জাতীয়

পাসপোর্টে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ ফেরানোর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, টাকার নোটেও আসছে চমক

বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্টে আবারও ফিরে আসছে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’  লেখাটি। এর পাশাপাশি অতীত সরকারের ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ছবির বদলে পাসপোর্টের পাতায় দেশের জাতীয় ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান এবং টাকার নোটে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি যুক্ত করার বড় ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। নতুন পাসপোর্টগুলো আগের মতোই ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শর্ত যুক্ত করেই তৈরি করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত হওয়ার পাশাপাশি এ দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদাও ছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফিলিস্তিনের প্রতি এ দেশের সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ ও সহানুভূতি রয়েছে। অতীতে পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার কথাটি মুছে ফেলার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এবার সেটি ফিরিয়ে আনার ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে এবং ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান আবারও বিশ্বদরবারে স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, দেশের পাসপোর্ট বা টাকার নোট কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, এগুলো পুরো দেশের পরিচয় বহন করে। সেখানে কোনো বিশেষ ব্যক্তির ছবির বদলে আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ, জাতীয় স্মৃতিসৌধ কিংবা কক্সবাজারের মতো দর্শনীয় স্থানগুলোর ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি দেশের মানুষের জাতীয়তাবোধকে আরও এক করবে। এটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের একটি সুন্দর ও দলনিরপেক্ষ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে বড় ভূমিকা রাখবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত সরকারের আমলে পাসপোর্টের ভিসা পেজগুলোতে এমন কিছু ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছবি রাখা হয়েছিল, যা দেশের বেশিরভাগ মানুষের সংস্কৃতি বা চিন্তার সঙ্গে একেবারেই যায় না। সবকিছু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাজানো হয়েছিল। নতুন পাসপোর্টে সেই রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে। সেখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, টাঙ্গুয়ার হাওর এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মতো বিষয়গুলো খুব সুন্দর ও নির্মোহভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। এছাড়া দেশের টাকার নোটে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি যুক্ত করার বিষয়টি মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ হলেও, সরকার যে সেদিকেই এগোচ্ছে, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। জাতীয় কোনো বিষয়ে আর কোনো দলীয় চিন্তার ছাপ থাকবে না বলে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় রোববারের এই সংলাপে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদও উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ মে, ২০২৬ 0
সাপে কাটা রোগীদের জন্য বড় সুখবর: এবার হাতের কাছেই মিলবে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ

বর্ষা মৌসুমে সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এবার বড় ও কার্যকরী একটি উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন থেকে সাপে কাটলে চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে আর দূরের শহরে ছুটতে হবে না, বরং গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই খুব সহজে পাওয়া যাবে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা ‘অ্যান্টিভেনম’। আগামী বর্ষা মৌসুমের বিপদের কথা মাথায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি জেলার জন্য ৩০ ভায়াল করে অ্যান্টিভেনম বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে দেশের সব সিভিল সার্জনকে এই বিষয়ে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা সিভিল সার্জনরা তাদের এলাকার উপজেলা হাসপাতালগুলোর দরকার ও পরিস্থিতি বুঝে এই ওষুধগুলো ভাগ করে দেবেন। দেশে সাপে কাটার ঘটনাগুলো মূলত গ্রাম বা চরাঞ্চলেই বেশি ঘটে। কিন্তু এর জীবনরক্ষাকারী প্রতিষেধক 'অ্যান্টিভেনম' এতদিন শুধু শহরের বড় হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজগুলোতেই মজুত থাকত। ফলে সাপে কাটার পর দুর্গম গ্রাম থেকে একজন রোগীকে শহরে নিতে নিতেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হতো। সরকারের নতুন এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ কৃষিজীবী ও গ্রামের মানুষ এখন নিজেদের হাতের কাছেই দ্রুত চিকিৎসা পাবেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, সাপে কাটার পর যত দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেওয়া যায়, রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। তাই মাঠপর্যায়ে এই ওষুধের সহজলভ্যতা সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যুর হার জাদুকরীভাবে কমিয়ে আনবে। ওষুধগুলো দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সিভিল সার্জনদের আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিনিধি পাঠিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে এই অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধের গুণগত মান যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেজন্য সম্পূর্ণ শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বা ‘কোল্ড চেইন’ মেনে এটি নিয়ে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা পোস্টে ‘সাপে কাটে গ্রামে, অ্যান্টিভেনম থাকে শহরে; মৃত্যু হয় পথেই’ শিরোনামে একটি বিশেষ খবর প্রকাশের পরই বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে এই সংকট কাটাতে সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রতিষেধক পৌঁছানোর চমৎকার এই নির্দেশ দেয় সরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ মে, ২০২৬ 0
বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার ৫ জামাত: কোনটা কখন অনুষ্ঠিত হবে?

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীর মুসল্লিদের সুবিধার্থে এখানে পর্যায়ক্রমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। গতকাল ২১ ই মে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) পক্ষ থেকে এই পাঁচটি জামাতের সময়সূচি এবং এতে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম ও মুকাব্বিরদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদের সই করা এই তালিকা অনুযায়ী, সকাল ৭টার প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত এবং সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই জামাতে ইমাম হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান ও মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন এবং সর্বশেষ বা পঞ্চম জামাতটি শুরু হবে সকাল পৌনে ১১টায় (১০টা ৪৫ মিনিটে), যেখানে ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। আমাদের সংবাদকক্ষের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার মতো ব্যস্ত ও জনবহুল শহরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবার পক্ষে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার দিন সকালে পশু কোরবানি নিয়ে অনেককে ব্যস্ত থাকতে হয়, আবার জরুরি সেবায় নিয়োজিত অনেকের সকালে ডিউটি থাকে। তাদের জন্য বায়তুল মোকাররমের এই পর্যায়ক্রমিক জামাতের ব্যবস্থা বিশাল এক স্বস্তির জায়গা। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে প্রায় ১১টা পর্যন্ত একের পর এক জামাত চলার কারণে রাজধানীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ নিজেদের সুবিধামতো সময়ে জাতীয় মসজিদে এসে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। এটি শুধু ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যই বজায় রাখে না, বরং ঈদের দিনের ব্যস্ততাকে সুন্দরভাবে সামলে নিতে সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে সাহায্য করে। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো ইমাম উপস্থিত থাকতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থাও ঠিক করে রেখেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইফার সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের দিন সকালে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে, সবাইকে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ মে, ২০২৬ 0
tap probaho
ঢাকাসহ ১১ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ

ঢাকাসহ দেশের ১১টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ, যার কারণে ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে । আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে দেওয়া আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বভাসে জানানো হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে । গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রামগতিতে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস । সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত গত কয়েকদিনের আবহাওয়ার খবর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। আর এই কারণেই থার্মোমিটারের তাপমাত্রার চেয়েও মানুষের শরীরে অনেক বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। মে মাসের এই ভ্যাপসা গরম আর প্রখর রোদ সাধারণ খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নামিয়ে এনেছে। বিশেষ করে যারা রাস্তায় কাজ করেন, তীব্র তাপদাহে তাদের জন্য দিন পার করাটা বেশ কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকেই ক্লান্তি ও পানিশূন্যতায় ভুগছেন। তবে সাধারণ মানুষের এই কষ্টের মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় আজ অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে । এমনকি এসব এলাকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও শঙ্কা রয়েছে । গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সৈয়দপুরে, ৮১ মিলিমিটার । বৃষ্টির কারণে সারা দেশে আজ দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, যা জনজীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে । এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ মে, ২০২৬ 0
আবার বাড়তে পারে বিদ্যুতের বিল, ব্যবসায়ী-ভোক্তাদের কড়া আপত্তি

দেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্প খাত ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী গণশুনানির প্রথম দিনে এসব মন্তব্য উঠে আসে। শুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের মূল্যহার নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। গণশুনানিতে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে বিইআরসি জনগণের কাছে ‘গণশত্রুতে’ পরিণত হবে। তাঁর ভাষায়, সরকার যে ভর্তুকি দেয়, সেটাও তো জনগণের টাকায়। কিন্তু মানুষের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, দেশে নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও বিইআরসিতে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করেও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমানে দেশের রপ্তানি খাত এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতা হারাবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে শিল্প-কারখানায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেছে বিপিডিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, গত দুই বছরে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাকি বিদ্যুৎ দেশেই উৎপাদিত হলেও সেই উৎপাদনেও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ খাতে পড়ছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। বিইআরসির হিসাবে এই ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ নয়, বরং ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ খাতের নীতিমালায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি সৌরবিদ্যুতের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত এগোতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে এবং জনগণের ওপর চাপও কমবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে শুধু বাসাবাড়ির বিলই বাড়বে না, এর প্রভাব পড়বে বাজারের প্রায় সব পণ্যের দামে। কারণ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাত সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ একটি বড় ব্যয়। ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ মে, ২০২৬ 0
Train Ticket
আজ বিক্রি হচ্ছে ৩১ মে’র ঈদযাত্রার ফিরতি ট্রেনের টিকিট

ঈদুল আজহা শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের সুবিধায় বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিক্রি হচ্ছে আগামী ৩১ মে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের আসন টিকিট। রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। সব টিকিটই অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। রেলওয়ে জানিয়েছে, ১ জুনের টিকিট বিক্রি হবে ২২ মে, ২ জুনের টিকিট ২৩ মে, ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে এবং ৪ জুনের টিকিট ২৫ মে বিক্রি করা হবে। ফলে যাত্রীরা নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগেভাগেই ফিরতি যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারবেন। এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা কমলেও অনলাইনে টিকিট পেতে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় টিকিট পাওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে অনেকের মধ্যে। রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে একটি বেশি টিকিট কিনলে সহযাত্রীদের নামও টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে। এদিকে আগের মতো এবারও কেনা টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় ভ্রমণের তারিখ ও গন্তব্য নিশ্চিত হয়ে নিতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ মে, ২০২৬ 0
নবম পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠক বৃহস্পতিবার, কোন গ্রেডে কত বাড়বে বেতন?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠকে বসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৈঠক থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে না। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা, বাড়তি আর্থিক সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ যুক্ত হবে। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় আর্থিক চাপ পড়বে না। জানা গেছে, আগামী জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ সুবিধাসহ নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর পড়ছে। তাই নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা আসতে পারে। এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় সুখবর আসতে পারে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাঁদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়াবে না, বাজারে অর্থ প্রবাহও বাড়াবে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব নিয়েও সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ মে, ২০২৬ 0
পদ্মার পর এবার তিস্তা ব্যারেজ, পানিসংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা সরকারের

দেশের পানিসংকট মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ নিয়েও কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এখনই বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। বুধবার টঙ্গীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, গত দুই দশকে ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি তোলা হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার সুযোগ নেই। খাল ও নদী খনন করে বর্ষার অতিরিক্ত পানি ছড়িয়ে দিলেও আগামী ২০ বছরে সেই ঘাটতি পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “কোনোভাবেই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা যাবে না। এটা এখন আমাদের জন্য বিপদজনক হয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য পানি নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি বিএনপি তিস্তা ব্যারেজ নিয়েও কাজ করবে।” খাল ও নদী খননের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলার সঙ্গেও খাল ও নদীর সম্পর্ক রয়েছে। তার ভাষায়, “খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলা করতে হবে। তাই আমাদের আরও বেশি খাল খনন করতে হবে।” দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে হলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। অনুষ্ঠানে নতুন গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশে পানিব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরেই পানির সংকট নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ মে, ২০২৬ 0
ঈদুল আযহা উপলক্ষে পুলিশের জরুরি নির্দেশনা জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ যেন কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বা প্রতারণার কারণে বিষাদে রূপ না নেয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সাধারণ মানুষের জন্য একগুচ্ছ জরুরি পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আজ বুধবার (২০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঈদযাত্রা, পশুর হাট এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সবাইকে এই বিশেষ সতর্কতাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাবেন, তারা যেন শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভিড় এড়াতে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে এবং পণ্যবাহী ট্রাকে ওঠা থেকে সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চালকদের দ্রুত বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ না দেওয়া এবং নৌপথে যাত্রার ক্ষেত্রে আবহাওয়া খারাপ থাকলে লঞ্চ বা ফেরিতে না ওঠার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচতে যাত্রাপথে অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছে পুলিশ। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বছরই ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে এবং পশুর হাটে দালাল বা প্রতারক চক্রের পাল্লায় পড়ে অসংখ্য মানুষ সর্বস্বান্ত হন, এমনকি প্রাণও হারান। পুলিশের এই আগাম সতর্কবার্তাগুলো যদি সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা যথাযথভাবে মেনে চলেন, তবে দুর্ঘটনা এবং ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে পশুর হাটের হাসিল ও বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তার বিষয়টি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে। কোরবানির পশু কেনাবেচা এবং পরিবহনের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কড়া নির্দেশনা। মহাসড়ক বা রেললাইনের পাশে কোনোভাবেই পশুর হাট বসানো যাবে না। ট্রাকে বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু বোঝাই না করার পাশাপাশি পশুবাহী গাড়ির সামনে গন্তব্যের নাম লেখা ব্যানার টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ পথে গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি বা হয়রানি করতে না পারে। কেউ অতিরিক্ত হাসিল বা চাঁদা দাবি করলে সাথে সাথে পুলিশের সাহায্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার বদলে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ, আর নগদ টাকা বহন করতে হলে পুলিশের ‘কারেন্সি এস্কর্ট’ বা নিরাপত্তা সহায়তা নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। শপিংমলগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে মালিকপক্ষকে সিসিটিভি ও মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের পাশাপাশি যেকোনো বিপদে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোল রুম (০১৩২০০০১৩০০), হাইওয়ে পুলিশ (০১৩২০১৮২৫৯৮), রেলওয়ে পুলিশ (০১৩২০১৭৭৫৯৮), নৌ পুলিশ (০১৩২০১৬৯৫৯৮) এবং র‍্যাবের (০১৭৭৭৭২০০২৯) নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ মে, ২০২৬ 0
সারা দেশে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬

সাধারণ মানুষের জমিজমা সংক্রান্ত হয়রানি কমানো এবং ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সারা দেশে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই মেলা চলবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে কাজ করে তা হাতে-কলমে শেখানো এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। যুগ যুগ ধরে ভূমি অফিসে নামজারি, পর্চা বা খতিয়ান তোলার কাজ সাধারণ মানুষের কাছে এক দীর্ঘমেয়াদি আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ ও কৃষকেরা প্রায়ই দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়ে সময় ও অর্থ দুটোই হারান। সেই পুরোনো ও জটিল পরিস্থিতি থেকে মানুষকে মুক্তি দিতেই সরকার এখন পুরোপুরি ডিজিটাল বা অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে মানুষ এখন সরাসরি জানতে পারবেন কীভাবে কোনো রকম বাড়তি খরচ বা দালালের সাহায্য ছাড়াই ঘরে বসে জমির খাজনা দেওয়া বা দরকারি কাগজ তোলা যায়। এতে করে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ বুথ বসানো হয়েছে। সরাসরি বিভিন্ন সেবা নেওয়ার পাশাপাশি মেলায় আসা মানুষেরা ভূমি সংক্রান্ত নানা আইনি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শও বিনা মূল্যে নিতে পারবেন।

অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে, ২০২৬ 0
পে স্কেল
নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিভক্তি

আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশাল বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের সম্মতি দেওয়ায়, চাকরিজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সুস্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। তবে সাধারণ চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর হলো সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সার্বিকভাবে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অন্যান্য সব আনুষঙ্গিক ভাতা যুক্ত করা হবে। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারের এই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি মূলত একটি সতর্ক কৌশল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রস্তাব পুরোপুরি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একসঙ্গে এত বিশাল অর্থের জোগান দেওয়া সরকারের জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর। একসঙ্গে ১৫ লাখের বেশি সরকারি কর্মচারীর হাতে বাড়তি টাকা এলে বাজারে হঠাৎ করে ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতি বা নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এই দ্রব্যমূল্যের চাপ অনেকটাই সামলানো সম্ভব হবে। তবে সরকারের এই যুক্তির সাথে একমত নন অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতা আব্দুল মালেক ও সংযুক্ত পরিষদের মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজারে বারবার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ব্যবসায়ীরা বারবার জিনিসের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। তাদের জোরালো দাবি, পুরো পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হোক। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী সিকান্দার আলীও মনে করেন, এক ধাপে বেতন না বাড়লে সুবিধাভোগীরা উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। অন্যদিকে, চাকরিজীবীদের আরেকটি বড় অংশ মনে করে, দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকারকে এই মুহূর্তে চাপ দেওয়া বা কোনো ধরনের আন্দোলনে যাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতো অনেকেই বলছেন, সরকার যেহেতু নির্বাচিত, তাদের সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তারা দেশের সামর্থ্য বুঝে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। তাই নিয়ম মেনেই কাজ করে যাওয়া উচিত। নবম পে কমিশনের এই প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেশ কিছু চমৎকার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। যেমন, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং যাতায়াত ভাতা দশম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে বেশি সুবিধা দেওয়া এবং ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, এমন বয়স্কদের ভাতা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। চিকিৎসা ভাতাও ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পে কমিশনের সদস্য ও বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক জানিয়েছেন, কোনো সরকারি কর্মচারী যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকেন, সেই চিন্তা থেকেই সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন সবচেয়ে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন দেশের প্রায় ২৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আগামী বাজেটের জন্য। কারণ সেখানেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: সিইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার থাকছে না কোনো দলীয় প্রতীক। দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও, তৃণমূলের এই ভোটে সংঘাত ও রক্তপাত এড়াতে নির্বাচন কমিশন এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)’-এর নতুন কমিটির দায়িত্বগ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। আর এই বিষয়টিই মাঠপর্যায়ে নির্বাচনকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ, বিগত কয়েক বছরে গ্রামে-গঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মার্কার কারণে একই এলাকার মানুষ, এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও তীব্র বিভেদ ও হানাহানি দেখা গেছে। মার্কা তুলে দেওয়ার ফলে প্রার্থীরা এখন দলের চেয়ে নিজেদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ভোট চাইবেন, যা তৃণমূলের রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এতে সাধারণ ভোটাররাও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি রক্তপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করা দরকার। শুধু সামনের একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই বর্তমান কমিশনের মূল লক্ষ্য। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু নির্বাচন কমিশনের একার চেষ্টাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সিইসি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক এবং সাধারণ ভোটারসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলেই কেবল একটি সফল নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। এই লক্ষ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এবার দেশজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নিবে দুবাই, খরচ পড়বে ১ লাখ টাকার নিচে

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী ও আধুনিক শহর দুবাইয়ে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। চলতি বছরেই বাংলাদেশ থেকে নতুন করে মোট ৬ হাজার দক্ষ ড্রাইভার বা চালক নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার থেকেই রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই চালক নিয়োগের প্রাথমিক ইন্টারভিউ বা বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই বিশাল নিয়োগের সুখবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা দেশের শ্রমবাজারের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো, এই ১৫ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি নাগরিক! মূলত বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, সততা ও পরিশ্রমের কারণেই চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধিদল জানায়, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নতুন করে দেড় হাজার চালককে প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে মোট ৬ হাজার চালক নিয়োগের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ের মতো বিলাসবহুল শহরে এত বিপুলসংখ্যক চালক নিয়োগ দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তবে এই বিশাল সুযোগের পেছনে অভিবাসন ব্যয়ের একটি বড় চিন্তাও জড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সেই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, দুবাই যেতে একজন বাংলাদেশি চালকের অনেক অর্থ ব্যয় হয় এবং অধিকাংশ কর্মী দরিদ্র হওয়ায় তাঁদের ঋণ করে বিদেশে যেতে হয়। তাই সাধারণ কর্মীদের সুবিধার্থে এই অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি। এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণে একটি চমৎকার প্রস্তাব রাখেন। তিনি দুবাই যাওয়ার পর কর্মীদের প্রশিক্ষণকালীন সময়েও বেতন-ভাতা চালুর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চালকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য পেশাজীবী কর্মী নিয়োগেরও বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি। সরকার যে কোনোভাবেই শুধু শ্রমিক নয়, বরং পেশাজীবীদের বিদেশে পাঠাতে চাইছে, এটি তারই একটি পরিষ্কার বার্তা। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজ’-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, শুধু ড্রাইভার নয়, বরং বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক নিয়োগের বিষয়েও তাঁরা বেশ আগ্রহী। সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মিসরের নতুন ভিসা ফি ঘোষণা, কোন ভিসায় কত খরচ

পর্যটন, ব্যবসা কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশিদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পিরামিড আর প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিসর। এবার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ফির কাঠামো ঘোষণা করেছে দেশটি। নতুন এই নিয়মে সিংগেল এন্ট্রি, মাল্টিপল এন্ট্রি এবং দীর্ঘমেয়াদি পাঁচ বছরের ভিসার ফি হালনাগাদ করা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) ঢাকার মিসর দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে ভিসা ফির এই নতুন পরিবর্তনের তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এখন থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মিসরে যাওয়ার জন্য সিংগেল এন্ট্রির ক্ষেত্রে ৯ হাজার ২০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এছাড়া যাঁরা একাধিকবার ভ্রমণের সুবিধা চান, তাঁদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রির ক্ষেত্রে ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৫০ টাকা। তবে এই নতুন ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমকটি হলো দীর্ঘমেয়াদি ভিসা। যে সব বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বা পর্যটক নিয়মিত মিসরে যাতায়াত করেন, তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ হাজার ২০০ টাকা। পর্যটন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মিসর দূতাবাসের এই সুনির্দিষ্ট ভিসা ফির ঘোষণা বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনাকে আরও সহজ করবে। বিশেষ করে পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসা চালুর ফলে ব্যবসায়িক কাজে যাঁরা নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যাতায়াত করেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। এতে বারবার ভিসা নবায়ন করার ঝামেলা ও সময় দুটোই বাঁচবে। এছাড়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট এই ফির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়ায়, সাধারণ মানুষদের ভিসা প্রসেসিং নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে এবং এজেন্সিগুলোর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আশঙ্কাও অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
ঈদ
দেশে কোরবানির ঈদ কবে? চূড়ান্ত তারিখ জানা যাবে আগামীকাল সন্ধ্যায়

এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ  দেশে কবে উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায়। ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে কাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে (বাদ মাগরিব) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে। আজ রোববার (১৭ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাঁদ দেখা কমিটির এই সভার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের আকাশসীমায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে এই কমিটি ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। মূলত হজ সম্পন্ন হওয়ার পর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই সামর্থ্যবান মুসলমানরা এই দিনে পশু কোরবানি করে থাকেন। সমাজ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদ দেখা কমিটির এই ঘোষণার ওপর সাধারণ মানুষের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নির্ভর করে। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের ঈদের ছুটির হিসাব মেলানো, আগেভাগে ট্রেনের বা বাসের টিকিট কাটা এবং কোরবানির পশু কেনার সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য সারা দেশের মানুষ এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেন। বিশ্বের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হলেও, বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী রীতি মেনে খালি চোখে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই আগামীকাল সন্ধ্যার পরই দেশজুড়ে কোরবানির ঈদের মূল আমেজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
১৪ জেলায় ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে মেঘের গর্জন , মে মাসের এমন খামখেয়ালি আবহাওয়ার মধ্যেই দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নৌ দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই জরুরি তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে সুনির্দিষ্টভাবে যে ১৪টি জেলার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হলো— রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেট। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে রয়েছে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ে এমন কালবৈশাখী ঝড় বা বজ্রবৃষ্টি হওয়াটা দেশের স্বাভাবিক জলবায়ু চক্রেরই অংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের অপর এক পূর্বাভাসে এই বৃষ্টির পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি হারিয়ে বর্তমানে একটি সাধারণ লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তবে একদিক দিয়ে বৃষ্টি হলেও দেশের অন্য অঞ্চলগুলোতে গরমের তীব্রতা এখনই কমছে না। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে আগে থেকেই যে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছিল, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, পাবনা এবং খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই মৃদু তাপপ্রবাহ আগামী দিনেও চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া তাপমাত্রার বিষয়ে জানান, চলমান এই তাপপ্রবাহের কারণে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা আজ সামান্য বাড়তে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, দিনভর রোদের কড়া তাপের পর রাতে গরমের অনুভূতি খুব একটা কমবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
ঈদুল আযহায় ছুটি পাচ্ছেন না যারা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের বিশাল ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের এই ছুটি কার্যকর থাকবে। তবে এখানে একটি মজার বিষয় হলো, ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা ছুটির মাঝে ২৪ মে মাত্র একদিন অফিস খোলা থাকায় ওইদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে অনেকেই হয়তো নৈমিত্তিক ছুটি (ক্যাজুয়াল লিভ) নিয়ে নেবেন। এর ফলে অনেকেই কার্যত ৯ দিনের বিশাল ছুটির ফাঁদে পা বাড়াবেন, যা ঈদের আগে গ্রামের বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য মহাসড়কে যানজট এড়াতে পরোক্ষভাবে বেশ সহায়ক হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পেলেও, বেশ কিছু পেশার মানুষকে ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ, ঈদের ছুটির সময়ও বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাক বিভাগ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছুটি পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে চিকিৎসাক্ষেত্রের মানুষদের; হাসপাতাল খোলা থাকায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ পরিবহনে নিয়োজিত কর্মীদের ঈদের দিনগুলোতেও মানুষের সেবায় ডিউটি করতে হবে। মূলত দেশ যখন ছুটির আমেজে থাকবে, তখন সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্ত, যা এই পেশার মানুষদের ত্যাগের এক বড় উদাহরণ। অন্যদিকে, সরকারি ও জরুরি সেবার কর্মীদের ছুটির হিসাব পরিষ্কার হলেও ব্যাংক, আদালত এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা কারা কতদিন ছুটি পাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুপ্রিম কোর্ট তাদের নিজ নিজ খাতের ছুটির বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে। আর বেসরকারি শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

অনলাইন ডেস্ক ১৬ মে, ২০২৬ 0
প্রবাসী কার্ড
২ মাসের মধ্যেই দেয়া হবে প্রবাসী কার্ড: সুখবর দিয়ে যা বললেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্স পাঠিয়ে যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, সেই প্রবাসীদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে সরকার। নানা ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। শনিবার (১৬ মে) সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে আয়োজিত ‘গ্লোবালাইজিং সিলেট’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে এই বড় ঘোষণা দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুধু প্রবাসী কার্ডের ঘোষণাই দেননি, প্রবাসীদের দেশে নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য বড় ধরনের আবাসন প্রকল্পের কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশে দিন দিন জমি কমে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে প্লটের বদলে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ ‘অ্যাপার্টমেন্টভিত্তিক’ আধুনিক আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা।" মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোতে শুধু প্রবাসীরাই ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাবেন এবং আনন্দের বিষয় হলো—এই উদ্যোগটি সিলেট থেকেই শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘বিশেষ আবাসন’ উদ্যোগটি অর্থনীতি ও পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি দারুণ কৌশল। যারা বিদেশে থাকেন, তাদের মনে দেশে নিরাপদ বিনিয়োগের একটি শঙ্কা সবসময় কাজ করে। সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এমন আবাসন প্রকল্প প্রবাসীদের সেই ভয় দূর করবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রবাসীদের নতুন প্রজন্ম, যারা বিদেশের মাটিতে বড় হচ্ছে, তারা যেন শেকড়ের টান ভুলে না যায়, সেজন্য দেশে তাদের একটি নিরাপদ ঠিকানা থাকা জরুরি। দেশে আধুনিক পরিবেশ পেলে তারা বারবার ফিরে আসবেন, বিনিয়োগ করবেন এবং এতে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধনও আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির জায়গা হলো বিমানবন্দর। এই ভোগান্তি দূর করতে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবা বাড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সেখানে প্রবাসীদের বিশ্রামের জন্য আলাদা লাউঞ্জ তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে ইমিগ্রেশন এলাকায় ডাক্তার ও নার্সসহ একটি মেডিকেল ইউনিট বসানো হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ প্রবাসীদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে বিমানবন্দরে সব সময় একটি স্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। এর পাশাপাশি, বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীদের মরদেহ সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশে এনে একেবারে বাড়ির আঙিনা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও সরকার চালু করেছে বলে জানান তিনি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আলাদা লাউঞ্জ ও চিকিৎসার মতো এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে, সরকার রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে শুরু করেছে। এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলো প্রবাসীদের মনে দেশের প্রতি ভরসা আরও বাড়িয়ে দেবে, যা দিন শেষে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেই সাহায্য করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে, ২০২৬ 0
অবশেষে কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার সুসংবাদ, যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অবশেষে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে কুমিল্লাবাসীর। জনগণের প্রাণের দাবি ‘কুমিল্লা বিভাগ’ বাস্তবায়নের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই জেলায় দ্রুত একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর এলাকায় এক বিশাল পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা ক্ষমতায় আসার পর একটা একটা করে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ তা বাস্তবায়ন হবে।" বিএনপিকে ‘জনগণের দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতিই পূরণ করা হবে, শুধু দেশের মানুষকে একটু ধৈর্য ধরে পাশে থাকতে হবে। একই সাথে পথসভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বড় একটি পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার গঠনের মাত্র দশ দিনের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুমিল্লা অঞ্চলে কৃষির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কুমিল্লা থেকে প্রচুর কৃষিপণ্য সারা দেশে যায়। আপনাদের দাবি অনুযায়ী এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আমি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।" বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ শুধু কুমিল্লার জন্যই নয়, বরং সারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান অর্থনীতির একটি কঠিন বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছেন। বিগত ১৭ বছরের 'ফ্যাসিস্ট' সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তারা দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার ও গুম-খুন করেছে। দেশের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, যার কারণে আমাদের অর্থনীতি এখন বেশ চাপে আছে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনীতির এই চাপের কথা লুকিয়ে না রেখে সরাসরি জনগণের সামনে তুলে ধরাটা সরকারের একটি পরিণত পদক্ষেপ। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কিছুটা সময় লাগবে, আর সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে ধৈর্য প্রত্যাশা করেছেন। "করব কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই স্লোগান সামনে রেখে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এই পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে, ২০২৬ 0
অবশেষে খুলছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জট, শুরু হয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশন

দীর্ঘ দুই মাসের অনিশ্চয়তার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জট কাটতে শুরু করেছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর জন্য দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ। তবে এবার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এসেছে নতুন শর্ত। নিয়োগপত্র পেলেও সরাসরি স্থায়ীভাবে পদায়ন করা হবে না। প্রথমে পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। সেখানে সফল হলেই মিলবে চূড়ান্ত নিয়োগ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় পুলিশ যাচাই কার্যক্রম চলছে। এই ধাপ শেষ হলে জেলাভিত্তিক নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হবে। মাঠে শুরু তদন্তকাজ ইতোমধ্যে লালমনিরহাট, ফরিদপুর, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বেশির ভাগ জেলায় নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সুমা জানিয়েছেন, পাঁচটি উপজেলায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই যাচাইপ্রক্রিয়া শেষ হতে ১০ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে। নতুন শর্তে বাড়ছে আলোচনা এবারের নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পিটিআই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিয়োগের পর সবাইকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। সেখানে কেউ অকৃতকার্য হলে তিনি শিক্ষক হিসেবে থাকতে পারবেন না। সরকারের দাবি, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক প্রার্থী মনে করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন শর্ত যোগ হওয়ায় তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের পরই গতি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগ আটকে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সুপারিশপ্রাপ্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল পুনর্বিবেচনার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে গত এপ্রিল মাসে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি কর্মসূচিও পালন করেন প্রার্থীরা। এরপরই মূলত স্থবির থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় গতি আসে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কবে হাতে মিলবে নিয়োগপত্র? প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট হাতে পেলেই জেলাভিত্তিক নিয়োগপত্র ইস্যু শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের মধ্যেই নতুন শিক্ষকরা চাকরির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন। সিস / ডিপি 

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে, ২০২৬ 0
আইডি কার্ড
হারিয়ে গেছে লাখো এনআইডির ফরম, খোঁজে নেমেছে ইসি

দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি নাগরিকের এনআইডির মূল তথ্য ফরম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নেই বলে জানা গেছে। এসব ফরম কোথায় আছে, আদৌ সংরক্ষিত আছে কি না তা নিয়েই এখন খোঁজে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৪ কোটি নাগরিকের ফরম-২ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল তথ্য ফরম সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় যেসব নাগরিক ভোটার হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ের বহু এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। পরে সংশোধনের জন্য আবেদন করলে অনেককেই জানানো হয় তাদের ফরম-২ সার্ভারে নেই। ইসি কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এসব ফরম স্থানীয় নির্বাচন অফিসে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ফরম নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও বৃষ্টির পানিতে, কোথাও উইপোকা ও ইঁদুরে, আবার কোথাও অগ্নিকাণ্ডে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে ফরম-২ স্ক্যান ও সার্ভারে আপলোডের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় নাগরিকের দেওয়া মূল তথ্য সঠিক থাকলেও এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। এমন ক্ষেত্রে ফরম-২ থাকলে বিনা ফিতে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু ফরম না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় স্ক্যানিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। তবে কত ফরম হারিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ফরম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো কাজ শেষ হলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার উপজেলায় প্রায় দুই লাখ নাগরিকের ফরম-২ আপলোড করা ছিল না। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার ফরম পাওয়া গেছে এবং এখন আপলোডের কাজ চলছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ফরম-২ সার্ভারে আপলোডের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এখন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।” জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “আট কোটি নাগরিকের তথ্য স্ক্যান ও আপলোড করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। কত তথ্য হারিয়েছে, তা আপলোড শেষ হলে বোঝা যাবে। উল্লেখ্য এই যে বাংলাদেশে এনআইডি এখন শুধু ভোটার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সিম নিবন্ধন, চাকরি, জমি কেনাবেচাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে এটি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নাগরিকের মূল তথ্য ফরম অনুপস্থিত থাকা বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ডিজিটাল সংরক্ষণ ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। খবরঃ দৈনিক কালের কন্ঠ 

অনলাইন ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন মাত্র ২ মিনিটে!

আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন। 

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

সপ্তাহের সেরা

বিনোদন

রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0

অনলাইন জরিপ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার কি বিএনপি সরকার করতে পারবে?