ঘুম না আসলে করণীয় কি ? ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় নিয়ে ৬ পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ | সকাল ১০:৩৩
ভালো ঘুমাতে হলে ৬ টি পরামর্শ - ছবি পেক্সেলস
ভালো ঘুমাতে হলে ৬ টি পরামর্শ - ছবি পেক্সেলস

আজকাল অনেকেরই রাতে ঘুম আসে না। অনেকে অনেক চেষ্টা করেও ঘুমোতে পারেন না। সমস্যাটি একটি কমন সমস্যা যা এই জেনারেশনকে জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই রাতে ঘুম না আসলে করণীয় কি এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায় সম্পর্কে আজকের এই পরামর্শ -  যা মেনে চললে ১ মিনিটেও আপনার ঘুম আসতে বাধ্য। 

আমাদের শরীরে মেলাটোনিন এবং এডিনোসিন এক হরমোন বিদ্যমান থাকে যেটিকে বলা হয় ঘুমের হরমোন।  এডিনোসিন দৈনন্দিন বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়। যখন এটি অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পায় তখন শরীরে অধিক পরিমাণে ঘুমের চাপ সৃষ্টি করে। আর ঘুম না আসার প্রধান কারণ হলো শরীর থেকে মেলোটোনিন এবং এডিনোসিন হরমোনের যথেষ্ট অনুপস্থিতি।  

এক গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীতে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কোন কাজ ছাড়াই রাতে জেগে থাকেন।  এর কারণটা ঠিক অনেকেই বুঝতে পারেন না।  অনেকে নিজেও জানেন না তিনি কেন জেগে থাকেন। তবে  অনেককেই বলতে দেখা যায় রাতে ঘুম আসে না তাদের, এই দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যার মধ্যে অন্যটি হলো রাতে ঘুম না আসার সমস্যা।  এই সমস্যাটি বেশিদিন থাকলে যেমন আপনার মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে বিঘ্নতা ঘটাবে এমনকি আপনার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতেও বাধ্য করবে। 

রাতে ঘুম না আসলে করণীয় কি

আপনার যদি রাতে ঘুম না আসে , তাহলে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর জন্য যে নিয়মগুলো আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে - 

১. বিকেলে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন

আজকালকার বেশিরভাগ মানুষদের দেখা যায় তারা রাত জাগে এবং দিনের বেলায় অধিক পরিমাণে ঘুমায়।  আর বিকেল বেলা ঘুমানোর কারণে অনেকেরই রাতের বেলা ঘুম না আসাটাই স্বাভাবিক।  এক্ষেত্রে ঘুমের অভ্যাসটা পরিবর্তন করতে হবে।  যেমন আপনার যদি বিকেল বেলা অধিক পরিমাণে ঘুম আসে তাহলে ঘুমানো যাবেনা। এক্ষেত্রে আপনি চা বা কফি খেয়ে নিজের ঘুমটাকে কন্ট্রোল করতে হবে। এভাবে বিকেলে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করলে রাতের বেলা তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসতে বাধ্য হবে। আপনি পেয়ে গেলেন বিকেলে না ঘুমিয়ে কিভাবে ঘুমাবো প্রশ্নের উত্তর। 

২. শারীরিক পরিশ্রম করুন

একটি ভালো ঘুমের জন্য শারীরিকভাবে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে আপনি ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করতে পারেন,  কেননা শারীরিকভাবে পরিশ্রম করলে শরীর এবং মস্তিষ্ক দুটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।  এক্ষেত্রে অনায়াসে অধিক পরিমাণে ঘুম চলে আসে। পরিশ্রম করলে শরীরে এডিনসিন নামক একটি হরমোন এর মাত্রা বৃদ্ধি পায় ।বলা যায় শারীরিক পরিশ্রম আমাদের ১ মিনিটে ঘুম তৈরি করতে সহায়তা করে। 

৩. স্ক্রিনের আলো এড়িয়ে চলুন

ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট টাইম সেট করুন যে আপনি কখন ঘুমাবেন। এরপরে ওই নির্দিষ্ট টাইমের ঠিক দুই ঘন্টা আগে আপনি যেকোনো ধরনের ডিভাইস এর ডিসপ্লের আলো থেকে দূরে থাকুন। কারন মোবাইলের কিংবা কম্পিউটারের ক্ষতিকর ব্লু রশ্নি আমাদের শরীরের মেলাটোনিন উৎপাদন মাত্রা কমিয়ে দেয় যার কারণে আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

৪. ASMR কনটেন্ট শ্রবণ করা 

ইউটিউবে অনেক ধরনের ASMR ভিডিও কন্টেন্ট পাওয়া যায়। ঘুমানোর আগে এগুলো শুনতে এবং দেখতে পারেন। ASMR-এর শব্দগুলো (যেমন ফিসফিস, ট্যাপিং, ব্রাশিং) মস্তিষ্কের রিল্যাক্সেশন সেন্টার সক্রিয় করে। ফলে স্ট্রেস কমে, মন শান্ত হয়। ফলে শরীর আরাম পায়, টেনশন কমে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই ঘুম চলে আসে।

আপনি যদি এগুলো না শুনতে চান তাহলে কুরআন তেলাওয়াত শুনতে পারেন। এক্ষেত্রেও আপনার তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। 

৫. ঘুমানোর আগে ঘরের লাইট বন্ধ করুন

আমাদের ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমাদের মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।  আর আমাদের মস্তিষ্ককে শক্তিও রাখতে আমাদের চোখ অধিক পরিমাণে ভূমিকা পালন করে।  আর যখন চোখের উপরে আলোর প্রতিফলন হয় তখন মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে তাই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।  এক্ষেত্রে ঘুমানোর জন্য অবশ্যই একটি নিরিবিলি রুম বেছে নিন এবং অবশ্যই ঘরের সমস্ত জানালা দরজা এবং সমস্ত লাইট বন্ধ করুন। 

৬. রাতের বেলা চা-কফি পানাহার থেকে বিরত থাকুন

আমাদের অনেকের রাতের বেলা চা কিংবা কফি না হলে হয় না,  এই অভ্যাসটি ঘুমের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। চা বা কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ঘুম আনার জন্য দায়ী এডিনোসিন নামের হরমোন কে বাঁধাগ্রস্থ করে, ফলে মস্তিষ্ক “ঘুমানোর সময় হয়নি” এমন সিগনাল পায়। ক্যাফেইন আবার হৃদস্পন্দন একটু বাড়ায়, স্নায়ুকে সতর্ক করে এবং শরীরকে জাগ্রত অবস্থায় রাখে। এই কারণেই চা বা কফি খেলে ঘুম আসতে দেরি হয় বা ঘুম নষ্ট হয়ে যায়।
 


মানুষের জীবনের এক অতীব প্রয়োজনীয় চাহিদার নাম হলো ঘুম।  এই পৃথিবীতে যত লোভনীয় জিনিস আছে তার মধ্যে অন্যতম বলা যায় ভালো ঘুম অর্থাৎ যাদের অনায়াসে দুচোখের পাতায় ঘুম চলে আসে তারাই হয়তো পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষ।  ভালো ঘুম যেমন মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে তেমনি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর সুস্থ স্বাভাবিক ঘুম হলে মানুষ তার দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজকর্ম করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আশা করি আপনার খুব সহজে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে ঘুম চলে আসবে এবং আপনি স্বাচ্ছন্দ্যময় একটি জীবন উপভোগ করতে পারবেন। 

 

বিষয়

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য থেকে আরো

আরো দেখুন
গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা ও জরুরি কিছু নিয়ম

গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি মায়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে গর্ভের শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি হওয়া শুরু হয়। তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি হবু মায়ের জন্যই একটি বিশেষ এবং স্পর্শকাতর সময়। এই শুরুর দিনগুলোতে গর্ভের শিশুর শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো তৈরি হওয়া শুরু হয়, তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ধকল কাটাতে সাহায্য করে। এই সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু সহজ ও পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত যা হজম করা সহজ এবং যা শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে। প্রথম ৩ মাসে ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক গঠনের জন্য প্রথম ৩ মাস ফলিক অ্যাসিড খাওয়া অনেক জরুরি। এর জন্য আপনার প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, লাল শাক এবং ব্রকলি রাখা উচিত। পাশাপাশি ডাল, শিম এবং বিভিন্ন ধরণের লেবুতে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই খাবারগুলো মায়ের শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতেও দারুণ কাজ করে। ডিম ও চর্বিহীন মাংস ডিমকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউজ। গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রতিদিন অন্তত একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ডিমে থাকা প্রোটিন এবং কোলিন শিশুর কোষ গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া চর্বিহীন মুরগির মাংস এবং ছোট-বড় মাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়, যা এই সময়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করে। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করার জন্য এই সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম দরকার। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস ফোটানো তরল দুধ বা এক বাটি টকদই খাওয়ার চেষ্টা করুন। যারা সরাসরি দুধ খেতে পারেন না বা যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা ছানা বা পনির খেতে পারেন। এটি মায়ের শরীরের হাড়ের ক্ষয় রোধ করতেও সাহায্য করে। শুকনো ফল ও বাদাম প্রথম ৩ মাসে অনেক মায়েরই সকালের দিকে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরার সমস্যা হয়। এই সময়ে এক মুঠো কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা চিনা বাদাম খেলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। শুকনো ফল যেমন খেজুর বা কিসমিসও এই সময়ে বিকেলের নাস্তা হিসেবে খুব ভালো ও পুষ্টিকর অপশন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার এই সময়ে শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। বমি বা গ্যাস্ট্রিকের কারণে শরীর যেন ডিহাইড্রেটেড না হয়ে পড়ে, সেজন্য দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করুন। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের রস খেতে পারেন। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রথম ৩ মাসে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন কিছু খাবার গর্ভাবস্থার শুরুতে বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম ও মাংস, অপাস্তুরিত দুধ, এবং কাঁচা পেঁপে বা আনারস। এই খাবারগুলো গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এবং বাইরের খোলা বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত। প্রথম ৩ মাসের কিছু জরুরি টিপস একবারে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে ৪-৫ বার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে বমি ভাব ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক কমে আসবে। খাবার তালিকায় বৈচিত্র্য রাখুন যেন সব ধরণের পুষ্টি শরীর সমানভাবে পায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে অবহেলা করবেন না। উপসংহার গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস একটু সাবধানে এবং নিয়ম মেনে চললে পুরো জার্নিটা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের পছন্দের এবং পুষ্টিকর খাবারগুলো তালিকায় রাখুন। যেকোনো নতুন খাবার নিয়মিত শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার গাইনি ডাক্তারের সাথে একবার কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। মুক্ত বাতাসে হালকা হাঁটাচলা করুন এবং সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত ও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।

দিগন্ত প্রতিবেদন ২২ মে, ২০২৬ 0

দেশের ২০ শতাংশ মানুষই থাইরয়েডে আক্রান্ত, জন্মের পরপরই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে ৫টি বিপদ আসে

রাতে ঘুমানোর আগে এই ১টি কাজ করুন, ডায়াবেটিস কমবে ম্যাজিকের মতন

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে মায়ের শরীরের পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধিও নির্ভর করে সঠিক পুষ্টির ওপর। ফল এমন একটি খাবার যা ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও প্রাকৃতিক পুষ্টিতে ভরপুর। তাই অনেকেই জানতে চান গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত এবং কোন ফল মা ও শিশুর জন্য বেশি উপকারী। গর্ভাবস্থায় ফল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়। এছাড়া এটি হজম ভালো রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার উপকারিতা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ফল খাওয়া মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের নানা ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। এই সময়ে সঠিক পুষ্টি না পেলে মা দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা জরুরি। ১. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে বিভিন্ন ফলে থাকা ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক, হাড় ও শরীরের স্বাভাবিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিড শিশুর জন্মগত কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ২. মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় গর্ভাবস্থায় শরীর তুলনামূলক সংবেদনশীল থাকে। কমলা, মাল্টা, পেয়ারা বা আমলকির মতো ফলে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ৩. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কলা, আপেল, পেয়ারা ও নাশপাতির মতো ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। ৪. শরীরে পানির ঘাটতি কমায় তরমুজ, কমলা, মাল্টা বা আঙুরের মতো ফলে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এতে ক্লান্তি ও দুর্বলতাও কিছুটা কমে। ৫. রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ডালিম, খেজুর ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। এতে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় একটি সাধারণ সমস্যা। ৬. প্রাকৃতিকভাবে শক্তি যোগায় গর্ভাবস্থায় দ্রুত ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। তাই অনেক চিকিৎসক হালকা ক্ষুধা লাগলে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ফল সাধারণত কম চর্বিযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুডের বদলে ফল খেলে অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমে। ৮. ত্বক ও শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে অনেক ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীর সতেজ ও ফ্রেশ অনুভব করতেও সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত ১. কলা কলা গর্ভবতী নারীদের জন্য খুব উপকারী একটি ফল। এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ফাইবার থাকে। উপকারিতা: বমিভাব কমাতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, শরীরে শক্তি যোগায় ২. আপেল আপেলে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। উপকারিতা:, হজম ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শিশুর ফুসফুসের বিকাশে সহায়ক হতে পারে ৩. কমলা ও মাল্টা কমলা জাতীয় ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকে। উপকারিতা: শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীরকে হাইড্রেট রাখে ৪. ডালিম গর্ভাবস্থায় ডালিম খুবই উপকারী বলে মনে করেন অনেক পুষ্টিবিদ। উপকারিতা:, রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে, আয়রনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক, শিশুর বৃদ্ধি ভালো রাখতে সাহায্য করে ৫. আম পরিমাণমতো পাকা আম খাওয়া যেতে পারে। উপকারিতা: ভিটামিন এ ও সি সরবরাহ করে, শরীরের শক্তি বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে তবে অতিরিক্ত আম খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে। ৬. পেয়ারা পেয়ারায় ভিটামিন সি ও ফাইবার অনেক বেশি থাকে। উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে ৭. আঙুর পরিমাণমতো আঙুর খাওয়া যেতে পারে। উপকারিতা: শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে , ক্লান্তি কমাতে সহায়ক, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে ৮. অ্যাভোকাডো অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফলিক অ্যাসিড থাকে। উপকারিতা: শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক, মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কমায় গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন ফল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপরে পরিমাণমতো খান , কারন অতিরিক্ত ফল খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।  তারপর আবার কাটা ফল বাইরে থেকে না খাওয়াই ভালো , রাস্তার কাটা ফল অনেক সময় জীবাণুযুক্ত হতে পারে। আর অবশ্যই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল নির্বাচন করুন কারন ব্যক্তিভেদে খাদ্য চাহিদা ভিন্ন হতে পারে, তাই বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৬ মে, ২০২৬ 0

কিভাবে আপনার বাচ্চাকে হাম থেকে সুরক্ষা দিবেন?

stroke

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে কী ক্ষতি হয়? যা অনেকেই জানেন না

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে কী ক্ষতি হয়? যা অনেকেই জানেন না

ডায়াবেটিসের রোগীদের হজের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত
ডায়াবেটিসের রোগীদের হজের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো,  ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন । খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ডিপি প্রতিবেদন ২১ এপ্রিল, ২০২৬ 0
নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত

দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? ৯০% মানুষ ভুল জানেন!

হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে

হাম নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে