হাম

কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে সম্প্রতি আবারও হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, আর বাংলাদেশে বর্তমানে এটি তীব্রতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে । তাই এমন সময় কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন তা আপনার অবশ্যই জানতে হবে।  এটি এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট শিশুদের জন্য অনেক সময় মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে শিশুদের এই সংক্রামক রোগ থেকে নিরাপদে রাখতে। হাম কী এবং কীভাবে বুঝবেন? চিকিৎসকরা জানান, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কাছাকাছি সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও, ৩ থেকে ৫ দিনের মাথায় শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, শরীর দুর্বল লাগা এবং শিশুর খেতে না চাওয়া। কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?  ১. সময়মতো টিকা দিন হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলা (MR) টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যদিও দীর্ঘদিন টিকা দেয়া বন্ধ থাকলেও বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে পুনরায় হামের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা অবশ্যই সম্পূর্ণ করুন। টিকা মিস হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। ২. অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে রাখুন হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই কেউ আক্রান্ত হলে শিশুকে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন। ৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা শিশুর ব্যবহার করা জিনিস পরিষ্কার রাখা এসব অভ্যাস সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ৪. শিশুর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে প্রতিদিন ফল শাকসবজি ডিম মাছ দুধ এবং পর্যাপ্ত পানি খেতে দ্দিন।  ৫. লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে? নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান: শ্বাসকষ্ট খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া খিঁচুনি শিশু পানি বা খাবার খেতে না পারা জ্বর অনেক বেড়ে যাওয়া কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়েই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার পেছনে এটি অন্যতম একটি কারণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় টিকা নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা বা গুজব কাজ করে, যা শিশুদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বাবা-মায়েরা যদি শিশুর সামান্য উপসর্গকেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে এই রোগের মৃত্যুঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এই প্রতিবেদনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সাধারণ চিকিৎসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর যেকোনো শারীরিক উপসর্গে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৬ মে, ২০২৬ 0
দেশেই তৈরি হবে হাম ডেঙ্গু জলাতঙ্ক ও সাপে কামড়ের টিকা
দেশেই তৈরি হবে হাম ডেঙ্গু জলাতঙ্ক ও সাপে কামড়ের টিকা

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, হাম ও সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সফল হলে দেশের টিকা নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। এসেনশিয়াল ড্রাগস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় শুরুতেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা ও অ্যান্টিভেনমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা টিবিএসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দেশের জনস্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, সাপের কামড় ও হাম বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে, তাই স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও জানান, “আমরা এক বছরের মধ্যে এই চারটি টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।” এসেনশিয়াল ড্রাগস জানিয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। উৎপাদন শুরু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে এসব টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে উৎপাদন শুরু হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টিকা রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সামাদ মৃধা বলেন, বর্তমানে বিদেশ থেকে যে দামে টিকা আমদানি করা হয়, তার প্রায় অর্ধেক মূল্যে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে টিকার সহজলভ্যতা বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। এ বছর হামে ৩২০ জন শিশু মারা গেছে এবং প্রায় ৪০ হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাকেদা-র তৈরি ‘কিউডেঙ্গা (টিএকে-০০৩)’ টিকা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, যা ২০২৪ সালের মে মাসে প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করে। এসেনশিয়াল ড্রাগস এই টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনাও করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে দেশে অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিষেধকের সংকট রয়েছে। প্রতিবছর সাপের কামড়ে হাজারো মানুষ মারা যায়। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যায়। আক্রান্তদের বড় অংশ স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা ও অ্যান্টিভেনম দেশে উৎপাদিত হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং সরকারের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। এদিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমিতে ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিক ও ডায়াগনস্টিক রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ করছে এসেনশিয়াল ড্রাগস। ২০৩২ সালের মধ্যে সেখানে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। সংস্থাটির আরও চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধ ও টিকা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে বড় অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  সিস / সাইফ

অনলাইন ডেস্ক ১০ মে, ২০২৬ 0
বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের জন্ম, মৃত্যু হলো হামে
বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের জন্ম, মৃত্যু হলো হামে

ঢাকাঃ বিয়ের ১১ বছর পর ঘরে এসেছিল ছোট্ট ফাইয়াজ হাসান তাজিম। অনেক অপেক্ষা, অনেক কষ্ট আর ঝুঁকির পর আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হয়েছিল শিশুটির। ছেলেকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন মা ফারজানা ইসলাম ও বাবা হেলাল ভূঁইয়া। সেই সন্তানই মাত্র ৮ মাস ১৮ দিনের মাথায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাজিমের মা নিজের ফেসবুক আইডির নামও রেখেছিলেন ‘তাজিম এর আম্মু’। ছেলেকে নিয়েই ছিল তার পৃথিবী। এখন সেই ফেসবুকজুড়ে শুধু ছেলের স্মৃতি আর মায়ের কান্না। গত ২২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাজিম। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছেন মা-বাবা। প্রথমে নিউমোনিয়া, পরে পাতলা পায়খানা, এরপর হাম একটার পর একটা জটিলতায় ভুগছিল শিশুটি। ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এটা ছিল আমার বাবুর জীবনের শেষ হাসির ছবি।’ মেসেঞ্জারে ছেলের একটি ছবি পাঠিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, শুধু হামের চিকিৎসাতেই ১৭ দিনে চার লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন। কোথাও বেড পাননি, কোথাও আইসিইউ খালি ছিল না। কখনো অ্যাম্বুলেন্সে, কখনো কোলে করে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ছুটেছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। ১৮ মার্চ প্রথমে নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাজিমকে। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২৫ মার্চ বাড়ি ফিরলেও চার দিনের মাথায় আবার জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। ৫ এপ্রিল ছেলেকে নিয়ে যান রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। সেখানে বেড না পেয়ে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে সেখান থেকে আরও কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কোথাও স্থায়ীভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেননি। ফারজানা বলেন, এক হাসপাতালে ক্যানোলা দেওয়ার পর ছেলের পা ফুলে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার কোথাও পিআইসিইউতে মা-বাবার থাকার অনুমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল আবার নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাজিমকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি। হাসপাতালের অনেক কাগজপত্র থাকলেও শেষ ছাড়পত্রের নথিটা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। ফারজানা বলেন, ‘ছেলের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার সময় কারও আর ওই কাগজটার কথা মনে ছিল না।’ ফেসবুকে এখনো ছেলের ছবি, পায়ের ছবি আর স্মৃতিগুলো পোস্ট করেন তাজিমের মা। তিনি জানান, ১ মে ছিল তাজিমের হামের প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার তারিখ। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ছোট্ট শিশুটি। ক্ষোভ আর কষ্টে ফারজানা লিখেছেন, ‘দুই মাস ধরে নিষ্পাপ শিশুরা মরে যাচ্ছে, এ নিয়ে সংসদে আলাপ নেই। কারও কোনো দায় নেই। কেউ ব্যর্থতা স্বীকার করছে না। সব দোষ মা ও শিশুর। শিশুরা এই দেশে জন্ম নিল কেন? মা সন্তানের জন্ম দিল কেন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯ মে, ২০২৬ 0
দেশে বাড়ছে হাম
দেশে বাড়ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সময়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে ছয়জন হামের উপসর্গে এবং একজন সরাসরি হামে আক্রান্ত ছিল। মৃতদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন ঢাকার, একজন খুলনা এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। গত ৫৪ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৫৮ জন। এদিকে একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১২ জনে। এর মধ্যে ৯৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন করে ২৮২ শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম সাধারণত ভাইরাসজনিত একটি ছোঁয়াচে রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে রোগ ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, খিঁচুনি বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণেও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, গত কয়েক বছরে টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় অনেক শিশু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন। তবে টিকা সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯ মে, ২০২৬ 0
হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে
হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা শিশুর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় আধুনিক চিকিৎসার বদলে কবিরাজি বা কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই হাম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, হাম হলে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। অনেকে মনে করেন শরীর ভেজালে হামের গুটি ভেতরে বসে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। হাম হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই কুসুম কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে গোসল করানো অত্যন্ত জরুরি। শরীর পরিষ্কার না রাখলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেকটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস হলো, হাম হলে শিশুকে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ানো যাবে না। বলা হয় এসব খাবার খেলে রোগ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, হামের সময় শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে শিশুকে আরও বেশি করে প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন যাতে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে মনে করেন হাম বা 'বসন্ত' কোনো দৈব ঘটনা, তাই এর জন্য ঝাড়ফুঁক বা নিমপাতা দিয়ে শরীর ঝাড়ানোই যথেষ্ট। এই কুসংস্কারের কারণে অনেক বাবা-মা শিশুকে হাসপাতালে নিতে দেরি করেন। মনে রাখবেন, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেইন ইনফেকশন বা অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে লালচে দানা বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে কোনো কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আরো পড়ুনঃ হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে? অনেকে মনে করেন একবার হামের টিকা দিলে আর কখনোই হাম হবে না, তাই দ্বিতীয়বার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি বড় ভুল। শিশুদের সুরক্ষার জন্য হামের দুটি ডোজই পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটি না দিলে শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই সরকারি টিকা কার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, হাম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আপনার অবহেলা বা ভুল বিশ্বাসের কারণে শিশুর বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার শিশুর জীবন বাঁচাতে।

ডিপি প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ কিপ্লা আফ্রিকা
হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের কম সময়ে একশোরও বেশি শিশুর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক আক্রান্ত এবং কানাডার মতো উন্নত দেশের হামমুক্ত মর্যাদা বাতিল , সব মিলিয়ে হাম এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্বেগজনক খবর আসতে শুরু করে। ছোট ছোট শিশুদের গায়ে লাল ফুসকুড়ি, তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের খবর দ্রুত হাসপাতালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬,৪৭৬টি শিশু সন্দেহভাজন হামের লক্ষণ নিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে বারো হাজার। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশীদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে ভিন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যু উভয়ই বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুইজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষঃ  ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভি জোটের সহায়তায় ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে সারা দেশে এই অভিযান সম্প্রসারিত হবে। কেন এত শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেল? প্রশ্নটি স্বাভাবিক, কারণ বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের গল্প বলে আসছিল। ২০২৪ সালে প্রথম ডোজ বা এমআর-১ এর আওতা ছিল ৯৬.৬১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ ছিল ৯৬.১৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা নেমে আসে যথাক্রমে ৯২.৭৩ এবং ৯০.৭৮ শতাংশে। সমস্যা হলো, হামকে ঠেকাতে হলে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজ পেতে হয়। সেই সীমা পেরোতে না পারলেই ভাইরাসের জন্য ফাঁক তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রথম ডোজ সত্যিকারের কভারেজ আসলে ৮৬.১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এই ঘাটতি জমতে জমতে এখন প্রায় এক কোটি শিশু প্রথম ডোজ থেকে এবং দুই কোটি শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত। "আমরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কার্যক্রমের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।" মাহমুদুর রহমান, প্রধান, হাম ও রুবেলা জাতীয় যাচাই কমিটি, বাংলাদেশ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও এতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরে নির্ধারিত হাম অভিযান পিছিয়ে যায়। গ্যাভি জোট ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য প্রায় ছয়শো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান ডিসেম্বর ২০২৫ বা জানুয়ারি ২০২৬-এ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে যায়। ২০২৫ সালে কোনো টিকাই কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাবেক ইপিআই কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বারী। ছয় মাসের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এবারের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো আক্রান্তদের বয়স। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে প্রথম হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, অনেক আক্রান্ত শিশুর বয়স মাত্র ছয় মাস, যারা এখনো টিকার বয়সে পৌঁছায়নি। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সে টিকা দেওয়ার সুযোগ এখনো তৈরিই হয়নি। ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালের উপপরিচালক ফাতেমা আসমা খান বলেছেন, শিশুর জ্বর, বিশেষত ১০১, ১০২ বা তার বেশি হলে স্থানীয় ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। পেশাদার চিকিৎসকরাই সঠিক সহায়তা দিতে পারবেন। বিশ্বের চিত্র: কানাডাও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সংকট বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে মিলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকা অঞ্চলে আগস্ট ২০২৫ নাগাদ ১০টি দেশে প্রায় দশ হাজার ১৩৯ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ গুণ বেশি। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কানাডায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা বা পাহো কানাডার হামমুক্ত মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। ২০২৫ সালে কানাডায় ৫,৪৬৩টি সংক্রমণের খবর নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০০ সালে হাম নির্মূলের পর এবারই প্রথম একদশকের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে মারা গেছে তিনজন। "প্রতিটি সম্প্রদায়ে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত না হলে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ না হলে এবং সময়মতো প্রাদুর্ভাবে সাড়া না দেওয়া হলে এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে।" ডা. হান্স হেনরি পি. ক্লুজ, আঞ্চলিক পরিচালক, WHO ইউরোপীয় অঞ্চল ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমে ৩৩,৯৯৮-এ নেমেছে বটে, তবে WHO এবং ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, এই অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর। ২০২৬ সালেও সেই অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে। টিকাবিরোধী মনোভাব এবং মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ছায়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা কর্মসূচির ব্যর্থতা নয়, আরও দুটি বৈশ্বিক শক্তি এই পুনরুত্থানকে জটিল করে তুলছে। একটি হলো টিকাবিরোধী মনোভাব বা ভ্যাকসিন হেজিতেন্সি, যা কোভিড মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, মিথ্যা তথ্যের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। অন্যটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন হ্রাস। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন অর্থায়নে বড় কাটছাঁট হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত WHO-এর গ্লোবাল মিজেলস ও রুবেলা ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক তার বার্ষিক বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশ পেয়েছে। গ্যাভি জোটও তার ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কৌশলের জন্য তিন বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হামের টিকা সরবরাহে। আমাদের করণীয় এখন কী? বাংলাদেশের জন্য পথ একটাই এবং সেটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন। দেশের প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজের আওতায় আনতে হবে। সরকার তিনটি ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথম ধাপে ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় অভিযান চলছে। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপে মে মাসের ৩ তারিখ থেকে ছয় মাস থেকে দশ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলছেন, শিশুর জ্বর হলে ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান। হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক সহায়তা চিকিৎসায় জটিলতা কমানো সম্ভব। ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক বলে WHO নিজেই বলছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর টিকার কার্ড নিয়মিত আপডেট রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ে টিকা দিন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামের এই প্রত্যাবর্তন একটি সতর্কবার্তা। রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, প্রমাণিত টিকা আছে, অথচ বারবার একই ভুলের কারণে শিশুরা মরছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক মিথ্যা তথ্যের জোয়ারে এই সংকট কতটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে এখনই নেওয়া পদক্ষেপের উপর।

ডিপি প্রতিবেদন ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন মাত্র ২ মিনিটে!

আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন। 

রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

সপ্তাহের সেরা

বিনোদন

রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0