আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়।
পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন।
এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে।
ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে।
এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে আরও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এলো ওপেনএআই। গত শুক্রবার চ্যাটজিপিটিতে ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’ বা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার নতুন একটি প্রিভিউ ফিচার উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রো-সাবস্ক্রাইবার বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হওয়া এই ফিচারের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি সরাসরি ব্যবহারকারীর বিভিন্ন আর্থিক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীর আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যক্তিগত অর্থ-সংক্রান্ত যেকোনো জটিল প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে সক্ষম হবে। নতুন এই ফিচারের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ইন-বিল্ট ড্যাশবোর্ড। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং মর্টগেজের হিসাব খুব সহজেই ভিজ্যুয়াল বা গ্রাফিক্যাল আকারে এক নজরে দেখতে পারবেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ফিচার চালুর মূল কারণ হলো ইতিমধ্যেই ২০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী বাজেট তৈরি, বিনিয়োগের পরামর্শ এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। তাই বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক দিকগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্য ব্যবহারকারীর জন্য এটি চালু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রো-সাবস্ক্রাইবারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক এই এআই জায়ান্টটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ফিচার ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এই আপডেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাসঙ্গিকতা বোঝার ক্ষমতা। আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ব্যবহারকারীকে এখন আর বারবার তার আয়-ব্যয়ের হিসাব টাইপ করে বোঝাতে হবে না; চ্যাটজিপিটি নিজ থেকেই ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা বা কাস্টমাইজড উত্তর তৈরি করে দেবে। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদে যুক্ত করতে চ্যাটজিপিটি এখন ওয়েব এবং আইওএস (iOS) প্ল্যাটফর্মে ১২ হাজারেরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন যুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে 'প্লাড' (Plaid)-এর মাধ্যমে এই সুরক্ষিত লিংকিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এতে 'ইনটুইট' (Intuit)-এর সমর্থনও যুক্ত করা হবে। যোগ্য ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সাইডবার থেকে "Finances" নির্বাচন করে "Get started"-এ ক্লিক করে অথবা যেকোনো চ্যাট সেশনে "@Finances, connect my accounts" লিখে সহজেই তাদের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট সেটআপ করার পর আর্থিক ড্যাশবোর্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে, যেখানে রিয়েল-টাইমে খরচ, আসন্ন পেমেন্ট, বিনিয়োগ পোর্টফোলিও এবং বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনের বিস্তারিত দেখা যাবে। হিসাব রাখার পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই, আনুমানিক ট্যাক্স বা করের হিসাব বের করা এবং ইনটুইট-এর সাহায্যে স্থানীয় কর বিশেষজ্ঞের সাথে সেশন নির্ধারণ করার মতো কাজগুলোও এখন অনায়াসেই করা যাবে। তথ্য সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার বিষয়ে ওপেনএআই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় তাদের আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলো চ্যাটজিপিটি থেকে বিচ্ছিন্ন (Disconnect) করতে পারবেন। ওপেনএআই নিশ্চিত করেছে যে, অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করার ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সিঙ্ক হওয়া সব ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের চ্যাট হিস্ট্রি থেকে নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য বা চ্যাটজিপিটির 'ফাইন্যান্সিয়াল মেমোরি'ও মুছে ফেলতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্ত করা আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে চ্যাটজিপিটির এই সম্পূর্ণ কথোপকথন এবং বিশ্লেষণ পরিচালিত হবে অত্যাধুনিক 'জিপিটি-৫.৫ থিংকিং' (GPT-5.5 Thinking) মডেলের মাধ্যমে, যা দেবে সর্বোচ্চ স্তরের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে চীনের প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। নতুন করে তারা উন্মোচন করেছে দুই এআই চ্যাটবট ডিপসিক ভি৪ প্রো ও ডিপসিক ভি৪ ফ্ল্যাশ। প্রযুক্তি বিশ্বে এখন প্রশ্ন উঠেছে, চ্যাটজিপিটি আর গুগল জেমিনির সামনে কি নতুন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চলে এলো? শুক্রবার নতুন এই দুই মডেলের প্রিভিউ প্রকাশ করে ডিপসিক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুধু সাধারণ কথোপকথন নয়, জটিল হিসাব, কোড লেখা, বিশ্লেষণ আর যুক্তি প্রয়োগেও নতুন মডেলগুলো বেশ শক্তিশালী। ডিপসিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভি৪ প্রো গণিত ও কোডিংয়ে অন্য অনেক ওপেন মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বজ্ঞান ও তথ্য বিশ্লেষণেও এটি বেশ ভালো ফল দেখাচ্ছে। এমনকি ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৫.৪ ও গুগলের জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের কাছাকাছি পারফরম্যান্স দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ভি৪ ফ্ল্যাশ তৈরি করা হয়েছে দ্রুত কাজের জন্য। এটি দ্রুত উত্তর দিতে পারে, ব্যবহার খরচও তুলনামূলক কম। যারা কম সময়ে বেশি কাজ চান, তাদের জন্য এই সংস্করণকে কার্যকর বলা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নতুন দুটি মডেলই ওপেন সোর্স। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার চাইলে এই প্রযুক্তির কোড ব্যবহার করতে পারবেন, নিজের মতো পরিবর্তন করতে পারবেন, এমনকি নতুন কিছু তৈরি করতেও পারবেন। গত বছর জানুয়ারিতে ডিপসিক আর১ উন্মোচনের পরও বড় আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তখন অনেকে বলেছিলেন, চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো মডেল তৈরি করেছে ডিপসিক। আরও চমক ছিল খরচের অঙ্কে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলারের কম খরচে তারা সেই মডেল তৈরি করেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের এআই মডেলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। তবে ডিপসিকের উত্থান সবাই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তথ্য নিরাপত্তা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ডেনমার্ক ও ইতালিতে এর ওপর নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন এআই প্রযুক্তি শুধু সফটওয়্যার নয়, এটি বড় শক্তির প্রতিযোগিতাও। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কে এগিয়ে থাকবে, তা নিয়েই চলছে লড়াই। এই অবস্থায় ডিপসিকের নতুন মডেল বাজারে আসায় স্পষ্ট বার্তা মিলেছে, এআই দুনিয়ায় চীন এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও উঠে এসেছে।
ফেসবুক প্রোফাইল কে কে ভিজিট করছে সেটা জানার ইচ্ছা প্রায় সবারই থাকে। বিশেষ করে কোনো পুরনো বন্ধু বা পরিচিত কেউ হয়তো প্রোফাইল দেখছে, এই কৌতূহল মাথায় ঘুরতেই থাকে। কিন্তু সত্যিটা একটু ভিন্ন। ফেসবুকে আপনাকে কে সবচেয়ে বেশি দেখে জানার উপায় আছে? সরাসরি উত্তর হলো, না। ফেসবুক কখনোই এই তথ্য প্রকাশ করে না। এটা ফেসবুকের নিজস্ব প্রাইভেসি পলিসির অংশ। কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ, ব্রাউজার এক্সটেনশন বা ওয়েবসাইট যদি দাবি করে যে তারা দেখাতে পারবে আপনার প্রোফাইল কে কে ভিজিট করেছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ধরনের অ্যাপ বা লিংকে ক্লিক করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং ব্যক্তিগত ডেটা তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যেতে পারে। তবে কিছু পরোক্ষ ইঙ্গিত থেকে ধারণা করা যায়। ফেসবুক স্টোরি দেখলে কারা দেখেছেন তার তালিকা পাওয়া যায়, তবে পোস্ট বা প্রোফাইল ভিজিটের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। যদি কেউ হঠাৎ আপনার পুরনো পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করে, বুঝতে পারবেন তিনি প্রোফাইল ঘাটছেন। ফ্রেন্ড সাজেশনেও মাঝে মাঝে প্রোফাইল ভিজিটের প্যাটার্ন কাজ করে বলে ধারণা করা হয়, তবে ফেসবুক এটা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে না। সহজ কথায়, যে অ্যাপ বা সাইট বলছে "দেখুন কে আপনার প্রোফাইল ভিজিট করেছে", সেটা থেকে দূরে থাকুন। এগুলো কৌতূহলকে পুঁজি করে ডেটা চুরি করার ফাঁদ।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .