সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

ডিপি প্রতিবেদন
ডিপি প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬ | দুপুর ১২:৫৩

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।

এছাড়াও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে পারেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

জাতীয় থেকে আরো

আরো দেখুন
বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার ৫ জামাত: কোনটা কখন অনুষ্ঠিত হবে?

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীর মুসল্লিদের সুবিধার্থে এখানে পর্যায়ক্রমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। গতকাল ২১ ই মে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) পক্ষ থেকে এই পাঁচটি জামাতের সময়সূচি এবং এতে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম ও মুকাব্বিরদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদের সই করা এই তালিকা অনুযায়ী, সকাল ৭টার প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত এবং সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই জামাতে ইমাম হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান ও মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন এবং সর্বশেষ বা পঞ্চম জামাতটি শুরু হবে সকাল পৌনে ১১টায় (১০টা ৪৫ মিনিটে), যেখানে ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। আমাদের সংবাদকক্ষের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার মতো ব্যস্ত ও জনবহুল শহরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবার পক্ষে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার দিন সকালে পশু কোরবানি নিয়ে অনেককে ব্যস্ত থাকতে হয়, আবার জরুরি সেবায় নিয়োজিত অনেকের সকালে ডিউটি থাকে। তাদের জন্য বায়তুল মোকাররমের এই পর্যায়ক্রমিক জামাতের ব্যবস্থা বিশাল এক স্বস্তির জায়গা। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে প্রায় ১১টা পর্যন্ত একের পর এক জামাত চলার কারণে রাজধানীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ নিজেদের সুবিধামতো সময়ে জাতীয় মসজিদে এসে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। এটি শুধু ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যই বজায় রাখে না, বরং ঈদের দিনের ব্যস্ততাকে সুন্দরভাবে সামলে নিতে সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে সাহায্য করে। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো ইমাম উপস্থিত থাকতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থাও ঠিক করে রেখেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইফার সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের দিন সকালে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে, সবাইকে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ মে, ২০২৬ 0
tap probaho

ঢাকাসহ ১১ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ

আবার বাড়তে পারে বিদ্যুতের বিল, ব্যবসায়ী-ভোক্তাদের কড়া আপত্তি

Train Ticket

আজ বিক্রি হচ্ছে ৩১ মে’র ঈদযাত্রার ফিরতি ট্রেনের টিকিট

নবম পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠক বৃহস্পতিবার, কোন গ্রেডে কত বাড়বে বেতন?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠকে বসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৈঠক থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে না। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা, বাড়তি আর্থিক সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ যুক্ত হবে। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় আর্থিক চাপ পড়বে না। জানা গেছে, আগামী জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ সুবিধাসহ নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর পড়ছে। তাই নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা আসতে পারে। এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় সুখবর আসতে পারে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাঁদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়াবে না, বাজারে অর্থ প্রবাহও বাড়াবে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব নিয়েও সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ মে, ২০২৬ 0

পদ্মার পর এবার তিস্তা ব্যারেজ, পানিসংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা সরকারের

ঈদুল আযহা উপলক্ষে পুলিশের জরুরি নির্দেশনা জারি

সারা দেশে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬

পে স্কেল
নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিভক্তি

আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশাল বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের সম্মতি দেওয়ায়, চাকরিজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সুস্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। তবে সাধারণ চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর হলো সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সার্বিকভাবে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অন্যান্য সব আনুষঙ্গিক ভাতা যুক্ত করা হবে। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারের এই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি মূলত একটি সতর্ক কৌশল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রস্তাব পুরোপুরি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একসঙ্গে এত বিশাল অর্থের জোগান দেওয়া সরকারের জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর। একসঙ্গে ১৫ লাখের বেশি সরকারি কর্মচারীর হাতে বাড়তি টাকা এলে বাজারে হঠাৎ করে ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতি বা নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এই দ্রব্যমূল্যের চাপ অনেকটাই সামলানো সম্ভব হবে। তবে সরকারের এই যুক্তির সাথে একমত নন অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতা আব্দুল মালেক ও সংযুক্ত পরিষদের মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজারে বারবার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ব্যবসায়ীরা বারবার জিনিসের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। তাদের জোরালো দাবি, পুরো পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হোক। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী সিকান্দার আলীও মনে করেন, এক ধাপে বেতন না বাড়লে সুবিধাভোগীরা উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। অন্যদিকে, চাকরিজীবীদের আরেকটি বড় অংশ মনে করে, দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকারকে এই মুহূর্তে চাপ দেওয়া বা কোনো ধরনের আন্দোলনে যাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতো অনেকেই বলছেন, সরকার যেহেতু নির্বাচিত, তাদের সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তারা দেশের সামর্থ্য বুঝে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। তাই নিয়ম মেনেই কাজ করে যাওয়া উচিত। নবম পে কমিশনের এই প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেশ কিছু চমৎকার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। যেমন, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং যাতায়াত ভাতা দশম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে বেশি সুবিধা দেওয়া এবং ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, এমন বয়স্কদের ভাতা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। চিকিৎসা ভাতাও ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পে কমিশনের সদস্য ও বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক জানিয়েছেন, কোনো সরকারি কর্মচারী যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকেন, সেই চিন্তা থেকেই সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন সবচেয়ে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন দেশের প্রায় ২৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আগামী বাজেটের জন্য। কারণ সেখানেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: সিইসি

বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নিবে দুবাই, খরচ পড়বে ১ লাখ টাকার নিচে

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মিসরের নতুন ভিসা ফি ঘোষণা, কোন ভিসায় কত খরচ