আন্তর্জাতিক

green card
গ্রিন কার্ড আবেদনের নতুন নিয়ম চালু করল যুক্তরাষ্ট্র, এই নিয়মে যা যা থাকছে

আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কিন্তু অস্থায়ী ভিসায় সেখানে যাওয়ার পর গ্রিন কার্ডের জন্য দিনের পর দিন দেশটিতে পড়ে থাকার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, এবার তার অবসান ঘটল। এখন থেকে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর আমেরিকায় অবস্থান করার কোনো দরকার নেই। তারা নিজেদের দেশে ফিরে গিয়েই মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে খুব সহজেই এই আবেদন করতে পারবেন। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, তারা যেন অবশ্যই দেশের বাইরে থেকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করেন। মার্কিন অভিবাসন আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি আবেদনকারীর তথ্য ও যোগ্যতা যেন আলাদাভাবে ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, পর্যটক বা কর্মীরা অস্থায়ী ভিসায় আমেরিকায় যান এবং তাদের একটি বড় অংশেরই মূল লক্ষ্য থাকে কোনোভাবে একটি গ্রিন কার্ড জোগাড় করা। এতদিন 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্ট্যাটাস' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আমেরিকায় বসেই খুব সহজে এই আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু আমাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন এই নিয়মের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল লুকিয়ে আছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গ্রিন কার্ডের আশায় অবৈধভাবে আমেরিকায় পড়ে থাকার প্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। নতুন নিয়মে দেশে ফিরে আবেদন করার সুযোগ দেওয়ায় অনেকেই স্বস্তি পাবেন ঠিকই, কিন্তু আমেরিকায় বসে আবেদন করার যে একটা মানসিক জোর বা আইনি সুবিধা ছিল, সেটি এখন অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেল। ইউএসসিআইএস নতুন এই প্রক্রিয়ার নাম দিয়েছে ‘অসাধারণ প্রতিকার ব্যবস্থা’ (এক্সট্রা-অর্ডিনারি ফর্ম অব রিলিফ)। অর্থাৎ, ভিসার মেয়াদ শেষ হলে দেশে ফিরে গিয়ে আগের অস্থায়ী ভিসার কাগজপত্র দেখিয়েই নতুন করে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। গত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত দেড় বছরে তার প্রশাসন দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ বৈধ কাগজবিহীন অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে এবং আরও কয়েক লাখ মানুষকে বিশেষ বন্দিশালায় আটকে রেখেছে। এমনকি ৭০টি দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দিনের পর দিন আমেরিকায় থেকে যেতেন, মূলত তাদের সেই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২৩ মে, ২০২৬ 0
টানা দুই পতনের পর আবারো বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না মেলায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম। টানা দুই দিনের পতনের পর বৃহস্পতিবার (২১ মে) নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি বাজার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে,  এমন শঙ্কা থেকেই বাজারে চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবর। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও তেলের বাজারে ঝুঁকির হিসাব কষতে শুরু করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রশ্নই আসে না। হোয়াইট হাউস থেকেও একই ধরনের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। প্রয়োজন হলে আরও কয়েক দিন, এমনকি তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে প্রস্তুত আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২১ মে, ২০২৬ 0
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের বড় পতন হলো আজ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের আকস্মিক উন্নতির ফলে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে বেশ স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর একটি স্বস্তির ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এর সরাসরি প্রভাব হিসেবে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬০ ডলার ৩৯ সেন্টে নেমে এসেছে। তবে স্পট গোল্ডের দাম কমলেও জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম সামান্য (শূন্য দশমিক ১ শতাংশ) বেড়ে ৪ হাজার ৫৬৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পরই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার এই সিদ্ধান্ত নেয়। এই খবরের জেরে বিশ্ববাজারে শুধু স্বর্ণ নয়, জ্বালানি তেলের দামও ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও তেলের এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের দেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। সাধারণত যুদ্ধ বা সংকটের সময় মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনে জমিয়ে রাখে, ফলে দাম হু হু করে বাড়ে। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কারণে স্বর্ণের দাম কমে আসছে। পাশাপাশি তেলের দাম কমায় আমদানি ব্যয় কমবে, যা সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও সাহায্য করবে। দেখুনঃ আমাদের দেশের সোনা রুপার সর্বশেষ দাম তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনার বাজারের ভবিষ্যৎ গতিবিধি বুঝতে বিনিয়োগকারীদের এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। আগামীকাল বুধবার ওই গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যেখান থেকে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতির পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলতে পারে। এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও আজ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৬৯ ডলার ৮৪ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪০১ ডলার ৭৪ সেন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৯ মে, ২০২৬ 0
ব্রেকিং: বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

ইরানের ওপর মঙ্গলবারের পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যায়। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে আসে ১০৯ ডলারে। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হতে পারে। এর আগে সপ্তাহজুড়ে ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সোমবার সকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ তার এই মন্তব্যের পরপরই তেলের দাম বেড়ে যায়। মূল সংকটের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে অঞ্চলটিতে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। তবে একই সময়ে ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা দাবি করে, আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে। পরে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যেতে প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ইরান এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৯ মে, ২০২৬ 0
ভারতের মানচিত্র বদলে যাবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ভারত অপমান ভুলতে পারছে না’  নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল খাজা আসিফের বক্তব্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আবারও ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ নেয়, তাহলে দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে যেতে পারে। এমনকি ভারত ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে জিও নিউজের ‘ক্যাপিটাল টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। তার বক্তব্য ঘিরে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খাজা আসিফ দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা ১৯ দিনের সামরিক সংঘাতে ভারত ‘অপমানজনক পরাজয়ের’ মুখে পড়েছিল। তার ভাষ্য, সেই ব্যর্থতার পর ভারতের সেনাপ্রধান এখন হারানো সম্মান ফেরানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, গত বছরের এপ্রিলে ভারতের হামলার জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে পালটা সামরিক অভিযান চালায়। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয় এবং আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রাফালও ছিল, পাশাপাশি বহু ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এসব দাবির অনেকটাই অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের টানা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। প্রায় ৮৭ ঘণ্টার সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। খাজা আসিফ আরও বলেন, ভারত এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চাপে রয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আগের মতো প্রভাবশালী সম্পর্ক আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে পাকিস্তান এ অঞ্চলে নিজেদের ‘সম্মানজনক অবস্থান’ তৈরি করেছে বলে দাবি তার। ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী কোনো সমন্বয় আছে কি না  এমন প্রশ্নের জবাবে খাজা আসিফ বলেন, ইসরাইল চায় না এই অঞ্চলে ভারতের চেয়ে শক্তিশালী কোনো দেশ উঠে আসুক। তার মতে, ভারত ও ইসরাইলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে মিল থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের এই ধারাবাহিক উত্তেজনা শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় যেকোনো উত্তপ্ত বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৯ মে, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, আবারো বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায়, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে লাফিয়ে বেড়েছে, যা টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক নতুন অশনিসংকেত। বাজারের পরিসংখ্যান বলছে, সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ১১১ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এই দাম ১১২ ডলার পর্যন্ত ছুঁয়েছিল, যা গত ৫ মের পর সর্বোচ্চ। একই চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ক্ষেত্রেও। সেখানে দাম ২ দশমিক ৩১ ডলার বেড়ে ১০৭ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণেই গত এক সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন মধ্যপ্রাচ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হয়তো কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও জব্দের মতো ঘটনাগুলো কমে আসবে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই আশার আলো অনেকটাই নিভিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আমিরাত সরকার জানিয়েছে, তাদের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এটিকে তারা একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবেই বিবেচনা করছে। দেশটি এর কড়া জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে আসা তিনটি ড্রোন তারা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এমন যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ। আইজি মার্কেটসের বিশিষ্ট বিশ্লেষক টনি সাইক্যামোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলাগুলো একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, আত্মরক্ষার জবাবে ইরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো পুরো অঞ্চলে প্রক্সি হামলা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা জ্বালানি সরবরাহকে সরাসরি ব্যাহত করবে। এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই খবর প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে ভাবিয়ে তুলেছে রাশিয়ার তেল রপ্তানি নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন অনিশ্চয়তাও। ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় যে বিশেষ অব্যাহতি দিয়ে আসছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। ফলে ভারতসহ যেসব দেশ এতদিন বিশেষ সুবিধায় রুশ তেল আমদানি করছিল, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তাও এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক এই সংকট নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেস্টিজ ইকোনমিকসের জেসন শেঙ্কার এক গুরুতর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি এক ভয়াবহ চাপ তৈরি হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হবে। আর এই পুরো পরিস্থিতির সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাবটি পড়বে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ওপর, যার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৮ মে, ২০২৬ 0
সৌদিতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আযহার তারিখ ঘোষনা

মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আনন্দঘন ও পবিত্র খবর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আর এর মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত হয়ে গেল এবারের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ও কোরবানির ঈদের দিনক্ষণ। চাঁদ দেখার এই ঘোষণার ফলে দেশটিতে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আজ রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন অর্থাৎ আরাফাত দিবস পালিত হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে (মঙ্গলবার)। সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে দেশটির আকাশে চাঁদ দেখার এই খবর নিশ্চিত করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ রোববার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই বরকতময় জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ইসলামি শরিয়ত ও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত পবিত্র হজের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। আগামী ২৫ মে থেকে পবিত্র মক্কায় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে তা চলবে কয়েকদিন ধরে। ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে চাঁদ দেখার এই ঘোষণার সরাসরি একটি প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। ভৌগোলিক কারণে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে নতুন চাঁদ দেখা যায় এবং ঈদ পালিত হয়। সেই চিরাচরিত হিসাব অনুযায়ী, সৌদিতে ২৭ মে ঈদ হলে বাংলাদেশে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তবে বাংলাদেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ জানতে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা পর্যন্ত দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৭ মে, ২০২৬ 0
৩য় বা ৪র্থ সন্তান নিলেই ৩০-৪০ হাজার রুপি পুরস্কার দেবে ভারতের এই রাজ্য

বিশ্বজুড়ে যখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নানা উদ্যোগ চলছে, ঠিক তখন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ হেঁটেছে একেবারেই উল্টো পথে। রাজ্যে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে এবং জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। নতুন এই ঘোষণা অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশে কোনো পরিবারে তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে ৩০ হাজার এবং চতুর্থ সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে ৪০ হাজার রুপি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। শনিবার রাজ্যের শ্রীকাকুলাম জেলায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই চমকপ্রদ ঘোষণা দেন। আগামী এক মাসের মধ্যেই এই প্রণোদনা প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, "আমি একটি নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পরপরই আমরা ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি দেব। এটি কি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়?" শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদবও মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, সরকার বর্তমানে বেশি সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘোষণার আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর দম্পতিদের ২৫ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়ার আরেকটি প্রস্তাবও রেখেছিলেন নাইডু। চলতি বছরের মার্চে রাজ্য বিধানসভাকে ‘দ্বিতীয় সন্তান প্রণোদনার’ ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তটি ভারতের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতির সাথে সাংঘর্ষিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে গভীর আর্থসামাজিক ও জনমিতিক সংকট। মজার বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী নাইডু একসময় নিজে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কড়া সমর্থক ছিলেন। কিন্তু রাজ্যের জন্মহার ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ায় এখন তিনি মনে করেন, শিশুদের বোঝা হিসেবে না দেখে দেশের 'সম্পদ' হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। জন্মহার বাড়াতে পুরো সমাজকে এখন একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর পেছনের মূল কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী সমাজে বদলে যাওয়া একটি বিশেষ প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি জানান, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক দম্পতি এখন একটি মাত্র সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবার অনেক দম্পতি কেবল তখনই দ্বিতীয় সন্তান নিচ্ছেন, যখন তাদের প্রথম সন্তানটি কন্যা হয়। এসব কারণে রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। অর্থনীতি ও জনমিতি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের বা অঞ্চলের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে হলে একজন নারীর বিপরীতে প্রজনন হার (রিপ্লেসমেন্ট ফার্টিলিটি রেট) গড়ে ২.১ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। মুখ্যমন্ত্রী নাইডুও এই ২.১ শতাংশ হার বজায় রাখার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। কারণ, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই বর্তমানে তরুণদের চেয়ে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্ধ্র প্রদেশকে ভবিষ্যতের সেই অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ধস থেকে বাঁচাতেই রাজ্য সরকারের এই দূরদর্শী ও ব্যতিক্রমী প্রণোদনার উদ্যোগ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৭ মে, ২০২৬ 0
trump
শান্তিচুক্তি না হলে ইরানের জন্য খুব খারাপ হবে: ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

শিগগিরই কোনো শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের জন্য সামনে ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি গণমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চরম বার্তা দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানিদের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তারা যদি এই পথে না হাঁটে, তবে তাদের চরম খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ওয়াশিংটনের পাশাপাশি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরানেরও নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি নিছক কোনো ফাঁকা বুলি নয়; বরং এটি ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের একটি সুপরিচিত মার্কিন কৌশল, যার মাধ্যমে তারা তেহরানকে নিজেদের শর্তে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে চাইছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন করে আলোচনার বার্তা পাওয়ার কথা তেহরান নিশ্চিত করলেও, ওয়াশিংটনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তারা গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। আল-জাজিরা ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই যেকোনো সময় রণক্ষেত্রের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্প ফের বড় পরিসরে ইরানে বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখাও তৈরি করে ট্রাম্পের টেবিলে রেখেছেন। যদিও ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি, তবে সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক চাপ দুটি পথই খোলা রেখেছে পেন্টাগন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারা একটি কূটনৈতিক সমঝোতার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের তেল বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি' পুনরায় খুলে দেওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা গেলে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে বড় বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তিনি সংশয়ে থাকা মার্কিন ভোটারদেরও বোঝাতে সক্ষম হবেন যে, ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের বিগত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানগুলো শেষ পর্যন্ত সফল ছিল যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের অবস্থানকে আরও শক্ত করবে। উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে দুবার সামরিক হামলা চালিয়েছিল। তাই অতীত ইতিহাস এবং বর্তমানের সামরিক প্রস্তুতি মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকবার বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে, যা পুরো বিশ্বের অর্থনীতির জন্যই এক বড় উদ্বেগের কারণ। খবরঃ নিউইয়র্ক টাইমস  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৭ মে, ২০২৬ 0
সবার আগে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল তিউনিসিয়া ও তুরস্ক

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা কবে উদযাপিত হবে, তা নিয়ে সবার আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তিউনিসিয়া ও তুরস্ক। দেশ দুটি নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২৭ মে তাদের দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। আর এই হিসাব অনুযায়ী, কাল সোমবার (১৮ মে) শুরু হচ্ছে আরবি বর্ষপঞ্জিকার শেষ মাস জিলহজ। যেহেতু জিলহজ মাসের ১০ তারিখে কোরবানির ঈদ পালিত হয়, তাই ২৭ মে দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তিউনিসিয়া এই ঘোষণা দিলেও তুরস্কের ঘোষণার পেছনের প্রক্রিয়াটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। তুরস্ক সাধারণত খালি চোখে চাঁদ দেখার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। সমাজ ও ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদ দেখা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে যে প্রচলিত বিতর্ক রয়েছে, তুরস্কের এই বিজ্ঞাননির্ভরতা তার একটি আধুনিক সমাধান। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখনো খালি চোখে চাঁদ দেখার রেওয়াজকেই ধরে রেখেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতও ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে নিজেদের পূর্বাভাস জানিয়েছে। দেশটির আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি) বলেছে, গণনা অনুযায়ী আজ রোববার (১৭ মে) জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। আর সেই পূর্বাভাস সত্যি হলে, আগামী ২৭ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। বিশেষ করে কোরবানির পশু কেনা, কর্মজীবীদের ছুটির পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ মেলানোর ক্ষেত্রে এই আগাম তথ্য অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপনের রেওয়াজ রয়েছে, তাই মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ মে ঈদ হলে বাংলাদেশে ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাতেই থাকতে হবে দেশের মানুষকে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৭ মে, ২০২৬ 0
একবার নয়, ১৮ বার লটারি জিতে রেকর্ড, ভাগ্য নিয়ে যা বললেন এই ব্যক্তি

সম্প্রতি রবার্ট ‘১,০০০,০০০ কিং স্ক্র্যাচ গেম’ নামের একটি লটারি থেকে ৫০ হাজার ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি) জিতেছেন। এটি তার জীবনের ১৮তম লটারি জয়। জীবনে একবার লটারি জেতাই যেখানে রীতিমতো স্বপ্নের মতো, সেখানে একজন মানুষ যদি ১৮ বার লটারি জেতেন, তবে তাকে কী বলবেন? যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা রবার্ট বেভান ঠিক এমনই এক অবিশ্বাস্য ভাগ্যের অধিকারী। তবে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এতবার লটারি জিতে লাখ লাখ টাকা পেলেও তিনি মনে করেন, তার জীবনের আসল লটারি এই টাকা নয়, বরং তার স্ত্রী! বর্তমান যুগে যখন চারদিকে টাকার পেছনে মানুষের অন্ধ ছুটে চলা দেখি, তখন রবার্ট বেভানের এই গল্প আমাদের যেন নতুন করে ভাবতে শেখায়। মানুষ সাধারণত অর্থবিত্তকেই জীবনের চূড়ান্ত সফলতা বা ভাগ্য বলে মনে করে। কিন্তু ১৮ বার লটারি জিতেও একজন মানুষ যখন বলেন যে, তার আসল সম্পদ তার স্ত্রী ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন, তখন তা সমাজের জন্য একটি বড় বার্তা হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবরটি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হলো এর মানবিক দিক। এই গল্পটি সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, ব্যাংক ব্যালেন্স যতই ভারী হোক না কেন, দিন শেষে ভালোবাসার বন্ধন এবং বিশ্বস্ত একজন জীবনসঙ্গীই মানুষের প্রকৃত মানসিক শান্তির জায়গা। রবার্টের এই জীবনবোধ হয়তো অনেককেই তাদের সম্পর্কের মূল্য নতুন করে বুঝতে সাহায্য করবে। আইডাহো লটারি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রবার্টের এই লটারি জেতার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সেবার একটি বিশেষ প্রচারণায় তিনি শেভ্রোলেট ব্লেজার ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি জিতেছিলেন। এরপর গত ২৯ বছরে ছোটখাটো নগদ অর্থ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দুই লাখ ডলার পর্যন্ত লটারি জিতেছেন তিনি। কিন্তু এতবার জেতার রহস্য কী? লটারি কর্তৃপক্ষের এমন প্রশ্নের জবাবে রবার্ট যা বলেছেন, তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। মৃদু হেসে রবার্ট জানান, লটারি থেকে টাকা জেতা তার কাছে খুব বড় কিছু নয়। তার কথায়, "এই অসাধারণ নারীর (স্ত্রী) সঙ্গে কাটানো ৪০টি বছরই আমার জীবনের আসল ভাগ্য।" লটারি কেনা রবার্টের কাছে কখনোই টাকা আয়ের পথ ছিল না, বরং এটি ছিল তার বিনোদনের অংশ। বছরের পর বছর ধরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে লটারির টিকিট কেনা তাদের একধরনের মজার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এ বছর রবার্ট দম্পতি তাদের বিয়ের ৪০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছেন। আইডাহো লটারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবার্টের মতো মানুষদের কেনা লটারির টিকিটের টাকার একটি অংশ অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুল ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়। খবরঃ এনডিটিভি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৬ মে, ২০২৬ 0
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানালো আমিরাত

পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ১৭ মে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি)। সংস্থাটির গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, সেই হিসেবে আগামী ২৭ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। আইএসির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ মে মুসলিম দেশগুলোতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওইদিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখা যেতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ এলাকা থেকে খালি চোখেও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মে থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। সে হিসেবে ২৭ মে ঈদুল আজহার প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরই নিশ্চিত হবে ঈদ উদযাপনের দিন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬ 0
থুতনির ওপর ১ ঘণ্টা স্কেটবোর্ড ব্যালেন্স করে বিশ্ব রেকর্ড, অবাক নেটদুনিয়া

স্কেটবোর্ড সাধারণত তরুণদের দ্রুতগতির কসরত আর রোমাঞ্চের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ডেভিড রাশ সেই পরিচিত ধারণাকেই বদলে দিলেন এক অবিশ্বাস্য কীর্তিতে। পায়ের বদলে তিনি একটি স্কেটবোর্ড নিজের থুতনির ওপর টানা ১ ঘণ্টার বেশি সময় ব্যালেন্স করে গড়েছেন নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে ডেভিড রাশ নিজের ক্যারিয়ারে ৩৫০টির বেশি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্পর্শ করলেন, যা তাকে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডপ্রেমীদের আলোচনায় আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোইস শহরের ওয়াইএমসিএ জিমনেসিয়ামে একটি পিৎজা বল সেশনের বিরতির সময় এই অদ্ভুত চ্যালেঞ্জে অংশ নেন তিনি। সময় গড়াতে গড়াতে যখন ঘড়ির কাঁটা ১ ঘণ্টা ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড অতিক্রম করে, তখন তিনি থুতনি থেকে স্কেটবোর্ডটি নামিয়ে আনেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্প্রতি এই ক্যাটাগরিটি নতুনভাবে চালু করেছে। আর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন ডেভিড রাশ। তবে এই রেকর্ড গড়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। ডেভিড জানান, স্কেটবোর্ডের গঠনই ছিল তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারি স্কেটবোর্ডের ধারালো প্রান্ত থুতনিতে তীব্র ব্যথা তৈরি করছে। মনে হচ্ছিল থুতনির হাড় ছিদ্র হয়ে যাবে।” একপর্যায়ে ব্যথার কারণে রেকর্ড গড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লেও পরে এক বন্ধুর স্কেটবোর্ড সংগ্রহশালা থেকে অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও ভোঁতা প্রান্তের একটি বোর্ড খুঁজে পান তিনি। সেটি গিনেসের নির্ধারিত ওজন ও আকারের শর্ত পূরণ করায় আবার নতুন উদ্যমে চ্যালেঞ্জ শুরু করেন। ডেভিড রাশ পেশায় একজন প্রকৌশলী। তবে শুধু শখের বশে নয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় তরুণদের আগ্রহী করে তুলতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী রেকর্ড গড়ে আসছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এ ধরনের অদ্ভুত ও সৃজনশীল বিশ্ব রেকর্ড তরুণদের মাঝে বিজ্ঞানভিত্তিক চর্চা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১১ মে, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় নতুন ‘ফাঁদ’? এই ২ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বললেই শেষ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় নতুন ‘ফাঁদ’? এই ২ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বললেই শেষ

যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন করে কঠোরতা আরোপ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে অবশ্যই ‘না’ বলতে হবে। কোনো আবেদনকারী যদি এই প্রশ্নের যেকোনো একটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ দেন, তাহলে তার ভিসা প্রক্রিয়া আর এগোবে না বলে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়মটি পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মীসহ সব ধরনের অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আবেদনকারীদের জিজ্ঞেস করা হবে নিজ দেশে কোনো ধরনের নির্যাতন বা ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন কিনা এবং দেশে ফিরে গেলে এমন ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে কিনা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অনেক আবেদনকারী ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে থেকে যান। এই প্রবণতা কমাতেই যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, কনস্যুলার কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করেন। তাই আবেদনকারীরা ভিসার শর্ত পূরণ করছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার কারণে কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। জানুয়ারিতে কয়েকটি দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াও বন্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা অনেক মানুষ আরও কঠিন অবস্থার মুখে পড়তে পারেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হলে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা জাতিগত নিপীড়নের শিকারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১০ মে, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ১১০ ডলারের ঘরও স্পর্শ করেছে। একইভাবে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির আশা করা হয়েছিল, তা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়; এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় তেলের দামে এই উল্লম্ফন। দেশের বাজারেও অস্বস্তি আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ এপ্রিল) সরকার সব ধরণের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং ডিজেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। সরবরাহ সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক দাম বাড়ার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার দাবি করছে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে দেশে আরেক দফা দাম সমন্বয় বা সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বরাজনীতির এই টানাপোড়েন যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তেলের দাম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে কেবল যাতায়াত নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি খাতের খরচও আকাশছোঁয়া হয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু, বেড়ে ৬
সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু, বেড়ে ৬

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে দেশটির মাটিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে।  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, মারা যাওয়া দুজন হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের মোহাম্মদ আবদুল হাই (৬১) এবং শেরপুরের শ্রীবরদীর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮)। আবদুল হাই মদিনায় এবং আল মামুন মক্কায় মারা যান।  সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত ছয়জনই পুরুষ এবং তাদের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন মক্কায় ও পাঁচজন মদিনায় মারা গেছেন।  এদিকে চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯২টি ফ্লাইটে ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন।  হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ হজ মিশন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ 0
বাবরি মসজিদ হতে দেবো না, বললেন অমিত শাহ
বাবরি মসজিদ হতে দেবো না, বললেন অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যে প্রচারে গিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, আম জনতা পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর প্রস্তাব দিলেও পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ মঙ্গলবার প্রচারের শেষ দিনে দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াং, বর্ধমানের কুলটি এবং মেদিনীপুরের শালবনীতে জনসভা করেন অমিত শাহ। আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হবে।  জনসভায় অমিত শাহ বলেন, বাংলার দুর্নীতিবাজ তৃণমূল সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। এবার তাদের বিদায় নিতে হবে। দুর্নীতিবাজ তৃণমূল সরকারকে গদিতে আর না রাখার সিদ্ধান্ত রাজ্যবাসী ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছে। আম জনতা পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ গড়তে দেব না। অমিত শাহ আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দার্জিলিংয়ে গোর্খাদের সমস্যার সমাধান করা হবে। যেসব গোর্খার নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি, নির্বাচনের পর তাঁদের সবার নাম তোলা হবে। তৃণমূল সরকার গোর্খাদের সঙ্গে যে অন্যায় ও অবিচার করেছে, তা সংশোধন করে তাঁদের দাবি মেটানো হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৩ তারিখে তৃণমূলের কোনো গুন্ডা যেন ঘর থেকে বের না হয় এবং কোনো হাঙ্গামা না করে। করলেই তাদের কারাগারে ঢোকানো হবে। ৪ তারিখের পর অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলদিয়া, ব্যারাকপুর, জগদ্দল ও জোড়াসাঁকোয় জনসভা করেন। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি বলছে ঝুট, করছে লুট।’ বাংলার জন্য তারা এক পয়সাও দেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজেপি নারীদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে। বিজেপির দুই কোটি চাকরি আর ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? মমতা বলেন, আজ বিজেপিশাসিত রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ। তারা বাংলায় এসব খাওয়া বন্ধ করে দিলে মানুষ খাবে কী? তিনি আরও বলেন, ভোটের সময় ওরা এসে চমকায়, ভোট শেষ হলে পালিয়ে যায়। তাঁর কাছে কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এক। একসঙ্গে আছি, একসঙ্গে থাকি এবং একসঙ্গে থাকব। বিজেপিমুক্ত বাংলা গড়ব।’ খবর - নিউজ ১৮ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২১ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ইরান আমেরিকা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা জানা গেলো
ইরান আমেরিকা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা জানা গেলো

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায়, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।” ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তেহরান নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারবে। তবে আলোচনায় না এলে ইরানের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। খবর - আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২১ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ইরান চুক্তি নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র, তবে আলোচনায় এখনো অনিশ্চয়তা
ইরান চুক্তি নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র, তবে আলোচনায় এখনো অনিশ্চয়তা

ইরানের সঙ্গে নতুন দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানে এই বৈঠক হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই বুধবার পাকিস্তানে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে। এমনকি কোনো সমঝোতা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন। অন্যদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি তেহরান ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার আশায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে উত্তেজনা এখনো কাটেনি। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন অবরোধ ও ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। দেশটি আটক জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসবে। তবে তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। পাকিস্তান সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে পারে। ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদঃ রয়টার্স 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২১ এপ্রিল, ২০২৬ 0
জাপানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
জাপানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের পর দেশটির ইওয়াতে উপকূল ঘিরে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন রাজধানী টোকিও পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। কয়েক মিনিট ধরে সেখানে ভবন দুলতে দেখা যায়। সুনামি সতর্কতার আওতায় রয়েছে ইওয়াতে প্রিফেকচার, আওমোরি প্রিফেকচার এবং হোক্কাইডোর কিছু উপকূলীয় এলাকা। জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টেলিভিশন সম্প্রচারে বারবার উপকূল ও নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জাপানি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সতর্কবার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, “Tsunami! Evacuate!” এবং “Don’t turn back.” ইওয়াতে প্রিফেকচারের মিয়াকো বন্দরে ইতিমধ্যে ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হেনেছে। আরও বড় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোক্কাইডোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল, টোকাচি বন্দর, এরিমো শহর এবং আওমোরির হাচিনোহে বন্দরে সুনামি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এনএইচকে জানিয়েছে, ইওয়াতে ও আওমোরি উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরেও সুনামির লক্ষণ ধরা পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঢেউ দ্রুত উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরের একটি সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, ছোট ঢেউয়ের প্রভাবে নোঙর করা জাহাজ দুলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার সহায়তায় জাপানের মেরিটাইম সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্স একটি এসএইচ-৬০কে হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। ভূমিকম্পের পর টোকিও থেকে শিন-আওমোরি পর্যন্ত তোহোকু শিনকানসেন লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে আকিতা শিনকানসেন লাইনের চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২০ এপ্রিল, ২০২৬ 0
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন , আউন্সে কমেছে ০.৭ শতাংশ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন , আউন্সে কমেছে ০.৭ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে স্বর্ণের দাম। হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ হওয়ার খবরের পর সোমবার বিশ্ববাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি হিসাব করছেন। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও মূল্যবান ধাতুর বাজারে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২১ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে দাম ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারও ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮১৩ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়। এদিকে দেশের বাজারে সোনার দাম এখনো স্থির দেখা গেছে। সবশেষ ১৫ এপ্রিল বাজুস এই দাম হালনাগাদ করেন। তবে যেহেতু বিশ্ববাজারে দামের পতন হয়েছে তাই আশা করা যায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।  বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের কর্মকর্তা ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বাজারে আবারও যুদ্ধকেন্দ্রিক লেনদেনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে মার্কিন ডলার ও সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। ডলারের মান বাড়লে অন্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। এক কথায় ডলার এর মান শক্তিশালি হওয়ায় স্বর্ণের দামের এমন পতন হয়েছে।  এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি কার্গো জাহাজ তারা জব্দ করেছে। জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ অবস্থায় দুই দেশের যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। কারণ, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বেশি সময় উঁচু রাখতে পারে। এতে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে। অন্যদিকে ভারতের একটি বড় উৎসবকে সামনে রেখে স্বর্ণের বাজারে চাহিদা বাড়ার কথা থাকলেও রেকর্ড দামের কারণে গয়না কেনা কম হয়েছে। অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্লাটিনাম কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২০ এপ্রিল, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন মাত্র ২ মিনিটে!

আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন। 

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

সপ্তাহের সেরা

বিনোদন

রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0

অনলাইন জরিপ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার কি বিএনপি সরকার করতে পারবে?