অর্থনীতি ও বাণিজ্য

১ কেজির ইলিশ ৩ হাজার, ২০০ গ্রামের দামও ৮০০, ঈদের আগে ইলিশ যেন সোনার হরিণ

কোরবানির ঈদের আগে মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে ক্রেতাদের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে রূপালি ইলিশের দাম শুনেই চমকে উঠছেন সাধারণ মানুষ, কারণ এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে এখন পকেট থেকে খসছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা! আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে মাছের এই চড়া দামের চিত্রই চোখে পড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাইজ অনুযায়ী ইলিশের দাম ওঠানামা করছে। এক কেজি সাইজের ইলিশ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। এমনকি ২০০ গ্রাম সাইজের ছোট জাটকা ইলিশের কেজিও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়! ইলিশের পাশাপাশি চিংড়ির বাজারেও আগুন। আকার ও জাতভেদে এক কেজি চিংড়ি কিনতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কোরবানির ঈদের ঠিক আগে মানুষের আনুষঙ্গিক কেনাকাটার একটি বড় চাপ থাকে। ঠিক এমন সময়ে ইলিশ বা বড় চিংড়ির মতো সুস্বাদু মাছগুলো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে চলে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত মাছ থাকলেও দাম এতটা চড়া রাখা হয়েছে যে, সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে সস্তা মাছের দিকেই ঝুঁকছেন। উৎসবের আগে মাছের এমন আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারের বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। বড় মাছের দাম বেশি থাকলেও, বাজারে তুলনামূলক সস্তায় মিলছে চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়া। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া রুই মাছ ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা এবং দেশি টেংরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের স্বাদ নিতে চাইলে পাঁচমিশালি মাছ কেনা যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। মাছের বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া বলেন, "মাছের দাম আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। তবে বাজারে বেশি মাছ এলে দাম কিছুটা কমে যায়। যেমন আজ পাঙাশ বেশি এসেছে বলে আমরা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। তবে ইলিশসহ অন্য সব মাছের দাম আগের মতোই বাড়তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ মে, ২০২৬ 0
গরুর মাংস ৮০০, ব্রয়লার ১৭০: কোরবানির আগে রাজধানীর বাজারদর কেমন

কোরবানির ঈদ আসতে বাকি আর মাত্র সপ্তাহখানেক। ঠিক এমন সময়ে রাজধানীর বাজারগুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর; ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেশ কিছুটা কমেছে। তবে মাংসের বাজারে স্বস্তি থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে মাছের বাজারে, সেখানে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের মাছ। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ১৯৫ টাকার ওপরে ছিল। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজিতে। পাশাপাশি ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এখন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই ৮০০ টাকা কেজিতে। কোরবানির ঈদের ঠিক আগে সাধারণত সাধারণ মানুষের আনুষঙ্গিক কেনাকাটার বাড়তি চাপ থাকে। এ সময় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির মতো সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের দাম কমে আসাটা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের দৈনন্দিন বাজারের খরচে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিচ্ছে। মুরগি বিক্রেতা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, বাজারে খামার থেকে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা বাড়ার কারণেই মূলত দাম কমার এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। রায়ের বাজারে আসা ক্রেতা রমিজ উদ্দিনও দাম কমার খবরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, ঈদের পর ২০০ টাকায় কেনা ব্রয়লার আজ তিনি ১৭৫ টাকায় পেয়েছেন। মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে ক্রেতাদের বেশ হিসাব করে চলতে হচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়। রুই, মৃগেল, টেংরা বা চিংড়ির মতো মাছগুলোর দাম বেশ চড়া। আকার ও জাতভেদে চিংড়ির কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। সবচেয়ে বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে ইলিশের। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা। পাশাপাশি ছোট জাটকা সাইজের ইলিশও ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছ বিক্রেতা ইউসুফ মিয়া জানান, বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে, তবে আজ পাঙাশ ও তেলাপিয়া ছাড়া বাকি সব মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ মে, ২০২৬ 0
বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠাতে দারুণ সুখবর দিলো নগদ ও ট্যাপট্যাপ

দেশে বৈধপথে প্রবাসী আয় আনা আরও বাড়াতে দারুণ একটি সুখবর নিয়ে এসেছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ। এখন থেকে আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার সেবা ‘ট্যাপট্যাপ সেন্ড’ -এর মাধ্যমে দেশে থাকা স্বজনদের নগদে টাকা পাঠালে, সরকারি আড়াই শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ক্যাশ বোনাস পাবেন গ্রাহকরা। ‘রেমিট্যান্সে ডাবল খুশি’ নামের নতুন এই ক্যাম্পেইনের আওতায় কোনো প্রবাসী যদি একবারে অন্তত ১০ হাজার টাকা দেশে থাকা স্বজনদের নগদে পাঠান, তবে তিনি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে এই বাড়তি বোনাস পাবেন। গতকাল ২০ মে থেকে শুরু হওয়া এই অফারটি চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। পুরো ক্যাম্পেইন চলাকালে একজন গ্রাহক সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত এই বোনাস উপভোগ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা পেতে দেশে থাকা স্বজনের নগদ অ্যাকাউন্টটি সচল থাকতে হবে এবং অ্যাকাউন্টের সব তথ্য ঠিকঠাক থাকতে হবে। বাড়তি এই ক্যাশ বোনাসের পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য নগদের আরেকটি চমকপ্রদ অফার ‘হার না মানা হার’ ক্যাম্পেইনও এখন চলছে। এর আওতায় বিদেশ থেকে নগদের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার টাকা দেশে পাঠালেই দেশে থাকা প্রিয়জন পেয়ে যেতে পারেন একটি চমৎকার সোনার হার জেতার সুযোগ। এরমধ্যেই এই অফারে অংশ নিয়ে দুবাইপ্রবাসী স্বামী মো. ফরিদের পাঠানো টাকায় সোনার হার জিতে নিয়েছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নারী বন্যা খাতুন। এছাড়া রাইমা তাবাসসুম রাশা নামের আরেকজনও প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা পেয়ে দ্বিতীয় বিজয়ী হিসেবে সোনার হার জিতে নিয়েছেন। মূলত প্রবাসীদের কষ্ট করে জমানো টাকা নিরাপদে ও দ্রুত দেশে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নগদের রেমিট্যান্স বিভাগের প্রধান মো. এহসানুল হক বাশার জানান, ট্যাপট্যাপ সেন্ডের সঙ্গে তাদের এই উদ্যোগ টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করে তুলবে। মূলত আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঈদের আনন্দটা একটু বাড়িয়ে দিতেই এই জোড়া অফার চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা চাইলে নগদের হেল্পলাইন ১৬১৬৭ অথবা ০৯৬০৯৬১৬১৬৭ নম্বরে কল করে জেনে নিতে পারবেন। পাশাপাশি নগদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে।

অনলাইন ডেস্ক ২২ মে, ২০২৬ 0
atm booth
ঈদে এটিএম বুথে টাকার সংকট হবে না তো? ব্যাংকগুলোর প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নির্দেশ

কোরবানির ঈদের টানা ছুটিতে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই নগদ টাকার সংকটে না পড়েন, সেজন্য এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন পুরোপুরি সচল রাখতে সব ব্যাংককে কড়া নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কোরবানির ঈদে পশু কেনা, কসাইয়ের বিল দেওয়া বা নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষের প্রচুর নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু টানা ছুটির কারণে ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকায় এই সময়ে সবাই এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অতীতে ঈদের সময় বুথে টাকা ফুরিয়ে যাওয়া বা কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের সেই পুরোনো ভোগান্তি কমাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এবার আগেভাগেই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। নির্দেশনায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সারিয়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বুথের নিরাপত্তা বাড়াতে পাহারাদারদের সতর্ক রাখার এবং ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বুথগুলো পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু নগদ টাকা তোলাই নয়, কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেনের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঈদের বাজারে পশুর হাট বা শপিংমলে কেনাকাটার সময় পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট যেন ঠিকঠাক কাজ করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিকাশ, নগদের মতো এমএফএস সেবায় এজেন্টদের কাছে যেন পর্যাপ্ত নগদ টাকা থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে যারা পশুর হাটে বড় অঙ্কের নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি নিতে চান না, তারা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে ডিজিটাল লেনদেন সারতে পারবেন। ছুটির অবসরে আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি কমাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। অনলাইনে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'টু ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন' চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অঙ্কের লেনদেন হওয়ার সাথে সাথেই গ্রাহককে এসএমএস দিয়ে জানাতে হবে। আর্থিক জালিয়াতি রুখতে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এই তাৎক্ষণিক এসএমএস সেবা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঢাল হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া গ্রাহকদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকতে ঈদের ছুটির সময় সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখার কথাও ব্যাংকগুলোকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ মে, ২০২৬ 0
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে বাড়লো ২ হাজার টাকা

টানা তিন দফা দাম কমানোর পর আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ দামের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবার সেই দাম বাড়ানো হলো। এদিকে আজ স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ডলারের দামের ওঠানামার প্রভাব দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম বাড়া-কমার ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে অনেকেই স্বর্ণ কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়ছেন।

অর্থনীতি ডেস্ক ২১ মে, ২০২৬ 0
কার্ড থেকে বিকাশ-নগদে অ্যাড মানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) টাকা আনার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে কার্ড জালিয়াতি ও ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে এখন থেকে প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যখন প্রথমবার আপনার ব্যাংক কার্ডটি এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করবেন, তখন যাচাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে। এই লেনদেন সফল হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর আপনার কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর আপনি স্বাভাবিকভাবে যেকোনো অঙ্কের টাকা 'অ্যাড মানি' করতে পারবেন। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তটি সাধারণ গ্রাহকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতদিন হ্যাকার বা প্রতারকেরা কোনোভাবে মানুষের কার্ডের তথ্য চুরি করতে পারলেই মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন বেনামি এমএফএস অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলত। নতুন নিয়মের কারণে এখন আর তারা সাথে সাথে বড় অঙ্কের টাকা সরাতে পারবে না এবং ২৪ ঘণ্টার এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে গ্রাহক বা ব্যাংক জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলতে পারবে। এতে প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার সময় সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের কষ্টার্জিত টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে প্রকৃত গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দারুণ একটি বিকল্পও রেখেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে যদি ব্যাংক কার্ডধারী এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর নাম হুবহু মিলে যায়, তবে এই ৫০০ টাকার টোকেন লেনদেনের কোনো প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ নিজের নামের কার্ড থেকে নিজের নামের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আগের মতোই কোনো বাধা ছাড়া টাকা আনা যাবে। এছাড়া লেনদেনের স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ‘অ্যাড মানি’ লেনদেনকে কোনো কেনাকাটা বা ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ বা তহবিল স্থানান্তর হিসেবে দেখাতে হবে। একই সঙ্গে কার্ড থেকে ঠিক কোন নম্বরে (বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর) টাকা যাচ্ছে, সেই নম্বরটি যেন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ১ আগস্ট থেকে তাদের কার্ডের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0
৫ টাকার নতুন নোট
নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়ল সরকার

