ইন্টারনেটে প্রায়ই দেখা যায় ‘এই একটি কাজ করলে জীবনেও ডায়াবেটিস হবে না’ জাতীয় নানা চটকদার বিজ্ঞাপন বা ভিডিও। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ডায়াবেটিসের মতো একটি জটিল ও জিনগত রোগকে শতভাগ ঠেকিয়ে রাখার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত একটি সত্য হলো, রাতের বেলার মাত্র একটি ছোট অভ্যাস আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
আর সেই জাদুকরী অভ্যাসটি হলো, রাতের খাবার খাওয়ার পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা। আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা অনেকেই রাতের ভারী খাবার খেয়েই সোজা বিছানায় চলে যাই বা শুয়ে শুয়ে মোবাইল দেখি। চিকিৎসকদের মতে, এই একটি ভুল অভ্যাসই শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
রাতের এই ১৫ মিনিটের হাঁটা কীভাবে জাদুর মতো কাজ করে, তার একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আমরা যখন খাবার খাই, তখন তা হজম হয়ে গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে মিশে যায়, ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়।
খাবার খাওয়ার পরপরই যদি আমরা শুয়ে পড়ি, তবে শরীর সেই গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে পোড়ানোর সুযোগ পায় না। কিন্তু ঘুমানোর আগে যদি আমরা মাত্র ১০-১৫ মিনিট হালকা মেজাজে হাঁটি, তখন আমাদের মাংসপেশিগুলো রক্তে থাকা সেই অতিরিক্ত গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে ফেলে।
ফলে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ওপর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির চাপ পড়ে না এবং ব্লাড সুগার প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশ্বখ্যাত জার্নালগুলোর গবেষণাতেও দেখা গেছে, সারা দিনে একটানা ভারী ব্যায়াম করার চেয়ে, প্রতিবেলা খাওয়ার পর বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর।
শারীরিক এই উপকারের পাশাপাশি এই অভ্যাসটির একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও স্নায়বিক প্রভাবও রয়েছে। রাতে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হওয়ার শঙ্কা কমে। একই সঙ্গে হাঁটার ফলে শরীরের 'স্ট্রেস হরমোন' বা কর্টিসলের মাত্রা কমে গিয়ে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা গভীর ও শান্তির ঘুম নিশ্চিত করে।
গবেষকরা জানান, যাদের রাতে ঘুম ভালো হয় না, তাদের শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাওয়া এবং বিছানায় যাওয়ার আগে একটু হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাটা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখার এক অব্যর্থ দাওয়াই। মনে রাখতে হবে, শুধু একটি অভ্যাসই সব রোগের ওষুধ নয়; এর পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনও ডায়াবেটিস দূরে রাখতে সমানভাবে জরুরি।
ইন্টারনেটে প্রায়ই দেখা যায় ‘এই একটি কাজ করলে জীবনেও ডায়াবেটিস হবে না’ জাতীয় নানা চটকদার বিজ্ঞাপন বা ভিডিও। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ডায়াবেটিসের মতো একটি জটিল ও জিনগত রোগকে শতভাগ ঠেকিয়ে রাখার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত একটি সত্য হলো, রাতের বেলার মাত্র একটি ছোট অভ্যাস আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। আর সেই জাদুকরী অভ্যাসটি হলো, রাতের খাবার খাওয়ার পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা। আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা অনেকেই রাতের ভারী খাবার খেয়েই সোজা বিছানায় চলে যাই বা শুয়ে শুয়ে মোবাইল দেখি। চিকিৎসকদের মতে, এই একটি ভুল অভ্যাসই শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রাতের এই ১৫ মিনিটের হাঁটা কীভাবে জাদুর মতো কাজ করে, তার একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আমরা যখন খাবার খাই, তখন তা হজম হয়ে গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে মিশে যায়, ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। খাবার খাওয়ার পরপরই যদি আমরা শুয়ে পড়ি, তবে শরীর সেই গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে পোড়ানোর সুযোগ পায় না। কিন্তু ঘুমানোর আগে যদি আমরা মাত্র ১০-১৫ মিনিট হালকা মেজাজে হাঁটি, তখন আমাদের মাংসপেশিগুলো রক্তে থাকা সেই অতিরিক্ত গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে ফেলে। ফলে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ওপর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির চাপ পড়ে না এবং ব্লাড সুগার প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশ্বখ্যাত জার্নালগুলোর গবেষণাতেও দেখা গেছে, সারা দিনে একটানা ভারী ব্যায়াম করার চেয়ে, প্রতিবেলা খাওয়ার পর বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর। শারীরিক এই উপকারের পাশাপাশি এই অভ্যাসটির একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও স্নায়বিক প্রভাবও রয়েছে। রাতে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হওয়ার শঙ্কা কমে। একই সঙ্গে হাঁটার ফলে শরীরের 'স্ট্রেস হরমোন' বা কর্টিসলের মাত্রা কমে গিয়ে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা গভীর ও শান্তির ঘুম নিশ্চিত করে। গবেষকরা জানান, যাদের রাতে ঘুম ভালো হয় না, তাদের শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাওয়া এবং বিছানায় যাওয়ার আগে একটু হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাটা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখার এক অব্যর্থ দাওয়াই। মনে রাখতে হবে, শুধু একটি অভ্যাসই সব রোগের ওষুধ নয়; এর পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনও ডায়াবেটিস দূরে রাখতে সমানভাবে জরুরি।
গরমে ফ্রিজের বরফঠান্ডা পানি খেতে খুব ভালো লাগে। মুখে দিলেই যেন শরীরটা একদম শান্ত হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত খুব ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো গলা ব্যথা, টনসিলের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, হজমে ধীরগতি এবং অনেকের ক্ষেত্রে দাঁতে সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে খাওয়ার ঠিক পরপরই খুব ঠান্ডা পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, কারণ খাবারের চর্বি দ্রুত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়। এছাড়া গরম শরীর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে মাথা ভারী লাগা বা অস্বস্তি অনুভব করা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে আসল বিষয়টা আরও গভীর, যা খুব কম মানুষ জানে অনেকেই ভাবেন ঠান্ডা পানি শুধু গলা বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ফিজিওলজিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খুব ঠান্ডা পানি পান করার পর শরীরের ভ্যাগাস নার্ভ সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এই নার্ভ হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিছু সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি পান করলে “vagal response” নামে একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেখানে সাময়িকভাবে হার্ট রেট কমে যায় বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। এটি খুবই বিরল হলেও পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। আরেকটি কম আলোচিত বিষয় হলো ঠান্ডা পানির কারণে খাদ্যনালীর মাংসপেশি সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে, ফলে কারও কারও বুকের মাঝখানে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হয়, যা অনেক সময় গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে ভুল করা হয়। আরো পড়ূনঃ দিনে কত টুকু পানি খাওয়া উচিৎ গরমে কীভাবে পানি খাওয়া সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকদের মতে গরমে হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি সবচেয়ে নিরাপদ। একসাথে অনেক ঠান্ডা পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। বিশেষ করে ব্যায়াম বা রোদে বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি না খাওয়াই ভালো। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করা একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে খুব বেশি ঠান্ডা পানি খেলে শরীর কিছুটা স্ট্রেসে পড়তে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটি যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে ক্ষতির কারণ না হয়, সেটাই খেয়াল রাখা দরকার।
দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা শিশুর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় আধুনিক চিকিৎসার বদলে কবিরাজি বা কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই হাম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, হাম হলে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। অনেকে মনে করেন শরীর ভেজালে হামের গুটি ভেতরে বসে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। হাম হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই কুসুম কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে গোসল করানো অত্যন্ত জরুরি। শরীর পরিষ্কার না রাখলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেকটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস হলো, হাম হলে শিশুকে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ানো যাবে না। বলা হয় এসব খাবার খেলে রোগ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, হামের সময় শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে শিশুকে আরও বেশি করে প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন যাতে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে মনে করেন হাম বা 'বসন্ত' কোনো দৈব ঘটনা, তাই এর জন্য ঝাড়ফুঁক বা নিমপাতা দিয়ে শরীর ঝাড়ানোই যথেষ্ট। এই কুসংস্কারের কারণে অনেক বাবা-মা শিশুকে হাসপাতালে নিতে দেরি করেন। মনে রাখবেন, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেইন ইনফেকশন বা অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে লালচে দানা বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে কোনো কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আরো পড়ুনঃ হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে? অনেকে মনে করেন একবার হামের টিকা দিলে আর কখনোই হাম হবে না, তাই দ্বিতীয়বার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি বড় ভুল। শিশুদের সুরক্ষার জন্য হামের দুটি ডোজই পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটি না দিলে শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই সরকারি টিকা কার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, হাম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আপনার অবহেলা বা ভুল বিশ্বাসের কারণে শিশুর বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার শিশুর জীবন বাঁচাতে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .