জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন

ডিপি প্রতিবেদন
ডিপি প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | দুপুর ১:১৭
জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন
জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন

ইসলামিক পরিভাষায় জুমার দিনকে বলা হয় ‘ইয়াউমুল জুমা’ বা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বরকতময় ও সাপ্তাহিক ঈদের দিন। মহান আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে অন্যান্য দিনের তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।

জুমার নামাজের গুরুত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন। সূরা আল-জুমার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نُودِىَ لِلصَّلَوٲةِ مِن يَوْمِ ٱلْجُمُعَةِ فَٱسْعَوْاْ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ وَذَرُواْ ٱلْبَيْعَ‌ۚ ذَٲلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

"হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বন্ধ করো। এটিই তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ, যদি তোমরা বুঝতে পারো।" (সূরা আল-জুমা, আয়াত: ৯)

এই আয়াতের মাধ্যমে জুমার নামাজের সময় পার্থিব কাজ ত্যাগ করে মসজিদে উপস্থিত হওয়া প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্য বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়েছে।

হাদিসের আলোকে জুমার ফজিলত

রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, "সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হলো শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৪)

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে জুমার নামাজে অংশ নেয় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সমস্ত (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৮৮৩)

জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন

জুমার নামাজের পরবর্তী সময়টুকু অত্যন্ত বরকতময়। এই সময়ে করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো হাদিসের উদ্ধৃতিসহ নিচে দেওয়া হলো:

১. তিন সূরা পাঠের বিশেষ আমল

জুমার নামাজের পর তায়াম্মুম বা ওজু অবস্থায় অন্য কোনো কথা বলার আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস—প্রতিটি ৭ বার করে পাঠ করা।

ফজিলত: যে ব্যক্তি এই আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত যাবতীয় অনিষ্ট ও বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন।

(সূত্র: ইবনুস সুন্নি, হাদিস নং: ৩৭৪; আল-আজকার, ইমাম নববী)

২. আসরের পর দোয়া কবুলের সময়

জুমার নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আসরের শেষ সময়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা।

হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম যদি সেই সময়ে দাঁড়িয়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করেন।"

(সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৩)

৩. ৮০ বছরের গুনাহ মাফের দরুদ

জুমার দিন আসরের নামাজের পর নিজের স্থান থেকে ওঠার আগে ৮০ বার এই দরুদটি পাঠ করা:

"আল্লাহুম্মা সাললি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা।"

ফজিলত: যে ব্যক্তি এই আমল করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করা হবে এবং ৮০ বছরের ইবাদতের সওয়াব আমলনামায় লেখা হবে।

(সূত্র: আল-জামি আস-সগির, হাদিস নং: ৬৩৫৮; দারা কুতনি)

৪. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত (যদি আগে পড়া না হয়)

যারা জুমার নামাজের আগে সূরা কাহাফ পড়তে পারেননি, তারা নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে এটি পড়ে নিতে পারেন।

হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিশেষ নূর বা আলো চমকাতে থাকবে।"

(সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং: ২৪৪১; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস নং: ৩৩৪৯)

৫. জুমার পরবর্তী সুন্নত নামাজ

জুমার ফরজের পর মসজিদে ৪ রাকাত (২ রাকাত করে) এবং বাড়িতে গিয়ে ২ রাকাত নামাজ পড়া সুন্নাহ।

হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজ পড়ে, সে যেন এরপর চার রাকাত নামাজ পড়ে।"

(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮৮১)

জুমার নামাজের পর দুনিয়াবী অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়ে এই জিকির ও আমলগুলোর মাধ্যমে দিনটিকে সার্থক করে তোলা প্রতিটি মুমিনের উচিত।

উপসংহার

জুমার নামাজ পরবর্তী সময়টি কেবল বিশ্রামের নয়, বরং জিকির ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। নামাজের পর সাতবার করে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করা এবং ওজু অবস্থায় জিকিরে মগ্ন থাকা মুমিনের জন্য সুরক্ষাস্বরূপ। তাই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য জুমার দিনের এই বরকতময় সময়গুলোকে কাজে লাগানো প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

ধর্ম থেকে আরো

আরো দেখুন
সোমবার থেকে শুরু হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা, মক্কায় রেকর্ডসংখ্যক মুসল্লির ভিড়

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে সোমবার, তবে এরই মধ্যে গত বছরের মোট বিদেশি হজযাত্রীর রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে এবারের হজ। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় এখন পর্যন্ত বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ১৫ লাখের বেশি বিদেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন এবং এই সংখ্যা প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হজ কমান্ডিং অফিসার সালেহ আল-মোরাব্বাহ এই চমৎকার খবরটি জানান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জন বিদেশি হজযাত্রী নিরাপদে সৌদি আরবে এসে পৌঁছেছেন। আগামী সোমবার (২৫ মে) ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে পালিত হবে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা প্রধান রোকন। যেহেতু এখনো দুদিন সময় বাকি, তাই এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর (২০২৫ সালে) সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন হজ করেছিলেন, যার মধ্যে বিদেশি ছিলেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। আর এবার মূল হজ শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ আয়োজন গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বিশাল পরিসরের হতে যাচ্ছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত সামলানো সৌদি প্রশাসনের জন্য একটি বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ হলেও, সাধারণ মুসলিমদের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের এত মানুষের এক হওয়াটা দারুণ এক আধ্যাত্মিক শান্তির বিষয়। এত বড় আয়োজনে লাখো মানুষের নিরাপত্তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য রীতিমতো নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে হজের পবিত্র স্থানগুলোকে। বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে থাকা বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম ঘুরে দেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এবার শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে এবার চমৎকার বোঝাপড়া ও সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা কোনো রকম কষ্ট বা হয়রানি ছাড়া, সম্পূর্ণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ইবাদত পালন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২৪ মে, ২০২৬ 0

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল

মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়? ইসলামি দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা

কুরবানি ঈদ

আপনার উপর কি কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে? ইসলাম কী বলে

বৃষ্টির সময় যে আমলগুলো করবেন
বৃষ্টির সময় যে আমলগুলো করবেন

বাংলাদেশে বৃষ্টি মানেই অন্যরকম এক শান্তি। টিনের চালের ওপর টুপটাপ শব্দ, মাটির গন্ধ, গ্রামের কাঁচা রাস্তা আর ঠান্ডা বাতাস মানুষের মন নরম করে দেয়। ইসলামে বৃষ্টিকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয় না। এটি আল্লাহর রহমত হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। তাই বৃষ্টির সময় কিছু বিশেষ আমল ও দোয়া করার কথা হাদিসে এসেছে। অনেকেই জানেন না, বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ইসলামিক স্কলাররা বলেন, এই সময় বান্দা যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ডাকে, তাহলে রহমত নাজিলের সঙ্গে সঙ্গে দোয়ার দরজাও খুলে যায়।  বৃষ্টির সময় কিছু বিশেষ আমল, দোয়া ও জিকির করার কথা সহিহ হাদিসে এসেছে। আলেমগণ বলেন, এ সময় বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই একজন মুমিনের উচিত বৃষ্টির মুহূর্তগুলোকে ইবাদত ও আল্লাহর স্মরণে কাজে লাগানো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ثِنْتَانِ مَا تُرَدَّانِ: الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ، وَتَحْتَ الْمَطَرِ “দুটি দোয়া সাধারণত প্রত্যাখ্যান হয় না। আযানের সময়ের দোয়া এবং বৃষ্টির সময়ের দোয়া।” ( সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪০)  ইমাম আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন এই হাদিস থেকে আলেমরা বলেন, বৃষ্টির সময় বেশি বেশি দোয়া করা মুস্তাহাব। বৃষ্টি শুরু হলে যে দোয়া পড়বেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি দেখলে এই দোয়া পড়তেন: «اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا» উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ অর্থ: “হে আল্লাহ, এটিকে উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৩২) ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এই দোয়া পড়া সুন্নত এবং এতে বৃষ্টির বরকত কামনা করা হয়। বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানো আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: “আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন বৃষ্টি শুরু হলো। তিনি তাঁর কাপড়ের কিছু অংশ সরিয়ে দিলেন যাতে বৃষ্টির পানি তাঁর শরীরে লাগে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, কারণ এটি সদ্য তার রবের কাছ থেকে এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৮)  ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এ হাদিস থেকে বোঝা যায় বৃষ্টির পানি বরকতময় এবং তা শরীরে লাগানো মুস্তাহাব। বৃষ্টির সময় ইস্তিগফার করা আল্লাহ তাআলা বলেন: فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا ۝ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا উচ্চারণ: ফাকুলতুস্তাগফিরু রব্বাকুম ইন্নাহু কানা গাফ্ফারা। ইউরসিলিস সামা’আ আলাইকুম মিদরারা। অর্থ: “আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।” - সূরা নূহ, আয়াত: ১০-১১ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ইস্তিগফার আল্লাহর রহমত, রিজিক ও বৃষ্টির কারণ। বজ্রপাত ও ঝড়ো বাতাসের সময় দোয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝড়ো বাতাস এলে বলতেন: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ» অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ, এতে যা আছে তার কল্যাণ এবং যা নিয়ে এটি প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ চাই। আর আমি এর অকল্যাণ, এতে যা আছে তার অকল্যাণ এবং যা নিয়ে এটি প্রেরিত হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯) অতিবৃষ্টি হলে যে দোয়া পড়বেন যখন অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কষ্ট হতো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا» অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়।” সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০১৪ , সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৭ বৃষ্টির সময় বেশি বেশি তাওবা ও জিকির ইসলামিক স্কলাররা বলেন, বৃষ্টির সময় তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির ও দরুদ শরিফ পড়া উত্তম। পড়তে পারেন: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ অর্থ: “আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁর।” ইবনে হাজর আসকালানী (রহ.) বলেন: “বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। তাই এ সময় ইবাদত ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়া উচিত।” বৃষ্টির সময় দোয়া, ইস্তিগফার, তাওবা ও আল্লাহর স্মরণ করা সুন্নত ও বরকতময় আমল। সহিহ হাদিস ও কুরআনের আলোকে এ সময় ইবাদতে মনোযোগী হওয়া একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রহমতের এই মুহূর্তগুলোতেই অনেক সময় আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করে দেন। গ্রামবাংলায় এখনো অনেক মানুষ বৃষ্টি শুরু হলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলেন। কৃষকেরা আকাশের দিকে তাকিয়ে রহমতের বৃষ্টি কামনা করেন। কারণ বৃষ্টি শুধু আবহাওয়া না, এটি ফসল, জীবন আর বেঁচে থাকার সঙ্গেও জড়িত। তাই মুসলমানের জন্য বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য না, বরং আল্লাহকে স্মরণ করারও একটি বিশেষ সময়।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১১ মে, ২০২৬ 0
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত

হজের ওয়াজিব কয়টি

হজের ওয়াজিব কয়টি? হজে যাওয়ার আগে জানুন

বিদায় হজ্জের ভাষণ: মহানবী (সা.)-এর শেষ ঐতিহাসিক বাণী

বিদায় হজ্জের ভাষণ, মহানবী (সা.) এর শেষ ঐতিহাসিক বাণী

হজযাত্রী নারীদের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত
হজযাত্রী নারীদের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

হজ মুসলিম নারীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে এটি শুধু আত্মিক সফর নয়, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিরও বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ ভ্রমণ, প্রচণ্ড গরম, ভিড়, হাঁটা, সময়সূচির পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নারীদের জন্য আলাদা কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নারী হজে যান। তাঁদের বড় একটি অংশ মধ্যবয়সী বা প্রবীণ। তাই আগেভাগে পরিকল্পনা করলে হজযাত্রা অনেক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে। আগের বছরগুলোর অভিজ্ঞতা কী বলছে ২০২৪ সালের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে তীব্র তাপপ্রবাহে বহু হাজি অসুস্থ হন এবং শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসে। তাপমাত্রা কিছু এলাকায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি পৌঁছায় বলে জানানো হয়। এ সময় অনেক নারী হাজিও হিট এক্সহসশন, পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও পথ হারানোর মতো সমস্যায় পড়েন। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মিশরের ষাটোর্ধ্ব এক নারী হাজি দীর্ঘ পথ হাঁটা ও অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে বিশ্রামের সময় স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরিবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর খোঁজ পাননি। ঘটনাটি দেখিয়েছে, ভিড় ও গরমে নারীদের জন্য দলছুট হওয়া কত বড় ঝুঁকি হতে পারে।  এই বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোই বলছে, নারীদের প্রস্তুতি শুধু ধর্মীয় জ্ঞান নয়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিকও হওয়া উচিত। স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগে করানো জরুরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, হজে যাওয়ার আগে নারীদের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ভালো। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা, হাঁপানি, জয়েন্টের ব্যথা বা থাইরয়েড সমস্যা আছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রবীণ নারীদের হাঁটার সক্ষমতা, হৃদরোগের ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া দরকার। মাসিক সংক্রান্ত পরিকল্পনা জরুরি অনেক নারী হজের সময় মাসিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, কেউ যদি সময়সূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তাহলে আগে থেকেই গাইনি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। নিজে নিজে হরমোন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে রক্তচাপ, মাথাব্যথা বা অন্যান্য জটিলতা হতে পারে। গরমে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের জন্য হজে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো পানিশূন্যতা। অনেকেই কম পানি পান করেন বা ক্লান্তি বুঝেও বিশ্রাম নেন না। তাই নিয়মিত পানি পান করতে হবে, ছাতা ব্যবহার করতে হবে, ভিড়ের সময় অতিরিক্ত চাপ এড়াতে হবে এবং দুর্বল লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিতে হবে। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ও আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করলে চলাফেরা সহজ হয়। দলবদ্ধ থাকা সবচেয়ে নিরাপদ অভিজ্ঞ হাজিদের মতে, নারীদের একা চলাফেরা না করে দলের সঙ্গে থাকা ভালো। মোবাইলে হোটেলের লোকেশন, গ্রুপ লিডারের নম্বর এবং পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত। যদি পথ হারিয়ে ফেলেন, আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ সহায়তা বুথ বা নিরাপত্তাকর্মীর সাহায্য নিতে হবে। পোশাক ও আরামদায়ক সামগ্রী বেছে নিন হজের সময় দীর্ঘ হাঁটা ও গরমে আরামদায়ক, ঢিলেঢালা এবং শালীন পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। এমন কাপড় পরা উচিত যা ঘাম শোষে এবং সহজে শুকায়। পায়ের জন্য নরম স্যান্ডেল বা আরামদায়ক জুতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক নারী নতুন জুতা নিয়ে গিয়ে পরে ফোসকা বা ব্যথায় পড়েন। তাই আগে ব্যবহার করা আরামদায়ক জুতা নেওয়াই ভালো। ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখুন স্যানিটারি ন্যাপকিন, টিস্যু, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অতিরিক্ত ওড়না, পানির বোতল ও শুকনো খাবার আলাদা ব্যাগে রাখলে সুবিধা হয়। আগের বছরগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, হজে নারীদের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে গরমে অসুস্থ হওয়া, দলছুট হওয়া, ক্লান্তি ও স্বাস্থ্য জটিলতা। তাই আগে থেকে সচেতন প্রস্তুতি নিলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, হজযাত্রী নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো সুস্থ শরীর, ধৈর্যশীল মন এবং সংগঠিত পরিকল্পনা। প্রস্তুতি ভালো হলে ইবাদতের সফরও হয় শান্ত ও স্বস্তিদায়ক।

ডিপি প্রতিবেদন ২১ এপ্রিল, ২০২৬ 0
বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন

জুমার নামাজের পর যে আমল গুলো করবেন