দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদ করার জন্য আগামী ৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটের কাজ শেষ করে একটি নির্দিষ্ট গুগল ফর্মে তথ্য জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা এক আদেশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীনে থাকা অফিস ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট চালু থাকলেও সেখানে দরকারি তথ্য নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে না। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নির্দেশনা রয়েছে, যা অনেকেই মানছেন না। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্য, পরীক্ষার নোটিশ বা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত আপডেট না থাকায় তারা প্রায়ই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মাউশির এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ঘরে বসেই সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানার মতো জরুরি বিষয়গুলো খুব সহজেই জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, তেমনি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় এবং হয়রানি দুটোই কমে আসবে। মাউশি তাদের আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী সব অফিসের ওয়েবসাইটে কর্মরতদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট সবার সামনে তুলে ধরা এখন বাধ্যতামূলক। তাই আগামী ৪ জুনের মধ্যে মাউশির আওতাধীন সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিসসহ স্কুল-কলেজগুলোকে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি অথবা হালনাগাদ নিশ্চিত করতে হবে। কাজ শেষ করে নির্ধারিত একটি গুগল ফর্ম লিংকে (https://forms.gle/RbTAqoNqi3FVdg5u7) দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার জন্যও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর জন্য এবার যুক্ত হলো একেবারে নতুন একটি শর্ত। সরাসরি চাকরিতে যোগদানের আগে তাদের এখন ২ থেকে ৩ মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং সেই প্রশিক্ষণ শেষে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষায় পাস করলেই কেবল মিলবে চূড়ান্ত নিয়োগের সুযোগ। প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ইতিমধ্যে এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির মডিউল তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। খুব শিগগিরই তারা এই মডিউলটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সাথে বৈঠক করে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। নেপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মাধ্যমে অপেক্ষমাণ এই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সাধারণত পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণ ১০ মাসের হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে পিটিআই কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের সার্বিক দক্ষতা যাচাই করবে। আর একেবারে শেষ ধাপে নেপের তৈরি করা নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রে প্রার্থীদের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় বসতে হবে। দুই ধাপের এই মূল্যায়নের ফলাফল মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরই চূড়ান্ত যোগদানের সিদ্ধান্ত আসবে। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কঠিন ধাপগুলো পার হওয়ার পরও নতুন করে এই প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার শর্ত অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের মনে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করেছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর থেকে এই ১৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষক শুধু একটি নিয়োগপত্রের আশায় বসে আছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত এপ্রিলের শেষ দিকে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলনও করেন। তবে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, সাময়িকভাবে এই শর্তটি প্রার্থীদের জন্য কষ্টের হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সরাসরি চাকরিতে ঢোকার আগেই এই প্রশিক্ষণের ফলে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সঠিক ও আধুনিক নিয়মকানুন সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠবেন, যার আসল সুফল পাবে দেশের লাখ লাখ কোমলমতি শিক্ষার্থী। নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনই খুব বেশি বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতির যাবতীয় বিষয় নিয়ে তৈরি করা মডিউলটি মন্ত্রণালয়ে সভার পরই চূড়ান্ত রূপ পাবে। এর আগে টানা আন্দোলনের মুখে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, একটি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ শেষেই এই শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের স্বপ্নের কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণি এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির সময় বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২২ মে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে পারবে। রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে তথ্য এন্ট্রির শেষ সময় ছিল ১৪ মে। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধ এবং কারিগরি জটিলতার বিষয় বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করতে পারবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপশন বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু তথ্য এন্ট্রির সময়ই নয়, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা উপদেষ্টা কমিটির সভার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সুপারিশকৃত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ৪ জুন পর্যন্ত HSP/PMEAT-এ পাঠাতে পারবেন। এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর মধ্যে। কারণ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সমস্যা, তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব এবং সফটওয়্যার জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে পারেনি। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি সময় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ উপবৃত্তির এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়ার বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে তথ্য এন্ট্রি বা কারিগরি জটিলতা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে। অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ০১৩১৬৬৫৮২৩০ এবং ০১৩১৬৬৫৮৫২৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বাংলাদেশে ২০১৫ সালের পে স্কেল কাঠামোতে বেতন চলমান রয়েছে, এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে তবে এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। আবার এই সময়ে অনেকেই কলেজে প্রভাষক পদের বেতন নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন। বিশেষ করে যারা নতুন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা পরিবারে কেউ শিক্ষকতায় আছেন, তাদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক পদটি সাধারণত নবম গ্রেডভুক্ত। তবে সরকারি কলেজ ও এমপিওভুক্ত (বেসরকারি কিন্তু সরকারিভাবে বেতনপ্রাপ্ত) কলেজে বেতন কাঠামো কিছুটা ভিন্ন হয়। এমপিওভুক্ত কলেজ প্রভাষকের বেতন বর্তমান পে স্কেল অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক পদে (৯ম গ্রেড) শুরুতে মূল বেতন থাকে প্রায় ২২,০০০ টাকা। এর সাথে যোগ হয়: বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রায় ১,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রায় ৫০০ টাকা সব মিলিয়ে মোট বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২৩,৫০০ টাকার মতো। তবে কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধার জন্য ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার পর হাতে পাওয়া টাকা কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে বাস্তব হিসেবে টেক হোম স্যালারি প্রায় ২১,০০০ থেকে ২১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকে বলে বিভিন্ন সরকারি বেতন কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায় সরকারি কলেজ প্রভাষকের বেতন সরকারি কলেজে প্রভাষকের পদও নবম গ্রেডে থাকে, তবে এখানে সুবিধা তুলনামূলক বেশি। মূল বেতন একই হলেও ভাতা অনেক বেশি হয়। সাধারণভাবে সরকারি কলেজ শিক্ষকরা পান: মূল বেতন (নবম গ্রেড) বাড়ি ভাড়া ভাতা চিকিৎসা ভাতা উৎসব ভাতা বছরে দুইবার বৈশাখী ভাতা শুধু উৎসব ভাতা হিসেবে সরকারি কলেজ শিক্ষকরা মূল বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পান, এ কারণে সরকারি কলেজ প্রভাষকের মোট আয় এমপিওর তুলনায় অনেক বেশি হয়। কেন বেতনে এত পার্থক্য একই “প্রভাষক” পদ হলেও সরকারি ও এমপিও কলেজের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ভাতা ও সুবিধা কাঠামো। সরকারি কলেজে পেনশন, নিয়মিত পদোন্নতি এবং বেশি ভাতা থাকে। অন্যদিকে এমপিও কলেজে মূল বেতন একই হলেও ভাতা সীমিত থাকে। এটাই দুই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পার্থক্য। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, একজন নতুন প্রভাষকের বেতন দিয়ে শহরে জীবনযাপন অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঢাকা বা বড় শহরে ভাড়া, খাবার ও যাতায়াত খরচ বাড়ার কারণে অনেক শিক্ষক অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউশন বা অন্য কাজের ওপর নির্ভর করেন। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, শিক্ষকদের মান উন্নত করতে হলে শুধু বেতন নয়, ভাতা ও কর্মপরিবেশেও ভারসাম্য আনা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বেতন কাঠামো সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বেতন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ সরকারি গেজেট বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপডেট দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যুগের পর যুগ ধরে পাঠ্যবইয়ে চলে আসা একপেশে ও বিকৃত ইতিহাসের দিন শেষ হতে চলেছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা হাতে পাবে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো ও প্রকৃত ইতিহাস সমৃদ্ধ বই। যেখানে শুধু মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসই নয়, বরং স্থান পাবে ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, নতুন সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ের এই বিশাল পরিবর্তনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি জানান, অতীতে বইগুলোতে যে ঐতিহাসিক বিচ্যুতি ছিল, এবার বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তা নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কোন বীরের কী অবদান ছিল, তা এখন সঠিকভাবে তুলে ধরা হবে। এই সংস্কার কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষকদের নিয়ে গঠিত প্রায় ৩২০ জনের একটি দল কাজ করছে। সম্প্রতি বগুড়ায় চার দিনের একটি আবাসিক কর্মশালাও শেষ হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬০১টি বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে এনসিটিবি। শুধু ইতিহাস নয়, আইসিটি বইয়েও আসছে বড় চমক। পুরোনো ধ্যানধারণা বাদ দিয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির আইসিটি বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও ডিজিটাল আসক্তি কমাতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বই আসছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষার একটি বই রাখা হচ্ছে। এনসিটিবির এই উদ্যোগটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি 'গেম চেঞ্জার' হতে পারে। বিশেষ করে পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি তরুণ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আরও সাহসী করবে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের মোবাইল বা ইন্টারনেট আসক্তি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। এই আসক্তি কাটাতে চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলাভিত্তিক বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দের সঙ্গে শেখার (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস) যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা মনস্তাত্ত্বিকভাবে শিশুদের জন্য দারুণ উপকারী হবে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, সরকার ২০২৮ সাল থেকে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’ চালু করতে চাইছে, যেখানে বইয়ের সংখ্যা কমে ব্যবহারিক শিক্ষা বাড়বে। মুখস্থনির্ভর জিপিএ-৫ এর পেছনে না ছুটে শিক্ষার্থীরা যদি প্রযুক্তি (যেমন- এআই) ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ হয়ে ওঠে, তবে তা অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের হতাশা দূর করবে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা নিখুঁতভাবে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে পৌঁছায়। উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে গত কয়েক দশক ধরেই পাঠ্যবই একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের মতো করে ইতিহাস সাজিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সর্বস্তরে 'রাষ্ট্র সংস্কার'-এর যে দাবি ওঠে, শিক্ষাক্রম সংস্কার তারই একটি বড় অংশ।
দীর্ঘ আট বছরের বিরতি ভেঙে আবারও দেশের সেরা কলেজগুলো খুঁজে বের করার দারুণ এক উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক অফিস আদেশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পড়াশোনার মান ও সার্বিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এবার জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ৮৮টি সেরা কলেজ নির্বাচন করা হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ এই আদেশে সই করেছেন। আদেশ থেকে জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে সেরা ৮টি কলেজ এবং দেশের প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০টি করে আরও ৮০টি সব মিলিয়ে ৮৮টি সেরা কলেজকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র্যাংকিং ২০২৫’। কলেজ বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি হবে নির্ধারিত কর্মদক্ষতা সূচক বা কেপিআই। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে কলেজগুলো কেমন করেছে, সেই তথ্য দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। আগামী ১৮ জুনের (২০২৬) মধ্যে অনলাইনে এই তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষরা নিজস্ব কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে ঢুকে এই ‘তথ্য ছক’ পূরণ করতে পারবেন। বাছাই পর্ব শেষে নির্বাচিত সেরা কলেজগুলোর তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ে একটি বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শত শত সরকারি-বেসরকারি কলেজ রয়েছে, কিন্তু সবগুলোর পড়াশোনার পরিবেশ ও মান এক নয়। এই র্যাংকিংয়ের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন কোন কলেজটি পড়াশোনা, ফলাফল ও অন্যান্য কার্যক্রমে সেরা। এসএসসি বা এইচএসসি পাসের পর ভর্তির সময় সঠিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিতে এই তালিকা দারুণ গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, সেরা হওয়ার এই প্রতিযোগিতা কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যেও নিজেদের সেবার মান বাড়ানোর একটি সুস্থ তাগিদ তৈরি করবে। এতে দিন শেষে লাভবান হবে দেশের লাখো সাধারণ শিক্ষার্থী। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে এমন কলেজ র্যাংকিং প্রকাশ করেছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুরু করার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে লিখিত পরীক্ষা জানুয়ারিজুড়ে চলবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করা হবে। বুধবার (১৪ মে) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর একটি প্রাথমিক খসড়া সময়সূচি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হবে এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তা শেষ করা হবে। এরপর ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য রোজার ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পুরো পরীক্ষা শেষ করতে চায় সরকার। কারণ আগামী বছর ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজার ছুটি শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষামন্ত্রী আগেই ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ হঠাৎ করে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিপক্ষে