যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। দেশটির দুটি মানবাধিকার সংস্থা রানিমিড ট্রাস্ট এবং রিপ্রিভ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা আছে যেকোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করার। এতে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আছে এমন মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় এই হুমকির মুখে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, সরকার মনে করলেই যেকোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারে। যুক্তি হিসেবে বলা হয় সেই ব্যক্তি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পেতে পারেন। এমনকি তিনি সেই দেশে কখনো না গেলেও বা নিজেকে সেই দেশের নাগরিক মনে না করলেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সংযোগ আছে এমন মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে। যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ মুসলিম এসব দেশের সাথে যুক্ত।
রিপ্রিভের মায়া ফোয়া বলেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল। এখনকার সরকার এই ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে ৯০ লাখ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন।
রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগম বলেন, নাগরিকত্ব কোনো সুবিধা নয়, এটা মানুষের অধিকার। কিন্তু সরকার এমন নিয়ম করছে যেন কারও আচরণ ভালো না হলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কালো মানুষদের মধ্যে পাঁচজনে তিনজন নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। সাদা মানুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০ জনে মাত্র ১ জন। ভারতীয় বংশের প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার, পাকিস্তানি বংশের ৬ লাখ ৭৯ হাজার এবং বাংলাদেশিসহ ৩৩ লাখ এশীয় ব্রিটিশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
আসলে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম। সাদা মানুষদের চেয়ে কালো মানুষদের নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি ১২ গুণ বেশি।
সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা শামিমা বেগমের। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এই মেয়ের নাগরিকত্ব বাতিল করে বলা হয় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ সরকার এটা মানেনি। শামিমা কিশোর বয়সে আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য ছেড়েছিলেন। পরে দেশে ফিরতে চাইলে যুক্তরাজ্য তাকে ফিরতে দেয়নি।
এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে দলের রাজনীতিকেরা আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং এমন পরিকল্পনার কথা বলছেন যাতে যুক্তরাজ্যে আইনিভাবে বসবাসকারী লাখো মানুষকে দেশ ছাড়া করা হতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ মিডলইস্ট আই
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ১১০ ডলারের ঘরও স্পর্শ করেছে। একইভাবে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির আশা করা হয়েছিল, তা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়; এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় তেলের দামে এই উল্লম্ফন। দেশের বাজারেও অস্বস্তি আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ এপ্রিল) সরকার সব ধরণের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং ডিজেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। সরবরাহ সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক দাম বাড়ার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার দাবি করছে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে দেশে আরেক দফা দাম সমন্বয় বা সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বরাজনীতির এই টানাপোড়েন যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তেলের দাম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে কেবল যাতায়াত নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি খাতের খরচও আকাশছোঁয়া হয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে নতুন দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানে এই বৈঠক হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই বুধবার পাকিস্তানে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে। এমনকি কোনো সমঝোতা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন। অন্যদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি তেহরান ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার আশায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে উত্তেজনা এখনো কাটেনি। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন অবরোধ ও ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। দেশটি আটক জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসবে। তবে তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। পাকিস্তান সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে পারে। ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদঃ রয়টার্স
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর তিনি এই ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি বিশ্বের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখনো স্পষ্ট নয়, জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আবার ফিরে গেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়। তাঁর ভাষায়, ইরানের সঙ্গে লেনদেন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকবে। অন্যদিকে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, মার্কিন অবরোধ চলতে থাকলে প্রণালী খোলা রাখা সম্ভব নয়। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, পরিস্থিতি এমন হলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। একই সঙ্গে সামরিক জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর প্রবেশ এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় প্রায় ২০টি জাহাজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হলেও বেশিরভাগই মাঝপথে ফিরে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় একসঙ্গে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা ছিল। এদিকে হরমুজ প্রণালি খোলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব উপাদান অন্য কোথাও স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই। সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও ইরান সীমিত সময়ের জন্য বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে আলোচনায় বড় অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .