তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত

দিগন্ত প্রতিবেদন
দিগন্ত প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ৮:১৮
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত

গ্রামের মানুষজন একটা কথা এখনো বলে, রাতের শেষ ভাগে যে মানুষ আল্লাহকে ডাকে, তার ডাকে বরকত থাকে। দুনিয়ার ঝামেলা, টেনশন, কষ্ট, রিজিকের চিন্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, রোগব্যাধি সবকিছু নিয়ে মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন কিছু বান্দা উঠে দাঁড়ায় সিজদায়। এ নামাজই হলো তাহাজ্জুদ নামাজ।

এটি ফরজ নয়, কিন্তু এত বড় ফজিলতের নামাজ যে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা কখনো ছাড়তেন না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, অলী আল্লাহ, ইসলামী স্কলাররা এই নামাজকে হৃদয়ের শক্তি বলতেন।

আজ সহজ ভাষায় জানব তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া, সময়, ফজিলত, কুরআন ও হাদিসের দলিল।

তাহাজ্জুদ নামাজ কী?

ইশার নামাজের পর ঘুমিয়ে আবার রাতে উঠে যে নফল নামাজ পড়া হয়, সেটাই তাহাজ্জুদ।

ইমাম নববী (রহ.) বলেন:

“ঘুমানোর পর রাতে উঠে যে নফল সালাত আদায় করা হয়, সেটিই তাহাজ্জুদ।”

অর্থাৎ শুধু রাতে নফল পড়লেই তাহাজ্জুদ নয়, ঘুমের পর উঠে পড়া উত্তম।

তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময়

ইশার পর থেকে ফজরের আগে পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময়। তবে সবচেয়ে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ

বাংলা অর্থ:
“প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব।”
সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত?

তাহাজ্জুদ নামাজ ২ রাকাত করে পড়া হয়।

কমপক্ষে ২ রাকাত , ৪ রাকাত, ৬ রাকাত, ৮ রাকাত পড়া যায়। নবীজি (সা.) অনেক সময় ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাত বিতর পড়তেন।

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন:

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান ও রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না। সহিহ বুখারি

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

মুখে আরবি নিয়ত বলা জরুরি নয়। মনে ইচ্ছা করলেই নিয়ত হয়ে যায়।

তবু অনেকে শিখতে চান, তাই বলা যায়:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْنِ صَلَاةَ التَّهَجُّدِ سُنَّةً

বাংলা অর্থ:
আমি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত করলাম।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

দুই রাকাত সাধারণ নফল নামাজের মতোই পড়তে হবে।

  • প্রথমে ওজু করবেন।
  • কিবলামুখী দাঁড়াবেন।
  • নিয়ত করবেন।
  • সানা পড়বেন।
  • সূরা ফাতিহা পড়বেন।
  • সঙ্গে অন্য সূরা মিলাবেন।
  • রুকু, সিজদা করবেন।
  • দুই রাকাত শেষে সালাম ফেরাবেন।
  • এভাবে ২ রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়তে পারবেন।

শেষে বিতর নামাজ পড়া উত্তম।

তাহাজ্জুদে কোন সূরা পড়বেন?

নির্দিষ্ট কোনো সূরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়া উত্তম।

অনেকে পড়েন:

  • সূরা ইখলাস
  • সূরা ফালাক
  • সূরা নাস
  • সূরা মুলক
  • সূরা ইয়াসিন
  • দীর্ঘ কিরাতও পড়া যায়

তাহাজ্জুদের নামাজের পর যে দোয়া পড়তে পারেন

এই সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। নিজের ভাষায় কান্না করে দোয়া করবেন।

একটি সুন্দর দোয়া:

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করুন।

আরও পড়তে পারেন:

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

বাংলা অর্থ:
হে রব, আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, হেদায়েত দিন, রিজিক দিন।

কুরআনে তাহাজ্জুদের কথা

আল্লাহ বলেন:

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ

বাংলা অর্থ:
“রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত।”
সূরা বনি ইসরাইল: ৭৯

আরও বলেন:

كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ

বাংলা অর্থ:
“তারা রাতে অল্পই ঘুমাত।”
সূরা যারিয়াত: ১৭

অর্থাৎ নেককার বান্দারা রাতে উঠে ইবাদত করতেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

১. দোয়া কবুল হয়

রাতের শেষ ভাগ দোয়া কবুলের সময়।

২. গুনাহ মাফ হয়

নবীজি (সা.) বলেছেন, নফল ইবাদত বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে।

৩. রিজিকে বরকত আসে

অনেক আলেম বলেন, রাতের ইবাদত হৃদয় পরিষ্কার করে, এতে কাজে বরকত আসে।

৪. মন শান্ত হয়

যারা টেনশন, ডিপ্রেশন, কষ্টে থাকেন, তাহাজ্জুদ তাদের জন্য শক্তি।

৫. আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়

নিয়মিত রাতের ইবাদতকারী মানুষ আল্লাহর কাছে সম্মানিত।

ইসলামিক স্কলারদের বক্তব্য

ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন:

“দুনিয়াতে যদি জান্নাতের স্বাদ কিছু থাকে, তা রাতের ইবাদতে।”

ইমাম হাসান বসরী (রহ.) বলেন:

“আমি এমন কোনো ইবাদত দেখিনি যা মুখমণ্ডল এত সুন্দর করে, যেমন তাহাজ্জুদ।”

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন:

“রাতের দোয়া তীরের মতো, লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।”

তাহাজ্জুদ নামাজ কেন পড়বেন

আমাদের দেশে মানুষ অনেক কষ্টে থাকে। চাকরি নাই, সংসার চাপ, ঋণ, রোগ, সন্তানের চিন্তা, মানসিক অশান্তি। এসব সময় মানুষ সব জায়গায় গিয়ে হতাশ হয়, কিন্তু রাতের শেষ ভাগে আল্লাহর দরবারে গেলে অন্তর নরম হয়।

গ্রামে এখনো অনেকে বলে, ফজরের আগে উঠলে ঘরেও বরকত নামে, মনে শান্তি নামে।

যারা শুরু করতে চান তাদের জন্য সহজ উপায়

প্রথম দিন ২ রাকাত পড়ুন, অ্যালার্ম দিন , ঘুমানোর আগে নিয়ত করুন, ছোট সূরা দিয়ে শুরু করুন, দীর্ঘ দোয়া না পারলে নিজের ভাষায় বলুন, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।

উপসংহার

তাহাজ্জুদ নামাজ শুধু নামাজ না, এটা বান্দা আর রবের গোপন সম্পর্ক। যখন সবাই ঘুমায়, তখন আপনি যদি উঠে বলেন “ইয়া আল্লাহ”, সেই ডাক বিফলে যায় না।

কষ্ট থাকলে পড়ুন। রিজিক চাইলে পড়ুন। সন্তান চাইলে পড়ুন। মনের শান্তি চাইলে পড়ুন। ক্ষমা চাইলে পড়ুন। রাতের অন্ধকারে যে চোখের পানি পড়ে, আল্লাহ তা কখনো নষ্ট করেন না।

বিষয়

ধর্ম থেকে আরো

আরো দেখুন
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত

গ্রামের মানুষজন একটা কথা এখনো বলে, রাতের শেষ ভাগে যে মানুষ আল্লাহকে ডাকে, তার ডাকে বরকত থাকে। দুনিয়ার ঝামেলা, টেনশন, কষ্ট, রিজিকের চিন্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, রোগব্যাধি সবকিছু নিয়ে মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন কিছু বান্দা উঠে দাঁড়ায় সিজদায়। এ নামাজই হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। এটি ফরজ নয়, কিন্তু এত বড় ফজিলতের নামাজ যে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা কখনো ছাড়তেন না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, অলী আল্লাহ, ইসলামী স্কলাররা এই নামাজকে হৃদয়ের শক্তি বলতেন। আজ সহজ ভাষায় জানব তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া, সময়, ফজিলত, কুরআন ও হাদিসের দলিল। তাহাজ্জুদ নামাজ কী? ইশার নামাজের পর ঘুমিয়ে আবার রাতে উঠে যে নফল নামাজ পড়া হয়, সেটাই তাহাজ্জুদ। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “ঘুমানোর পর রাতে উঠে যে নফল সালাত আদায় করা হয়, সেটিই তাহাজ্জুদ।” অর্থাৎ শুধু রাতে নফল পড়লেই তাহাজ্জুদ নয়, ঘুমের পর উঠে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় ইশার পর থেকে ফজরের আগে পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময়। তবে সবচেয়ে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ বাংলা অর্থ: “প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব।” সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত? তাহাজ্জুদ নামাজ ২ রাকাত করে পড়া হয়। কমপক্ষে ২ রাকাত , ৪ রাকাত, ৬ রাকাত, ৮ রাকাত পড়া যায়। নবীজি (সা.) অনেক সময় ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান ও রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না। সহিহ বুখারি তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত মুখে আরবি নিয়ত বলা জরুরি নয়। মনে ইচ্ছা করলেই নিয়ত হয়ে যায়। তবু অনেকে শিখতে চান, তাই বলা যায়: نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْنِ صَلَاةَ التَّهَجُّدِ سُنَّةً বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত করলাম। তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম দুই রাকাত সাধারণ নফল নামাজের মতোই পড়তে হবে। প্রথমে ওজু করবেন। কিবলামুখী দাঁড়াবেন। নিয়ত করবেন। সানা পড়বেন। সূরা ফাতিহা পড়বেন। সঙ্গে অন্য সূরা মিলাবেন। রুকু, সিজদা করবেন। দুই রাকাত শেষে সালাম ফেরাবেন। এভাবে ২ রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়তে পারবেন। শেষে বিতর নামাজ পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদে কোন সূরা পড়বেন? নির্দিষ্ট কোনো সূরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়া উত্তম। অনেকে পড়েন: সূরা ইখলাস সূরা ফালাক সূরা নাস সূরা মুলক সূরা ইয়াসিন দীর্ঘ কিরাতও পড়া যায় তাহাজ্জুদের নামাজের পর যে দোয়া পড়তে পারেন এই সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। নিজের ভাষায় কান্না করে দোয়া করবেন। একটি সুন্দর দোয়া: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করুন। আরও পড়তে পারেন: رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي বাংলা অর্থ: হে রব, আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, হেদায়েত দিন, রিজিক দিন। কুরআনে তাহাজ্জুদের কথা আল্লাহ বলেন: وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ বাংলা অর্থ: “রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত।” সূরা বনি ইসরাইল: ৭৯ আরও বলেন: كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ বাংলা অর্থ: “তারা রাতে অল্পই ঘুমাত।” সূরা যারিয়াত: ১৭ অর্থাৎ নেককার বান্দারা রাতে উঠে ইবাদত করতেন। তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ১. দোয়া কবুল হয় রাতের শেষ ভাগ দোয়া কবুলের সময়। ২. গুনাহ মাফ হয় নবীজি (সা.) বলেছেন, নফল ইবাদত বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। ৩. রিজিকে বরকত আসে অনেক আলেম বলেন, রাতের ইবাদত হৃদয় পরিষ্কার করে, এতে কাজে বরকত আসে। ৪. মন শান্ত হয় যারা টেনশন, ডিপ্রেশন, কষ্টে থাকেন, তাহাজ্জুদ তাদের জন্য শক্তি। ৫. আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায় নিয়মিত রাতের ইবাদতকারী মানুষ আল্লাহর কাছে সম্মানিত। ইসলামিক স্কলারদের বক্তব্য ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন: “দুনিয়াতে যদি জান্নাতের স্বাদ কিছু থাকে, তা রাতের ইবাদতে।” ইমাম হাসান বসরী (রহ.) বলেন: “আমি এমন কোনো ইবাদত দেখিনি যা মুখমণ্ডল এত সুন্দর করে, যেমন তাহাজ্জুদ।” ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: “রাতের দোয়া তীরের মতো, লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।” তাহাজ্জুদ নামাজ কেন পড়বেন আমাদের দেশে মানুষ অনেক কষ্টে থাকে। চাকরি নাই, সংসার চাপ, ঋণ, রোগ, সন্তানের চিন্তা, মানসিক অশান্তি। এসব সময় মানুষ সব জায়গায় গিয়ে হতাশ হয়, কিন্তু রাতের শেষ ভাগে আল্লাহর দরবারে গেলে অন্তর নরম হয়। গ্রামে এখনো অনেকে বলে, ফজরের আগে উঠলে ঘরেও বরকত নামে, মনে শান্তি নামে। যারা শুরু করতে চান তাদের জন্য সহজ উপায় প্রথম দিন ২ রাকাত পড়ুন, অ্যালার্ম দিন , ঘুমানোর আগে নিয়ত করুন, ছোট সূরা দিয়ে শুরু করুন, দীর্ঘ দোয়া না পারলে নিজের ভাষায় বলুন, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। উপসংহার তাহাজ্জুদ নামাজ শুধু নামাজ না, এটা বান্দা আর রবের গোপন সম্পর্ক। যখন সবাই ঘুমায়, তখন আপনি যদি উঠে বলেন “ইয়া আল্লাহ”, সেই ডাক বিফলে যায় না। কষ্ট থাকলে পড়ুন। রিজিক চাইলে পড়ুন। সন্তান চাইলে পড়ুন। মনের শান্তি চাইলে পড়ুন। ক্ষমা চাইলে পড়ুন। রাতের অন্ধকারে যে চোখের পানি পড়ে, আল্লাহ তা কখনো নষ্ট করেন না।

দিগন্ত প্রতিবেদন ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ 0
হজের ওয়াজিব কয়টি

হজের ওয়াজিব কয়টি? হজে যাওয়ার আগে জানুন

বিদায় হজ্জের ভাষণ: মহানবী (সা.)-এর শেষ ঐতিহাসিক বাণী

বিদায় হজ্জের ভাষণ: মহানবী (সা.) এর শেষ ঐতিহাসিক বাণী

হজযাত্রী নারীদের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

হজযাত্রী নারীদের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার হজ খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং আগামী বছর আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই ফ্লাইটে ৪১৮ জন হজযাত্রী রয়েছে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানে ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন এবং একটি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন এবং এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ এর যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং দু'হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। দোয়া করেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন। হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে। সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি সেটা হলো ১২ হাজার টাকার মত খরচ কমাতে পেরেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আশা করি আগামী বছর যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য যাতে হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।' হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।' এই সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ 0
আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন

জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন

গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট

হজের খরচ কমানো নিয়ে সুখবর দিলেন ধর্মমন্ত্রী!

ছবিঃ ইন্টারনেট
কবে থেকে শুরু হচ্ছে এবারের হজ ফ্লাইট? যা জানালেন ধর্মমন্ত্রী

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে এবারের হজ ফ্লাইট শুরু হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্ন রেখে জানতে চান, বর্তমান সরকার পবিত্র হজ পালনে খরচের পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিনা। উত্তরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সৌদি টাইম লাইন মেনে ভিসাসহ সব ধরনের কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়ে গেছে। তবে এবারের হজ খরচ কমানোর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের প্যাকেজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থাৎ এবছর হজের খরচ কমছে না, তবে আগামী বছর থেকে খরচ কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

ডিপি প্রতিবেদন ৭ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ পিক্সাবেই

রোজা রেখে রক্ত দেওয়া যাবে কি?

ছবিঃ ইন্টারনেট

ইনজেকশন নিলে কি রোজা ভাঙে?

ছবিঃ পিক্সাবেই

রোজা অবস্থায় বীর্যপাত হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?