হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।
চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো, ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন ।
খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো, ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন । খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে, আর বাকি দুজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে এই উদ্বেগজনক খবর জানানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হিসেব করলে দেখা যায়, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি প্রায় ১৬৬ জন। কেবল মৃত্যুই নয়, প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ছুঁইছুঁই, আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৯ হাজার। ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকা এখন হামের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকাতেই ৫০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং এর মধ্যে ৬১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। একদিনে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুজনই ঢাকার। ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তবে রাজধানীর তুলনায় সেখানে আক্রান্তের হার কিছুটা কম। হাসপাতালে বাড়ছে ভিড় হামের প্রকোপ বাড়ায় দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম থেকে বাঁচতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। বিশেষ করে বর্তমানে ঢাকার যে পরিস্থিতি, তাতে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামান্য জ্বর বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
রমজান মাসে গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে কী খাবেন সেটা ঠিক করা। ভুল খাবার খেলে সারারাত পেটে জ্বালাপোড়া, বুকে ব্যথা, বমি বমি ভাব। আর সঠিক খাবার বেছে নিলে রোজাটা বরং গ্যাস্ট্রিকের জন্য উপকারীও হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা রোজায় কী খাবেন কী খাবেন না? ময়মনসিংহের একজন গৃহিণী প্রতি বছর রমজানে ভোগেন একই সমস্যায়। ইফতারে বেগুনি, পেঁয়াজু, হালিম আর তেলেভাজা খেয়ে রাত্রে পেট জ্বালায় ঘুম হয় না। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের কাছে গিয়ে জানলেন, সমস্যা রোজায় নয়, সমস্যা খাবারের ধরনে। গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য ইফতারে প্রথমেই তেলেভাজা খাবার এড়িয়ে যাওয়াটা জরুরি। বেগুনি, পেঁয়াজু, সমুচা, জিলাপি এগুলো পেটের অ্যাসিড বাড়িয়ে দেয় দ্রুত। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও উপকারী, কারণ এটা পাকস্থলীকে নরমভাবে সক্রিয় করে। সাথে পানি আর হালকা কিছু খেয়ে একটু বিরতি নিন, তারপর মূল খাবার খান। সেহরিতে ভাত, রুটি, ডাল, সবজি এই ধরনের সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো। অনেকে সেহরিতে ভারী মশলাদার খাবার খান ভেবে যে সারাদিন পেট ভরা থাকবে, কিন্তু গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য এটা উলটো ফল দেয়। মশলা বেশি হলে সারাদিন পেটে অ্যাসিড তৈরি হতে থাকে। চা আর কফি থেকে দূরে থাকুন। ইফতারে চা খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে, কিন্তু খালি পেটে চা পাকস্থলীর দেয়ালে সরাসরি অ্যাসিড তৈরি করে। কোল্ড ড্রিংকস তো একদমই না, এটা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য রমজানেও রমজানের বাইরেও বিপজ্জনক। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত যতটা সম্ভব পানি পান করুন। পানি কম খেলে অ্যাসিড ঘন হয়ে পেটে জ্বালাপোড়া বাড়ে। রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করুন। খেয়েই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড গলায় উঠে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনে অ্যান্টাসিড বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ওষুধ সেহরির আগে খেয়ে নিতে পারেন। এটা সারাদিন পেটকে সুরক্ষিত রাখে। তবে নিজে নিজে ওষুধ না বেড়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। রোজা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং নিয়মিত খাওয়ার বিরতি পেটকে কিছুটা বিশ্রাম দেয়। শুধু দরকার সঠিক খাবারের বাছাই। ডা. তন্ময় সাহা এমবিবিএস (গ্যাস্ট্রোলজি ) , ল্যাব এইড হাসপাতাল মালিবাগ
By using this site, you agree to our Cookie Policy .