এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত হতে পারে?

ডিপি প্রতিবেদন
ডিপি প্রতিবেদন
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | দুপুর ১২:৬
ছবি গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট
ছবি গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট

বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষকতা পেশায় আলোচনার তুঙ্গে হল জাতীয় পে স্কেল ২০২৫ বাস্তবায়ন। আর এই আদেশ অনুযায়ী এবং বর্তমান প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা কেমন অনেকেই জানে না। অনেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই প্রশ্নটা ঠিকমতো জেনে নেন না, পরে হতাশ হন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেতনকাঠামো আসলে নির্দিষ্ট, শুধু পদ বুঝে হিসাবটা মেলাতে হবে। চলুন দেখে আসি এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত। 

এমপিও মানে হলো Monthly Payment Order। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক বেতন পান। প্রতি মাসে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অংশ পরিশোধ করা হয়।

এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?

বর্তমানে একজন নতুন প্রভাষকের মূল বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে, যা নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী অধ্যাপকেরা ষষ্ঠ গ্রেডে পান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর অধ্যক্ষদের বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মূল বেতনের সাথে যোগ হয় বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। উৎসব ভাতা হিসেবে এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দুই ঈদে দুটি ভাতা পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, এছাড়া বৈশাখী ভাতাও আছে।

ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি কলেজের এক প্রভাষক জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভেবেছিলেন বেতন আরও বেশি হবে। পরে বুঝেছেন, মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাস শেষে হাতে যা আসে সেটা দিয়ে ঢাকায় সংসার চালানো বেশ কষ্টকর।

এবার আসা যাক সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে। নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে শিক্ষক মহলে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট গত অক্টোবরে পে কমিশনের সাথে মতবিনিময়ে তাদের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করতে হবে। প্রস্তাবিত গ্রেড অনুযায়ী একজন প্রভাষকের জন্য গ্রেড-৯-এ ৫৫ হাজার, সহকারী অধ্যাপকের গ্রেড-৬-এ ৮০ হাজার এবং অধ্যক্ষের জন্য গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ হারে দেওয়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ করা এবং অবসর ফান্ডের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলেও বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা আছে। সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা নতুন পে স্কেলে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে এমপিও শিক্ষকরা এখনো মাত্র ৫০০ টাকা পাচ্ছেন।

পে কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা অপেক্ষায় আছেন, এবার অন্তত একটা সম্মানজনক বেতন কাঠামো মিলবে কিনা।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

শিক্ষা থেকে আরো

আরো দেখুন
ছবি গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট
এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত হতে পারে?

বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষকতা পেশায় আলোচনার তুঙ্গে হল জাতীয় পে স্কেল ২০২৫ বাস্তবায়ন। আর এই আদেশ অনুযায়ী এবং বর্তমান প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা কেমন অনেকেই জানে না। অনেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই প্রশ্নটা ঠিকমতো জেনে নেন না, পরে হতাশ হন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেতনকাঠামো আসলে নির্দিষ্ট, শুধু পদ বুঝে হিসাবটা মেলাতে হবে। চলুন দেখে আসি এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত।  এমপিও মানে হলো Monthly Payment Order। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক বেতন পান। প্রতি মাসে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অংশ পরিশোধ করা হয়। এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? বর্তমানে একজন নতুন প্রভাষকের মূল বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে, যা নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী অধ্যাপকেরা ষষ্ঠ গ্রেডে পান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর অধ্যক্ষদের বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মূল বেতনের সাথে যোগ হয় বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। উৎসব ভাতা হিসেবে এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দুই ঈদে দুটি ভাতা পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, এছাড়া বৈশাখী ভাতাও আছে। ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি কলেজের এক প্রভাষক জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভেবেছিলেন বেতন আরও বেশি হবে। পরে বুঝেছেন, মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাস শেষে হাতে যা আসে সেটা দিয়ে ঢাকায় সংসার চালানো বেশ কষ্টকর। এবার আসা যাক সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে। নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে শিক্ষক মহলে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট গত অক্টোবরে পে কমিশনের সাথে মতবিনিময়ে তাদের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করতে হবে। প্রস্তাবিত গ্রেড অনুযায়ী একজন প্রভাষকের জন্য গ্রেড-৯-এ ৫৫ হাজার, সহকারী অধ্যাপকের গ্রেড-৬-এ ৮০ হাজার এবং অধ্যক্ষের জন্য গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ হারে দেওয়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ করা এবং অবসর ফান্ডের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলেও বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা আছে। সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা নতুন পে স্কেলে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে এমপিও শিক্ষকরা এখনো মাত্র ৫০০ টাকা পাচ্ছেন। পে কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা অপেক্ষায় আছেন, এবার অন্তত একটা সম্মানজনক বেতন কাঠামো মিলবে কিনা।

ডিপি প্রতিবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ 0
ডাকসু ভিপির বেতন

ডাকসু ভিপি-জিএস এর বেতন কত? কি কি সুবিধা পান

এমবিবিএস-বিডিএসের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ

এমবিবিএস-বিডিএসের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু , আবেদনের নিয়ম

এমপিভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন