বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। গত ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে জারি করা এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেতন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য হালনাগাদ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য iBAS++ পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই (ভ্যালিডেশন) সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি মাসিক বেতন বিল দাখিলের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকলে বেতন পাঠাতে বিলম্ব হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বেতন পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত ও সহজে বেতন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার বিল জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে বিল সাবমিট করতে বলা হয়েছে। বুধবার অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেল থেকে প্রকাশিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইএফটি পদ্ধতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি এমপিওর টাকা পাঠানো হয়। তাই এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার জন্য ইএমআইএস সিস্টেমের ‘MPO-EFT’ মডিউলে লগইন করে বিল জমা দিতে হবে। মাউশি জানিয়েছে, চলতি মাসে অবসরে যাওয়া, পদত্যাগ করা বা মৃত্যুবরণ করা শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে বিল জমা দেওয়া যাবে না। একইভাবে সাময়িক বরখাস্ত বা অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে সেটিও বিলে উল্লেখ করতে হবে।যদি কেউ পুরো মাসের বেতন পাওয়ার যোগ্য না হন, কিন্তু বকেয়া পাওনা থাকে, তাহলে ‘আংশিক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করতে হবে। অধিদপ্তর বলেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এমপিওর টাকা ছাড় করা হয়। তাই তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের। ভুল তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন হলে তার দায়ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে। এ ছাড়া যাদের তথ্য আইবাস++ সিস্টেমে যাচাই হয়েছে, শুধু তাদের নামই বিল সাবমিট তালিকায় দেখা যাবে। ত্রুটিপূর্ণ তথ্য সংশোধনের পর পরে বিল জমার সুযোগ দেওয়া হবে।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য হালনাগাদ না হলে বেতন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় তথ্য যাচাই, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে বা iBAS++ পদ্ধতিতে যাচাই হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে বেতন বিল নিষ্পত্তিতে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইএফটি পদ্ধতিতে সরাসরি বেতন পাঠানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তথ্যভান্ডার সঠিক রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তথ্যগত ত্রুটি থাকলে নির্ধারিত সময়ে বেতন না পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষকতা পেশায় আলোচনার তুঙ্গে হল জাতীয় পে স্কেল ২০২৫ বাস্তবায়ন। আর এই আদেশ অনুযায়ী এবং বর্তমান প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা কেমন অনেকেই জানে না। অনেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই প্রশ্নটা ঠিকমতো জেনে নেন না, পরে হতাশ হন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেতনকাঠামো আসলে নির্দিষ্ট, শুধু পদ বুঝে হিসাবটা মেলাতে হবে। চলুন দেখে আসি এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত। এমপিও মানে হলো Monthly Payment Order। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক বেতন পান। প্রতি মাসে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অংশ পরিশোধ করা হয়। এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? বর্তমানে একজন নতুন প্রভাষকের মূল বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে, যা নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী অধ্যাপকেরা ষষ্ঠ গ্রেডে পান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর অধ্যক্ষদের বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মূল বেতনের সাথে যোগ হয় বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। উৎসব ভাতা হিসেবে এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দুই ঈদে দুটি ভাতা পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, এছাড়া বৈশাখী ভাতাও আছে। ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি কলেজের এক প্রভাষক জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভেবেছিলেন বেতন আরও বেশি হবে। পরে বুঝেছেন, মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাস শেষে হাতে যা আসে সেটা দিয়ে ঢাকায় সংসার চালানো বেশ কষ্টকর। এবার আসা যাক সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে। নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে শিক্ষক মহলে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট গত অক্টোবরে পে কমিশনের সাথে মতবিনিময়ে তাদের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করতে হবে। প্রস্তাবিত গ্রেড অনুযায়ী একজন প্রভাষকের জন্য গ্রেড-৯-এ ৫৫ হাজার, সহকারী অধ্যাপকের গ্রেড-৬-এ ৮০ হাজার এবং অধ্যক্ষের জন্য গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ হারে দেওয়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ করা এবং অবসর ফান্ডের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলেও বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা আছে। সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা নতুন পে স্কেলে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে এমপিও শিক্ষকরা এখনো মাত্র ৫০০ টাকা পাচ্ছেন। পে কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা অপেক্ষায় আছেন, এবার অন্তত একটা সম্মানজনক বেতন কাঠামো মিলবে কিনা।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .