বর্তমানে বাংলাদেশে ২০১৫ সালের পে স্কেল কাঠামোতে বেতন চলমান রয়েছে, এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে তবে এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। আবার এই সময়ে অনেকেই কলেজে প্রভাষক পদের বেতন নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন। বিশেষ করে যারা নতুন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা পরিবারে কেউ শিক্ষকতায় আছেন, তাদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশে কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক পদটি সাধারণত নবম গ্রেডভুক্ত। তবে সরকারি কলেজ ও এমপিওভুক্ত (বেসরকারি কিন্তু সরকারিভাবে বেতনপ্রাপ্ত) কলেজে বেতন কাঠামো কিছুটা ভিন্ন হয়।
বর্তমান পে স্কেল অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক পদে (৯ম গ্রেড) শুরুতে মূল বেতন থাকে প্রায় ২২,০০০ টাকা। এর সাথে যোগ হয়:
সব মিলিয়ে মোট বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২৩,৫০০ টাকার মতো। তবে কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধার জন্য ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার পর হাতে পাওয়া টাকা কিছুটা কমে যায়।
বর্তমানে বাস্তব হিসেবে টেক হোম স্যালারি প্রায় ২১,০০০ থেকে ২১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকে বলে বিভিন্ন সরকারি বেতন কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়
সরকারি কলেজে প্রভাষকের পদও নবম গ্রেডে থাকে, তবে এখানে সুবিধা তুলনামূলক বেশি। মূল বেতন একই হলেও ভাতা অনেক বেশি হয়। সাধারণভাবে সরকারি কলেজ শিক্ষকরা পান:
শুধু উৎসব ভাতা হিসেবে সরকারি কলেজ শিক্ষকরা মূল বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পান, এ কারণে সরকারি কলেজ প্রভাষকের মোট আয় এমপিওর তুলনায় অনেক বেশি হয়।
একই “প্রভাষক” পদ হলেও সরকারি ও এমপিও কলেজের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ভাতা ও সুবিধা কাঠামো। সরকারি কলেজে পেনশন, নিয়মিত পদোন্নতি এবং বেশি ভাতা থাকে। অন্যদিকে এমপিও কলেজে মূল বেতন একই হলেও ভাতা সীমিত থাকে। এটাই দুই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পার্থক্য।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, একজন নতুন প্রভাষকের বেতন দিয়ে শহরে জীবনযাপন অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঢাকা বা বড় শহরে ভাড়া, খাবার ও যাতায়াত খরচ বাড়ার কারণে অনেক শিক্ষক অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউশন বা অন্য কাজের ওপর নির্ভর করেন।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, শিক্ষকদের মান উন্নত করতে হলে শুধু বেতন নয়, ভাতা ও কর্মপরিবেশেও ভারসাম্য আনা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বেতন কাঠামো সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বেতন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ সরকারি গেজেট বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপডেট দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদ করার জন্য আগামী ৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটের কাজ শেষ করে একটি নির্দিষ্ট গুগল ফর্মে তথ্য জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা এক আদেশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীনে থাকা অফিস ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট চালু থাকলেও সেখানে দরকারি তথ্য নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে না। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নির্দেশনা রয়েছে, যা অনেকেই মানছেন না। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্য, পরীক্ষার নোটিশ বা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত আপডেট না থাকায় তারা প্রায়ই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মাউশির এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ঘরে বসেই সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানার মতো জরুরি বিষয়গুলো খুব সহজেই জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, তেমনি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় এবং হয়রানি দুটোই কমে আসবে। মাউশি তাদের আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী সব অফিসের ওয়েবসাইটে কর্মরতদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট সবার সামনে তুলে ধরা এখন বাধ্যতামূলক। তাই আগামী ৪ জুনের মধ্যে মাউশির আওতাধীন সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিসসহ স্কুল-কলেজগুলোকে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি অথবা হালনাগাদ নিশ্চিত করতে হবে। কাজ শেষ করে নির্ধারিত একটি গুগল ফর্ম লিংকে (https://forms.gle/RbTAqoNqi3FVdg5u7) দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার জন্যও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
যুগের পর যুগ ধরে পাঠ্যবইয়ে চলে আসা একপেশে ও বিকৃত ইতিহাসের দিন শেষ হতে চলেছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা হাতে পাবে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো ও প্রকৃত ইতিহাস সমৃদ্ধ বই। যেখানে শুধু মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসই নয়, বরং স্থান পাবে ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, নতুন সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ের এই বিশাল পরিবর্তনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি জানান, অতীতে বইগুলোতে যে ঐতিহাসিক বিচ্যুতি ছিল, এবার বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তা নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কোন বীরের কী অবদান ছিল, তা এখন সঠিকভাবে তুলে ধরা হবে। এই সংস্কার কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষকদের নিয়ে গঠিত প্রায় ৩২০ জনের একটি দল কাজ করছে। সম্প্রতি বগুড়ায় চার দিনের একটি আবাসিক কর্মশালাও শেষ হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬০১টি বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে এনসিটিবি। শুধু ইতিহাস নয়, আইসিটি বইয়েও আসছে বড় চমক। পুরোনো ধ্যানধারণা বাদ দিয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির আইসিটি বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও ডিজিটাল আসক্তি কমাতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বই আসছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষার একটি বই রাখা হচ্ছে। এনসিটিবির এই উদ্যোগটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি 'গেম চেঞ্জার' হতে পারে। বিশেষ করে পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি তরুণ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আরও সাহসী করবে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের মোবাইল বা ইন্টারনেট আসক্তি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। এই আসক্তি কাটাতে চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলাভিত্তিক বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দের সঙ্গে শেখার (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস) যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা মনস্তাত্ত্বিকভাবে শিশুদের জন্য দারুণ উপকারী হবে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, সরকার ২০২৮ সাল থেকে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’ চালু করতে চাইছে, যেখানে বইয়ের সংখ্যা কমে ব্যবহারিক শিক্ষা বাড়বে। মুখস্থনির্ভর জিপিএ-৫ এর পেছনে না ছুটে শিক্ষার্থীরা যদি প্রযুক্তি (যেমন- এআই) ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ হয়ে ওঠে, তবে তা অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের হতাশা দূর করবে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা নিখুঁতভাবে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে পৌঁছায়। উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে গত কয়েক দশক ধরেই পাঠ্যবই একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের মতো করে ইতিহাস সাজিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সর্বস্তরে 'রাষ্ট্র সংস্কার'-এর যে দাবি ওঠে, শিক্ষাক্রম সংস্কার তারই একটি বড় অংশ।
দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আজ সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যার মধ্যেই প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা পৌঁছে যেতে পারে। মাউশির অর্থ ও ক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানান, রোববারই বেতনের অর্থ ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অর্থ পাঠানো হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অ্যাকাউন্টে বেতন পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বেতন ছাড় হলেও এখনো ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা বা বোনাস অনুমোদন হয়নি। মাউশি সূত্র জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই জিও জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। মাউশির কর্মকর্তারা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বেতনের বিল জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন ছাড় করা হয়। পরে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকে বলছেন, ঈদের আগে বেতন হাতে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও উৎসব ভাতার অনুমোদন এখন তাদের বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ঈদ বোনাস দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .