রোজা অবস্থায় বীর্যপাত হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

ডিপি প্রতিবেদন
ডিপি প্রতিবেদন
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | রাত ১০:১২
ছবিঃ পিক্সাবেই
ছবিঃ পিক্সাবেই

রোজা অবস্থায় বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে কিনা, এই প্রশ্নটা অনেকের মনে থাকলেও লজ্জায় কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় না। অথচ ইসলামিক শরিয়তে এই বিষয়ে একদম স্পষ্ট ব্যাখ্যা আছে।

রমজান মাস এলে অনেক প্রশ্নই মাথায় ঘোরে। কোনটায় রোজা ভাঙে, কোনটায় ভাঙে না। কিছু প্রশ্ন সহজে করা যায়, কিছু প্রশ্ন গলায় আটকে থাকে। বীর্যপাতে রোজা ভাঙার বিষয়টা ঠিক এই দ্বিতীয় ধরনের একটা প্রশ্ন। কিন্তু ইসলামি ফিকাহ শাস্ত্রে এই প্রশ্নের উত্তর লুকানো নেই, বরং সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে।

মূল বিষয় হলো, সব ধরনের বীর্যপাত এক রকম নয়। কীভাবে বীর্যপাত হলো, সেটার উপর নির্ভর করে রোজা ভাঙবে কিনা।

স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে রোজা ভাঙে

এটা সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয়। রোজা অবস্থায় দিনের বেলা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস হলে রোজা ভেঙে যাবে, এই ব্যাপারে সব মাজহাবের আলেমরা একমত। শুধু রোজা ভাঙাই না, এক্ষেত্রে কাফফারাও দিতে হবে। কাফফারা মানে একটানা ৬০টি রোজা রাখা, অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো।

হস্তমৈথুনে রোজা ভাঙে

ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙে যাবে। হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি এবং হাম্বলি সব মাজহাবেই এই মতামত প্রায় একই। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না, শুধু ওই রোজাটির কাজা অর্থাৎ পরবর্তীতে একটি রোজা রেখে দিতে হবে।

স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙে না

ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না। এটা ইচ্ছাকৃত কোনো কাজ নয়, তাই শরিয়তে এর জন্য কোনো দায় নেই। তবে গোসল ফরজ হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে। গোসল না করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু নামাজ পড়া যাবে না।

মনে মনে চিন্তা করলে বা দেখলে কী হয়?

শুধু মনে মনে যৌন চিন্তা করলে বা কিছু দেখে উত্তেজিত হলে রোজা ভাঙে না, যদি বীর্যপাত না হয়। তবে রোজার পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের চিন্তা ও পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকা উচিত।

তরল বের হলে কী হয়?

মযি হলো উত্তেজনার সময় বের হওয়া পাতলা তরল, যেটা বীর্য নয়। অধিকাংশ আলেমের মতে শুধু মযি বের হলে রোজা ভাঙে না। তবে ওজু ভেঙে যাবে, তাই নামাজের আগে ওজু করতে হবে। 

একটা সহজ নিয়ম মনে রাখুন

ইসলামি ফিকাহের মূলনীতি অনুযায়ী রোজা ভাঙার ক্ষেত্রে দুটো শর্ত থাকতে হবে। প্রথমত, কাজটি ইচ্ছাকৃত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শরীরের ভেতরে কিছু প্রবেশ করানো বা শরীর থেকে এমন কিছু বের করা যা নিষিদ্ধ। স্বপ্নদোষ ইচ্ছাকৃত নয় বলেই রোজা ভাঙে না। হস্তমৈথুন ইচ্ছাকৃত বলেই রোজা ভেঙে যায়।

যেকোনো সন্দেহ থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছ থেকে সরাসরি মাসআলা জেনে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ধর্মীয় বিষয়ে লজ্জা না পেয়ে জেনে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

ধর্ম থেকে আরো

আরো দেখুন
গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট
হজের খরচ কমানো নিয়ে সুখবর দিলেন ধর্মমন্ত্রী!

হজযাত্রীদের জন্য সুখবর এলো ধর্মমন্ত্রীর কাছ থেকে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে হজের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান প্রশ্ন রেখে জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার হজ পালনে খরচ কমানোর লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা। এর উত্তরে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ পরিশোধও সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। তবে আশার কথা হলো, মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের খরচের চাপ কমতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ডিপি প্রতিবেদন ৭ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ ইন্টারনেট

কবে থেকে শুরু হচ্ছে এবারের হজ ফ্লাইট? যা জানালেন ধর্মমন্ত্রী

ছবিঃ পিক্সাবেই

রোজা রেখে রক্ত দেওয়া যাবে কি?

ছবিঃ ইন্টারনেট

ইনজেকশন নিলে কি রোজা ভাঙে?

ছবিঃ পিক্সাবেই
রোজা অবস্থায় বীর্যপাত হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

রোজা অবস্থায় বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে কিনা, এই প্রশ্নটা অনেকের মনে থাকলেও লজ্জায় কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় না। অথচ ইসলামিক শরিয়তে এই বিষয়ে একদম স্পষ্ট ব্যাখ্যা আছে। রমজান মাস এলে অনেক প্রশ্নই মাথায় ঘোরে। কোনটায় রোজা ভাঙে, কোনটায় ভাঙে না। কিছু প্রশ্ন সহজে করা যায়, কিছু প্রশ্ন গলায় আটকে থাকে। বীর্যপাতে রোজা ভাঙার বিষয়টা ঠিক এই দ্বিতীয় ধরনের একটা প্রশ্ন। কিন্তু ইসলামি ফিকাহ শাস্ত্রে এই প্রশ্নের উত্তর লুকানো নেই, বরং সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে। মূল বিষয় হলো, সব ধরনের বীর্যপাত এক রকম নয়। কীভাবে বীর্যপাত হলো, সেটার উপর নির্ভর করে রোজা ভাঙবে কিনা। স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে রোজা ভাঙে এটা সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয়। রোজা অবস্থায় দিনের বেলা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস হলে রোজা ভেঙে যাবে, এই ব্যাপারে সব মাজহাবের আলেমরা একমত। শুধু রোজা ভাঙাই না, এক্ষেত্রে কাফফারাও দিতে হবে। কাফফারা মানে একটানা ৬০টি রোজা রাখা, অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো। হস্তমৈথুনে রোজা ভাঙে ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙে যাবে। হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি এবং হাম্বলি সব মাজহাবেই এই মতামত প্রায় একই। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না, শুধু ওই রোজাটির কাজা অর্থাৎ পরবর্তীতে একটি রোজা রেখে দিতে হবে। স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙে না ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না। এটা ইচ্ছাকৃত কোনো কাজ নয়, তাই শরিয়তে এর জন্য কোনো দায় নেই। তবে গোসল ফরজ হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে। গোসল না করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু নামাজ পড়া যাবে না। মনে মনে চিন্তা করলে বা দেখলে কী হয়? শুধু মনে মনে যৌন চিন্তা করলে বা কিছু দেখে উত্তেজিত হলে রোজা ভাঙে না, যদি বীর্যপাত না হয়। তবে রোজার পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের চিন্তা ও পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকা উচিত। তরল বের হলে কী হয়? মযি হলো উত্তেজনার সময় বের হওয়া পাতলা তরল, যেটা বীর্য নয়। অধিকাংশ আলেমের মতে শুধু মযি বের হলে রোজা ভাঙে না। তবে ওজু ভেঙে যাবে, তাই নামাজের আগে ওজু করতে হবে।  একটা সহজ নিয়ম মনে রাখুন ইসলামি ফিকাহের মূলনীতি অনুযায়ী রোজা ভাঙার ক্ষেত্রে দুটো শর্ত থাকতে হবে। প্রথমত, কাজটি ইচ্ছাকৃত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শরীরের ভেতরে কিছু প্রবেশ করানো বা শরীর থেকে এমন কিছু বের করা যা নিষিদ্ধ। স্বপ্নদোষ ইচ্ছাকৃত নয় বলেই রোজা ভাঙে না। হস্তমৈথুন ইচ্ছাকৃত বলেই রোজা ভেঙে যায়। যেকোনো সন্দেহ থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছ থেকে সরাসরি মাসআলা জেনে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ধর্মীয় বিষয়ে লজ্জা না পেয়ে জেনে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ডিপি প্রতিবেদন ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ 0