হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে?

ডিপি প্রতিবেদন
ডিপি প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ৮:১৫
আপডেট: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ৮:২২
ছবিঃ কিপ্লা আফ্রিকা
ছবিঃ কিপ্লা আফ্রিকা

বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের কম সময়ে একশোরও বেশি শিশুর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক আক্রান্ত এবং কানাডার মতো উন্নত দেশের হামমুক্ত মর্যাদা বাতিল , সব মিলিয়ে হাম এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে।


মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্বেগজনক খবর আসতে শুরু করে। ছোট ছোট শিশুদের গায়ে লাল ফুসকুড়ি, তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের খবর দ্রুত হাসপাতালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬,৪৭৬টি শিশু সন্দেহভাজন হামের লক্ষণ নিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে বারো হাজার।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশীদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে ভিন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যু উভয়ই বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুইজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন।

সর্বশেষঃ  ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভি জোটের সহায়তায় ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে সারা দেশে এই অভিযান সম্প্রসারিত হবে।

কেন এত শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেল?

প্রশ্নটি স্বাভাবিক, কারণ বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের গল্প বলে আসছিল। ২০২৪ সালে প্রথম ডোজ বা এমআর-১ এর আওতা ছিল ৯৬.৬১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ ছিল ৯৬.১৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা নেমে আসে যথাক্রমে ৯২.৭৩ এবং ৯০.৭৮ শতাংশে। সমস্যা হলো, হামকে ঠেকাতে হলে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজ পেতে হয়। সেই সীমা পেরোতে না পারলেই ভাইরাসের জন্য ফাঁক তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রথম ডোজ সত্যিকারের কভারেজ আসলে ৮৬.১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এই ঘাটতি জমতে জমতে এখন প্রায় এক কোটি শিশু প্রথম ডোজ থেকে এবং দুই কোটি শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত।

"আমরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কার্যক্রমের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।"

মাহমুদুর রহমান, প্রধান, হাম ও রুবেলা জাতীয় যাচাই কমিটি, বাংলাদেশ

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও এতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরে নির্ধারিত হাম অভিযান পিছিয়ে যায়। গ্যাভি জোট ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য প্রায় ছয়শো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান ডিসেম্বর ২০২৫ বা জানুয়ারি ২০২৬-এ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে যায়। ২০২৫ সালে কোনো টিকাই কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাবেক ইপিআই কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বারী।

ছয় মাসের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না

এবারের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো আক্রান্তদের বয়স। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে প্রথম হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, অনেক আক্রান্ত শিশুর বয়স মাত্র ছয় মাস, যারা এখনো টিকার বয়সে পৌঁছায়নি। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সে টিকা দেওয়ার সুযোগ এখনো তৈরিই হয়নি।

ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালের উপপরিচালক ফাতেমা আসমা খান বলেছেন, শিশুর জ্বর, বিশেষত ১০১, ১০২ বা তার বেশি হলে স্থানীয় ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। পেশাদার চিকিৎসকরাই সঠিক সহায়তা দিতে পারবেন।

বিশ্বের চিত্র: কানাডাও পিছিয়ে পড়েছে

বাংলাদেশের সংকট বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে মিলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকা অঞ্চলে আগস্ট ২০২৫ নাগাদ ১০টি দেশে প্রায় দশ হাজার ১৩৯ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ গুণ বেশি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কানাডায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা বা পাহো কানাডার হামমুক্ত মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। ২০২৫ সালে কানাডায় ৫,৪৬৩টি সংক্রমণের খবর নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০০ সালে হাম নির্মূলের পর এবারই প্রথম একদশকের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে মারা গেছে তিনজন।

"প্রতিটি সম্প্রদায়ে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত না হলে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ না হলে এবং সময়মতো প্রাদুর্ভাবে সাড়া না দেওয়া হলে এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে।"

ডা. হান্স হেনরি পি. ক্লুজ, আঞ্চলিক পরিচালক, WHO ইউরোপীয় অঞ্চল

ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমে ৩৩,৯৯৮-এ নেমেছে বটে, তবে WHO এবং ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, এই অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর। ২০২৬ সালেও সেই অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে।

টিকাবিরোধী মনোভাব এবং মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ছায়া

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা কর্মসূচির ব্যর্থতা নয়, আরও দুটি বৈশ্বিক শক্তি এই পুনরুত্থানকে জটিল করে তুলছে। একটি হলো টিকাবিরোধী মনোভাব বা ভ্যাকসিন হেজিতেন্সি, যা কোভিড মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, মিথ্যা তথ্যের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।

অন্যটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন হ্রাস। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন অর্থায়নে বড় কাটছাঁট হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত WHO-এর গ্লোবাল মিজেলস ও রুবেলা ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক তার বার্ষিক বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশ পেয়েছে। গ্যাভি জোটও তার ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কৌশলের জন্য তিন বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হামের টিকা সরবরাহে।

আমাদের করণীয় এখন কী?

বাংলাদেশের জন্য পথ একটাই এবং সেটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন। দেশের প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে উভয় ডোজের আওতায় আনতে হবে। সরকার তিনটি ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথম ধাপে ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় অভিযান চলছে। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপে মে মাসের ৩ তারিখ থেকে ছয় মাস থেকে দশ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলছেন, শিশুর জ্বর হলে ওষুধের দোকানে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান। হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক সহায়তা চিকিৎসায় জটিলতা কমানো সম্ভব। ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক বলে WHO নিজেই বলছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর টিকার কার্ড নিয়মিত আপডেট রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ে টিকা দিন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামের এই প্রত্যাবর্তন একটি সতর্কবার্তা। রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, প্রমাণিত টিকা আছে, অথচ বারবার একই ভুলের কারণে শিশুরা মরছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক মিথ্যা তথ্যের জোয়ারে এই সংকট কতটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে এখনই নেওয়া পদক্ষেপের উপর।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য থেকে আরো

আরো দেখুন
হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে
হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা শিশুর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় আধুনিক চিকিৎসার বদলে কবিরাজি বা কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই হাম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, হাম হলে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। অনেকে মনে করেন শরীর ভেজালে হামের গুটি ভেতরে বসে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। হাম হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই কুসুম কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে গোসল করানো অত্যন্ত জরুরি। শরীর পরিষ্কার না রাখলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেকটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস হলো, হাম হলে শিশুকে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ানো যাবে না। বলা হয় এসব খাবার খেলে রোগ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, হামের সময় শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে শিশুকে আরও বেশি করে প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন যাতে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে মনে করেন হাম বা 'বসন্ত' কোনো দৈব ঘটনা, তাই এর জন্য ঝাড়ফুঁক বা নিমপাতা দিয়ে শরীর ঝাড়ানোই যথেষ্ট। এই কুসংস্কারের কারণে অনেক বাবা-মা শিশুকে হাসপাতালে নিতে দেরি করেন। মনে রাখবেন, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেইন ইনফেকশন বা অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে লালচে দানা বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে কোনো কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আরো পড়ুনঃ হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে? অনেকে মনে করেন একবার হামের টিকা দিলে আর কখনোই হাম হবে না, তাই দ্বিতীয়বার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি বড় ভুল। শিশুদের সুরক্ষার জন্য হামের দুটি ডোজই পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটি না দিলে শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই সরকারি টিকা কার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, হাম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আপনার অবহেলা বা ভুল বিশ্বাসের কারণে শিশুর বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার শিশুর জীবন বাঁচাতে।

ডিপি প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ হাম ভাইরাস , CBC

দেশে হামের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

ছবিঃ কিপ্লা আফ্রিকা

হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে?

হামে মৃত্যু ৯৪, হাসপাতালে ৫ হাজারের বেশি শিশু

রোববার থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান শুরু, অগ্রাধিকার পাবে যারা

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। গত বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ (GAVI) থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার নেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে শিশুদের দেওয়া হবে। এতদিন নিয়মিত কর্মসূচিতে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা টিকার আওতায় থাকত। কিন্তু এবারের আপৎকালীন কর্মসূচিতে বয়সসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে  ৬ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত সব শিশু-কিশোর টিকা নিতে পারবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ভেসে বেড়ানো ড্রপলেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ভাইরাস বাতাসে বা কোনো বস্তুর উপরিভাগে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। রোগটি শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত '৩C' সূত্র অনুসরণ করেন কফ, কোরাইজা অর্থাৎ তীব্র সর্দি এবং কনজাংকটিভাইটিস বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া। এর পাশাপাশি থাকে তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিনের মধ্যে মুখ থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া র‍্যাশ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ এবং এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাম প্রতিরোধে টিকাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। সাধারণত এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুটি ডোজে দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। আক্রান্ত শিশুর সেবায় মন্ত্রণালয় কয়েকটি বিষয়ে জোর দিয়েছে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা মাত্রাতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, কোনো এলাকায় রোগের বিস্তার ঠেকাতে হলে সেখানকার অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। তাই নিজের সন্তানের পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকা নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতন থাকতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিপি প্রতিবেদন ৩ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ ইন্টারনেট

গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা রোজায় কী খাবেন কী খাবেন না?

ছবিঃ ইন্টারনেট

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? ৯০% মানুষ ভুল জানেন!

ছবিঃ দিগন্ত পোস্ট মিডিয়া

রাতে ঘুমানোর আগে এই একটি কাজ করলে কখনো ডায়াবেটিস হবে না

ছবিঃ ক্যানভা
আইবিএস রোগীরা ইফতার ও সেহরিতে যা খাবেন

রমজান মাস এলেই লাখো মানুষ রোজা রাখেন  আধ্যাত্মিক শুদ্ধির এই মাসে খাবার-দাবারের ছন্দটাই আমূল বদলে যায়। কিন্তু যাঁরা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস-এ ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তনটা শুধু কষ্টকর নয় কখনো কখনো রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক। জানুন আইবিএস আক্রান্ত রোগীরা ইফতার ও সেহেরি কী কী খাবেন এবং কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন।  দীর্ঘ উপবাসের পর হঠাৎ ভাজাপোড়া আর মশলাদার খাবার পেটে পড়লে গ্যাস, পেট ফাঁপা আর খিঁচ ধরার মতো উপসর্গ চোখের পলকে মাথাচাড়া দেয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটু সচেতনভাবে খাবার বেছে নিলে আইবিএস রোগীরাও সুস্থভাবে রোজা পালন করতে পারেন। ইফতারে প্রথম কামড়টা হোক হালকা সারাদিন না খেয়ে থাকার পর পেট সহজেই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাই ইফতারে একেবারে প্রথমেই বেগুনি-পিঁয়াজু দিয়ে শুরু করার প্রবণতাটা আইবিএস রোগীদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবর্তে শুরু হোক চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা ডাবের পানি দিয়ে। ইসবগুলের ভুসি মেশানো পানি অন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। ফলের মধ্যে কলা সবচেয়ে নিরাপদ। পাকা পেঁপে বা বেলের শরবতও হজমে চমৎকার সহায়তা করে। চিড়া আর টক দই একসঙ্গে খেলে প্রোবায়োটিকের কাজ হয় — পেট ঠাণ্ডা থাকে, অস্বস্তি কম হয়। প্রোটিনের জন্য সেদ্ধ ডিম বা গ্রিলড চিকেন যথেষ্ট। এতটুকুই যথেষ্ট ইফতারের জন্য। অতিরিক্ত ঝাল-মশলার ছোলা ভুনা, কৃত্রিম রঙের শরবত — এগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। রাতের খাবার হোক সাদামাটা ইফতার ও সেহরির মাঝের রাতের খাবারটা আইবিএস রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এ সময় পেটে খুব বেশি চাপ দেওয়া ঠিক না। সাদা ভাত, পাতলা মাছের ঝোল আর লাউ বা পেঁপে দিয়ে রান্না করা তরকারি — এই সংমিশ্রণ আদর্শ। ডাল অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস তৈরি করে, তাই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করুন। সেহরিতে যা দিনভর শক্তি জোগাবে সেহরিতে দরকার এমন খাবার যা ধীরে ধীরে হজম হবে, দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেবে, আর পেটে ঝামেলা করবে না। লাল চাল বা সাদা ভাতের সঙ্গে চালকুমড়া, ঝিঙে বা পটলের মতো নরম সবজি এবং অল্প তেলে রান্না করা মাছ বা মুরগি ভালো বিকল্প। যাঁরা ভারী ভাত খেতে পারেন না, তাঁরা ওটস বা দই-চিড়া দিয়েও সেহরি সারতে পারেন। পানি পানের ব্যাপারে একটু কৌশলী হতে হবে। সেহরির শেষ মুহূর্তে এক নিঃশ্বাসে দুই গ্লাস পানি না খেয়ে, ইফতারের পর থেকে পুরো রাতটা জুড়ে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি যেমন পূরণ হবে, পেটেও চাপ পড়বে না। কিছু ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইবিএস রোগীদের জন্য খাবারের পাশাপাশি খাওয়ার ধরনটাও সমান জরুরি। তাড়াহুড়ো করে না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া উচিত — তাড়াতাড়ি খেলে পেটে বাতাস ঢোকে, যা আইবিএস-এর লক্ষণ বাড়িয়ে দেয়। যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাঁরা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। চা-কফি পেটের অন্ত্রে চাপ তৈরি করে, তাই ইফতারে চায়ের কাপের পরিবর্তে হার্বাল চা বা আদার পানি বেছে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রমজান আত্মসংযমের মাস। একটু সচেতনতা আর সঠিক পরিকল্পনা — এই দুটো থাকলে আইবিএস রোগীরাও এই মাসে সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে পারবেন।

ডিপি প্রতিবেদন ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ 0
ছবিঃ ইন্টারনেট

এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি

ভালো ঘুমাতে হলে ৬ টি পরামর্শ - ছবি পেক্সেলস

ঘুম না আসলে করণীয় কি ? ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় নিয়ে ৬ পরামর্শ

একজন গর্ভবতী নারী তলপেটে ব্যাথা অনুভব করছেন। ছবি - SutterStock

গর্ভাবস্থায় প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হয় কেন? প্রতিকার কি?