মত দেয় এবং জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানায়। পরে দুই পক্ষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব আসে। তিনি আরও বলেন, এতে একদিকে যেমন শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে মিল থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও পুরো জানুয়ারি সময় পাবে পরীক্ষার জন্য। এদিকে ২০২৭ সালের এসএসসিতে প্রথমবারের মতো সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পুরোপুরি ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদরাসাগুলোতে একযোগে এই ছুটি কার্যকর হবে। তবে শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) শেষ ক্লাস শেষে ছুটিতে যাচ্ছে। কারণ ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিন থেকেই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান বন্ধ থাকবে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের মূল ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে। এরপর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। ৫ ও ৬ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ৭ জুন (রোববার) থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এই হিসাবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট প্রায় ১৬ দিনের ছুটি উপভোগ করবে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ছুটি আরও দীর্ঘ হবে। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকবে ২৪ মে থেকে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। এরপর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন (রোববার) থেকে ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ প্রায় ২১ থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি পাবে।
দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আজ সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যার মধ্যেই প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা পৌঁছে যেতে পারে। মাউশির অর্থ ও ক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানান, রোববারই বেতনের অর্থ ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অর্থ পাঠানো হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অ্যাকাউন্টে বেতন পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বেতন ছাড় হলেও এখনো ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা বা বোনাস অনুমোদন হয়নি। মাউশি সূত্র জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই জিও জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। মাউশির কর্মকর্তারা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বেতনের বিল জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন ছাড় করা হয়। পরে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকে বলছেন, ঈদের আগে বেতন হাতে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও উৎসব ভাতার অনুমোদন এখন তাদের বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ঈদ বোনাস দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপবৃত্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও হালনাগাদের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১০ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএমটি), এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) ও নিম্ন মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তথ্য আপডেটের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান। এ কারণে সময় বাড়ানো হয়েছে। উপবৃত্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি এবং পুরোনো শিক্ষার্থীদের তথ্য হালনাগাদের কাজ আগামী ১৪ মে পর্যন্ত করা যাবে। আগে এ কার্যক্রমের সময়সীমা ১০ মে পর্যন্ত ছিল। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে DTE Stipend MIS-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ মে পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএমটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভোকেশনাল স্কুলগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন? আর্থিক সংকটের কারণে পিছিয়ে আছেন? তাহলে আপনার জন্য এসেছে দারুণ এক সুযোগ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোব মাকি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম-২০২৬ এর আবেদন শুরু হয়েছে। এই বৃত্তির মাধ্যমে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। আবেদন করা যাবে ৮ মে ২০২৬ পর্যন্ত। এই স্কলারশিপের আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৭০ হাজার ইয়েন, অর্থাৎ বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার ইয়েন পাবেন। আর স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৬০ হাজার ইয়েন, বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার ইয়েন পাবেন। তবে কেউ যদি বছরে ২০ লাখ ইয়েনের বেশি অন্য কোনো স্কলারশিপ পান, তাহলে এই বৃত্তির অর্থ অর্ধেক করা হতে পারে। তবে JASSO বৃত্তি বা টিউশন ফি মওকুফ এর ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। স্কলারশিপ সাধারণত দুই বছরের জন্য দেওয়া হয়। তবে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মেধা ও অগ্রগতির ভিত্তিতে চার বছর বা তারও বেশি সময় বাড়ানো হতে পারে। আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে: অনলাইন আবেদনপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, আবাসিক সনদ, জিপিএ সনদ (যদি প্রয়োজন হয়), ভর্তি সনদ, ব্যক্তিগত বিবৃতি, চিকিৎসা সনদ এবং হালনাগাদ সিভি। যারা আবেদন করতে চান, তাদের অবশ্যই স্কলারশিপ চলাকালে জাপানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকতে হবে। স্নাতক পর্যায়ে আবেদনকারীদের তৃতীয় বর্ষ বা তার ওপরে পড়তে হবে। আর স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। জাপানে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য এটি হতে পারে বড় সুযোগ। সময় কম, তাই আগ্রহীরা দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আবেদন করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন
দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার বিল জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে বিল সাবমিট করতে বলা হয়েছে। বুধবার অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেল থেকে প্রকাশিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইএফটি পদ্ধতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি এমপিওর টাকা পাঠানো হয়। তাই এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার জন্য ইএমআইএস সিস্টেমের ‘MPO-EFT’ মডিউলে লগইন করে বিল জমা দিতে হবে। মাউশি জানিয়েছে, চলতি মাসে অবসরে যাওয়া, পদত্যাগ করা বা মৃত্যুবরণ করা শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে বিল জমা দেওয়া যাবে না। একইভাবে সাময়িক বরখাস্ত বা অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে সেটিও বিলে উল্লেখ করতে হবে।যদি কেউ পুরো মাসের বেতন পাওয়ার যোগ্য না হন, কিন্তু বকেয়া পাওনা থাকে, তাহলে ‘আংশিক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করতে হবে। অধিদপ্তর বলেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এমপিওর টাকা ছাড় করা হয়। তাই তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের। ভুল তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন হলে তার দায়ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে। এ ছাড়া যাদের তথ্য আইবাস++ সিস্টেমে যাচাই হয়েছে, শুধু তাদের নামই বিল সাবমিট তালিকায় দেখা যাবে। ত্রুটিপূর্ণ তথ্য সংশোধনের পর পরে বিল জমার সুযোগ দেওয়া হবে।
আগামীকাল একুশে এপ্রিল মঙ্গলবার সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে দেশের মাধ্যমিক স্তরের বড় আসর এসএসসিতে এবারও মেয়েদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এবার এই ৯টি বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন। পরিসংখ্যান বলছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজার বেশি। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা বেশি (১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন)। কারিগরি বোর্ডেও ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং মানবিক বিভাগে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় এবার সামগ্রিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেশের শিক্ষা খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত তদারকির ব্যবস্থা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথমবারের মতো দেশের প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র পরিবহনকারীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে এবার সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্র তদারকি করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নকলের চেষ্টা করলে সাথে সাথেই ধরা পড়বে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কারো কাছে স্মার্টফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কেন্দ্রে টয়লেট তল্লাশি এবং সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি হ্যান্ড মাইক ব্যবহারের মাধ্যমে অভিভাবকদের জটলা রোধের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রযুক্তির এমন কঠোর প্রয়োগে এবার প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগই থাকবে না।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে এস এস সি ও সমমানের পরীক্ষা । সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হবে। এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন পরীক্ষার্থী এই শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অংশ নিচ্ছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন। দেশের ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৪২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় বসছে। প্রথম দিন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবার কেন্দ্রের প্রবেশপথ সকাল সাড়ে ৮টায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। ২০ মে পর্যন্ত তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য হালনাগাদ না হলে বেতন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় তথ্য যাচাই, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে বা iBAS++ পদ্ধতিতে যাচাই হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে বেতন বিল নিষ্পত্তিতে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইএফটি পদ্ধতিতে সরাসরি বেতন পাঠানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তথ্যভান্ডার সঠিক রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তথ্যগত ত্রুটি থাকলে নির্ধারিত সময়ে বেতন না পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। গত ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে জারি করা এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেতন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য হালনাগাদ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য iBAS++ পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই (ভ্যালিডেশন) সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি মাসিক বেতন বিল দাখিলের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকলে বেতন পাঠাতে বিলম্ব হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বেতন পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত ও সহজে বেতন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বিতর্কিত ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল (Silent Expel)-এর কোনো সুযোগ থাকছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয় এবং শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় থাকা এ সংক্রান্ত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। পুরনো নীতিমালায় থাকা এই বিধানের বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ কাজ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কাউকে শাস্তি দিতে হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার (Due Process) মধ্য দিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থী নকল করেছে কি না, তা পরীক্ষা কক্ষেই প্রমাণিত হতে হবে। পরীক্ষা শেষে নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ নিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে গোলযোগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১৯৬১ সালের পুরনো ও অসংগতিপূর্ণ নীতিমালার কোনো কপি থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শঙ্কা দূর করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রী জানান: এসএসসি পরীক্ষা: আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা: আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে এবং পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা হবে। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য। আমরা চাই তারা যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। আমরা পরীক্ষার্থীদের পেছনে ছুটছি না, বরং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জবাবদিহিতার দিকে নজর দিচ্ছি।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তথ্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেটে দাবি করা হচ্ছে যে, ‘নকল বন্ধে এবার পরীক্ষার আগে রুটিন দেওয়া হবে না এবং কোন বিষয়ে পরীক্ষা হবে তা কেবল পরীক্ষার হলে গিয়েই জানা যাবে।’ তবে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অত্য ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার রুটিন নিয়ে যে খবরটি ছড়ানো হচ্ছে তা নিছক একটি গুজব। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। মূলত শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষার রুটিন যথাসময়ে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিবরণীতে আরও বলা হয়, সরকারি কোনো ঘোষণা বা রুটিন পরিবর্তনের খবর জানতে সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করাই শ্রেয়। কোনো ভিত্তিহীন সংবাদ শেয়ার করে গুজব ছড়াতে সহায়তা না করার জন্যও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে এবং কোনো ধরণের গুজবে কান দিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করতে। পরীক্ষার রুটিন এবং আনুষঙ্গিক তথ্য বোর্ডগুলোর নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ীই সম্পন্ন হবে। বাসস
বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষকতা পেশায় আলোচনার তুঙ্গে হল জাতীয় পে স্কেল ২০২৫ বাস্তবায়ন। আর এই আদেশ অনুযায়ী এবং বর্তমান প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা কেমন অনেকেই জানে না। অনেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই প্রশ্নটা ঠিকমতো জেনে নেন না, পরে হতাশ হন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেতনকাঠামো আসলে নির্দিষ্ট, শুধু পদ বুঝে হিসাবটা মেলাতে হবে। চলুন দেখে আসি এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত। এমপিও মানে হলো Monthly Payment Order। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক বেতন পান। প্রতি মাসে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অংশ পরিশোধ করা হয়। এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? বর্তমানে একজন নতুন প্রভাষকের মূল বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে, যা নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী অধ্যাপকেরা ষষ্ঠ গ্রেডে পান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর অধ্যক্ষদের বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মূল বেতনের সাথে যোগ হয় বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। উৎসব ভাতা হিসেবে এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দুই ঈদে দুটি ভাতা পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, এছাড়া বৈশাখী ভাতাও আছে। ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি কলেজের এক প্রভাষক জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভেবেছিলেন বেতন আরও বেশি হবে। পরে বুঝেছেন, মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাস শেষে হাতে যা আসে সেটা দিয়ে ঢাকায় সংসার চালানো বেশ কষ্টকর। এবার আসা যাক সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে। নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে শিক্ষক মহলে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট গত অক্টোবরে পে কমিশনের সাথে মতবিনিময়ে তাদের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করতে হবে। প্রস্তাবিত গ্রেড অনুযায়ী একজন প্রভাষকের জন্য গ্রেড-৯-এ ৫৫ হাজার, সহকারী অধ্যাপকের গ্রেড-৬-এ ৮০ হাজার এবং অধ্যক্ষের জন্য গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ হারে দেওয়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ করা এবং অবসর ফান্ডের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলেও বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা আছে। সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা নতুন পে স্কেলে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে এমপিও শিক্ষকরা এখনো মাত্র ৫০০ টাকা পাচ্ছেন। পে কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা অপেক্ষায় আছেন, এবার অন্তত একটা সম্মানজনক বেতন কাঠামো মিলবে কিনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ - ডাকসু ভিপির বেতন কত? ডাকসু জিএস এর বেতন কত? এই দুই পদ নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে মানুষের ভিতরে এই প্রশ্নের কৌতূহল অনেকটাই আকাশ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসুন বিস্তারিত জেনে নিই ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) আসলে কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পান এবং এর বাইরেও তারা কি কি সুবিধা ভোগ করে থাকেন। ডাকসু শুধু একটি ছাত্র সংসদ নয়, এটি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। তাই ভিপি ও জিএস পদ শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং ঐতিহাসিক দায়িত্বও বহন করে। ২০১৯ সালে ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও নির্বাচন হয়, যেখানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সাদিক কায়েম ভিপি এবং এস এম ফরহাদ জিএস নির্বাচিত হন। ডাকসু ভিপি জিএস এর বেতন ব্যবস্থা অনেকেরই ধারণা, ডাকসু ভিপি প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বেতন পান। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। ডাকসু ভিপির আলাদা করে কোনো মাসিক বেতন নেই। তবে তাদের জন্য এক বছরের কার্যকালের জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ থাকে। এই বরাদ্দের পরিমাণ হলো ৫ লাখ টাকা। এই টাকাটা মূলত দেওয়া হয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য। চা-নাস্তার খরচ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিটিং-আলোচনা এবং প্রয়োজনে কোনো শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা করা। এসব কাজেই এই টাকা ব্যবহার হয়। ভিপি চাইলে পুরো টাকা একবারে তুলতে পারেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপেও তুলতে পারেন। ডাকসুর সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী বলেছেন, তার সময়ে বরাদ্দকৃত ৫ লাখ টাকার মধ্যে তিনি মাত্র ২ লাখ টাকা তুলেছিলেন। বাকি ৩ লাখ টাকা পরবর্তী কমিটির জন্য রেখে দিয়েছিলেন। এটা থেকে বোঝা যায়, এই টাকা ব্যক্তিগত খরচের জন্য নয়, বরং সাংগঠনিক কাজের জন্য। আবার অন্যদিকে ডাকসু জিএস এর বেতন ব্যবস্থাও ভিপির মতোই। জিএসও কোনো নিয়মিত মাসিক বেতন পান না। তার জন্যও বছরে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। মানে দুজন মিলে মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে ডাকসুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। বছরে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ছাড়াও ভিপি আর জিএস আরও কিছু আর্থিক সুবিধা পান, তবে সেগুলো খুবই সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট বা সিন্ডিকেটের বৈঠকে যোগ দিলে তারা বৈঠক ভাতা পান। এছাড়া বিশেষ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হলে সেজন্য সম্মানীও মিলতে পারে। কিন্তু এগুলো নিয়মিত বা নিশ্চিত কিছু নয়। বেতনের বাইরে যেসব সুবিধা পান টাকার হিসাব তো হলো। কিন্তু ডাকসুর ভিপি আর জিএস আরও যেসব সুবিধা পান, সেগুলোর মূল্য অনেক বেশি। প্রথমত, তারা ডাকসুতে নিজস্ব অফিস কক্ষ পান। হলে আবাসনের ব্যবস্থাও তো আছেই শিক্ষার্থী হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে তাদের বিশেষ আসন থাকে। কিন্তু আসল কথা হলো প্রশাসনিক ক্ষমতা। ভিপি আর জিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটো বডি, সিনেট আর সিন্ডিকেটের স্থায়ী সদস্য হন। এই দুই বডিতে দেশের নামকরা শিক্ষাবিদ, আমলা আর রাজনীতিবিদরা থাকেন। সেখানে একজন ছাত্রনেতা তাদের সমান ক্ষমতা নিয়ে বসতে পারেন, এটা কম কথা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট অনুমোদন হোক, নতুন শিক্ষক নিয়োগ হোক, কিংবা উন্নয়ন পরিকল্পনা হোক, সব জায়গায় তাদের মতামত থাকে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তারা প্রতিবাদ করতে পারেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভেটোও দিতে পারেন। জরুরি পরিস্থিতিতে বৈঠক ডাকার ক্ষমতা আছে তাদের। উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তো আছেই। এই পদ দুটোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সামাজিক মর্যাদা আর নেটওয়ার্কিং। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করার সুযোগ পান ডাকসুর নেতারা। জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয়। ভবিষ্যতে ক্যারিয়ারে এই পরিচিতি অনেক কাজে আসে। বাংলাদেশের অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদই ডাকসুর প্রাক্তন নেতা ছিলেন। আসলে ডাকসু মানে শুধু একটা ছাত্র সংগঠন নয়। এটা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। তাই এই পদে থাকা মানে একটা ঐতিহাসিক দায়িত্ব বহন করা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .