পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবার ১৩ মে থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে এবং সব টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রেলওয়ে জানিয়েছে, আগামী ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট এবং ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীরা শুধুমাত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অনলাইন ওয়েবসাইট ও ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, টিকিট কেনাবেচার নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এজন্য যাত্রীদের নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোথাও আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের ভাষ্য, অননুমোদিত মাধ্যমে টিকিট কিনতে গেলে অনেকেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তাই নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে টিকিট সংগ্রহে সবাইকে সরকারি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনের টিকিট নিয়ে ব্যাপক চাপ ও ভোগান্তি তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভিড় কমাতে কিছুটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এবার দেশের প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি কামরা বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন। আদালতে শুনানিতে জানানো হয়, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় নারী যাত্রীদের জন্য প্রতিটি ট্রেনে আলাদা কামরার বিধান রয়েছে। এছাড়া ৫০ মাইলের বেশি দূরত্বের ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে শৌচাগার সংযুক্ত থাকার কথাও আইনে উল্লেখ আছে। একই আইনের ১১৯ ধারায় অনুমতি ছাড়া সেই কামরায় প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০২১ সালে আইনজীবী মমতাজ পারভীন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন এবং জানতে চান আইনের বিধান অনুযায়ী কেন প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখা হবে না। সেই বিচারাধীন রুলের সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন বলেন, “আইনে আলাদা কামরার স্পষ্ট বিধান থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ঈদে নারী যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতেই আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।” প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে নারী যাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে নারী যাত্রীদের যাতায়াতে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দুটোই বাড়বে। সিস/ ডিপি
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া, পানির গ্লাস উল্টে ফোনের ওপর পড়ে যাওয়া কিংবা বাথরুমে ফোন হাত ফসকে পড়ে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখনো একটি পুরোনো উপায় ব্যবহার করেন। ফোনটি চালের ড্রামের মধ্যে রেখে দেন কয়েক ঘণ্টা বা পুরো রাত। ধারণা হলো, চাল নাকি ফোনের ভেতরের পানি টেনে নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পদ্ধতি কি সত্যিই কাজ করে, নাকি এটি শুধু প্রচলিত একটি ভুল ধারণা? প্রযুক্তিবিদ ও স্মার্টফোন মেরামতকারীদের মতে, চাল কিছুটা আর্দ্রতা শোষণ করতে পারলেও এটি পানিতে ভেজা ফোন ঠিক করার নির্ভরযোগ্য উপায় নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এতে ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। চালের মধ্যে ফোন রাখার ধারণা কোথা থেকে এসেছে বছরের পর বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে এই পরামর্শ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ চাল স্বাভাবিকভাবেই বাতাসের কিছু আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। তাই অনেকেই মনে করেন, এটি ফোনের ভেতরের পানিও টেনে নেয়। তবে বাস্তবে স্মার্টফোনের ভেতরে পানি ঢুকে গেলে তা শুধু বাইরের অংশে থাকে না। চার্জিং পোর্ট, স্পিকার, ব্যাটারি ও মাদারবোর্ডের ভেতরেও পানি যেতে পারে। আর সেসব জায়গায় চালের প্রভাব খুব সীমিত। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কী বলছে Apple Support নিজস্ব নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পানিতে ভেজা আইফোন চালের মধ্যে রাখা উচিত না। কারণ চালের ছোট কণা ফোনের ভেতরে ঢুকে আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে। Samsung Support একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ফোন ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, চাল ফোন পুরোপুরি শুকাতে পারে এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব শক্তিশালী নয়। তাহলে ফোনে পানি ঢুকলে কী করবেন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমেই ফোন বন্ধ করে ফেলতে হবে। অনেকেই আতঙ্কে ফোন অন করে দেখেন কাজ করছে কি না। এটিই সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। ফোন বন্ধ করার পর সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ড খুলে ফেলতে হবে। এরপর শুকনো কাপড় বা টিস্যু দিয়ে বাইরের পানি মুছে নিতে হবে। সম্ভব হলে ঠান্ডা বাতাসে বা ফ্যানের নিচে কিছু সময় রাখতে পারেন। তবে অতিরিক্ত গরম বাতাস বা হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সিলিকা জেল কি বেশি কার্যকর প্রযুক্তিবিদদের মতে, চালের তুলনায় সিলিকা জেল আর্দ্রতা শোষণে বেশি কার্যকর। নতুন জুতা বা ব্যাগের বাক্সে ছোট ছোট যে সিলিকা জেলের প্যাকেট থাকে, সেগুলো আর্দ্রতা টেনে নিতে সাহায্য করে। তবে ফোনে যদি অনেক পানি ঢুকে যায়, তাহলে শুধু শুকানো যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে নেওয়াই নিরাপদ। বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা কী বলছে ঢাকার কয়েকজন মোবাইল সার্ভিসিং টেকনিশিয়ান জানান, অনেক মানুষ চালের মধ্যে ফোন রেখে কয়েকদিন পর তাদের কাছে আসেন। তখন দেখা যায়, ফোনের ভেতরে মরিচা বা শর্ট সার্কিট শুরু হয়ে গেছে। তাদের মতে, চালের ওপর ভরসা করে দেরি না করে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে এবার বড় পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহে নেমেছে সরকার। ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে টিকার কোনো ঘাটতি থাকবে না। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকার ইতোমধ্যেই ইউনিসেফকে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। সংগ্রহ করা ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে রয়েছে এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও (ওপিভি) এবং পেন্টাসহ মোট ১০ ধরনের জীবনরক্ষাকারী টিকা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে কয়েকটি বড় চালান বাংলাদেশে এসেছে। গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি, ৬ মে ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং ৯ লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছায়। ১০ মে পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ টিকা সরকারের হাতে এসেছে বলে জানানো হয়। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী কয়েক মাস টিকার কোনো সংকট থাকবে না।” তিনি আরও জানান, ভ্যাকসিনের মান ঠিক রাখতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। হামের টিকা কার্যক্রম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এরপরও কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে তাদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিকা দেওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিশু মৃত্যু রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তথ্যও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)’ প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৮ মে থেকে ইআরএল পুনরায় চালু হয়েছে। এছাড়া ১১ মে পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলেও দাবি করা হয়। ঈদুল আজহা সামনে রেখে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। পাশাপাশি ১২টি সেতুর টোল প্লাজায় ২০ মে’র মধ্যে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য পিওএস মেশিন বসানো হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে টিকার চাহিদা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরকারের এই বড় উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা।
দেশে নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার ব্যাংকে সরাসরি না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন গ্রাহকেরা। নতুন এই ‘ই-লোন’ সুবিধা চালুর অনুমতি পেয়েছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সোমবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহক নির্বাচন থেকে ঋণ বিতরণ ও আদায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকে গিয়ে কাগজে সই করতে হবে না। বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই ঋণের সুদের হার বাজারভিত্তিক হবে। তবে কোনো ব্যাংক যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ অর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ দেয়, তাহলে সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। গ্রাহকের তথ্য নিরাপদ রাখতে ওটিপি, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের ব্যক্তিগত ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য দেশের অভ্যন্তরে থাকা ডেটা ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এ সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে অন্তত ৬ মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পরে সেই কার্যক্রমের সফলতার মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আপাতত রিয়েল-টাইম সিআইবি সুবিধা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত ঋণ অনুমোদনে কিছুটা শিথিলতা থাকবে। তবে ঋণ বিতরণের পর অবশ্যই গ্রাহকের সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। এ জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, খেলাপি ঋণগ্রহীতারা কোনোভাবেই এই সুবিধা পাবেন না। কেউ তথ্য গোপন করে ঋণ নিলে পরে সিআইবি রিপোর্টে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে দেশে দ্রুত অনলাইন আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ছে। নতুন এই ই-লোন ব্যবস্থা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও সহজে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশজুড়ে চলা লাখ লাখ মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বসানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে উচ্চ সিসি বা অধিক ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির বিদ্যমান অগ্রিম আয়করও বাড়ানোর চিন্তা করছে সংস্থাটি। নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশের কোটি মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১১ মে) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বাজেটবিষয়ক এক সভায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেছে এনবিআর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যানবাহন নিবন্ধনের সময় আদায়কৃত রোড ট্যাক্সের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর নতুন অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত উচ্চ সিসি বা দামি মোটরসাইকেল এবং বিলাসবহুল যানবাহনের মালিকদের করের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, “লাক্সারি সেগমেন্ট থেকে রাজস্ব বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।” সূত্র জানায়, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল নতুন এই করের বাইরে থাকতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার বাইকের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখের বেশি। এছাড়া দেশে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এসইউভি গাড়ি রয়েছে। এনবিআরের তদন্তে ৩ হাজার সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার অন্তত ৫ হাজার ২৮৮টি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্যও উঠে এসেছে। শুধু মোটরসাইকেল নয়, ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মোটরসাইকেল এখন আর শুধু বিলাসপণ্য নয়। রাইড-শেয়ারিং কর্মী, ডেলিভারি রাইডার, বিক্রয় প্রতিনিধি, ওষুধ সরবরাহকারীসহ অসংখ্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করেন। ফলে সব ধরনের বাইকের ওপর কর চাপালে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বাইকার আলী আহমেদ বলেন, “আয় কমে গেছে, খরচ বেড়েছে। এখন যদি আবার প্রতি বছর ট্যাক্স দিতে হয়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।” অন্যদিকে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম মনে করেন, উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক হতে পারে। তবে কম আয়ের মানুষের ব্যবহৃত বাইককে করের আওতায় আনা উচিত হবে না বলেও মত দেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কর-জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়ায় নতুন নতুন খাত থেকে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কর আরোপের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে পরিবর্তনশীল ঋতুতে গরম পড়লেই ছোট বাচ্চাদের ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ঘামাচি, র্যাশ, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা শুষ্কতা অনেক পরিবারের জন্য সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যেসব শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তাদের ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় গরমে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও ত্বক চিকিৎসকদের মতে, গরমে বাচ্চাদের জন্য লোশন বাছাই করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেটি যেন মাইল্ড, হালকা এবং কম কেমিক্যালযুক্ত হয়। কারণ অনেক সুগন্ধিযুক্ত বা বেশি কেমিক্যাল থাকা লোশন শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে শিশুদের জন্য ওয়াটার বেসড ও নন স্টিকি লোশন তুলনামূলক ভালো কাজ করে। যেসব লোশনে অ্যালোভেরা, ওটমিল, ক্যামোমাইল বা নারিকেল নির্যাস থাকে, সেগুলো অনেক সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক বর্তমানে বেবি লোশন কেনার সময় “Hypoallergenic”, “Paraben Free” এবং “Dermatologically Tested” লেখা আছে কি না সেটি দেখেন। কারণ এসব বৈশিষ্ট্য সাধারণত সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। চিকিৎসকরা কোন ধরনের লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন ঢাকার কয়েকজন শিশু বিশেষজ্ঞের মতে, গরমের সময় ভারী ক্রিম বা অতিরিক্ত তেলতেলে লোশন ব্যবহার না করাই ভালো। এতে শিশুর ঘাম আরও আটকে যেতে পারে এবং ঘামাচি বাড়তে পারে। তারা বলেন, গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে অল্প পরিমাণ লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। তবে দিনে বারবার লোশন লাগানোর প্রয়োজন হয় না, যদি না শিশুর ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়। গরমে বাচ্চাদের জন্য জনপ্রিয় কিছু লোশন বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যে বর্তমানে কয়েকটি বেবি লোশন বেশি ব্যবহার হতে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে: Johnson’s Baby এর Milk + Rice Lotion Aveeno Baby Daily Moisture Lotion Cetaphil Baby Daily Lotion Sebamed Baby Lotion Kodomo Baby Lotion তবে চিকিৎসকদের মতে, সব শিশুর ত্বক এক রকম না। তাই একটি লোশন অন্য বাচ্চার জন্য ভালো হলেও আপনার শিশুর ত্বকে সেটি মানাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ভুলগুলো অনেক অভিভাবক করেন অনেকেই গরমে বাচ্চার ত্বক ঠান্ডা রাখতে বড়দের মেনথলযুক্ত লোশন ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এসব উপাদান শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। আবার অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত লোশনও অনেক শিশুর ত্বকে অ্যালার্জির কারণ হয়। শিশুর ত্বক ভালো রাখতে আরও যা করবেন গরমে শিশুকে ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরানো ভালো। নিয়মিত গোসল করানো এবং ঘাম হলে দ্রুত শরীর মুছে দেওয়া দরকার। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার শিশুর শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও শিশুর ত্বককে ভালো রাখতে তেল এবং ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর ত্বকে যদি লালচে দাগ, ফুসকুড়ি বা অতিরিক্ত চুলকানি দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আরো পড়তে পারেনঃ গরমে শিশুদের কোন তেল এবং কোন ক্রিম ব্যবহার করা ভালো মূল কথা হচ্ছে গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো, তার উত্তর সবার জন্য এক রকম না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালকা, কম কেমিক্যালযুক্ত এবং শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তৈরি লোশনই সবচেয়ে নিরাপদ। লোশন কেনার আগে শুধু বিজ্ঞাপন না দেখে উপাদান, ত্বকের ধরন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বিদেশে ভিসা আবেদন করতে গিয়ে আর্থিক গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি ডিপোজিট পাঠানো নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী ভিসা বন্ড ও ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বৈধভাবে বিদেশে পাঠাতে পারবেন বাংলাদেশি আবেদনকারীরা। রোববার (১১ মে) জারি করা এক পরিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো দেশের ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে যদি ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা আমানত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে সেই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চ্যুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। সেই কার্ডে প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি ডিপোজিট বা বন্ডের অর্থ আগাম জমা রাখা যাবে। এছাড়া যাদের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারা ভ্রমণ কোটার আওতায় ওই কার্ডেও প্রয়োজনীয় অর্থ পুনরায় জমা করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এই অর্থ শুধুমাত্র ভিসাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যখন বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত দেবে, তখন সেই অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে আলাদা নিবন্ধন সংরক্ষণ এবং ফেরতের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অর্থ পাঠানোর আগে আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট, দূতাবাসের চাহিদাপত্র, ইনভয়েস এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিসা আবেদনসংক্রান্ত রেফারেন্স বা স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুবিধা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব অথবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব দেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা নিরাপত্তা আমানত জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় স্বস্তি এনে দেবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, পর্যটক ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ভিসা প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছেন তারা। সিস / ডিপি
দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আজ সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যার মধ্যেই প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা পৌঁছে যেতে পারে। মাউশির অর্থ ও ক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানান, রোববারই বেতনের অর্থ ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অর্থ পাঠানো হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অ্যাকাউন্টে বেতন পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বেতন ছাড় হলেও এখনো ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা বা বোনাস অনুমোদন হয়নি। মাউশি সূত্র জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই জিও জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। মাউশির কর্মকর্তারা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বেতনের বিল জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন ছাড় করা হয়। পরে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকে বলছেন, ঈদের আগে বেতন হাতে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও উৎসব ভাতার অনুমোদন এখন তাদের বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ঈদ বোনাস দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশে বৃষ্টি মানেই অন্যরকম এক শান্তি। টিনের চালের ওপর টুপটাপ শব্দ, মাটির গন্ধ, গ্রামের কাঁচা রাস্তা আর ঠান্ডা বাতাস মানুষের মন নরম করে দেয়। ইসলামে বৃষ্টিকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয় না। এটি আল্লাহর রহমত হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। তাই বৃষ্টির সময় কিছু বিশেষ আমল ও দোয়া করার কথা হাদিসে এসেছে। অনেকেই জানেন না, বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ইসলামিক স্কলাররা বলেন, এই সময় বান্দা যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ডাকে, তাহলে রহমত নাজিলের সঙ্গে সঙ্গে দোয়ার দরজাও খুলে যায়। বৃষ্টির সময় কিছু বিশেষ আমল, দোয়া ও জিকির করার কথা সহিহ হাদিসে এসেছে। আলেমগণ বলেন, এ সময় বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই একজন মুমিনের উচিত বৃষ্টির মুহূর্তগুলোকে ইবাদত ও আল্লাহর স্মরণে কাজে লাগানো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ثِنْتَانِ مَا تُرَدَّانِ: الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ، وَتَحْتَ الْمَطَرِ “দুটি দোয়া সাধারণত প্রত্যাখ্যান হয় না। আযানের সময়ের দোয়া এবং বৃষ্টির সময়ের দোয়া।” ( সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪০) ইমাম আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন এই হাদিস থেকে আলেমরা বলেন, বৃষ্টির সময় বেশি বেশি দোয়া করা মুস্তাহাব। বৃষ্টি শুরু হলে যে দোয়া পড়বেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি দেখলে এই দোয়া পড়তেন: «اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا» উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ অর্থ: “হে আল্লাহ, এটিকে উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৩২) ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এই দোয়া পড়া সুন্নত এবং এতে বৃষ্টির বরকত কামনা করা হয়। বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানো আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: “আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন বৃষ্টি শুরু হলো। তিনি তাঁর কাপড়ের কিছু অংশ সরিয়ে দিলেন যাতে বৃষ্টির পানি তাঁর শরীরে লাগে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, কারণ এটি সদ্য তার রবের কাছ থেকে এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৮) ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এ হাদিস থেকে বোঝা যায় বৃষ্টির পানি বরকতময় এবং তা শরীরে লাগানো মুস্তাহাব। বৃষ্টির সময় ইস্তিগফার করা আল্লাহ তাআলা বলেন: فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا উচ্চারণ: ফাকুলতুস্তাগফিরু রব্বাকুম ইন্নাহু কানা গাফ্ফারা। ইউরসিলিস সামা’আ আলাইকুম মিদরারা। অর্থ: “আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।” - সূরা নূহ, আয়াত: ১০-১১ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ইস্তিগফার আল্লাহর রহমত, রিজিক ও বৃষ্টির কারণ। বজ্রপাত ও ঝড়ো বাতাসের সময় দোয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝড়ো বাতাস এলে বলতেন: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ» অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ, এতে যা আছে তার কল্যাণ এবং যা নিয়ে এটি প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ চাই। আর আমি এর অকল্যাণ, এতে যা আছে তার অকল্যাণ এবং যা নিয়ে এটি প্রেরিত হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯) অতিবৃষ্টি হলে যে দোয়া পড়বেন যখন অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কষ্ট হতো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا» অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়।” সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০১৪ , সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৭ বৃষ্টির সময় বেশি বেশি তাওবা ও জিকির ইসলামিক স্কলাররা বলেন, বৃষ্টির সময় তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির ও দরুদ শরিফ পড়া উত্তম। পড়তে পারেন: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ অর্থ: “আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁর।” ইবনে হাজর আসকালানী (রহ.) বলেন: “বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। তাই এ সময় ইবাদত ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়া উচিত।” বৃষ্টির সময় দোয়া, ইস্তিগফার, তাওবা ও আল্লাহর স্মরণ করা সুন্নত ও বরকতময় আমল। সহিহ হাদিস ও কুরআনের আলোকে এ সময় ইবাদতে মনোযোগী হওয়া একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রহমতের এই মুহূর্তগুলোতেই অনেক সময় আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করে দেন। গ্রামবাংলায় এখনো অনেক মানুষ বৃষ্টি শুরু হলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলেন। কৃষকেরা আকাশের দিকে তাকিয়ে রহমতের বৃষ্টি কামনা করেন। কারণ বৃষ্টি শুধু আবহাওয়া না, এটি ফসল, জীবন আর বেঁচে থাকার সঙ্গেও জড়িত। তাই মুসলমানের জন্য বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য না, বরং আল্লাহকে স্মরণ করারও একটি বিশেষ সময়।
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। এপ্রিল মাসের বেতন আজ সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যার মধ্যেই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যেতে পারে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে বেতনের অর্থ পাঠানো হয়েছে। মাউশির অর্থ ও ক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানান, রোববার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের তথ্য ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই সবার ব্যাংক হিসাবে বেতনের টাকা জমা হবে। তবে বেতন পেলেও এখনো ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা বা বোনাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মাউশি থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সোমবার পর্যন্ত অনুমোদন মেলেনি। মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, “৩ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই জিও জারি করা হবে এবং পরে আইবাস ডাবল-প্লাস সফটওয়্যারে পাঠানো হবে।” সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠানো হয়। শিক্ষক নেতারা বলছেন, ঈদের আগে বেতন পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। তবে উৎসব ভাতা দ্রুত অনুমোদন না হলে অনেকের জন্য ঈদের প্রস্তুতি কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সিস / ডিপি
দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল নিয়ে বড় আপডেট সামনে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার সর্বনিম্ন মূল বেতন বাড়িয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্রব্যমূল্যের চাপ, বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের দিকেই এবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সচিবালয় সূত্রে প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ ভাতাও বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। ডিপি / এস এস
By using this site, you agree to our Cookie Policy .