আগামী পাঁচদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এই বৃষ্টিপাতের প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। শনিবার (০৯ মে) আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আটটি বিভাগ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে সোমবার (১১ মে) ও প্রায় একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ওইদিনও দেশের সব বিভাগেই কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। ১২ মে’র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকবে। অন্যদিকে কিছু এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ১৩ মে’র দিকে আবারও বৃষ্টি কিছুটা বিস্তার লাভ করতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটে তুলনামূলক বেশি জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে কৃষি, বিশেষ করে ধান ও মৌসুমি ফসলের ওপর মিশ্র প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বজ্রবৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ডিপি/এসএস
ভারি বৃষ্টি নামলেই অনেকের মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘোরে “আজ ছাতা নেব, নাকি রেইনকোট?” বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এই ছোট্ট সিদ্ধান্তটাই কখনো বড় ঝামেলা বাঁচায়, আবার কখনো পুরো দিনটাই ভিজিয়ে দেয়। শহরের রাস্তায় দেখা যায় মজার এক দৃশ্য। কেউ মাথার ওপর বিশাল ছাতা ধরে যুদ্ধ করছেন বাতাসের সঙ্গে, আবার কেউ রেইনকোট পরে আরামে হাঁটছেন। তবে দুটোরই আছে আলাদা সুবিধা আর ঝামেলা। তবে মজার বিষয় হলো অনেকের কাছে ছাতা কিংবা রেইনকোট কোনোটিই নেই। ভারি বৃষ্টিতে বেশিরভাগ মানুষ এখন রেইনকোটকেই বেশি ভরসা করেন। কারণ, বাতাস এলেও শরীর কম ভেজে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক বা যারা নিয়মিত বাইরে থাকেন, তাদের কাছে রেইনকোট যেন “বর্ষার বর্ম”। দুই হাত ফাঁকা থাকে, হাঁটাচলাও সহজ হয়। তবে রেইনকোট পরলেই যে সব সমস্যার শেষ, তা নয়। অনেকেই বলেন, “ভাই, রেইনকোট পরলে মনে হয় ভেতরে আলাদা একটা গরমের সিজন শুরু হয়!” বিশেষ করে গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রেইনকোট পরে থাকাটা বেশ অস্বস্তিকর। অন্যদিকে ছাতার আলাদা একটা “ক্লাসিক” আবেদন আছে। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী অনেকেই এখনও ছাতাকেই প্রথম পছন্দ বলেন। কারণ, এটা ব্যবহার করা সহজ, গরমও কম লাগে। আবার বৃষ্টি থেমে গেলে গুটিয়ে হাতে নিয়েই হাঁটা যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, একটু বাতাস হলেই ছাতা উল্টে যায়। তখন রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছাতার সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু হয়, সেটা আশপাশের মানুষও মজা নিয়ে দেখে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা বা মাঝারি বৃষ্টিতে ছাতা যথেষ্ট। তবে ঝড়ো হাওয়া আর টানা ভারি বৃষ্টিতে রেইনকোট বেশি কার্যকর। মজার বিষয় হলো, এখন অনেকেই “সেফ সাইডে” থাকতে দুটোই ব্যবহার করেন। ব্যাগে ছোট ছাতা, গায়ে রেইনকোট মানে বৃষ্টি যতই চালাকি করুক, ভেজানোর সুযোগ কম! শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা অনেকটাই অভ্যাস আর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। কেউ বলেন, “ছাতা ছাড়া বৃষ্টি জমে না”, আবার কেউ মনে করেন, “রেইনকোটই আসল লাইফ সেভার!”
ঢাকাঃ বিয়ের ১১ বছর পর ঘরে এসেছিল ছোট্ট ফাইয়াজ হাসান তাজিম। অনেক অপেক্ষা, অনেক কষ্ট আর ঝুঁকির পর আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হয়েছিল শিশুটির। ছেলেকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন মা ফারজানা ইসলাম ও বাবা হেলাল ভূঁইয়া। সেই সন্তানই মাত্র ৮ মাস ১৮ দিনের মাথায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাজিমের মা নিজের ফেসবুক আইডির নামও রেখেছিলেন ‘তাজিম এর আম্মু’। ছেলেকে নিয়েই ছিল তার পৃথিবী। এখন সেই ফেসবুকজুড়ে শুধু ছেলের স্মৃতি আর মায়ের কান্না। গত ২২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাজিম। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছেন মা-বাবা। প্রথমে নিউমোনিয়া, পরে পাতলা পায়খানা, এরপর হাম একটার পর একটা জটিলতায় ভুগছিল শিশুটি। ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এটা ছিল আমার বাবুর জীবনের শেষ হাসির ছবি।’ মেসেঞ্জারে ছেলের একটি ছবি পাঠিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, শুধু হামের চিকিৎসাতেই ১৭ দিনে চার লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন। কোথাও বেড পাননি, কোথাও আইসিইউ খালি ছিল না। কখনো অ্যাম্বুলেন্সে, কখনো কোলে করে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ছুটেছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। ১৮ মার্চ প্রথমে নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাজিমকে। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২৫ মার্চ বাড়ি ফিরলেও চার দিনের মাথায় আবার জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। ৫ এপ্রিল ছেলেকে নিয়ে যান রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। সেখানে বেড না পেয়ে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে সেখান থেকে আরও কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কোথাও স্থায়ীভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেননি। ফারজানা বলেন, এক হাসপাতালে ক্যানোলা দেওয়ার পর ছেলের পা ফুলে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার কোথাও পিআইসিইউতে মা-বাবার থাকার অনুমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল আবার নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাজিমকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি। হাসপাতালের অনেক কাগজপত্র থাকলেও শেষ ছাড়পত্রের নথিটা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। ফারজানা বলেন, ‘ছেলের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার সময় কারও আর ওই কাগজটার কথা মনে ছিল না।’ ফেসবুকে এখনো ছেলের ছবি, পায়ের ছবি আর স্মৃতিগুলো পোস্ট করেন তাজিমের মা। তিনি জানান, ১ মে ছিল তাজিমের হামের প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার তারিখ। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ছোট্ট শিশুটি। ক্ষোভ আর কষ্টে ফারজানা লিখেছেন, ‘দুই মাস ধরে নিষ্পাপ শিশুরা মরে যাচ্ছে, এ নিয়ে সংসদে আলাপ নেই। কারও কোনো দায় নেই। কেউ ব্যর্থতা স্বীকার করছে না। সব দোষ মা ও শিশুর। শিশুরা এই দেশে জন্ম নিল কেন? মা সন্তানের জন্ম দিল কেন?’
জন্ম থেকেই দুই পা অকেজো। তাই অন্যদের মতো দৌড়ে বেড়ানো, স্বাভাবিকভাবে হাঁটা কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো চলাফেরা—এসব কখনোই ছিল না আশির উদ্দিনের জীবনের অংশ। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাকেই শক্তি বানিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আস্থার নাম। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের কলিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আশির উদ্দিন। প্রায় দেড় যুগ ধরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন তিনি। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদন, সরকারি বিভিন্ন ফরম পূরণ—এসব কাজের জন্য প্রতিদিনই তার কাছে ভিড় করেন এলাকার মানুষ। দুই পায়ে দাঁড়াতে না পারলেও থেমে থাকেননি আশির। বিশেষ ধরনের জুতা ও দুই হাতের ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন একসময়। এখন একটি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন কর্মস্থলে যান। তবে পুরোনো গাড়িটি মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। আশির উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। হোসেনগাঁও ইউনিয়নের মুন্সি আব্দুল জব্বার দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর কৃষিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে টিউশনি করিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণও নেন। সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়ে গত ১৫ বছর ধরে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো নিজেকে অসহায় ভাবিনি। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন মানুষের কাজে লাগতে পারি, এটাই বড় পাওয়া। তবে পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। যদি সরকারি আরও সহযোগিতা পেতাম, তাহলে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারতাম।’ স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার পাঁচ সদস্যের সংসার। মানুষের দেওয়া সম্মানী দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের জীবন। সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আশির উদ্দিন শুধু একজন উদ্যোক্তাই নন, তিনি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণাও। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি, বরং নিজের যোগ্যতায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। হোসেনগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আশির উদ্দিন কখনো নিজেকে দুর্বল ভাবেননি। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি মানুষের সেবা দেন। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার কাজে সন্তুষ্ট।’ রাণীশংকৈল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, সমাজসেবা অফিস থেকে আশির উদ্দিনকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঋণ সুবিধা নিয়েও তিনি নিজের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তার সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে কয়েক বছর আগে তাকে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসেবেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। আজ শনিবার (৯ মে) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। এর আগে গত ৬ মে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় স্বর্ণের বাজারে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে, আর কমেছে ২৮ বার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা সোনার মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবেই দেশের বাজারে বারবার দাম পরিবর্তন হচ্ছে।
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সময়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে ছয়জন হামের উপসর্গে এবং একজন সরাসরি হামে আক্রান্ত ছিল। মৃতদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন ঢাকার, একজন খুলনা এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। গত ৫৪ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৫৮ জন। এদিকে একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১২ জনে। এর মধ্যে ৯৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন করে ২৮২ শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম সাধারণত ভাইরাসজনিত একটি ছোঁয়াচে রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে রোগ ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, খিঁচুনি বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণেও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, গত কয়েক বছরে টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় অনেক শিশু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন। তবে টিকা সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
জমি দখল, ভুয়া দলিল ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ঠেকাতে ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় সংসদে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪ এর মুল কথা "দলিল যার জমি তার" আইন পাস হয়েছিল। সেই আইনের মূল নীতি এখনো বহাল রয়েছে এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও একই প্রক্রিয়া ও নীতির ধারাবাহিকতা চলছে। ওই আইনের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়, শুধু জমি দখলে থাকলেই কেউ মালিক দাবি করতে পারবেন না। জমির মালিকানা প্রমাণে থাকতে হবে বৈধ দলিল, খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। অর্থাৎ দলিল যার, জমি তার নীতিকেই আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। আইনে বলা হয়, বৈধ দলিল বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তি জমি দখলে রাখতে পারবেন না। জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে কাগজপত্র ও আইনগত মালিকানাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া ভুয়া দলিল তৈরি, দলিল পরিবর্তন, প্রতারণার মাধ্যমে জমি হস্তান্তর, মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেকর্ড সংশোধন কিংবা অন্যের জমি নিজের নামে দেখানোর মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়। তৎকালীন সংসদে পাস হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী, দলিল সম্পাদনের পর অবৈধভাবে কোনো অংশ কেটে ফেলা, পরিবর্তন করা বা কাউকে জোর করে স্বাক্ষর করানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান বিএনপি সরকারের সময় এ এখন পর্যন্ত সংসদে এ সংক্রান্ত কোন বিল মহান সংসদে বাতিল হয়নি তাই বলা যায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রেকর্ড, মালিকানা যাচাই, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জাল দলিল প্রতিরোধে একই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার বদলালেও জমি নিয়ে বিশৃঙ্খলা কমানো, প্রকৃত মালিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভূমি সেবা সহজ করার প্রশ্নে আগের নীতিগুলোই এখন কার্যকর রয়েছে। ভূমি খাতে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ জমি নিয়ে হয়রানি ও প্রতারণা থেকে আরও বেশি সুরক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল ২৮ এপ্রিল এক দফা দাম কমানোর পর আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) আবারও নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আরও কমেছে, যা স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায়। এর আগে গতকাল ২৮ এপ্রিলও বাজুস এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমায় বাজারে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। আরো দেখুনঃ স্বর্ণের দাম সর্বশেষ আপডেট স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও আংশিক পরিবর্তন এসেছে। বাজুস জানিয়েছে, শুধু ২২ ক্যারেট রুপার দাম কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। তবে ২১ ক্যারেট রুপা আগের মতোই ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বিক্রি হবে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের কারণে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। টানা দুই দফা দাম কমায় সামনে বিয়ে ও উৎসব মৌসুমে স্বর্ণ কেনায় আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছে সরকার। বর্তমানে যে জটিলতা রয়েছে, তা শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান জানান, ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারত সফরের সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই আলোচনার পর ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ১১০ ডলারের ঘরও স্পর্শ করেছে। একইভাবে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির আশা করা হয়েছিল, তা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়; এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় তেলের দামে এই উল্লম্ফন। দেশের বাজারেও অস্বস্তি আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ এপ্রিল) সরকার সব ধরণের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং ডিজেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। সরবরাহ সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক দাম বাড়ার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার দাবি করছে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে দেশে আরেক দফা দাম সমন্বয় বা সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বরাজনীতির এই টানাপোড়েন যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তেলের দাম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে কেবল যাতায়াত নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি খাতের খরচও আকাশছোঁয়া হয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন? আর্থিক সংকটের কারণে পিছিয়ে আছেন? তাহলে আপনার জন্য এসেছে দারুণ এক সুযোগ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোব মাকি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম-২০২৬ এর আবেদন শুরু হয়েছে। এই বৃত্তির মাধ্যমে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। আবেদন করা যাবে ৮ মে ২০২৬ পর্যন্ত। এই স্কলারশিপের আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৭০ হাজার ইয়েন, অর্থাৎ বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার ইয়েন পাবেন। আর স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৬০ হাজার ইয়েন, বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার ইয়েন পাবেন। তবে কেউ যদি বছরে ২০ লাখ ইয়েনের বেশি অন্য কোনো স্কলারশিপ পান, তাহলে এই বৃত্তির অর্থ অর্ধেক করা হতে পারে। তবে JASSO বৃত্তি বা টিউশন ফি মওকুফ এর ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। স্কলারশিপ সাধারণত দুই বছরের জন্য দেওয়া হয়। তবে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মেধা ও অগ্রগতির ভিত্তিতে চার বছর বা তারও বেশি সময় বাড়ানো হতে পারে। আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে: অনলাইন আবেদনপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, আবাসিক সনদ, জিপিএ সনদ (যদি প্রয়োজন হয়), ভর্তি সনদ, ব্যক্তিগত বিবৃতি, চিকিৎসা সনদ এবং হালনাগাদ সিভি। যারা আবেদন করতে চান, তাদের অবশ্যই স্কলারশিপ চলাকালে জাপানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকতে হবে। স্নাতক পর্যায়ে আবেদনকারীদের তৃতীয় বর্ষ বা তার ওপরে পড়তে হবে। আর স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। জাপানে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য এটি হতে পারে বড় সুযোগ। সময় কম, তাই আগ্রহীরা দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আবেদন করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে চীনের প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। নতুন করে তারা উন্মোচন করেছে দুই এআই চ্যাটবট ডিপসিক ভি৪ প্রো ও ডিপসিক ভি৪ ফ্ল্যাশ। প্রযুক্তি বিশ্বে এখন প্রশ্ন উঠেছে, চ্যাটজিপিটি আর গুগল জেমিনির সামনে কি নতুন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চলে এলো? শুক্রবার নতুন এই দুই মডেলের প্রিভিউ প্রকাশ করে ডিপসিক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুধু সাধারণ কথোপকথন নয়, জটিল হিসাব, কোড লেখা, বিশ্লেষণ আর যুক্তি প্রয়োগেও নতুন মডেলগুলো বেশ শক্তিশালী। ডিপসিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভি৪ প্রো গণিত ও কোডিংয়ে অন্য অনেক ওপেন মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বজ্ঞান ও তথ্য বিশ্লেষণেও এটি বেশ ভালো ফল দেখাচ্ছে। এমনকি ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৫.৪ ও গুগলের জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের কাছাকাছি পারফরম্যান্স দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ভি৪ ফ্ল্যাশ তৈরি করা হয়েছে দ্রুত কাজের জন্য। এটি দ্রুত উত্তর দিতে পারে, ব্যবহার খরচও তুলনামূলক কম। যারা কম সময়ে বেশি কাজ চান, তাদের জন্য এই সংস্করণকে কার্যকর বলা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নতুন দুটি মডেলই ওপেন সোর্স। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার চাইলে এই প্রযুক্তির কোড ব্যবহার করতে পারবেন, নিজের মতো পরিবর্তন করতে পারবেন, এমনকি নতুন কিছু তৈরি করতেও পারবেন। গত বছর জানুয়ারিতে ডিপসিক আর১ উন্মোচনের পরও বড় আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তখন অনেকে বলেছিলেন, চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো মডেল তৈরি করেছে ডিপসিক। আরও চমক ছিল খরচের অঙ্কে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলারের কম খরচে তারা সেই মডেল তৈরি করেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের এআই মডেলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। তবে ডিপসিকের উত্থান সবাই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তথ্য নিরাপত্তা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ডেনমার্ক ও ইতালিতে এর ওপর নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন এআই প্রযুক্তি শুধু সফটওয়্যার নয়, এটি বড় শক্তির প্রতিযোগিতাও। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কে এগিয়ে থাকবে, তা নিয়েই চলছে লড়াই। এই অবস্থায় ডিপসিকের নতুন মডেল বাজারে আসায় স্পষ্ট বার্তা মিলেছে, এআই দুনিয়ায় চীন এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও উঠে এসেছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .