আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (৩ বৈশাখ ১৪৩৩), রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে।
গতকাল বুধবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও, আজ বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। আজ সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা রয়েছে এবং দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় জনসাধারণের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের সময় পাকা দালানের নিচে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে পুনরায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এই দিনটিকে 'ক-শ্রেণি' ভুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পুনরায় সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের ন্যায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "বিগত ১৬ বছর এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।" ঐতিহাসিক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অনন্য অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই সরকার এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধিপত্যবাদ ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ দেড় যুগ পর বর্তমান সরকার সেই ছুটি ও দিবসের মর্যাদা পুনর্বহাল করলো। মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল জনবল সংকট মেটাতে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সরকার একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, শূন্যপদগুলো পূরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি আলাদা আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২৮৭৯টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া এক বছরের মধ্যে ৪৪৫৯টি এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন গ্রেডে কত পদ খালি? সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেড অর্থাৎ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি এবং ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সবথেকে বেশি প্রয়োজন হয় এমন ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডেও ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি পড়ে আছে। এমনকি চুক্তিভিত্তিক বা নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত পদেও কয়েক হাজার লোকবল প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় নিয়োগের বাইরেও সরকার সারা দেশে মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের একটি বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত এবং কোনো ধরণের অনিয়ম ছাড়া সম্পন্ন হয়, সেজন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের খালি পদের সর্বশেষ তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি সব দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই খবরটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। তাই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে সবাইকে। সাধারণ নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক নোটিশে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবিশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। দিনের কোনো দাপ্তরিক কর্মসূচি বা মিটিং প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট সময়সীমা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিজ দায়িত্বে বন্ধ করতে হবে। অফিস সময় শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনা ব্যতীত চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি দপ্তরে একটি করে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .