বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের কম সময়ে একশোরও বেশি শিশুর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক আক্রান্ত এবং কানাডার মতো উন্নত দেশের হামমুক্ত মর্যাদা বাতিল , সব মিলিয়ে হাম এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্বেগজনক খবর আসতে শুরু করে। ছোট ছোট শিশুদের গায়ে লাল ফুসকুড়ি, তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের খবর দ্রুত হাসপাতালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬,৪৭৬টি শিশু সন্দেহভাজন হামের লক্ষণ নিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে বারো হাজার।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশীদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে ভিন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যু উভয়ই বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুইজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন।
সর্বশেষঃ ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভি জোটের সহায়তায় ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে সারা দেশে এই অভিযান সম্প্রসারিত হবে।
প্রশ্নটি স্বাভাবিক, কারণ বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের গল্প বলে আসছিল। ২০২৪ সালে প্রথম ডোজ বা এমআর-১ এর আওতা ছিল ৯৬.৬১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ ছিল ৯৬.১৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা নেমে আসে যথাক্রমে ৯২.৭৩ এবং ৯০.৭৮ শতাংশে। সমস্যা হলো, হামকে ঠেকাতে হলে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজ পেতে হয়। সেই সীমা পেরোতে না পারলেই ভাইরাসের জন্য ফাঁক তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রথম ডোজ সত্যিকারের কভারেজ আসলে ৮৬.১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এই ঘাটতি জমতে জমতে এখন প্রায় এক কোটি শিশু প্রথম ডোজ থেকে এবং দুই কোটি শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত।
"আমরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কার্যক্রমের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।"
মাহমুদুর রহমান, প্রধান, হাম ও রুবেলা জাতীয় যাচাই কমিটি, বাংলাদেশ
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও এতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরে নির্ধারিত হাম অভিযান পিছিয়ে যায়। গ্যাভি জোট ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য প্রায় ছয়শো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান ডিসেম্বর ২০২৫ বা জানুয়ারি ২০২৬-এ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে যায়। ২০২৫ সালে কোনো টিকাই কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাবেক ইপিআই কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বারী।
এবারের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো আক্রান্তদের বয়স। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে প্রথম হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, অনেক আক্রান্ত শিশুর বয়স মাত্র ছয় মাস, যারা এখনো টিকার বয়সে পৌঁছায়নি। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সে টিকা দেওয়ার সুযোগ এখনো তৈরিই হয়নি।
ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালের উপপরিচালক ফাতেমা আসমা খান বলেছেন, শিশুর জ্বর, বিশেষত ১০১, ১০২ বা তার বেশি হলে স্থানীয় ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। পেশাদার চিকিৎসকরাই সঠিক সহায়তা দিতে পারবেন।
বাংলাদেশের সংকট বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে মিলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকা অঞ্চলে আগস্ট ২০২৫ নাগাদ ১০টি দেশে প্রায় দশ হাজার ১৩৯ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ গুণ বেশি।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কানাডায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা বা পাহো কানাডার হামমুক্ত মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। ২০২৫ সালে কানাডায় ৫,৪৬৩টি সংক্রমণের খবর নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০০ সালে হাম নির্মূলের পর এবারই প্রথম একদশকের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে মারা গেছে তিনজন।
"প্রতিটি সম্প্রদায়ে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত না হলে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ না হলে এবং সময়মতো প্রাদুর্ভাবে সাড়া না দেওয়া হলে এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে।"
ডা. হান্স হেনরি পি. ক্লুজ, আঞ্চলিক পরিচালক, WHO ইউরোপীয় অঞ্চল
ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমে ৩৩,৯৯৮-এ নেমেছে বটে, তবে WHO এবং ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, এই অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর। ২০২৬ সালেও সেই অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা কর্মসূচির ব্যর্থতা নয়, আরও দুটি বৈশ্বিক শক্তি এই পুনরুত্থানকে জটিল করে তুলছে। একটি হলো টিকাবিরোধী মনোভাব বা ভ্যাকসিন হেজিতেন্সি, যা কোভিড মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, মিথ্যা তথ্যের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।
অন্যটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন হ্রাস। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন অর্থায়নে বড় কাটছাঁট হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত WHO-এর গ্লোবাল মিজেলস ও রুবেলা ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক তার বার্ষিক বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশ পেয়েছে। গ্যাভি জোটও তার ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কৌশলের জন্য তিন বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হামের টিকা সরবরাহে।
বাংলাদেশের জন্য পথ একটাই এবং সেটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন। দেশের প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজের আওতায় আনতে হবে। সরকার তিনটি ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথম ধাপে ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় অভিযান চলছে। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপে মে মাসের ৩ তারিখ থেকে ছয় মাস থেকে দশ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হবে।
বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলছেন, শিশুর জ্বর হলে ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান। হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক সহায়তা চিকিৎসায় জটিলতা কমানো সম্ভব। ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক বলে WHO নিজেই বলছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর টিকার কার্ড নিয়মিত আপডেট রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ে টিকা দিন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামের এই প্রত্যাবর্তন একটি সতর্কবার্তা। রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, প্রমাণিত টিকা আছে, অথচ বারবার একই ভুলের কারণে শিশুরা মরছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক মিথ্যা তথ্যের জোয়ারে এই সংকট কতটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে এখনই নেওয়া পদক্ষেপের উপর।
গরমের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, কখনো হঠাৎ বৃষ্টি আবার কখনো তীব্র রোদ। আর রোদে বাইরে বের হলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি অনেক সময় হিট স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জীবনঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। হিট স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা যখন শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সাধারণত দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পর এটি ঘটে। হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সহজ অভ্যাস মানলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রথমত, রোদে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সম্ভব হলে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তৃতীয়ত, বাইরে গেলে হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা ভালো। এতে শরীর সহজে বাতাস পায় এবং ঘাম শুকাতে সাহায্য করে। চতুর্থত, মাথায় টুপি, ছাতা বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে সরাসরি রোদের তাপ কম লাগে। পঞ্চমত, দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝেমধ্যে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। ষষ্ঠত, শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা মাথা ঘুরলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জায়গায় চলে যাওয়া উচিত। সপ্তমত, সম্ভব হলে লবণ ও পানি মিশ্রিত পানীয় বা ওআরএস খাওয়া শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত শীতল স্থানে যেতে হবে এবং শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন হিট স্ট্রোক বাড়ছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরমের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শহরে কংক্রিটের ঘনত্ব, গাছপালা কমে যাওয়া এবং যানবাহনের চাপও তাপমাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন। হিট স্ট্রোক কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়, এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই গরমে শরীরকে অবহেলা করা ঠিক নয়। পানি পান, বিশ্রাম এবং রোদের সময় সচেতনতা এই তিনটি অভ্যাসই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে। গরম যতই বাড়ুক, একটু সচেতন থাকলেই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, "দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।" কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণাটি সবার জন্য সঠিক নয়। আর এই তীব্র গরমে আমাদের মনে হতে পারে অতিরিক্ত পানি খেলে হয়তো শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ হবে এমনকি বারবার পিপাসা পেলে আমরা অধিক পরিমাণ পানি খাই। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান আপনার শরীরের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানবো, আপনার শরীরের ওজন এবং কাজের ধরন অনুযায়ী ঠিক কতটুকু পানি আপনার জন্য প্রয়োজন। ৮ গ্লাস পানির ধারণা কি ভুল? ১৯৪৫ সালে প্রথম '৮ গ্লাস পানি'র একটি গাইডলাইন সামনে আসে। কিন্তু মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যায়—আমরা প্রতিদিন যে খাবার (ফলমূল, সবজি, ডাল) খাই, তার থেকেও প্রচুর পানি শরীরে প্রবেশ করে। তাই ঢকঢক করে আলাদাভাবে ৮ গ্লাস পানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? পুষ্টিবিদদের মতে, পানির চাহিদা নির্ভর করে আপনার ওজনের ওপর। একটি সহজ হিসাব মনে রাখতে পারেন: আপনার শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩৫ মিলি পানি প্রয়োজন। হিসাবটি এমন: যদি আপনার ওজন ৬০ কেজি হয়, তবে ৬০ × ৩৫ = ২১০০ মিলি (অর্থাৎ ২.১ লিটার)। যদি আপনার ওজন ৮০ কেজি হয়, তবে ৮০ × ৩৫ = ২৮০০ মিলি (অর্থাৎ ২.৮ লিটার)। পিপাসা লাগলেই কি পানি খাবেন? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শরীর যখন পানির অভাব বোধ করে, তখন সে 'পিপাসা'র মাধ্যমে সংকেত দেয়। তাই জোর করে পানি পান করার চেয়ে পিপাসা মেটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে বয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পিপাসার সংকেত অনেক সময় কাজ করে না, তাদের নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করানো উচিত। কীভাবে বুঝবেন আপনি কম পানি খাচ্ছেন? আপনার শরীর নিজেই জানান দেবে যে সে তৃষ্ণার্ত। যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়, বুঝবেন আপনি ডিহাইড্রেটেড। আদর্শ রং হবে একদম হালকা হলুদ বা পানির মতো হয়। যদি বারবার ঠোঁট বা মুখ শুকিয়ে আসে। তারপরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ।এবং সবশেষে কোনো কারণ ছাড়াই দুর্বল লাগা। এই লক্ষণ গুলো দেখলেই বুঝবেন আপনার পানি খাওয়া কম হচ্ছে তাই নির্ধারিত পরিমাণ পানি অবশ্যই খাবেন অতিরিক্ত পানি পানে যে সমস্যা হতে পারে বেশি পানি পান করলে রক্তের সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপোনাট্রেমিয়া' বলে। এর ফলে মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া বা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই 'বেশি ভালো' মনে করে লিটার লিটার পানি পান করা বন্ধ করুন। কখন পানি পান করা জরুরি? ১. ঘুম থেকে উঠে: শরীরকে সচল করতে এক গ্লাস পানি চমৎকার কাজ করে। ২. ব্যায়ামের আগে ও পরে: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে। ৩. তীব্র গরমে: আমাদের দেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বেশি হয়, তাই পানির পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো উচিত।
দেশে হামের পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিনজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে সারাদেশে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই নতুন করে ৯৪৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিভাগওয়ারি চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগ। এখানে এক দিনেই ৩১৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং নতুন শনাক্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনই ঢাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে রংপুরের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে কম ৪২ জন ভর্তি রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোববার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .