মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে বাস্তবে এখনো খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ এ পথ ব্যবহার করছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নতুন শর্তের কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, লেবাননে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির বাকি সময় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খোলা থাকবে।
তবে একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস নৌবাহিনী জানায়, প্রণালি ব্যবহার করতে হলে তাদের নির্ধারিত কিছু শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, জাহাজ চলাচলের আগে ইরানের অনুমতি নেওয়া।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নিলে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল হবে নির্ধারিত রুটে এবং ইরানের অনুমোদন নিয়ে।
ঘোষণার পরও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। শুক্রবারের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচটি কার্গো জাহাজ ও একটি তেলবাহী জাহাজ ওমান উপসাগরে পৌঁছেছে। পারস্য উপসাগর থেকে কোনো তেল ট্যাংকার বের হয়নি। যাত্রীবিহীন একটি ক্রুজ জাহাজও সতর্কভাবে এই পথ অতিক্রম করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২১টি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতে কোনো টোল নেওয়া হবে না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধরনের টোল বা বাধা থাকবে না।
এর আগে খবর আসে, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার দাবি তুলতে পারে।
সবশেষ পরিস্থিতিতে বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো অপেক্ষা করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস সত্ত্বেও তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।
বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ CNN
পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ১৭ মে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি)। সংস্থাটির গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, সেই হিসেবে আগামী ২৭ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। আইএসির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ মে মুসলিম দেশগুলোতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওইদিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখা যেতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ এলাকা থেকে খালি চোখেও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মে থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। সে হিসেবে ২৭ মে ঈদুল আজহার প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরই নিশ্চিত হবে ঈদ উদযাপনের দিন।
পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে দেশটির মাটিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, মারা যাওয়া দুজন হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের মোহাম্মদ আবদুল হাই (৬১) এবং শেরপুরের শ্রীবরদীর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮)। আবদুল হাই মদিনায় এবং আল মামুন মক্কায় মারা যান। সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত ছয়জনই পুরুষ এবং তাদের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন মক্কায় ও পাঁচজন মদিনায় মারা গেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯২টি ফ্লাইটে ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ হজ মিশন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের পর দেশটির ইওয়াতে উপকূল ঘিরে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন রাজধানী টোকিও পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। কয়েক মিনিট ধরে সেখানে ভবন দুলতে দেখা যায়। সুনামি সতর্কতার আওতায় রয়েছে ইওয়াতে প্রিফেকচার, আওমোরি প্রিফেকচার এবং হোক্কাইডোর কিছু উপকূলীয় এলাকা। জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টেলিভিশন সম্প্রচারে বারবার উপকূল ও নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জাপানি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সতর্কবার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, “Tsunami! Evacuate!” এবং “Don’t turn back.” ইওয়াতে প্রিফেকচারের মিয়াকো বন্দরে ইতিমধ্যে ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হেনেছে। আরও বড় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোক্কাইডোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল, টোকাচি বন্দর, এরিমো শহর এবং আওমোরির হাচিনোহে বন্দরে সুনামি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এনএইচকে জানিয়েছে, ইওয়াতে ও আওমোরি উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরেও সুনামির লক্ষণ ধরা পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঢেউ দ্রুত উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরের একটি সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, ছোট ঢেউয়ের প্রভাবে নোঙর করা জাহাজ দুলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার সহায়তায় জাপানের মেরিটাইম সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্স একটি এসএইচ-৬০কে হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। ভূমিকম্পের পর টোকিও থেকে শিন-আওমোরি পর্যন্ত তোহোকু শিনকানসেন লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে আকিতা শিনকানসেন লাইনের চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .