মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে স্বর্ণের দাম। হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ হওয়ার খবরের পর সোমবার বিশ্ববাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি হিসাব করছেন। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
সোমবার স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২১ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে দাম ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারও ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮১৩ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে দেশের বাজারে সোনার দাম এখনো স্থির দেখা গেছে। সবশেষ ১৫ এপ্রিল বাজুস এই দাম হালনাগাদ করেন। তবে যেহেতু বিশ্ববাজারে দামের পতন হয়েছে তাই আশা করা যায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের কর্মকর্তা ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বাজারে আবারও যুদ্ধকেন্দ্রিক লেনদেনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে মার্কিন ডলার ও সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়েছে।
ডলারের মান বাড়লে অন্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। এক কথায় ডলার এর মান শক্তিশালি হওয়ায় স্বর্ণের দামের এমন পতন হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি কার্গো জাহাজ তারা জব্দ করেছে। জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এ অবস্থায় দুই দেশের যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। কারণ, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বেশি সময় উঁচু রাখতে পারে। এতে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে।
অন্যদিকে ভারতের একটি বড় উৎসবকে সামনে রেখে স্বর্ণের বাজারে চাহিদা বাড়ার কথা থাকলেও রেকর্ড দামের কারণে গয়না কেনা কম হয়েছে।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্লাটিনাম কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ।
পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ১৭ মে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি)। সংস্থাটির গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, সেই হিসেবে আগামী ২৭ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। আইএসির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ মে মুসলিম দেশগুলোতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওইদিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখা যেতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ এলাকা থেকে খালি চোখেও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মে থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। সে হিসেবে ২৭ মে ঈদুল আজহার প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরই নিশ্চিত হবে ঈদ উদযাপনের দিন।
পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে দেশটির মাটিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, মারা যাওয়া দুজন হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের মোহাম্মদ আবদুল হাই (৬১) এবং শেরপুরের শ্রীবরদীর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮)। আবদুল হাই মদিনায় এবং আল মামুন মক্কায় মারা যান। সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত ছয়জনই পুরুষ এবং তাদের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন মক্কায় ও পাঁচজন মদিনায় মারা গেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯২টি ফ্লাইটে ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ হজ মিশন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের পর দেশটির ইওয়াতে উপকূল ঘিরে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন রাজধানী টোকিও পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। কয়েক মিনিট ধরে সেখানে ভবন দুলতে দেখা যায়। সুনামি সতর্কতার আওতায় রয়েছে ইওয়াতে প্রিফেকচার, আওমোরি প্রিফেকচার এবং হোক্কাইডোর কিছু উপকূলীয় এলাকা। জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টেলিভিশন সম্প্রচারে বারবার উপকূল ও নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জাপানি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সতর্কবার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, “Tsunami! Evacuate!” এবং “Don’t turn back.” ইওয়াতে প্রিফেকচারের মিয়াকো বন্দরে ইতিমধ্যে ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হেনেছে। আরও বড় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোক্কাইডোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল, টোকাচি বন্দর, এরিমো শহর এবং আওমোরির হাচিনোহে বন্দরে সুনামি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এনএইচকে জানিয়েছে, ইওয়াতে ও আওমোরি উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরেও সুনামির লক্ষণ ধরা পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঢেউ দ্রুত উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরের একটি সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, ছোট ঢেউয়ের প্রভাবে নোঙর করা জাহাজ দুলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার সহায়তায় জাপানের মেরিটাইম সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্স একটি এসএইচ-৬০কে হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। ভূমিকম্পের পর টোকিও থেকে শিন-আওমোরি পর্যন্ত তোহোকু শিনকানসেন লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে আকিতা শিনকানসেন লাইনের চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .