দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? ৯০% মানুষ ভুল জানেন!

ডিপি প্রতিবেদন
ডিপি প্রতিবেদন
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | রাত ৮:৫৪
ছবিঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ ইন্টারনেট

ছোটবেলা থেকে মা-খালারা বলতেন, "দিনে আট গ্লাস পানি খাবি।" স্কুলের স্বাস্থ্য বইয়েও একই কথা। এমনকি অফিসের ক্যান্টিনে দেওয়ালে সাঁটানো পোস্টারেও লেখা থাকে, দৈনিক ৮ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পান করুন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই "৮ গ্লাস" সংখ্যাটা আসলো কোথা থেকে? সত্যি বলতে, কেউ জানে না। জেনে নেই দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত। 

পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্যের পেছনে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ১৯৪৫ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল একটি গাইডলাইন দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল প্রতি ক্যালোরি খাবারের জন্য ১ মিলিলিটার পানি দরকার। কিন্তু সেই গাইডলাইনের পরের অংশটা কেউ পড়েনি, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল, এই পানির বেশিরভাগ আসবে খাবার থেকেই।

সেই "পরের অংশ" হারিয়ে গেল। রয়ে গেল শুধু "৮ গ্লাস।"

তাহলে সঠিক পরিমাণ কতটুকু?

এর সরল কোনো উত্তর নেই এবং এটাই আসল সত্যি।

একজন ৫০ কেজির অফিসকর্মী যিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করেন, আর একজন ৮০ কেজির রিকশাচালক যিনি কড়া রোদে সারাদিন পরিশ্রম করেন, দু'জনের পানির চাহিদা কখনো এক হতে পারে না। তারপরও আমরা দু'জনকেই বলছি "৮ গ্লাস খাও।"

ইউএস ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিনের সর্বশেষ গবেষণা বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক মোট পানির চাহিদা প্রায় ৩.৭ লিটার এবং নারীর ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার। কিন্তু এই পানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে আমাদের খাবার থেকে। শসা, তরমুজ, কমলা, শাকসবজি, এগুলোর ৮০ থেকে ৯৫ ভাগই পানি।

মানে আপনি যদি ভালো খাবার খান, তাহলে আপনি ইতিমধ্যে অনেকটা পানি পাচ্ছেন।

শরীর নিজেই জানে কখন পানি দরকার

মানবদেহ অসাধারণ একটি যন্ত্র। তৃষ্ণা লাগা মানেই শরীর সংকেত দিচ্ছে, এখন পানি দরকার। চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ একজন মানুষের জন্য তৃষ্ণাকে গাইড হিসেবে মানাটাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

তবে কিছু মানুষকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। বয়স্করা, কারণ বয়সের সাথে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে আসে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা। যারা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন। এবং যারা গরম আবহাওয়ায় থাকেন, বাংলাদেশের মতো দেশে এটা বিশেষভাবে প্রযোজ্য।

কীভাবে বুঝবেন পানি যথেষ্ট পান করছেন?

সহজ একটা পরীক্ষা আছে। প্রস্রাবের রঙ দেখুন। হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হলে বুঝবেন সব ঠিক আছে। গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙ হলে বুঝবেন পানি কম হচ্ছে। একদম রঙহীন হলে বুঝবেন হয়তো বেশি হয়ে যাচ্ছে।

হ্যাঁ, বেশি পানি পানও ক্ষতিকর হতে পারে। একে বলে হাইপোনেট্রেমিয়া। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা, বমি এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথা

আমাদের দেশে গরম আবহাওয়া, রোজা, কায়িক পরিশ্রম, এই সব মিলিয়ে পানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে চলার বদলে শরীরের সংকেত বোঝাটা শেখা দরকার।

ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, তাঁর কাছে অনেক রোগী আসেন যারা জোর করে পানি পান করেন, কারণ "৮ গ্লাসের টার্গেট পূরণ করতে হবে।" এটা দরকার নেই। শরীরকে বিশ্বাস করুন।

সত্যি হলো, পানির কোনো সর্বজনীন ডোজ নেই। প্রতিটি মানুষ আলাদা, প্রতিটি দিন আলাদা। আজ গরম বেশি? একটু বেশি খান। আজ সারাদিন ঘরে শুয়ে থাকলেন? হয়তো কম লাগবে।

তৃষ্ণা পেলে পানি খান। প্রস্রাবের রঙ দেখুন। এটুকুই যথেষ্ট। আর "৮ গ্লাস" মিথটা, এবার বিদায় দেওয়ার সময় হয়েছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য থেকে আরো

আরো দেখুন
হামে মৃত্যু ৯৪, হাসপাতালে ৫ হাজারের বেশি শিশু

দেশে হামের পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিনজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে সারাদেশে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই নতুন করে ৯৪৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিভাগওয়ারি চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগ। এখানে এক দিনেই ৩১৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং নতুন শনাক্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনই ঢাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে রংপুরের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে কম ৪২ জন ভর্তি রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোববার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

ডিপি প্রতিবেদন ৪ এপ্রিল, ২০২৬ 0

রোববার থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান শুরু, অগ্রাধিকার পাবে যারা

ছবিঃ ইন্টারনেট

গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা রোজায় কী খাবেন কী খাবেন না?

ছবিঃ ইন্টারনেট

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? ৯০% মানুষ ভুল জানেন!

ছবিঃ দিগন্ত পোস্ট মিডিয়া
রাতে ঘুমানোর আগে এই একটি কাজ করলে কখনো ডায়াবেটিস হবে না

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত? আর সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, এই রোগীদের বড় একটি অংশ নিজেরাই জানেন না যে তারা ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস একবার হলে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। কিন্তু সঠিক অভ্যাস থাকলে এই রোগকে দূরে রাখা সম্ভব। আজ আমরা জানবো রাতে ঘুমানোর আগে এমন একটি সহজ কাজের কথা, যা নিয়মিত করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এবং এই কাজটি করতে আপনার মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময় লাগবে। রাতের খাবারের পর হাঁটুন, বাঁচুন ডায়াবেটিস থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাসটি ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ। রাতে খাওয়ার পর রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ে, কিন্তু শুয়ে পড়লে শরীর নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় সেই সুগার পোড়ে না। বছরের পর বছর এই চক্র চলতে থাকলে একসময় শরীর ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তখনই ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এর সমাধান হিসেবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন রাতের খাবারের ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটার। ঘরের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ঘরের ভেতরেই বা বারান্দায় হাঁটলেই কাজ হবে। গবেষণা কী বলছে নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দীর্ঘ গবেষণায় দেখেছেন, একটানা আধঘণ্টা হাঁটার চেয়ে খাবারের পর তিনবার ১০ মিনিট করে হাঁটা রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর। বিশেষত রাতের খাবারের পর এই হাঁটাটা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, হাঁটার সময় পেশি সক্রিয় হয় এবং রক্ত থেকে সুগার সরাসরি পেশিতে চলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ইনসুলিনের প্রয়োজন হয় না। ফলে প্যাংক্রিয়াসের উপর চাপ কমে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। কাদের জন্য এই সতর্কতা বেশি জরুরি চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, বয়স চল্লিশ বছরের বেশি, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিংবা যারা সারাদিন বসে কাজ করেন — তাদের জন্য এই অভ্যাসটি রপ্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া যারা প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় আছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে ডায়াবেটিস ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। চিকিৎসকের পরামর্শ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ওষুধের চেয়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অনেক বেশি কার্যকর। রাতের হাঁটার পাশাপাশি মিষ্টি ও কোমল পানীয় কমানো এবং নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চলার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। উপসংহার ডায়াবেটিস একবার হলে সারাজীবন ওষুধ খেতে হয়, নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু রাতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের হাঁটা এই রোগটিকে দূরে রাখতে পারে বহু বছর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ থেকেই এই অভ্যাস শুরু করুন — অপেক্ষা করলে পস্তাতে হতে পারে।

ডিপি প্রতিবেদন ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ 0
ছবিঃ ক্যানভা

আইবিএস রোগীরা ইফতার ও সেহরিতে যা খাবেন

ছবিঃ ইন্টারনেট

এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি

ভালো ঘুমাতে হলে ৬ টি পরামর্শ - ছবি পেক্সেলস

ঘুম না আসলে করণীয় কি ? ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় নিয়ে ৬ পরামর্শ

একজন গর্ভবতী নারী তলপেটে ব্যাথা অনুভব করছেন। ছবি - SutterStock
গর্ভাবস্থায় প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হয় কেন? প্রতিকার কি?

গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের শরীরের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসা শুরু করে।  এটা তিনি নিজেই দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন। বিশেষ করে যখন  ইউট্রাস বা জরায়ুর ভিতরে পরিবর্তন ঘটতে থাকে , আর সেই পরিবর্তনটাকে সহায় দিতে বায়োলজিকালী নানান ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে শরীরে। অধিকাংশ নারী যারা গর্ভধারণ করে ডাক্তারের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসে তারা এই সমস্যাটি নিয়ে প্রশ্ন করেন যে তাদের গর্ভাবস্থায় প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হয় কেন। এবং এর প্রতিকার কি? গর্ভধারণের প্রথম মাসটি প্রতিটি মায়ের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা। এই সময় তলপেটে হালকা ব্যথা অনুভব করা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যথা কখন সাধারণ শারীরিক পরিবর্তনের ফল, আর কখন তা কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত তা জানা জরুরি। একজন অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্ট হিসেবে, এই পোস্টে আমি সংক্ষেপে আলোচনা করব গর্ভাবস্থার প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হওয়ার সাধারণ কারণগুলো এবং কখন আপনার দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই তথ্যগুলো আপনাকে অযথা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। গর্ভাবস্থার প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হওয়ার সাধারণ কারণ গর্ভাবস্থার প্রথম মাসে (৪-৮ সপ্তাহ) তলপেটে হালকা অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে কিন্তু এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়। অতিবাহিত এই সময়কে বলা হয় প্রাথমিক গর্ভাবস্থা, আর এই সময়ে তলপেটে ব্যথার বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হল। : ইমপ্ল্যান্টেশন বা প্রতিস্থাপন ব্যথা  গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার ঠিক আগে বা পরে ডিম্বাণু যখন জরায়ুর দেওয়ালে প্রতিস্থাপিত হয়, তখন তলপেটে হালকা মোচড়ানো বা ক্র্যাম্পিং অনুভূত হতে পারে। একে ইমপ্ল্যান্টেশন ব্যথা বলে। এটি সাধারণত ক্ষণস্থায়ী এবং হালকা প্রকৃতির হয়। জরায়ুর প্রসারণ ইমপ্লান্টেশন বা প্রতিস্থাপন শুরু হলে  যারা এর মাংসপেশিগুলো রিলাক্স  মোড়ে চলে যায়। এরপরে ভ্রূণ  বড় হতে শুরু করলেই জরায়ু মাংসপেশি প্রসারিত হতে থাকে। এই প্রসারণের কারণে জরায়ুর চারপাশে থাকা পেশীগুলোতে টান পড়ে। এই টানের ফলে তলপেটের উভয় পাশে বা মাঝখানে মৃদু ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেকেই এটাকে গ্যাসের ব্যথার মতো মনে করতে পারে। এটি গর্ভধারণের প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হওয়ার একটি প্রধান কারণ। তবে এটা স্বাভাবিক।  কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস গর্ভাবস্থায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোন কত পরিবর্তন দেখা যায় যার মধ্যে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় । এর ফলে অধিকাংশ গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য এবং গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন। এই গ্যাস জমা হওয়ার কারণে তলপেটে, বিশেষ করে নিচের দিকে, চাপ বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ধরনের তলপেটে ব্যথা সাধারণত জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কমে আসে। রাউন্ড লিগামেন্টের ব্যথা যদিও এই ব্যথা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বেশি দেখা যায়, তবুও প্রথম মাসের শেষ দিকে বা জরায়ু দ্রুত বড় হতে শুরু করলে কেউ কেউ এই ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এটি সাধারণত তলপেটের একপাশে বা দু'পাশে তীক্ষ্ণ, ছুঁচ ফোটানোর মতো ব্যথা হিসাবে আসে। হঠাৎ নড়াচড়া বা কাশি দিলে এটি বাড়ে। কখন তলপেটে ব্যথা বিপদের সংকেত? অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা স্বাভাবিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে আপনাকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে: একটোপিক প্রেগন্যান্সি যদি নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর বাইরে, সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবে স্থাপিত হয়, তবে তাকে একটোপিক প্রেগন্যান্সি বলে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর অবস্থা। এই ক্ষেত্রে তলপেটে, সাধারণত একপাশে, তীব্র এবং ক্রমাগত ব্যথা হয়। এর সাথে যোনিপথে রক্তপাত এবং অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে এটি জীবন বিপন্ন করতে পারে। মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত তলপেটে তীব্র মোচড়ানো ব্যথা, যা ঋতুস্রাবের ব্যথার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র এবং ক্রমাগত চলতে থাকে, তার সাথে যদি উজ্জ্বল লাল রঙের রক্তপাত হয়, তবে তা গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের তলপেটে ব্যথা এবং রক্তপাত দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত। মূত্রনালীর সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় ইউটিআই হওয়া খুবই সাধারণ। এর কারণে তলপেটের নিচে ও পিঠের দিকে ব্যথা হতে পারে। এর সাথে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালা করা এবং জ্বর আসতে পারে। যদিও এটি সরাসরি গর্ভাবস্থার সমস্যা নয়, তবে এর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?  একজন গাইনোকোলজিস্ট হিসেবে আমার পরামর্শ হলো, গর্ভাবস্থার প্রথম মাসে যেকোনো ধরনের তলপেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। বিশেষত যদি ব্যথার সাথে নিচের উপসর্গগুলো থাকে ব্যথা তীব্র এবং অসহনীয় হলে। একটানা রক্তপাত বা বাদামী স্রাব দেখা দিলে। জ্বর বা কাঁপুনি হলে। অত্যধিক মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হলে। মনে রাখবেন, প্রাথমিক গর্ভাবস্থার সমস্যাগুলো দ্রুত নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। অযথা দুশ্চিন্তা না করে সঠিক তথ্যের উপর নির্ভর করুন এবং একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকুন। মন্তব্য: প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হওয়া মানেই গুরুতর কিছু নয়। তবে সতর্ক থাকা এবং আপনার শরীরের যেকোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা অপরিহার্য। আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং গর্ভাবস্থার বিস্তারিত তথ্য শুধুমাত্র আপনার চিকিৎসকই ভালো জানেন। লিখেছেন - ডা. জাহিদা পারভিন  এমবিবিএস, বিসিএস স্বাস্থ্য, এফসিপিএস (গাইনী এন্ড অবস] / এফসিপিএস সাবস্পেশালিটি ট্রেনিং, গাইনাকোলজিকাল অনকোলজী /' বিএসএমএমইড. ঢাকা।

অনলাইন ডেস্ক ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ 0
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না?