দেশের ২০ শতাংশ মানুষই থাইরয়েডে আক্রান্ত, জন্মের পরপরই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬ | রাত ১১:১৭

দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজন রোগীর পাঁচজনই নারী। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬০ ভাগই জানেন না যে তারা এই নীরব ঘাতক রোগে ভুগছেন; তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে জন্মের পরপরই শিশুদের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬ ও ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক ও সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, গলার সামনের দিকে থাকা ছোট প্রজাপতি আকৃতির এই থাইরয়েড গ্রন্থিটি মানুষের শরীরের ওজন, হৃদস্পন্দন ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে অনেকেই অকারণে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শীত লাগা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই অবহেলা বন্ধ্যাত্ব থেকে শুরু করে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার মতো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একটু সচেতনতা আর প্রাথমিক একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি শনাক্ত করে সাধারণ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

বৈঠকে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগতভাবেই থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে বড় হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর মতোই থাইরয়েড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ধারণা করা হয়, দেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। কিন্তু নিজস্ব কোনো গবেষণার অভাবে প্রকৃত হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী আক্ষেপ করে বলেন, থাইরয়েড শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সরকারিভাবে তেমন কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বা কর্মসূচি নেই। তাই পরিবারে কারও থাইরয়েড থাকলে সবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন গোলটেবিল বৈঠকের পাশাপাশি নিনমাসের অডিটোরিয়ামে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ.এম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য থেকে আরো

আরো দেখুন
দেশের ২০ শতাংশ মানুষই থাইরয়েডে আক্রান্ত, জন্মের পরপরই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজন রোগীর পাঁচজনই নারী। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬০ ভাগই জানেন না যে তারা এই নীরব ঘাতক রোগে ভুগছেন; তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে জন্মের পরপরই শিশুদের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬ ও ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক ও সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, গলার সামনের দিকে থাকা ছোট প্রজাপতি আকৃতির এই থাইরয়েড গ্রন্থিটি মানুষের শরীরের ওজন, হৃদস্পন্দন ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে অনেকেই অকারণে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শীত লাগা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই অবহেলা বন্ধ্যাত্ব থেকে শুরু করে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার মতো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একটু সচেতনতা আর প্রাথমিক একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি শনাক্ত করে সাধারণ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। বৈঠকে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগতভাবেই থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে বড় হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর মতোই থাইরয়েড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ধারণা করা হয়, দেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। কিন্তু নিজস্ব কোনো গবেষণার অভাবে প্রকৃত হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী আক্ষেপ করে বলেন, থাইরয়েড শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সরকারিভাবে তেমন কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বা কর্মসূচি নেই। তাই পরিবারে কারও থাইরয়েড থাকলে সবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন গোলটেবিল বৈঠকের পাশাপাশি নিনমাসের অডিটোরিয়ামে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ.এম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0

রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে ৫টি বিপদ আসে

রাতে ঘুমানোর আগে এই ১টি কাজ করুন, ডায়াবেটিস কমবে ম্যাজিকের মতন

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত?

কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে সম্প্রতি আবারও হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, আর বাংলাদেশে বর্তমানে এটি তীব্রতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে । তাই এমন সময় কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন তা আপনার অবশ্যই জানতে হবে।  এটি এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট শিশুদের জন্য অনেক সময় মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে শিশুদের এই সংক্রামক রোগ থেকে নিরাপদে রাখতে। হাম কী এবং কীভাবে বুঝবেন? চিকিৎসকরা জানান, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কাছাকাছি সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও, ৩ থেকে ৫ দিনের মাথায় শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, শরীর দুর্বল লাগা এবং শিশুর খেতে না চাওয়া। কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?  ১. সময়মতো টিকা দিন হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলা (MR) টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যদিও দীর্ঘদিন টিকা দেয়া বন্ধ থাকলেও বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে পুনরায় হামের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা অবশ্যই সম্পূর্ণ করুন। টিকা মিস হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। ২. অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে রাখুন হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই কেউ আক্রান্ত হলে শিশুকে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন। ৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা শিশুর ব্যবহার করা জিনিস পরিষ্কার রাখা এসব অভ্যাস সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ৪. শিশুর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে প্রতিদিন ফল শাকসবজি ডিম মাছ দুধ এবং পর্যাপ্ত পানি খেতে দ্দিন।  ৫. লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে? নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান: শ্বাসকষ্ট খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া খিঁচুনি শিশু পানি বা খাবার খেতে না পারা জ্বর অনেক বেড়ে যাওয়া কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়েই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার পেছনে এটি অন্যতম একটি কারণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় টিকা নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা বা গুজব কাজ করে, যা শিশুদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বাবা-মায়েরা যদি শিশুর সামান্য উপসর্গকেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে এই রোগের মৃত্যুঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এই প্রতিবেদনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সাধারণ চিকিৎসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর যেকোনো শারীরিক উপসর্গে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৬ মে, ২০২৬ 0
stroke

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে কী ক্ষতি হয়? যা অনেকেই জানেন না

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে কী ক্ষতি হয়? যা অনেকেই জানেন না

ডায়াবেটিসের রোগীদের হজের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

ডায়াবেটিসের রোগীদের হজের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ
নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

সন্তান জন্মের পর নতুন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। তবে অনেক সময় না বুঝেই মায়েরা এমন কিছু খাবার খান, যা নবজাতকের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নিই নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা। সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা যেমন প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন, সন্তান জন্মের পর সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মায়ের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন উপাদান বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্তন্যদানকালীন সময়ে অসচেতন খাদ্যাভ্যাস কেবল শিশুর অস্বস্তি নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মা নিজের পছন্দমতো খাবার খেয়ে ফেলেন, যার তীব্র ঘ্রাণ বা শক্তিশালী উপাদান বুকের দুধের স্বাদ বদলে দেয়। অনেক শিশু এই স্বাদের পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না, ফলে তারা দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবার সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে প্রসূতি মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিছু খাবার বুকের দুধের গুণমান পরিবর্তন করে দেয়। এতে শিশুর পেটে গ্যাস, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চা ও কফির অতিরিক্ত ক্যাফেইন নতুন মায়েদের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এতে নবজাতকের ঘুমের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে এবং শিশু সারাক্ষণ খিটখিটে মেজাজে থাকে। তাই কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ  সব সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। টুনা, কিং ম্যাকেরেল বা শার্কের মতো মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ বা মার্কারি থাকে। এই উপাদানটি শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে পারদযুক্ত মাছ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। অতিরিক্ত ঝাল ও কড়া মশলা আমাদের দেশের মায়েরা ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত টক ফল যেমন লেবু বা কমলা মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে থাকা এসিড শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং অনেক সময় ডায়াপার র‍্যাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিমিত পরিমাণে টক খাবার গ্রহণ করুন। প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড রাস্তার ধারের ভাজা পোড়া কিংবা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব খাবার মায়ের বুকের দুধের পুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করে। কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার নবজাতকের সেনসিটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার যদি পরিবারের কারো আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে মাকেও সাবধান হতে হবে। যেমন; চিনাবাদাম, গরুর দুধ বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর যদি দেখেন শিশুর শরীরে র‍্যাশ হচ্ছে, তবে সেই খাবারটি তৎক্ষণাৎ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। গ্যাস উৎপাদনকারী সবজি কিছু সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি মায়ের শরীরে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসের প্রভাব অনেক সময় শিশুর পেটে ব্যথার কারণ হয়। যদি দেখেন এসব সবজি খাওয়ার পর শিশু অস্বাভাবিক কাঁদছে, তবে কিছুদিন এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাকেই তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হতে হবে। কোনো নতুন খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, মায়ের সচেতনতাই শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের প্রধান চাবিকাঠি।

ডিপি প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ 0
দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? ৯০% মানুষ ভুল জানেন!

হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

ছবিঃ হাম ভাইরাস , CBC

দেশে হামের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: আরও ৩ শিশুর মৃত্যু