আগামী পাঁচদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এই বৃষ্টিপাতের প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। শনিবার (০৯ মে) আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আটটি বিভাগ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে সোমবার (১১ মে) ও প্রায় একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ওইদিনও দেশের সব বিভাগেই কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। ১২ মে’র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকবে। অন্যদিকে কিছু এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ১৩ মে’র দিকে আবারও বৃষ্টি কিছুটা বিস্তার লাভ করতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটে তুলনামূলক বেশি জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে কৃষি, বিশেষ করে ধান ও মৌসুমি ফসলের ওপর মিশ্র প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বজ্রবৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ডিপি/এসএস
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সময়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে ছয়জন হামের উপসর্গে এবং একজন সরাসরি হামে আক্রান্ত ছিল। মৃতদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন ঢাকার, একজন খুলনা এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। গত ৫৪ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৫৮ জন। এদিকে একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১২ জনে। এর মধ্যে ৯৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন করে ২৮২ শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম সাধারণত ভাইরাসজনিত একটি ছোঁয়াচে রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে রোগ ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, খিঁচুনি বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণেও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, গত কয়েক বছরে টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় অনেক শিশু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন। তবে টিকা সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
জমি দখল, ভুয়া দলিল ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ঠেকাতে ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় সংসদে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪ এর মুল কথা "দলিল যার জমি তার" আইন পাস হয়েছিল। সেই আইনের মূল নীতি এখনো বহাল রয়েছে এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও একই প্রক্রিয়া ও নীতির ধারাবাহিকতা চলছে। ওই আইনের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়, শুধু জমি দখলে থাকলেই কেউ মালিক দাবি করতে পারবেন না। জমির মালিকানা প্রমাণে থাকতে হবে বৈধ দলিল, খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। অর্থাৎ দলিল যার, জমি তার নীতিকেই আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। আইনে বলা হয়, বৈধ দলিল বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তি জমি দখলে রাখতে পারবেন না। জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে কাগজপত্র ও আইনগত মালিকানাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া ভুয়া দলিল তৈরি, দলিল পরিবর্তন, প্রতারণার মাধ্যমে জমি হস্তান্তর, মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেকর্ড সংশোধন কিংবা অন্যের জমি নিজের নামে দেখানোর মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়। তৎকালীন সংসদে পাস হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী, দলিল সম্পাদনের পর অবৈধভাবে কোনো অংশ কেটে ফেলা, পরিবর্তন করা বা কাউকে জোর করে স্বাক্ষর করানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান বিএনপি সরকারের সময় এ এখন পর্যন্ত সংসদে এ সংক্রান্ত কোন বিল মহান সংসদে বাতিল হয়নি তাই বলা যায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রেকর্ড, মালিকানা যাচাই, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জাল দলিল প্রতিরোধে একই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার বদলালেও জমি নিয়ে বিশৃঙ্খলা কমানো, প্রকৃত মালিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভূমি সেবা সহজ করার প্রশ্নে আগের নীতিগুলোই এখন কার্যকর রয়েছে। ভূমি খাতে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ জমি নিয়ে হয়রানি ও প্রতারণা থেকে আরও বেশি সুরক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছে সরকার। বর্তমানে যে জটিলতা রয়েছে, তা শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান জানান, ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারত সফরের সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই আলোচনার পর ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সম্প্রচারে ফিরেছে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। আজ সোমবার ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিট থেকে পুনরায় বাণিজ্যিক সম্প্রচার শুরু করেছে জনপ্রিয় এই টিভি চ্যানেল। চ্যানেল ওয়ান ফের চালু হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকা চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচারে আর কোনো বাধা নেই বলে রায় দেন আদালত। এ বিষয়ে করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকার চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। সে সময় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চ্যানেলটির ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ স্থগিত করে। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অনুমতি ছাড়া সম্প্রচার যন্ত্রপাতি বিক্রির অভিযোগে চ্যানেলটি বন্ধ করা হয়েছে। চ্যানেল ওয়ানের মালিক ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর হাইকোর্টের আগের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। পরে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচারের পথ আবার খুলে যায়। একসময় দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল চ্যানেল ওয়ান। সংবাদ, বিনোদন ও নানা অনুষ্ঠান দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ১৬ বছর পর আবার সম্প্রচার শুরু হওয়ায় পুরোনো দর্শকদের মধ্যেও নস্টালজিয়া কাজ করছে।
মোবাইল ইন্টারনেটের অব্যবহৃত ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেড বা দীর্ঘমেয়াদি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। আজ সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১১ কোটি ৩৫ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছেন। তাদের ব্যবহার ধরন ও চাহিদা ভিন্ন হওয়ায় অপারেটরদেরও সে অনুযায়ী বিভিন্ন প্যাকেজ চালু করতে হয়। মন্ত্রী জানান, মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডাটা বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, মোবাইল ইন্টারনেট সেবা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে অপারেটররা মেয়াদভিত্তিক ছোট ছোট প্যাকেজ দেয়। এতে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটা কিনতে পারেন। সরকার আরও জানায়, একই প্যাকেজ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবার কিনলে বা অটো রিনিউ করলে অব্যবহৃত ডাটা ক্যারি ফরওয়ার্ড করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া টেলিটক ইতোমধ্যে আনলিমিটেড মেয়াদের তিনটি ডাটা প্যাকেজ চালু করেছে। এসব প্যাকেজে নির্ধারিত ডাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেয়াদ শেষ হবে না।
বিদ্যুৎ সংকটের এই দুঃসময়ে বকেয়া বিল পরিশোধের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতীয় কোম্পানি আদানি। বকেয়া দ্রুত শোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে তারা। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বরাবর পাঠানো চিঠিতে তারিখ দেওয়া আছে ১৭ এপ্রিল। তবে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চিঠিটি ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার রাতে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর করণীয় ঠিক করা হবে। চিঠিতে আদানি জানিয়েছে, বকেয়া বিল পরিশোধে দেরির কারণে প্রকল্পের অর্থপ্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি কিনে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির কেন্দ্রটি। এটির সরবরাহ বন্ধ হলে চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি তৈরি হবে। এ কারণেই এই সময়ে বকেয়া আদায়ে চিঠি দিয়েছে তারা। এর আগেও বকেয়া শোধের তাগাদা দিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি পিডিবির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল আদানি। সেই চিঠিতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। আদানির সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির মোট পাওনা ৬৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা দরে ৪ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা) নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, যা ৪ থেকে ৫ মাসের বিলের সমান। তারপরও বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই দ্রুত পুরো বকেয়া শোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত বিল দিতে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বকে আদানি গুরুত্ব দেয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে মন্ত্রীর সুবিধামতো সময়ে সাক্ষাৎ করার জন্যও সময় চাওয়া হয়েছে। পিডিবি ও আদানি সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বকেয়া প্রায় ৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদানির দিক থেকে কয়েক দফা তাগাদা দিলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে পিডিবি। একই সঙ্গে কিছু কিছু করে পুরোনো বকেয়াও শোধ করা হয়। এতে মোট বকেয়া কমতে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর থেকে আবার বিল পরিশোধ কমিয়ে দেয় পিডিবি। এতে বকেয়া আবার বাড়তে শুরু করে। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নিয়ে পিডিবির সঙ্গে আদানির বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আদানি কয়লার বাড়তি দাম ধরে বিল করছে, আর পিডিবি বাজারদরে বিল পরিশোধ করছে। আদানির চুক্তির বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর করণীয় নির্ধারণ করবে পিডিবি। রিট আবেদনের পর আদালতের আদেশে আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা বর্তমানে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য বর্তমানে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুর বিষয়ে সরকার আশাবাদী। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান। নুরুল হক বলেন, সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের ৮ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও তিনি মালয়েশিয়া সফর করেছেন। তিনি বলেন, সফরে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সহজ হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়া মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের শ্রমবাজার চালুর জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে ১ লাখ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ নামে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যেসব বাংলাদেশি কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে বলেও সংসদে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় আরও চারটি দেশের সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক বা সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। সংসদে দেওয়া তথ্যে তিনি জানান, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মীও রয়েছেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেনাকাটায় অনিয়ম ও ‘হরিলুট’ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার সব ধরণের বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে “সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে সংসদ সচিবালয়ের ক্রয়কার্য নিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সচিবালয় জানিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত ওই কেনাকাটার বিপরীতে কোনো অর্থ বা বিল পরিশোধ করা হবে না। এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয়ে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। এই ‘হরিলুটের’ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
কাঁচামালের তীব্র সংকটে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। গতকাল শনিবার রাত আটটা থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়া এলাকায় অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ডিএপি সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো ‘অ্যামোনিয়া’। এই কারখানাটি মূলত পার্শ্ববর্তী দুই প্রতিষ্ঠান - চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস-সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহও বন্ধ হয়ে পড়ে। বিগত দেড় মাস আগের মজুত করা কাঁচামাল দিয়ে কোনোমতে উৎপাদন সচল রাখা হলেও শনিবার রাতে সেই মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়েই কর্তৃপক্ষ কারখানার চাকা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস-সংবলিত যৌগিক সারের চাহিদা মেটায়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানার দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বাজারে ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মাঈনুল হক জানান, দেড় মাস ধরে কাঁচামাল না পাওয়া সত্ত্বেও তারা উৎপাদন চালু রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। যখনই আমরা পর্যাপ্ত অ্যামোনিয়া সরবরাহ পাব, তখনই আবার উৎপাদন শুরু হবে।” এখন সবার নজর সিইউএফএল ও কাফকোর দিকে; সেখানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত ডিএপি কারখানার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬০ দিনের বিশেষ ‘ছাড়’ দেওয়ার খবরটি নাকচ করে দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছে সরকার। আজ শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা কিংবা এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড় সংক্রান্ত তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। এমনকি বিভাগের কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এ ধরণের কোনো মন্তব্য বা তথ্য প্রদান করেননি। সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার তেলের ওপর বিশেষ ছাড় কার্যকর থাকবে। বিষয়টি নজরে আসার পর মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরণের কোনো প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো দাপ্তরিক বা হালনাগাদ তথ্য নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি তথ্য। বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে যে তথ্যগুলো ছড়ানো হচ্ছে, তা অনুমোদিত নয়। এ ধরণের অপপ্রচার জাতীয় জ্বালানি নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। জাতীয় স্পর্শকাতর এই বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং সরকারি তথ্যের সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী চারটি বিশালাকায় ট্যাংকার পৌঁছানোর খবরে দেশের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা কাটতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার বন্দরে পৌঁছাচ্ছে তিনটি জাহাজ এবং আগামী রোববার ভিড়বে আরও একটি। সব মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন নতুন ডিজেল যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় মজুতে, যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ধরণের স্বস্তি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেল মজুত ছিল। নতুন এই চারটি চালানের তেল খালাস সম্পন্ন হলে মোট মজুতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। অর্থাৎ, এই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে কোনো ধরণের বিঘ্ন ছাড়াই সারা দেশের প্রায় ২৫ দিনের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আজ 'এমটি ওকট্রি', 'এমটি কেপ বনি' ও 'এমটি লিয়ান সং হু' জাহাজ তিনটি বন্দরে ভিড়ছে এবং রোববার পৌঁছাবে 'এমটি গোল্ডেন হরাইজন'। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ করে ডিজেল, যা মূলত পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের প্রাণভোমরা। বিশেষ করে কৃষিখাতের সেচ এবং পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের চলাচল সরাসরি এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই বিশাল আমদানির ফলে তা পুরোপুরি কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাহাজগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তেল খালাস করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরবরাহ বাড়ার এই খবরে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ পরিবহন মালিক ও কৃষকদের মাঝেও।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে পুনরায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এই দিনটিকে 'ক-শ্রেণি' ভুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পুনরায় সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের ন্যায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "বিগত ১৬ বছর এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।" ঐতিহাসিক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অনন্য অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই সরকার এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধিপত্যবাদ ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ দেড় যুগ পর বর্তমান সরকার সেই ছুটি ও দিবসের মর্যাদা পুনর্বহাল করলো। মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
প্রতিহিংসা ও বিভাজন পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও আমাদের মধ্যকার বিরোধ যেন কখনোই শত্রুতায় রূপ না নেয়। কারণ জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি এবং বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা। দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সক্রিয় উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বিশেষ করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুণীজনদের এই অবিস্মরণীয় অবদান আগামীর প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হীন দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের ভূমিকা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই; বরং ঐতিহাসিক সত্য মেনে নেওয়াটাই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম। সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে বিপর্যস্ত একটি শাসনকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তবমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। এছাড়া দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার জ্বালানি খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা যায়, যখন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে পৌঁছান। এসময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিরোধী দলীয় নেতা এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। বাসস / এস এস
আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (৩ বৈশাখ ১৪৩৩), রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। গতকাল বুধবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও, আজ বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। আজ সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা রয়েছে এবং দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় জনসাধারণের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের সময় পাকা দালানের নিচে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি এখন চাকরিপ্রার্থীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো - ৫ লাখ পদের এই বিশাল নিয়োগের আবেদন আসলে কবে থেকে শুরু? জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগের এই পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে শুরু না হয়ে বরং সরকারের ‘থ্রি-স্টেপ’ বা তিন ধাপের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপ: আগামী ৬ মাসের মধ্যেই শুরু জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সবথেকে আশার দিক হলো, প্রথম ধাপের নিয়োগের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২৮৭৯টি শূন্যপদের নিয়োগ কার্যক্রম আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই এই পদগুলোর জন্য অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার আসা শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপ: এক বছরের মেগা সার্কুলার সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ৪৪৫৯টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এই পদগুলোর জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এছাড়া দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ফলে আগামী এক বছর দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরেই নতুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যাবে। তৃতীয় ধাপ: ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বিশাল এই ৫ লাখ নিয়োগের বড় অংশটি সম্পন্ন হবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ৩১১০টি বিশেষ পদের কথা উল্লেখ করা হলেও, পর্যায়ক্রমে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্যপদ পূরণের কাজ চলবে। এটি মূলত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হবে, যেখানে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের অধীনে বড় বড় সার্কুলার আসবে। আবেদন করবেন যেভাবে সরকারি নিয়োগের এই মহোৎসবে অংশ নিতে প্রার্থীদের সব সময় নজর রাখতে হবে মন্ত্রণালয়গুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সরকারি চাকরির টেলিটক পোর্টালে। বেশিরভাগ নিয়োগই এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেহেতু ৫ লাখ নিয়োগের ঘোষণা চলে এসেছে, তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের নিজস্ব জনবল কাঠামো অনুযায়ী খুব দ্রুতই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া শুরু করবে।
দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল জনবল সংকট মেটাতে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সরকার একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, শূন্যপদগুলো পূরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি আলাদা আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২৮৭৯টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া এক বছরের মধ্যে ৪৪৫৯টি এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন গ্রেডে কত পদ খালি? সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেড অর্থাৎ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি এবং ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সবথেকে বেশি প্রয়োজন হয় এমন ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডেও ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি পড়ে আছে। এমনকি চুক্তিভিত্তিক বা নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত পদেও কয়েক হাজার লোকবল প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় নিয়োগের বাইরেও সরকার সারা দেশে মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের একটি বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত এবং কোনো ধরণের অনিয়ম ছাড়া সম্পন্ন হয়, সেজন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের খালি পদের সর্বশেষ তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি সব দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই খবরটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। তাই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এবং দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি জেলার মানুষ এই বিশেষ কার্ডের সুবিধা পাবেন। জেলাগুলো হলো— খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী। এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি খাল খনন ও নদী সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী জুন ২০২৬ সালের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রায় ২৭০০ কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো আগামী ৫ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করা, যা কৃষি ও পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনবে। পরিবেশ রক্ষায় সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যার মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা এখনই রোপণের জন্য তৈরি আছে। শুধু পরিবেশ নয়, শিক্ষাখাতেও আসছে বড় চমক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলগুলোতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এছাড়া ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসায় আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় বড় খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আইসিটি খাতের উন্নয়নে এবং বাংলাদেশে দ্রুত ‘পেপাল’ (PayPal) সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা এবং ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও আসছে বড় পরিবর্তন। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেকারদের জন্য বড় খবর হলো, সরকার মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কর্মসংস্থান—সব খাতেই একগুচ্ছ নতুন সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে এক কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সভা, কর্মশালা কিংবা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। যানবাহন চলাচলে জ্বালানি খরচ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মাথায় রেখে দেশে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে সরকারি কার্যক্রম যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে আয়োজিত যেকোনো প্রোগ্রামে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের সশরীরে আসার প্রয়োজন পড়বে না। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো প্রোগ্রামে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের কোনো প্রোগ্রামে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনের মাধ্যমেই যুক্ত হবেন। অর্থাৎ, বড় কোনো প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা আয়োজন পুরোপুরি পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি যানবাহনের পেছনে জ্বালানি খরচ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি বড় ধাপ। এখন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং বা জুম-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই অফিশিয়াল কাজগুলো সেরে নিতে হবে। তবে যদি কোনো সভা বা প্রশিক্ষণ সশরীরে আয়োজন করা একান্তই জরুরি হয়ে পড়ে, তবেই কেবল বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তা করা যাবে। অন্যথায়, সাধারণ সব কার্যক্রম অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে যাতে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একদিকে যেমন জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে কর্মকর্তাদের সময়ও বাঁচবে এবং সরকারি কাজে আরও গতিশীলতা আসবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে পারেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে সবাইকে। সাধারণ নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক নোটিশে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবিশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। দিনের কোনো দাপ্তরিক কর্মসূচি বা মিটিং প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট সময়সীমা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিজ দায়িত্বে বন্ধ করতে হবে। অফিস সময় শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনা ব্যতীত চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি দপ্তরে একটি করে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২৩৭ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকিগুলো জোটের শরিকদের জন্য এবং কিছু আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করার জন্য রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ঘোষণার আগে, দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করতে পারে এবং নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো–
By using this site, you agree to our Cookie Policy .