কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?

দিগন্ত প্রতিবেদন
দিগন্ত প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:৪৬
আপডেট: ১৬ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:৫০

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে সম্প্রতি আবারও হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, আর বাংলাদেশে বর্তমানে এটি তীব্রতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে । তাই এমন সময় কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন তা আপনার অবশ্যই জানতে হবে। 

এটি এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট শিশুদের জন্য অনেক সময় মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে শিশুদের এই সংক্রামক রোগ থেকে নিরাপদে রাখতে।

হাম কী এবং কীভাবে বুঝবেন?

চিকিৎসকরা জানান, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কাছাকাছি সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও, ৩ থেকে ৫ দিনের মাথায় শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, শরীর দুর্বল লাগা এবং শিশুর খেতে না চাওয়া।

কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন? 

১. সময়মতো টিকা দিন

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলা (MR) টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যদিও দীর্ঘদিন টিকা দেয়া বন্ধ থাকলেও বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে পুনরায় হামের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা অবশ্যই সম্পূর্ণ করুন। টিকা মিস হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

২. অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে রাখুন

হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই কেউ আক্রান্ত হলে শিশুকে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন।

৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

  • নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া

  • হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা

  • শিশুর ব্যবহার করা জিনিস পরিষ্কার রাখা
    এসব অভ্যাস সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

৪. শিশুর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে প্রতিদিন ফল শাকসবজি ডিম মাছ দুধ এবং পর্যাপ্ত পানি খেতে দ্দিন। 

৫. লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?

নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান:

  • শ্বাসকষ্ট

  • খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া

  • খিঁচুনি

  • শিশু পানি বা খাবার খেতে না পারা

  • জ্বর অনেক বেড়ে যাওয়া

কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়েই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার পেছনে এটি অন্যতম একটি কারণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় টিকা নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা বা গুজব কাজ করে, যা শিশুদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বাবা-মায়েরা যদি শিশুর সামান্য উপসর্গকেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে এই রোগের মৃত্যুঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।


এই প্রতিবেদনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সাধারণ চিকিৎসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর যেকোনো শারীরিক উপসর্গে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

বিষয়

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য থেকে আরো

আরো দেখুন
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে মায়ের শরীরের পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধিও নির্ভর করে সঠিক পুষ্টির ওপর। ফল এমন একটি খাবার যা ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও প্রাকৃতিক পুষ্টিতে ভরপুর। তাই অনেকেই জানতে চান গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত এবং কোন ফল মা ও শিশুর জন্য বেশি উপকারী। গর্ভাবস্থায় ফল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়। এছাড়া এটি হজম ভালো রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার উপকারিতা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ফল খাওয়া মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের নানা ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। এই সময়ে সঠিক পুষ্টি না পেলে মা দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা জরুরি। ১. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে বিভিন্ন ফলে থাকা ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক, হাড় ও শরীরের স্বাভাবিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিড শিশুর জন্মগত কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ২. মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় গর্ভাবস্থায় শরীর তুলনামূলক সংবেদনশীল থাকে। কমলা, মাল্টা, পেয়ারা বা আমলকির মতো ফলে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ৩. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কলা, আপেল, পেয়ারা ও নাশপাতির মতো ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। ৪. শরীরে পানির ঘাটতি কমায় তরমুজ, কমলা, মাল্টা বা আঙুরের মতো ফলে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এতে ক্লান্তি ও দুর্বলতাও কিছুটা কমে। ৫. রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ডালিম, খেজুর ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। এতে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় একটি সাধারণ সমস্যা। ৬. প্রাকৃতিকভাবে শক্তি যোগায় গর্ভাবস্থায় দ্রুত ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। তাই অনেক চিকিৎসক হালকা ক্ষুধা লাগলে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ফল সাধারণত কম চর্বিযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুডের বদলে ফল খেলে অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমে। ৮. ত্বক ও শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে অনেক ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীর সতেজ ও ফ্রেশ অনুভব করতেও সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত ১. কলা কলা গর্ভবতী নারীদের জন্য খুব উপকারী একটি ফল। এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ফাইবার থাকে। উপকারিতা: বমিভাব কমাতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, শরীরে শক্তি যোগায় ২. আপেল আপেলে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। উপকারিতা:, হজম ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শিশুর ফুসফুসের বিকাশে সহায়ক হতে পারে ৩. কমলা ও মাল্টা কমলা জাতীয় ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকে। উপকারিতা: শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীরকে হাইড্রেট রাখে ৪. ডালিম গর্ভাবস্থায় ডালিম খুবই উপকারী বলে মনে করেন অনেক পুষ্টিবিদ। উপকারিতা:, রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে, আয়রনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক, শিশুর বৃদ্ধি ভালো রাখতে সাহায্য করে ৫. আম পরিমাণমতো পাকা আম খাওয়া যেতে পারে। উপকারিতা: ভিটামিন এ ও সি সরবরাহ করে, শরীরের শক্তি বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে তবে অতিরিক্ত আম খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে। ৬. পেয়ারা পেয়ারায় ভিটামিন সি ও ফাইবার অনেক বেশি থাকে। উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে ৭. আঙুর পরিমাণমতো আঙুর খাওয়া যেতে পারে। উপকারিতা: শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে , ক্লান্তি কমাতে সহায়ক, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে ৮. অ্যাভোকাডো অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফলিক অ্যাসিড থাকে। উপকারিতা: শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক, মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কমায় গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন ফল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপরে পরিমাণমতো খান , কারন অতিরিক্ত ফল খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।  তারপর আবার কাটা ফল বাইরে থেকে না খাওয়াই ভালো , রাস্তার কাটা ফল অনেক সময় জীবাণুযুক্ত হতে পারে। আর অবশ্যই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল নির্বাচন করুন কারন ব্যক্তিভেদে খাদ্য চাহিদা ভিন্ন হতে পারে, তাই বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৬ মে, ২০২৬ 0

কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?

stroke

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে কী ক্ষতি হয়? যা অনেকেই জানেন না

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে কী ক্ষতি হয়? যা অনেকেই জানেন না

ডায়াবেটিসের রোগীদের হজের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত
ডায়াবেটিসের রোগীদের হজের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো,  ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন । খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ডিপি প্রতিবেদন ২১ এপ্রিল, ২০২৬ 0
নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? ৯০% মানুষ ভুল জানেন!

হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

ছবিঃ হাম ভাইরাস , CBC
দেশে হামের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে, আর বাকি দুজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে এই উদ্বেগজনক খবর জানানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হিসেব করলে দেখা যায়, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি প্রায় ১৬৬ জন। কেবল মৃত্যুই নয়, প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ছুঁইছুঁই, আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৯ হাজার। ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকা এখন হামের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকাতেই ৫০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং এর মধ্যে ৬১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। একদিনে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুজনই ঢাকার। ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তবে রাজধানীর তুলনায় সেখানে আক্রান্তের হার কিছুটা কম। হাসপাতালে বাড়ছে ভিড় হামের প্রকোপ বাড়ায় দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম থেকে বাঁচতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। বিশেষ করে বর্তমানে ঢাকার যে পরিস্থিতি, তাতে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামান্য জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ কিপ্লা আফ্রিকা

হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে?

হামে মৃত্যু ৯৪, হাসপাতালে ৫ হাজারের বেশি শিশু

রোববার থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান শুরু, অগ্রাধিকার পাবে যারা