারত সরকারকে এসব ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীর অপরাধমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টায় জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত প্রত্যর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াবে—এটাই প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। দেশটির দুটি মানবাধিকার সংস্থা রানিমিড ট্রাস্ট এবং রিপ্রিভ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা আছে যেকোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করার। এতে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আছে এমন মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় এই হুমকির মুখে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, সরকার মনে করলেই যেকোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারে। যুক্তি হিসেবে বলা হয় সেই ব্যক্তি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পেতে পারেন। এমনকি তিনি সেই দেশে কখনো না গেলেও বা নিজেকে সেই দেশের নাগরিক মনে না করলেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সংযোগ আছে এমন মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে। যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ মুসলিম এসব দেশের সাথে যুক্ত। রিপ্রিভের মায়া ফোয়া বলেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল। এখনকার সরকার এই ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে ৯০ লাখ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন। রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগম বলেন, নাগরিকত্ব কোনো সুবিধা নয়, এটা মানুষের অধিকার। কিন্তু সরকার এমন নিয়ম করছে যেন কারও আচরণ ভালো না হলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কালো মানুষদের মধ্যে পাঁচজনে তিনজন নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। সাদা মানুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০ জনে মাত্র ১ জন। ভারতীয় বংশের প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার, পাকিস্তানি বংশের ৬ লাখ ৭৯ হাজার এবং বাংলাদেশিসহ ৩৩ লাখ এশীয় ব্রিটিশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। আসলে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম। সাদা মানুষদের চেয়ে কালো মানুষদের নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি ১২ গুণ বেশি। সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা শামিমা বেগমের। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এই মেয়ের নাগরিকত্ব বাতিল করে বলা হয় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ সরকার এটা মানেনি। শামিমা কিশোর বয়সে আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য ছেড়েছিলেন। পরে দেশে ফিরতে চাইলে যুক্তরাজ্য তাকে ফিরতে দেয়নি। এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে দলের রাজনীতিকেরা আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং এমন পরিকল্পনার কথা বলছেন যাতে যুক্তরাজ্যে আইনিভাবে বসবাসকারী লাখো মানুষকে দেশ ছাড়া করা হতে পারে। তথ্যসূত্রঃ মিডলইস্ট আই
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে ইসরায়েলের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ রেখেছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছয়জন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্র গাজার উপর উড়ন্ত তাদের ড্রোন থেকে লাইভ ভিডিও ফিড বন্ধ করে দেয়। এই ফিড ইসরায়েল জিম্মিদের খোঁজ এবং হামাস জঙ্গিদের শনাক্তকরণে ব্যবহার করত। স্থগিতাদেশ কমপক্ষে কয়েক দিন স্থায়ী ছিল। এছাড়া গাজায় উচ্চ-মূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তু অনুসরণে ইসরায়েল কীভাবে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করতে পারবে তাতেও বিধিনিষেধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ তীব্র হয়ে ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাথে দুর্ব্যবহার করছে বলেও উদ্বেগ ছিল। তিনজন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য ব্যবহারের সময় ইসরায়েল যুদ্ধ আইন মেনে চলবে - এমন পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি দেশের সাথে তথ্য ভাগাভাগির আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এমন নিশ্চয়তা পেতে হয়। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি আবার শুরু হয়। রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি এই সিদ্ধান্তের তারিখ বা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন কিনা। ইসরায়েলি সামরিক প্রেস অফিস জানায়, যুদ্ধ জুড়ে কৌশলগত গোয়েন্দা সহযোগিতা অব্যাহত ছিল। তবে কখন তথ্য আটকে রাখা হয়েছিল সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সিআইএ এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষত সংঘাতের সময় একটি প্রধান মিত্রকে যুদ্ধক্ষেত্রের গোয়েন্দা তথ্য থেকে বঞ্চিত করা অস্বাভাবিক এবং এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার স্তর নির্দেশ করে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামাস হামলার পর বাইডেন তার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র পেন্টাগন ও সিআইএর নেতৃত্বে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি দল গঠন করে যারা গাজার উপর ড্রোন উড়াত এবং হামাস যোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে ও জিম্মি উদ্ধারে ইসরায়েলকে লাইভ ফিড দিত। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাথে ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শিন বেট পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হলে আমেরিকান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ড্রোন ফিডে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেন। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা মূল্যায়ন করেছেন যে ইসরায়েল ও হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞার সাথে মিলছে কিনা। যদিও উদ্বেগ তীব্র হয়েছিল, বাইডেন প্রশাসনের আইনজীবীরা বজায় রেখেছিলেন যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেনি। প্রশাসনের শেষ সপ্তাহগুলোতে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রস্তাব করেন ইসরায়েলকে দেওয়া কিছু গোয়েন্দা তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার। তবে বাইডেন সেই সিদ্ধান্ত নেননি, বলেন যে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত এই অংশীদারিত্ব নবায়ন করবে এবং প্রশাসনের আইনজীবীরা নির্ধারণ করেছেন যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেনি। সূত্রঃ রয়টার্স
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২৩৭ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকিগুলো জোটের শরিকদের জন্য এবং কিছু আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করার জন্য রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ঘোষণার আগে, দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করতে পারে এবং নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো–
By using this site, you agree to our Cookie Policy .