দেশের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সমসাময়িক চিত্রকলার অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাজারে নতুন ডিজাইনের ৫ টাকা মূল্যমানের কাগুজে নোট এনেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত নতুন বৈশিষ্ট্যের এই নোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলনে আনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন এই নোটটি সাধারণ মানুষের জন্য দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি পাওয়া যাবে। তবে সাধারণ মানুষের চিন্তার কোনো কারণ নেই, নতুন এই নোট আসার কারণে বর্তমানে বাজারে থাকা ৫ টাকার সব পুরোনো কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চলবে, বাতিল হচ্ছে না কিছুই। নতুন এই নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬০ মিলিমিটার প্রস্থ। এই নোটের সম্মুখভাগে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে বাম পাশে দেওয়া হয়েছে ঢাকার বিখ্যাত তারা মসজিদের ছবি। আর মাঝখানে রয়েছে প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার চোখজুড়ানো নকশা। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি হলো নোটের পেছনের অংশে, যেখানে স্থান পেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি। জালিয়াতি রোধে এই নোটে বেশ কিছু আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও যুক্ত করা হয়েছে। নোটটি আলোর বিপরীতে ধরলে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ সম্বলিত জলছাপ, একটি উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ ‘৫’ এবং বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম পরিষ্কার দেখা যাবে। এছাড়া নোটের বাম পাশে ২ মিলিমিটার চওড়া একটি নিরাপত্তা সুতা বসানো হয়েছে এবং সামনের দিকের নিচের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে অসংখ্যবার ইংরেজিতে ‘BANGLADESH’ লেখাটি মুদ্রিত রয়েছে, যা সহজে নকল করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যারা শখের বশে মুদ্রা সংগ্রহ করেন, তাদের জন্যও একটি সুখবর রয়েছে। নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকার ‘স্পেসিমেন’ বা নমুনা নোটও ছাপানো হয়েছে। এটি দিয়ে কেনাকাটা করা না গেলেও, মিরপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম থেকে নির্ধারিত দাম দিয়ে এই নমুনা নোট সংগ্রহ করতে পারবেন সংগ্রাহকেরা। অর্থ ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, কারেন্সি নোটে সাধারণত একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সরাসরি প্রতিফলন ঘটে। নতুন এই ৫ টাকার নোটে একদিকে যেমন ঐতিহাসিক তারা মসজিদের মাধ্যমে আমাদের প্রাচীন স্থাপত্যকে তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি 'গ্রাফিতি-২০২৪'-এর ছবি যুক্ত করার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ের তারুণ্যের আবেগ ও প্রতিবাদের ভাষাকেও একধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলো। সাধারণ মানুষের হাতে হাতে ঘুরতে থাকা এই ছোট মানের নোটটি এখন শুধু বিনিময়ের মাধ্যমই নয়, বরং দেশের বদলে যাওয়ার সময়ের একটি ঐতিহাসিক দলিলে পরিণত হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0
কোরবানির আগেই আদা-রসুনের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা

সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। মাংস রান্নার জন্য এই সময়ে মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা থাকে বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে প্রতিবারের মতোই কোরবানির আগে অস্থির হতে শুরু করেছে ঢাকার মসলার বাজার। পেঁয়াজের দাম বাড়ার খবরের পরপরই এবার উত্তাপ ছড়িয়েছে আদা, রসুন, শুকনা মরিচ থেকে শুরু করে জিরা ও এলাচের বাজারে। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা এবং মহাখালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি মসলা জাতীয় পণ্যই গত সপ্তাহের তুলনায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর রবিবারের (১৭ মে) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করেও বাজার দরের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দেখা গেছে রসুন ও আদার দামে। টিসিবি’র তথ্য ও খুচরা বাজারের চিত্র বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের রসুনের দামই বেশ খানিকটা বেড়েছে। আজ বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও সর্বনিম্ন ৬০ টাকায় পাওয়া যেত। একইভাবে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২২০ টাকায়। রসুনের পাশাপাশি আমদানি করা আদার দামও কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ১৫০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (গত সপ্তাহে যা ছিল ১২০-২০০ টাকা)। রামপুরা ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা এই দাম বৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো মসলার দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার খিলগাঁও, শ্যামবাজার বা কারওয়ান বাজার থেকেই তাদের বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি খরচের অজুহাত দেখিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই দাম বাড়াচ্ছেন বলে দাবি খুচরা বিক্রেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে, ২০২৬ 0
ব্যাংক খাতে ভয়াবহ সংকট, ২০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা

অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের কারণে দেশের ব্যাংক খাত এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশের ২০টি ব্যাংক এখন গুরুতর মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও ভয়াবহভাবে বেড়ে রেকর্ড ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক খাত নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকির সংকেত। তিন মাসে কিছুটা কমেছে ঘাটতি, তবে স্বস্তি নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা ছিল ২৩টি। তখন মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা কমে ২০টি ব্যাংকে দাঁড়ালেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি প্রকৃত উন্নতির চিত্র নয়। তাদের মতে, পুনঃতফসিল ও বিশেষ নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো দেখানো যাচ্ছে। বাস্তবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য এখনো দুর্বলই রয়ে গেছে। কী এই মূলধন ঘাটতি? একটি ব্যাংকের নিজস্ব মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার নিচে নেমে যায়, তখন সেটিকে মূলধন ঘাটতি বলা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন ধরে রাখতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের মূল আর্থিক সক্ষমতার সূচক সিআরএআর (Capital to Risk Weighted Assets Ratio) গত ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। খেলাপি ঋণই সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্লেষকদের মতে, লাগামহীন খেলাপি ঋণই এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা, যাচাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বড় সংকটে গত ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যার ঘাটতির পরিমাণ ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এছাড়া— অগ্রণী ব্যাংক: ৬ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা রূপালী ব্যাংক: ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক: ৪ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে ভয়াবহ অবস্থা সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংক। সাতটি ইসলামী ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের, যার পরিমাণ ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ৩০ হাজার ৫৩ কোটি টাকা ইউনিয়ন ব্যাংক: ২৯ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা এক্সিম ব্যাংক: ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ১৫ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংক: ২ হাজার ১২ কোটি টাকা বেসরকারি ব্যাংকেও বড় ধাক্কা বেসরকারি খাতের সাতটি ব্যাংকও বড় ধরনের মূলধন সংকটে পড়েছে। এসব ব্যাংকের মোট ঘাটতি ৩৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক: ৯ হাজার ৩২ কোটি টাকা এবি ব্যাংক: ৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা পদ্মা ব্যাংক: ৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংক: ৪ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা আইএফআইসি ব্যাংক: ৪ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা সিটিজেনস ব্যাংক: ৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকেও সংকট বিশেষায়িত দুই সরকারি ব্যাংকেও বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ৩০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: ২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা পুনঃতফসিলে সাময়িক স্বস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে। এতে এসব ঋণের বিপরীতে কম প্রভিশন রাখতে হয়েছে। যেহেতু প্রভিশন মূলধন থেকেই সংরক্ষণ করা হয়, তাই সাময়িকভাবে মূলধনের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কেবল সাময়িক স্বস্তি। বাস্তব সমস্যার সমাধান নয়। অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা ব্যাংকারদের মতে, ক্রমাগত মূলধন সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেন ও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুনঃতফসিল বা কাগুজে সমাধান দিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা এবং শক্তিশালী তদারকি ছাড়া ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করা কঠিন হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ১৮ মে, ২০২৬ 0
onion price
৩৫ টাকার পেঁয়াজ হঠাৎ ৫০ টাকা, কোরবানির আগেই অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি যেন কিছুতেই স্থায়ী হচ্ছে না। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার আগেই ঢাকার খুচরা বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই অস্থির হতে শুরু করেছে রান্নার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজের দাম। সরাসরি মাঠপর্যায়ের বাজার ঘুরে এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বেশ খানিকটা ঊর্ধ্বমুখী। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা এবং মহাখালী বাজার ঘুরে পেঁয়াজের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে বর্তমানে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ চড়া। বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ (নতুন/পুরাতন) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। অথচ ঠিক এক সপ্তাহ আগেও এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ মে থেকেই মূলত পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আজকের খুচরা বাজারে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, পাইকারি আড়ত থেকে তাদের আগের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে আনতে হচ্ছে, তাই খুচরা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে তাদের কোনো উপায় নেই। অন্যদিকে রামপুরা ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতারা এই হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাজারে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে বাজারে এখন আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ একেবারেই নেই, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী। তবে বর্তমান এই ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যেও ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী হিসাবে একটি ছোট স্বস্তির জায়গা রয়েছে। গত বছর ঠিক এই সময়ে (মে মাসে) বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৮ থেকে ৬০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১৬ শতাংশ কম রয়েছে। তবে গত এক মাস ধরে যে পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা হঠাৎ করে ৫০ টাকায় ঠেকায় স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের পকেটে নতুন করে চাপ পড়ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আগে পেঁয়াজসহ অন্যান্য মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। এখনই বাজার তদারকি জোরদার না করা হলে, আমদানি করা পেঁয়াজের ঘাটতির অজুহাতে দেশি পেঁয়াজের দাম কোরবানির আগে আরও লাগামহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এখনই ঢাকার প্রধান বাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

অর্থনীতি ডেস্ক ১৮ মে, ২০২৬ 0
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নামার পর বর্তমানে বেশ স্বস্তির দামেই সোনা কিনতে পারছেন সাধারণ ক্রেতারা। গত শনিবার (১৬ মে) সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর আজ দেশের বাজারে সেই কমানো দরেই গহনা বেচাকেনা চলছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) গত শনিবার এক ধাক্কায় ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়। এর আগের দিন শুক্রবারও সোনার দাম কমানো হয়েছিল। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সোনার দাম ভরিতে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা কমে যায়, যা ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি সুখবর। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা সোনার সরবরাহ ও দাম কমে যাওয়ার কারণেই বাজুসকে টানা দুই দিন এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছিল। বিশ্ববাজারে ডলারের মূল্য ও সুদহারের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ায় দাম এই পর্যায়ে নেমেছে। তাই যারা বিয়ের কেনাকাটা বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারদর বেশ অনুকূলে রয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী আজ দেশের বাজারে সোনার দাম নিচে দেওয়া হলো: সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা আজ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায়। একটু কম ক্যারেটের মধ্যে ১৮ ক্যারেটের সোনা আজ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায়। পাশাপাশি পুরোনো বা সনাতন পদ্ধতির সোনা আজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায়। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সোনার এই কমে যাওয়া দাম গহনার বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দেবে, যা জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্যও ইতিবাচক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা বিবেচনা করে আগামী দিনে দাম আরও কমবে নাকি আবার বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা বেশ কঠিন।

অর্থনীতি ডেস্ক ১৮ মে, ২০২৬ 0
কোরবানির আগে রেমিট্যান্সের ঢল: ১৬ দিনেই দেশে এলো ২৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি মাসের শেষেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আগেভাগেই দেশে অর্থ পাঠাতে শুরু করেছেন। ফলে মে মাসজুড়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে দারুণ এক ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। মূলত কোরবানির পশু কেনাসহ ঈদের বাড়তি খরচের জোগান দিতেই প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ১৬ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ১৯৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। দেশীয় মুদ্রায় হিসাব করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)। এই হিসাবে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রবাসী আয়। আজ রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১২৯ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ঈদ নয়, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধপথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবার মান উন্নয়নও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি প্রমাণ করে যে, বৈধ চ্যানেলগুলো যখন প্রবাসীদের জন্য সহজ ও লাভজনক করা হয়, তখন তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ হুন্ডির পথ এড়িয়ে ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে কত রেমিট্যান্স এলো, তারও একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে, যার পরিমাণ ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (২৩ কোটি ৮১ লাখ ডলার), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (২৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার), ট্রাস্ট ব্যাংক (১৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার) এবং অগ্রণী ব্যাংক (১৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার)। চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে রেমিট্যান্সের একটি ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে আসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এরপর আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ এবং এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মে মাস শেষে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে পারে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসের বাকি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডলার সংকট কাটাতে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
পে স্কেল
জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল শুরু - অর্থ মন্ত্রণালয়

দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনারদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে আসছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অর্থনীতিতে যেন হঠাৎ কোনো বড় চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকরের কৌশল নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করার বিষয়ে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই বৈঠকেই তিনি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে আগামী জুলাই থেকেই যে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পেতে যাচ্ছেন, তাতে আর কোনো সংশয় নেই। নতুন এই বেতন কাঠামোটি মূলত তিনটি অর্থবছরে বা তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক স্যালারি) ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দেওয়া হবে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ। আর চূড়ান্ত ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতাগুলো। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। একসাথে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে হঠাৎ করেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যেত, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ পড়ত। ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড়ের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর যেমন চাপ সামলানো যাবে, তেমনি সরকারের জন্যও এই বিপুল অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি সহজ হবে। হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আর আগামী অর্থবছর থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের অর্ধেক কার্যকর করার জন্য বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত সংস্থান রাখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর খসড়া বাজেট বক্তব্যে এই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখাটি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই যৌক্তিক প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে তিনি তাতে তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়ে জুলাই থেকেই তা কার্যকর করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
আয়কর রিটার্ন অডিটে আপনার নাম পড়লে কী করবেন জানুন

কষ্ট করে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর সেটি যদি আবার কর বিভাগের অডিট বা নিরীক্ষায় পড়ে, তবে যেকোনো সাধারণ করদাতারই টেনশন বেড়ে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে আয়কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি। কারণ, আয়কর নথি নিরীক্ষায় পড়া মানেই আপনার ওপর নিশ্চিতভাবে অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেওয়া নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৩-২৪ করবর্ষের জন্য সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড পদ্ধতিতে নিরীক্ষার জন্য ফাইলগুলো বাছাই করেছে। এর মানে হলো, এখানে কোনো করদাতার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই; বরং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের কারণে যাঁরা একেবারে নিখুঁতভাবে আয়কর দিয়েছেন, তাঁদের ফাইলও নিরীক্ষায় পড়তে পারে। এনবিআরের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন, যাঁদের মধ্যে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা এ বছর রিটার্ন দিয়েছেন। এই বিশাল সংখ্যার মধ্য থেকে ভুল তথ্য বা কর ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে প্রথম দফায় গত জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৪৯৪ জন এবং সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় ৭২ হাজার ৩৪১ জনসহ মোট ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। করদাতারা অনলাইনেই চেক করতে পারবেন তাদের ফাইলটি নিরীক্ষায় পড়েছে কি না। এখন প্রশ্ন হলো, আপনার ফাইল যদি নিরীক্ষায় পড়ে যায়, তবে আপনার করণীয় কী? সত্যি বলতে, উপ-কর কমিশনার আপনাকে না ডাকা পর্যন্ত আপাতত আপনার করার কিছুই নেই। আয়কর আইনের ধারা ১৮৩ (৩) (ক) অনুযায়ী, আপনার কর নির্ধারণের জন্য কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণাদির প্রয়োজন হলে কর অফিস থেকে আপনাকে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে শুনানির জন্য ডাকা হবে। শুনানিতে করদাতা নিজে বা তাঁর কোনো প্রতিনিধি হাজির হতে পারবেন। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, আত্মপক্ষ সমর্থনের বা শুনানির সুযোগ দেওয়া ছাড়া কোনোভাবেই করদাতার ওপর বাড়তি কর আরোপ করার আইনি সুযোগ নেই। আর কোনো কারণে শুনানির পর বাড়তি কর আরোপ করা হলেও তা ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবে কর অফিস। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, শুনানির ডাক পড়ার আগেই আপনার রিটার্নের বিপরীতে দেখানো আয়-ব্যয়ের সব প্রমাণপত্র একটি ফাইলে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা উচিত। শুনানির জন্য আপনাকে মূলত ৭ ধরনের সাধারণ কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এগুলো হলো ১. বেতন সনদ, ২. ব্যাংক লেনদেনের বিবরণী (স্টেটমেন্ট), ৩. এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের কাগজ, ৪. জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার দলিল, ৫. ব্যবসার হিসাবপত্র, ৬. ঋণের নথি এবং ৭. করের চালান ও উৎসে কর কাটার সনদ। কাগজপত্র গোছানোর সময় ব্যাংক লেনদেন এবং জীবনযাত্রার খরচের হিসাবটির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ নিরীক্ষায় মূলত দেখা হয়, রিটার্নে আপনি যে আয় দেখিয়েছেন, তার সাথে আপনার জীবনযাত্রার ব্যয় বা সম্পদ কেনার সামঞ্জস্য আছে কি না। ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা বা উত্তোলনের ক্ষেত্রে তার উৎসের (যেমন- পরিবার থেকে পাওয়া অর্থ, সম্পদ বিক্রি বা ব্যবসায়িক লেনদেন) সঠিক প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। সবচেয়ে জরুরি পরামর্শ হলো আয়কর নথিতে যদি আসলেই কোনো হিসাবে ভুল থাকে (যেমন- হিসাবের ভুল, তথ্য বাদ পড়া বা টাইপিং সমস্যা), তবে শুনানিতে তা গোপন না করে কর কর্মকর্তাকে পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত। ভুল স্বীকার করে নিলে অনেক সময়ই সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, যা বড় ধরনের জটিলতার হাত থেকে করদাতাকে রক্ষা করতে পারে।

অনলাইন ডেস্ক ১৭ মে, ২০২৬ 0
TAKA
৩৩ ব্যাংকে মালিক বিহীন পড়ে আছে ৫৩ কোটি টাকা, নেওয়ার মতো কেউ নেই

ব্যাংকে টাকা জমানো আছে, কিন্তু সেটি তুলে নেওয়ার কোনো মানুষ নেই! শুনতে অবাক লাগলেও দেশের ৩৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গ্রাহকদের এমন প্রায় ৫৩ কোটি টাকা পড়ে আছে, যার কোনো দাবিদার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও আসল মালিকেরা এসব টাকার কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না। দেশের বাকি ২৮টি ব্যাংকের তথ্য এখনো হাতে আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সব ব্যাংকের হিসাব এক করলে এই অর্থের পরিমাণ অনায়াসেই শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত গ্রাহকের মৃত্যু, বিদেশে স্থায়ী হওয়া, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর বদলে যাওয়া কিংবা উত্তরাধিকারীদের কাছে সঠিক তথ্য না থাকার কারণেই বছরের পর বছর ধরে এসব অ্যাকাউন্ট এমন পড়ে থাকে (নিষ্ক্রিয়)। অনেক সময় এমনও হয় যে, পরিবারের সদস্যরাই জানেন না তাদের কোনো স্বজনের নামে ব্যাংকে লাখ লাখ টাকার আমানত বা এফডিআর পড়ে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, দাবিহীন এই ৫৩ কোটির মধ্যে শুধু দেশীয় মুদ্রাই নয়, রয়েছে ডলার, পাউন্ড ও ইউরোও। দাবিহীন আমানত পড়ে থাকার এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে বিদেশি খাতের সিটি ব্যাংক এনএ। ব্যাংকটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কোটি টাকার মালিক নেই। এরপরই ব্র্যাক ব্যাংকে ৮ কোটি, এইচএসবিসিতে ৬ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৫ কোটি এবং সিটি ব্যাংকে প্রায় ৩ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত পড়ে আছে। ব্যাংকে জমে থাকা টাকাগুলো কে নিবেন এনিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি হিসাব ছাড়া কোনো অ্যাকাউন্টে টানা ১০ বছর লেনদেন না হলে বা কেউ টাকার দাবি না করলে, সেটিকে ‘দাবিহীন আমানত’ ধরা হয়। তবে টাকাটা হুট করেই সরকারি কোষাগারে চলে যায় না। গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারীকে খুঁজে বের করতে ব্যাংকগুলো চিঠি, মেসেজ বা ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তাতেও কাজ না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের ওয়েবসাইটে নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে। সব মিলিয়ে অন্তত ১২ বছর তিন মাস সময় দেওয়া হয় টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য। এরপরও কেউ না এলে টাকাটা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, এরপরও যদি কোনো উত্তরাধিকারী সঠিক প্রমাণ নিয়ে আসেন, ব্যাংক তাকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকে।

অনলাইন ডেস্ক ১৬ মে, ২০২৬ 0
Bangla QR
১ জুলাই থেকে লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করলো সরকার

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে টাকা লেনদেনের নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে টাকা ট্রান্সফার বা কেনাকাটার বিল মেটানোর ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত দেশজুড়ে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ‘ক্যাশলেস’ সমাজ গড়তে এবং কাগুজে নোট ছাপানোর বিপুল খরচ বাঁচাতেই এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি কেমন হবে, তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ক্যাশলেস বা ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আগামী জুনের মধ্যে সবার অন্তত একটি লেনদেন হলেও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা উচিত।" নগদ টাকার বদলে ডিজিটাল লেনদেনে জোর দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে গভর্নর জানান, প্রতি বছর দেশে শুধু কাগজের নোট ছাপাতেই সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। মানুষ যদি ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, তবে এই খরচের অর্ধেক অর্থাৎ অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা অনায়াসেই বাঁচানো সম্ভব। এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। বাংলা কিউআর হলো এমন একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট) মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। এটি চালু হলে মুদি দোকান বা ছোট ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা কোম্পানির কিউআর কোড ঝোলাতে হবে না। এতে সাধারণ মানুষের নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে। আর নোট ছাপানোর ১০ হাজার কোটি টাকা বেঁচে গেলে তা জনকল্যাণে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। সভায় খুলনার ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ঋণ পাওয়া এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পথে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর জবাবে গভর্নর কৃষক ঋণ এবং সম্প্রতি আলোচিত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়েও কথা বলেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চমৎকার উদ্যোগটি শতভাগ সফল করতে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্মার্টফোন এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনা। প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের অভ্যস্ত করতে না পারলে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’-এর সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার নির্বাহী পরিচালক মো. রুকনুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং মুদ্রানীতি নিয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ সালাহ্উদ্দিন নাসের।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে, ২০২৬ 0
দেশের বাজারে আজ সোনার পাশাপাশি বড় পতন রুপার দামেও

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গতকালের পর আজ শনিবার (১৬ মে ২০২৬) আবারও এক ধাক্কায় ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরি প্রতি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে সোনার দাম ভরি প্রতি প্রায় ৬ হাজার ৬শ টাকা কমে এখন ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায় নেমে এসেছে। গতকাল শুক্রবারও সোনার দাম কমে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা হয়েছিল, যা আজ আরও কমে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এলো। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার সরবরাহ ও দাম কমে যাওয়ার কারণেই টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে কার্যকর হওয়া বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী: ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা (গতকাল ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা)। ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা (গতকাল ছিল ২,৩১,৪৭২ টাকা)। ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা (গতকাল ছিল ১,৯৮,৪০৫ টাকা)। সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা (গতকাল ছিল ১,৬১,৬০৫ টাকা)। এদিকে গতকাল রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও আজ রুপার বাজারেও বড় পতন হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার ভরি কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৬৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫,৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৩,৪৪১ টাকায়। বিশ্ববাজারে ইরান-ইসরায়েল সংকট কিছুটা থিতিয়ে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলারে নেমে যাওয়ার কারণেই দেশের বাজারে এই টানা ধস। সোনার সাথে সাথে রুপার দামও ভরি প্রতি প্রায় একশ থেকে দুশো টাকা কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে এই পড়তি ধারা আরও কয়েকদিন বজায় থাকে, তবে দেশের বাজারে সোনার দাম দীর্ঘদিন পর ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ঘরে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে, ২০২৬ 0
ডিম
ডিমের দাম বাড়ল ডজনে ৩০ টাকা

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ডিমের দাম ডজনে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, আর ব্রয়লার মুরগির কেজি ঠেকেছে ২০০ টাকায়। আজ শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অস্বস্তিকর চিত্র দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহে যে ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে, আজ তা কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বাজারে ডিম বিক্রেতা বজলুর রশিদ জানান, সাইজ ও রঙের ওপর ভিত্তি করে ডিমের দাম ওঠানামা করছে। আজ বাজারে ব্রয়লারের বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, বাদামি ডিম ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের পাশাপাশি মুরগির বাজারও বেশ চড়া। রোজার ঈদের পর ব্রয়লারের কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় নামলেও, আজ তা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, বাজারে দেশি মুরগি তো পাওয়াই যাচ্ছে না; দু-এক দোকানে মিললেও দাম হাঁকানো হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর টাউন হলের ব্যবসায়ী রমজান আলী এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বলেন, "মুরগির চাহিদা বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবারে বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান বেশি থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় দাম একটু বাড়তি থাকে।"

অর্থনীতি ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬ 0
মুরগী
সোনালীর কেজি ৩৫০, ব্রয়লার ২০০: বাজারে চরম অস্বস্তিতে ক্রেতারা

ছুটির দিন এলেই যেন বাজারের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের। শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। ২০০ টাকার নিচে মিলছে না ব্রয়লার মুরগির কেজি, দেশি মুরগির দাম তো রীতিমতো আকাশ ছুঁয়েছে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে বেড়েছে ডিমের দামও।  আজ আমাদের প্রতিনিধি রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এই উত্তপ্ত চিত্র খুঁজে পেয়েছে।  বিক্রেতারা জানান, রোজার ঈদের পর ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় নেমেছিল। কিন্তু এই সপ্তাহের শেষ দিকে তা আবার ২০০ টাকায় ঠেকেছে। সোনালি মুরগির দামেও ১৫ থেকে ২০ টাকার ফারাক দেখা গেছে; গত মাসে যা ৩০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আকাল দেখা গেছে দেশি মুরগির। বাজারে দেশি মুরগি খুঁজেই পাওয়া দায়, আর পেলেও ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না দোকানিরা। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী রমজান আলী দাম বাড়ার কারণ হিসেবে জানান, বাজারে এখন মুরগির সরবরাহ কম, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা বেশি। তাছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবারে বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠান বেশি থাকায় মুরগির কাটতি বাড়ে, তাই দামও একটু চড়া থাকে। সপ্তাহের শেষ দিনে পরিবারের জন্য একটু ভালো খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। ব্যবসায়ীরা ‘সরবরাহ কম’ ও ‘বিয়ের মৌসুম’-এর অজুহাত দিলেও, হুট করে এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়াটা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে মোটেও যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস হলো ডিম ও ব্রয়লার মুরগি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো গোশতের চাহিদা মেটাতে এগুলোর ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে। ছুটির দিনগুলোতে এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বাজার তদারকি জোরদার না হলে এই দরদামের ওঠানামা অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটই ভারী করবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

অর্থনীতি ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬ 0
দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম, জানুন আজকের রেট কত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারেও এর সুফল পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের খরচ হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে 'তেজাবি' বা পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণেই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুসের নতুন বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, আজ থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনা কেনা যাচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি নেমে এসেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায়। তবে সোনার দাম ক্রেতাদের স্বস্তি দিলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের দামেই ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ত্রিমুখী উত্তেজনার জেরে বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল লাগামছাড়া। তবে আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম 'গোল্ডপ্রাইস'-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে এখন প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬০০ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারের এই শীতল হওয়ার প্রভাবই সরাসরি পড়েছে দেশের বাজারে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিয়ের এই ভরা মৌসুমে সোনার দাম কমার খবরটি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য দারুণ স্বস্তির। দীর্ঘদিন ধরে সোনা আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি থাকায় অনেকেই গয়না কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন বা বাজেট কাটছাঁট করছিলেন। ভরিপ্রতি দুই হাজার টাকার বেশি এই দরপতন খুচরা বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়াবে। বিশ্ববাজারের এই পড়তি ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সামনের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের গয়না কেনার স্বপ্ন আরও কিছুটা সহজ হতে পারে।

অর্থনীতি ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬ 0
চাল-ডাল ও চিনিতে কর নিয়ে যা জানালো এনবিআর

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চাল, ডাল, চিনি ও খেজুরসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর নতুন করে কোনো কর বাড়ানো হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে এনবিআরের প্রস্তাবিত খসড়া পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এসব পণ্যের ওপর থাকা উৎসে কর আগের মতোই দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন বাজেটে ডাল বা চিনির মতো নিত্যপণ্যের দাম করের কারণে বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকছে না। বৈঠকে আরও জানানো হয়, সাধারণ মানুষের ব্যাংক জমার ওপরও থাকছে বিশেষ সুবিধা। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না গ্রাহকদের। তবে মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিলেও বিলাসবহুল জীবনযাপনে কড়াকড়ি আরোপ করছে সরকার। ৩ হাজার ৫০০ সিসির বেশি ব্যক্তিগত গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন গেমিং থেকে আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ কর বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বাজেটে করের জাল বাড়াতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ভ্যাট কর্মকর্তার কোনো অনুমোদন ছাড়াই অনলাইনে তাৎক্ষণিক এই নম্বর পাওয়া যাবে। এনবিআর জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। চাল, ডাল ও চিনির মতো পণ্যে কর না বাড়ানোর ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের যে কৃত্রিম উল্লম্ফন দেখা দেয়, তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন মূল্যস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন এই সিদ্ধান্তকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য ‘অক্সিজেন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিত্যপণ্যে কর না বাড়ালেও মোটরবাইক বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, ৩ হাজার ৫০০ সিসির গাড়িতে কর ৫ গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে—সরকার রাজস্ব আদায়ের মূল চাপটি সাধারণ মানুষের বদলে উচ্চবিত্তদের ওপরই রাখতে চাইছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ১৪ মে, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন মাত্র ২ মিনিটে!

আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন। 

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

সপ্তাহের সেরা

বিনোদন

রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0

অনলাইন জরিপ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার কি বিএনপি সরকার করতে পারবে?