গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে চার্জার ফ্যানের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা বাইরে ব্যবহারের সুবিধার কারণে এখন অনেক পরিবারেই চার্জার ফ্যান প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। তবে বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ড, বিভিন্ন দামের মডেল এবং আকর্ষণীয় অফারের ভিড়ে না বুঝে কিনলে সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন ক্রেতারা।
অনেকেই শুধু বাহ্যিক ডিজাইন দেখে বা কম দাম দেখে চার্জার ফ্যান কিনে পরে হতাশ হন। কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাওয়া, বাতাস কম পাওয়া কিংবা চার্জ ধরে না রাখার মতো অভিযোগও কম নয়। তাই কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি।
প্রথমেই দেখতে হবে ব্যাটারির মান ও ব্যাকআপ সময়। চার্জার ফ্যানের মূল শক্তি তার ব্যাটারি। অনেক বিক্রেতা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ব্যাকআপের দাবি করলেও বাস্তবে তা অনেক সময় মেলে না। ব্যাটারির ধরন, ক্ষমতা এবং চার্জ সাইকেল সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। লিথিয়াম ব্যাটারির ফ্যান সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দ্রুত চার্জ হয়। সস্তা ব্যাটারির ফ্যান শুরুতে ভালো চললেও অল্প সময়েই কর্মক্ষমতা হারাতে পারে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোটরের ক্ষমতা ও বাতাসের গতি। অনেক ফ্যান দেখতে বড় হলেও বাতাস কম দেয়। কারণ এর মোটর দুর্বল বা ব্লেডের নকশা কার্যকর নয়। কেনার আগে সম্ভব হলে চালিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। কম শব্দে বেশি বাতাস দিতে পারে এমন ফ্যান দীর্ঘমেয়াদে বেশি সুবিধাজনক। শুধু আকার বড় হলেই ভালো ফ্যান হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
তৃতীয় বিষয় হলো বিক্রয়োত্তর সেবা ও ওয়ারেন্টি। চার্জার ফ্যান একটি ইলেকট্রনিক পণ্য হওয়ায় ব্যবহারের সময় সমস্যা হতেই পারে। তাই পরিচিত ব্র্যান্ড বা নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা নিরাপদ। ওয়ারেন্টি আছে কি না, সার্ভিস সেন্টার কোথায়, ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না, এসব আগেই জেনে নেওয়া উচিত। অনেক সস্তা ফ্যানে কোনো গ্যারান্টি থাকে না, ফলে নষ্ট হলে পুরো টাকাই ক্ষতি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এখন অনলাইনে চার্জার ফ্যান বিক্রি বাড়লেও পণ্যের স্পেসিফিকেশন যাচাই না করে অর্ডার দিলে ঝুঁকি থাকে। রিভিউ, ব্যবহারকারীর মতামত এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার্জার ফ্যান কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম নয়, ব্যবহারকাল, নিরাপত্তা ও সার্ভিস সুবিধাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য সচেতনতা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হতাশা থেকে বাঁচাতে পারে।
গরমের এই সময়ে প্রয়োজন মেটাতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে তথ্য জেনে কিনুন। নইলে কম দামের লোভে কিনে পরে ঠকতেই হতে পারে।
গরমের সময় অনেক বাসায় একটি সাধারণ অভিযোগ শোনা যায়। ফ্যান চলছে, কিন্তু আগের মতো বাতাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই তখন মনে করেন ফ্যানের মোটর নষ্ট হয়ে গেছে বা নতুন ফ্যান কেনার সময় হয়েছে। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয় জমে থাকা ধুলাবালি। গৃহস্থালি ইলেকট্রিক যন্ত্র মেরামতের সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের মতে, সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান কিংবা স্ট্যান্ড ফ্যান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ব্লেডের ওপর ধুলার স্তর জমে যায়। এতে ব্লেডের ডিজাইন অনুযায়ী বাতাস ঠেলার ক্ষমতা কমে যায়। ফল হিসেবে ফ্যান ঘুরলেও বাতাস দুর্বল লাগে। বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ৪ থেকে ৬ মাস পরিষ্কার না করা ফ্যান পরিষ্কার করার পর অনেক সময় ঘরের বাতাসের পার্থক্য সহজেই বোঝা যায়। বিশেষ করে যেসব ঘরে জানালা খোলা থাকে বা রাস্তার ধুলা বেশি ঢোকে, সেখানে ফ্যান দ্রুত নোংরা হয়। প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি সহজ। ফ্যানের ব্লেড নির্দিষ্ট কোণে তৈরি হয় যাতে ঘোরার সময় বাতাস নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যখন ব্লেডে ধুলা জমে, তখন তার মসৃণতা নষ্ট হয়। এতে বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্লেড ভারসাম্যও হারায়, ফলে শব্দ বাড়ে এবং কম্পন তৈরি হয়। তবে সব সময় শুধু পরিষ্কার করলেই সমাধান হবে, এমন নয়। যদি ক্যাপাসিটর দুর্বল হয়ে যায়, মোটরের কয়েল গরম হয়ে যায় বা বেয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বাতাস কমতেই পারে। সে ক্ষেত্রে একজন দক্ষ মিস্ত্রির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ইলেকট্রিক সার্ভিস সেন্টারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অনেক গ্রাহক নতুন ফ্যান কিনতে চান, কিন্তু পরিষ্কার ও ছোটখাটো সার্ভিস করার পর পুরোনো ফ্যানই আবার ভালো পারফরম্যান্স দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্তত দুই থেকে তিন মাস পরপর ফ্যান পরিষ্কার করা উচিত। এতে বাতাস ভালো পাওয়া যায়, শব্দ কম হয় এবং মোটরের ওপর চাপও কম পড়ে। সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, ফ্যান পরিষ্কার করলে সত্যিই বাতাস বাড়ার অনুভূতি পাওয়া যায়। কারণ এতে ফ্যান তার স্বাভাবিক দক্ষতায় ফিরে আসে। তাই বাতাস কম মনে হলে নতুন ফ্যান কেনার আগে পরিষ্কার করাই হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান।
তীব্র গরমে বাচ্চাদের ত্বকের যত্নে সাধারণ ক্রিম ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঘামাচি, র্যাশ এবং কালচে ভাব দূর করতে এই সময় ভারী ক্রিমের বদলে হালকা বা ওয়াটার-বেসড ক্রিম বেছে নেওয়া প্রয়োজন। আপনার শিশুর ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোন ক্রিমটি সেরা হবে, বা গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো তা নিয়েই আজকের আলোচনা। গরমে শিশুর ত্বকে ক্রিম ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি অতিরিক্ত গরমে ভারী তৈলাক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে র্যাশ হতে পারে। তাই এই সময় এমন ক্রিম বাছাই করতে হবে যা: হালকা ও দ্রুত শোষণযোগ্য প্যারাবেন ও কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ (অ্যালোভেরা বা ক্যালামাইন) গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো? ( সেরা ৫টি বেবি ক্রিম ) এখানে কয়েকটি জনপ্রিয় এবং চিকিৎসকদের পছন্দের ক্রিমের তালিকা দেওয়া হলো: ক. সেবামড বেবি প্রোটেক্টিভ ফেসিয়াল ক্রিম এটি শিশুর ত্বকের পিএইচ (pH) ৫.৫ বজায় রাখে। গরমে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং অস্বস্তি কমাতে এটি বেশ কার্যকর। এটি মোটেও চটচটে নয়। খ. হিমালয়া বেবি ক্রিম যাঁরা ভেষজ উপাদান পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালো। এতে আছে কান্ট্রি ম্যালো এবং অলিভ অয়েল, যা ত্বককে শীতল রাখে এবং পুষ্টি যোগায়। গ. আভিওনো বেবি ময়েশ্চারাইজিং লোশন ওটমিল সমৃদ্ধ এই লোশনটি গরমের র্যাশ বা চুলকানি কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। এটি সেনসিটিভ ত্বকের জন্য সেরা। ঘ. জনসন’স বেবি ক্রিম (সোফ্ট ক্যাটাগরি) হালকা টেক্সচারের জন্য এটি গরমে ভালো কাজ করে। এটি দ্রুত ত্বকে মিশে যায় এবং কোনো আঠালো ভাব রাখে না। ঙ. ডাবর লাল টেইল বা ক্যালামাইন লোশন যদি শিশুর শরীরে ঘামাচি বা অতিরিক্ত ঘাম হয়, তবে সাধারণ ক্রিমের বদলে ভালো মানের ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। এটি ত্বককে ঠান্ডা রাখে। মনে রাখবেন - বাচ্চার ত্বকে নতুন কোনো ক্রিম ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট (Patch Test) করে নিন। অর্থাৎ বাচ্চার কানের পিছনে বা হাতের সামান্য অংশে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো লাল ভাব বা চুলকানি না হয়, তবেই পুরো শরীরে ব্যবহার করুন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .