সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে পারেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে সবাইকে। সাধারণ নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক নোটিশে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবিশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। দিনের কোনো দাপ্তরিক কর্মসূচি বা মিটিং প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট সময়সীমা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিজ দায়িত্বে বন্ধ করতে হবে। অফিস সময় শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনা ব্যতীত চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি দপ্তরে একটি করে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কতটি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সেটা না জানাটা এখন বড় একটা ঝুঁকি। অনেকেই জানেন না যে তাদের NID ব্যবহার করে অন্য কেউ সিম তুলে রেখেছে। সেই সিম দিয়ে অপরাধমূলক কাজ হলে বিপদে পড়তে পারেন আপনি। আজই চেক করুন NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে । রাজশাহীর একজন তরুণ জানিয়েছেন, হঠাৎ একদিন পুলিশের ফোন পেয়ে জানতে পারেন তার NID দিয়ে তোলা একটি সিম থেকে প্রতারণামূলক কল করা হয়েছে। অথচ সেই সিমের কথা তিনি জানতেনই না। পরে BTRC-তে অভিযোগ করে বিষয়টা সমাধান হয়, কিন্তু মাসখানেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাকে। NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে জানার উপায় এটা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যেকোনো মোবাইল থেকে সরাসরি *16001# ডায়াল করুন। ডায়াল করার পর NID নম্বর শেষ 4 ডিজিট দিতে বলবে, দিলেই আপনার NID-র বিপরীতে নিবন্ধিত সব সিমের তালিকা সামনে চলে আসবে। কোনো ইন্টারনেট লাগবে না, স্মার্টফোনও লাগবে না, বাটন ফোন থেকেও করা যাবে। আবার অন্যদিকে, মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করে এ তথ্যগুলো জানা যায়। গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীরা MyGP অ্যাপ, রবি ব্যবহারকারীরা MyRobi অ্যাপ, বাংলালিংক ব্যবহারকারীরা MyBL অ্যাপ এবং টেলিটক ব্যবহারকারীরা MyTeletalk অ্যাপে লগইন করে অ্যাপের মেনু থেকে সিম সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পাবেন। অ্যাপের মধ্যেও আপনার এনআইডির শেষ 4 ডিজিট দিতে হবে। প্রতিটি অ্যাপেই NID দিয়ে রেজিস্ট্রেশন হওয়া সিমের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। বিটিআরসি এর নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে একটি NID দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধন করা যায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে যত কম সিম থাকে ততই ভালো। তালিকায় অপরিচিত কোনো সিম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন এবং BTRC-তে অভিযোগ দায়ের করুন। অভিযোগ করতে BTRC-র হেল্পলাইন নম্বর 100 অথবা complaints.btrc.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন। অভিযোগ দেওয়ার সময় NID নম্বর, সন্দেহজনক সিম নম্বর এবং আপনার যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে।
পাসপোর্ট করাতে গিয়ে অফিসে গিয়ে ফিরে আসার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু না। কাগজ কম পড়েছে, ছবি ঠিক হয়নি, জন্ম নিবন্ধন মিলছে না। ১০ বছর মেয়েদের পি পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে আগে থেকে জানলে এই ভোগান্তি পুরোটাই এড়ানো সম্ভব। ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি তিনবার পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন শুধু কাগজপত্রের ঝামেলায়। প্রথমবার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন ভেরিফাইড ছিল না, দ্বিতীয়বার ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সমস্যা, তৃতীয়বার সব ঠিকঠাক করে গিয়ে কাজ হয়েছে। একটু আগে জানলে প্রথমবারেই হতো। সাধারণভাবে যেসব নিম্নলিখিত মৌলিক নথিপত্র প্রয়োজন হয় তার নিচে লেখা হলো; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (মূল কপি ও ফটোকপি; প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ) অনলাইনে ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ পুরনো পাসপোর্ট থাকলে সেটার মূল কপি ও ফটোকপি নির্ধারিত ফি জমার ব্যাংক রসিদ অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি সরকারি চাকরিজীবীদের এনওসি পেশাগত প্রমাণ সনদ বিবাহিত হলে কাবিননামা ফটোকপি আবেদন করতে হবে অনলাইনে, www.epassport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে। ফি জমা দেওয়া যাবে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় অথবা অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা, জরুরি হলে ৮,০৫০ টাকা, আর অতি জরুরি হলে ১০,৩৫০ টাকা। অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে বায়োমেট্রিক দিতে। সেখানে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হবে। আলাদা কোনো ছবি আনতে হবে না। একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম নিবন্ধনে নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা হুবহু এক না হলে আবেদন আটকে যাবে। তাই আবেদনের আগে দুটো কাগজ মিলিয়ে দেখুন। কাগজে মিল না থাকলে সংশোধন করে তারপর পাসপোর্ট আবেদন করুন। সাধারণ আবেদনে পাসপোর্ট হাতে পেতে ১৫ থেকে ২১ কার্যদিবস সময় লাগে। জরুরি হলে ৭ দিন, অতি জরুরি হলে ২ কার্যদিবসেও পাওয়া যায়।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্ট ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিগত ৬ মাসের গড় বিনিময় হার এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের ১০ শতাংশ সারচার্জসহ সংশোধিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ক্যাটাগরির জন্য ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট এখন ১৬৪ রিঙ্গিত লাগবে, যা আগে ছিল ১৪০ রিঙ্গিত। একই ক্যাটাগরিতে ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য ২৭৩ রিঙ্গিত দিতে হবে, যা আগে ছিল ২৩৩ রিঙ্গিত। ৬৪ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৬৯৫ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৮১৭ রিঙ্গিত হয়েছে এবং ১০ বছর মেয়াদির ক্ষেত্রে ৮১০ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৯৫৩ রিঙ্গিত হয়েছে। অন্যদিকে পেশাজীবী ও অন্যান্য ক্যাটাগরির জন্য ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৪৬৫ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৫৪৫ রিঙ্গিত হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদির জন্য ৫৮০ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন ৬৮১ রিঙ্গিত দিতে হবে। ৬৪ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৮১৭ রিঙ্গিত এবং ১০ বছর মেয়াদির জন্য ৯৫৩ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ হিসেবে আবেদন ফরম পূরণ, ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ, ইন্টারভিউ, বায়ো-এনরোলমেন্ট, স্ক্যানিং এবং পাসপোর্ট ডেলিভারির অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবার জন্য সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের ৩২ রিঙ্গিত এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের ৬০ রিঙ্গিত প্রদান করতে হবে। হাইকমিশন জানিয়েছে, ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় সরকারি ফি এবং কল্যাণ তহবিলের সারচার্জ সমন্বয় করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখের পর থেকে নতুন হারে ফি পরিশোধ করে সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিত্যপণ্যের মূল্য যাতে আর বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, "দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। কমার্স মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আপনারা যারা গ্রাউন্ড লেভেলে আছেন, আপনাদের কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে অবশ্যই দেবেন।" রমজান মাসকে সামনে রেখে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তারা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় দপ্তরপ্রধানদের উদ্দেশে বলেন, "আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দর রাখতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশিরভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।" শামা ওবায়েদ আরও বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আশা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।" মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।" সভায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামান খান, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্যসচিব একে কিবরিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই আশ্বাস দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে; আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।" সিলেট জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হবে। বিশেষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।" খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।" এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা এবার বড় পরিসরে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১ জুলাই ২০২৫ থেকে নতুন ভাতা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এই সুবিধা উপভোগ করছেন। আর এই কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কিছুটা হলেও বেড়েছে। গত ২৪ জুন ২০২৫ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারার আওতায় এই সংশোধনী আনা হয়। প্রজ্ঞাপন নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩৪.০৮৩.২৪-১৪৭, যা ৩ জুন ২০২৫ তারিখে জারি করা হয়। আর এই প্রজ্ঞাপনে নতুনভাবে একজন সরকারি চাকরিজীবীর নির্ধারিত নতুন মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য , দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের নির্দিষ্ট হারে যে অতিরিক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় এটাকে মূলত মহার্ঘ ভাতা বলা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা কত? সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ১৫ ধারার আওতায় দেয়া এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভাতা হিসেবে চাকরিজীবীরা বর্তমানে মাসে ১,০০০ টাকা পাচ্ছেন যা আগামী থেকে কমপক্ষে ১,৫০০ টাকা করা হবে। একইভাবে, পেনশনভোগীদের বর্তমান ৫০০ টাকা ভাতাও বৃদ্ধি করে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি পেনশনভোগীর মাসিক প্রাপ্য পেনশন ১৭,৩৮৯ টাকা বা তার বেশি হয়, তারা ভাতা হিসেবে ১০% পাবেন। আর ১৭,৩৮৮ টাকা বা তার নিচে পেনশনপ্রাপ্তরা ১৫% হারে ভাতার সুবিধা পাবেন। একই দিনে অর্থ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, বিচার বিভাগ ও যৌথ বাহিনীসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির কর্মীদের জন্য আলাদা চিঠি পাঠিয়েছিলো, চিঠিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধার নতুন নির্দেশনা জারি সহ অর্থ বিভাগের এই আদেশে ২০২৩ সালের আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল করে পদমর্যাদা ও গ্রেড অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট অফিসার ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মূল বেতনের ১০ শতাংশ এবং সার্জেন্টসহ নিচের পদের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন। পেনশনভোগীরাও বেসামরিক সরকারি বিধি অনুযায়ী এই সুবিধা পাবেন। বিচার বিভাগে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যারা ৯ম গ্রেড বা তার ওপরে আছেন তারা ১০ শতাংশ এবং ১০ম গ্রেড বা নিচের ধাপে কর্মরতরা ১৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধার পরিমাণ সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব রাজনৈতিক দলের জন্য পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রদান করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তা প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বাসভবন, কার্যালয়, যাতায়াত, জনসভা এবং সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের হালনাগাদ ভোটার তালিকার সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। ইসি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ করা ভোটার তালিকায়, ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন পুরুষ ভোটার এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটারের সংখ্যা হলো ১ হাজার ২৩ জন। সচিব আখতার আহমেদ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই সর্বশেষ হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ভোটারের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন বেড়েছে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ভোটারের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা ১৯ লাখ ৬ হাজার ৯১০ জন বেশি। ইসি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই তালিকা হালনাগাদের কাজ করে। এই হালনাগাদের আগে (গত ৩১ আগস্ট), দেশের মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। ইসির তথ্যমতে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ছিল ১০ কোটি ৪১ লাখ, এবং ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তা ছিল ৯ কোটি ১১ লাখ। প্রথম আলো/শফিক
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত মেট্রোরেল লাইনের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের (কেআইবি) সামনের ফুটপাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের নাম আবুল কালাম, যিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন নিশ্চিত করেছেন, ভারী ধাতব বস্তুটি (বিয়ারিং প্যাড) ওই পথচারীর মাথায় আঘাত করায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে আবুল কালাম ব্যাগ হাতে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মেট্রোরেল পিলারের ওপর থেকে বিকট শব্দে বস্তুটি নিচে এসে পড়ে। বস্তুর আঘাতে পথচারী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে পথচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার পরপরই মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য উত্তরা-আগারগাঁও-উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রয়েছে। এটি প্রথম দুর্ঘটনা নয়; এর আগেও গত বছর সেপ্টেম্বরে ফার্মগেট এলাকাতেই মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, যদিও সেবার কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে সেই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। প্রকৌশল সূত্র বলছে, এই বিয়ারিং প্যাডগুলো মূলত ট্রেন চলাচলের সময় লাইনের কম্পন শোষণ করে কাঠামোর স্থিতি রক্ষা করে এবং এর প্রতিটির ওজন ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বারবার এই ধরনের যন্ত্রাংশ খুলে পড়ার ঘটনা মেট্রোরেল প্রকল্পের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর প্রশ্ন তুলছে। মেট্রোরেলের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফার্মগেটের খেজুরবাগান মোড়ে নির্মাণ নকশায় ত্রুটি ছিল এবং জাপানিজ ঠিকাদারদের এই বিষয়ে ঠিক করতে বলা হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে আহ্বায়ক করে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এদিকে, নিহত আবুল কালামের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং পরিবারের কোনো কর্মক্ষম সদস্যকে মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে বলে সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, এটি নিরাপত্তা জনিত গুরুতর গাফিলতির ফল। দুর্ঘটনার পর এলাকার দোকানদার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে ট্রেন চলাচলের সময় অস্বাভাবিক শব্দ ও কম্পন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। ঢাকাবাসী এখন মেট্রোরেলের নিচে দিয়ে চলাচল করতেও আতঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাগুরার শ্রীপুরে একটি রেললাইন প্রকল্প পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠিক একইভাবে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনও একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচন বানচাল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
গাজীপুরে প্রত্যাহার হলো বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত জিএমপি কমিশনার নাজমুল করিম খান। ব্যাপক সমালোচনার মুখে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. নাজমুল করিম খানকে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। আদেশে, পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কমিশনার নাজমুল করিম খানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কিছু অভিযোগ উঠেছে। প্রথমত, অভিযোগ করা হয় যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তার যাতায়াতের সময় যান চলাচলের জন্য রাস্তার একপাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। এছাড়াও, তিনি একটি স্কুলের মাঠে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করার অনুমতি দিয়েছিলেন, যার কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা এবং অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়। মেলা বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুরোধ করা হলেও জিএমপি কর্তৃপক্ষ জানায় যে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা শুধু পুলিশ কমিশনারের। এই ঘটনাটিও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ড. নাজমুল করিম খান পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। গত বছরের ১১ নভেম্বর তিনি জিএমপি কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। এর আগে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সরকারের পতনের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে জিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২৩৭ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকিগুলো জোটের শরিকদের জন্য এবং কিছু আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করার জন্য রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ঘোষণার আগে, দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করতে পারে এবং নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো–
যদি আপনি সর্বোপরি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? তাহলে তার একটা উত্তর হবে তা হলো দুজাহানের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব , সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব , খাতামুন নাবিইয়ীন - প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) শুধুমাত্র মুসলমানদের কাছেই নয় তদারকি পৃথিবীর অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছেই ইহকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বকালীন ভালো ব্যক্তিত্ব বলতে একটা মানুষকেই নির্দেশনা করে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। তিনি শুধুমাত্র একজন নবী এবং রাসুল নন, তিনি মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বোত্তম আদর্শ। তাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বলার কারণ কেবল তার ধর্মীয় অবস্থান নয় বরং তার অনন্য চারিত্রিক গুণাবলী, মানব কল্যাণ ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে ২৩ বছরের জীবনে সমগ্র আরবে যে আমুল পরিবর্তন তিনি এনেছিলেন এজন্য। মাইকেল এইচ হার্ট যিনি একজন ঐতিহাসিক নিরপেক্ষ গবেষক এবং খ্রিস্টান ধর্মালম্বী তাদের মতো অনেক গবেষকরাও হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য তাদের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের রেংকিংয়ে প্রথম স্থানে রেখেছেন। কেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ বলা হয় কেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ পৃথিবীর সবথেকে ভালো মানুষ ছিলেন তার ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। পৃথিবীর সবথেকে ভালো মানুষ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং আজীবন থাকবেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত দুত , সর্বশেষ নবী বা শেষ নবী। মুসলিম উম্মাহ তাকে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে গণ্য করে। তিনি ছিলেন উত্তম আদর্শের ধারক। তার জীবনকে সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরবরা তাকে আল আমিন হিসেবে উপাধি দিয়েছিল, নবুওয়াত লাভের আগে মক্কার লোকেরা তার সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য তাকে এই নামে ডাকতো। এক নজরে হযরত মুহাম্মদ সাঃ হযরত মুহাম্মদ সঃ ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী এবং মানবজাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত মহান পথপ্রদর্শক। তাকে সর্বশেষ্ঠ মানুষ বলা হয় কারণ তিনি চরম অরাজকতার যুগে সততা ন্যায় বিচার ও মানবতার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন একজন স্নেহপরায়ণ স্বামী ও পিতা ছিলেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন বিচক্ষণ ও ন্যায় পরায়ন শাসক। চরম শত্রুকেও তিনি হাসিমুখে ক্ষমা করেছেন এবং সমাজের নিপীড়িত নারী ও দাসদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তা রেখে যাওয়া আদর্শ ও পবিত্র কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তির অনন্য উৎস। একটা সময় আরবজাহান ছিল ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। মূর্তি পূজা, মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত ছিল মানুষ । এ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে, তাদের আলোর পথ দেখাতে আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এই পৃথিবী সৃষ্টি হতো না স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআনের মধ্যে এটি ঘোষণা দিয়েছেন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের মক্কায় কুরাইশ গোত্রের বনি হাসিম বংশের মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান এবং ছয় বছর বয়সে মাকে হারান। এতিম হিসেবে তার শৈশব শুরু হয়। এরপরের প্রথমে তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং দাদার মৃত্যুর পরে চাচা আবু তালিব তাকে লালন পালন করেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ধৈর্য, কষ্ট সহিষ্ণুতা, এবং স্বাবলম্বিতার শিক্ষা লাভ করেন। তিনি চাচাদের সাহায্য করেন এবং মক্কায় পাহাড়ের ছাগল চরাতেন, পরে ব্যবসায়ী কাজে বিভিন্ন কাফেলায় অংশগ্রহণ করতেন। এরই মাঝে তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন এবং হেদায়েতের বার্তা নিয়ে মানুষকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন ক্ষমা ও দয়ার মূর্ত প্রতীক মক্কা বিজয়ের পর যখন তিনি বিজয়ী বেশে সর্ববস করলেন তখন তার হাতে ছিল সকল পুরনো শত্রুর বিচার করার ক্ষমতা। কিন্তু তিনি সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করলেন। যারা তাকে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে অকথ্য নির্যাতন করেছে, যাদের কারণে তিনি তার এলাকা ত্যাগ করে অন্য এলাকায় হিজরত করেছেন, তিনি সকলকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন। আবার আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, তিনি যখন দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তায়েফবাসীর কাছে গেলেন তখন তাকে তায়েব বাসীরা পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিলেন, তখন তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেস্তা প্রেরিত হয়, তবে তিনি ফেরেশতাকে থামিয়ে তায়েফবাসীর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আর এখান থেকেই ক্ষমা একটি মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ছিলেন অতুলনীয় নম্র এবং বিনয়ী তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং বিনয়ী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজের যত নিজে সেলাই করতেন, ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করতেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে মাটিতে বসে আহার করতেন, তিনি নিজে খালি পেটে থেকেও তার উম্মতদের নিয়ে চিন্তা করতেন, এবং সাহাবাগণদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি কখনোই নিজেকে নিয়ে অহংকার করতেন না এমনকি কাউকে নিয়ে হিংসাও করতেন না, এমনকি তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন " তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, আমি কেবল আল্লাহর একজন বান্দা" । তিনি ছিলেন নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ আইয়ামে জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগে যখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করা দেয়া হতো তখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ ছিলেন এক আলোর বার্তা, প্রাচীন আরবের সমাজে আরো গোত্রে কন্যা সন্তান জন্মদেয়া কে চরম অপমানজনক ও দারিদ্র্যের কারণ মনে করা হতো। পাষাণ হৃদয়ের বাবারা সামাজিক লজ্জার ভয় নিজেদের নিষ্পাপ কনা শিশুদের মরুভূমির বাড়িতে জীবন্ত দাফন করে ফেলত। একবার এক ব্যক্তি যখন মহানবীর কাছে নিজের কন্যাকে অতীতে জীবন্ত কবর দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা বর্ণনা করেন তখন নবীজি সঃ তা শুনে অঝোরে কেঁদেছিলেন। এরপরে তিনি এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি ইসলামের মাধ্যমে কঠোরভাবে এই হত্যাযজ্ঞ নিষিদ্ধকরণ করেন। এবং ঘোষণা করেন যে কন্যা সন্তান বোঝা নয়, বরং জান্নাত লাভের মাধ্যম। তার এই পদক্ষেপেই সমাজের নারীরা বেঁচে থাকার সম্মানজনক অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়। তিনি ছিলেন মানবিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারক তিনি শুধুমাত্র ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেননি বরং ইসলামের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন আরবে সুদের মতো শাসন মূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করেন, তিনি শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করেন। এবং তখন তিনি একটি বাণী প্রদান করেন " শ্রমিকের মজুরি তার ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগে দিয়ে দাও"। তিনি ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতেন, এক্ষেত্রে তিনি বলেছিলেন যে তার মেয়ে ফাতেমা ও যদি চুরি করত তবে তিনি তার হাত কেটে দিতেন। এক্ষেত্রে তিনি ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে সারা পৃথিবীতে থাকবে। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত এবং সৎ ব্যক্তিত্ব তিনি নবুওয়ত লাভের আগেই তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মক্কা নগরীর বিভিন্ন মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। মক্কার মানুষ তাকে " আল আমিন" বা বিশ্বস্ত উপাধি দিয়েছিলেন। নবুওয়ত লাভের পরে যখন মক্কার লোকেরা তাকে মারতে চেয়েছিল, তখনও তারা তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র তার কাছে গচ্ছিত রাখতো, যা তিনি মদিনায় হিজরতের সময়ও ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার জীবনে এতিম হিসেবে শুরু হলেও ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে জ্ঞান, ন্যায় বিচার এবং একত্ববাদের আলোয় উদ্ভাসিত করেন। কষ্ট সহ্য করেও তিনি একটি আদর্শ সমাজ ও মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছেন। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যে নৈতিকতা, দয়া, ক্ষমা , বিনয় ও ন্যায় বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা ১৪০০ বছর পরেও কোটি কোটি মানুষের জীবনের প্রভাব ফেলেছে। একজন ধর্মীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতা হিসেবে তার সাফল্য এবং ঔদার্য তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শকে ধারণ করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। ভুল ত্রুটি মার্জনীয় - লেখার মধ্যে কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন - শফিক/ডিপি
By using this site, you agree to our Cookie Policy .