কোরবানির ঈদের টানা ছুটি শুরু হওয়ার আগেই জরিমানা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য গ্রাহকদের আজ শনিবারের (২৩ মে) মধ্যে বিল জমা দেওয়ার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪। সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আজ ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সব সরকারি অফিস ও ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এই তথ্য জানিয়েছে। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোরবানির ঈদের আগে সাধারণ মানুষের হাতে এমনিতেই পশু কেনা বা আনুষঙ্গিক অনেক বাড়তি খরচ থাকে। এর মধ্যে ঈদের টানা ছুটির ফাঁদে পড়ে যদি বিল দেওয়ার সময় পার হয়ে যায়, তবে ঈদের পর বাড়তি জরিমানা বা ‘এলপিসি’ (লেট পেমেন্ট চার্জ) দেওয়াটা সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের গ্রাহকদের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতি ও ছুটির পরের ভোগান্তি কমাতেই মূলত কর্তৃপক্ষ এই আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের বার্তায় খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেসব গ্রাহকের চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার শেষ তারিখ ২৩ মে (আজ), তাদের অবশ্যই আজকের মধ্যে বিলের টাকা জমা দিতে হবে। যেহেতু আজ ব্যাংক ও অফিস খোলা থাকছে, তাই সরাসরি গিয়ে বিল জমা দিতে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও ঘরে বসে সহজে বিল দেওয়া যাবে। কিন্তু কেউ যদি আজকের মধ্যে বিল দিতে না পারেন, তবে নিয়মানুযায়ী ঈদের পর বিলের মূল টাকার সঙ্গে বাড়তি জরিমানার টাকাও যোগ হবে। তাই ঈদের ছুটির আনন্দে যেন বাড়তি খরচের চিন্তা যুক্ত না হয়, সেজন্য কোনো রকম ঝামেলা এড়িয়ে আজই বিল মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একদিকে বৃষ্টির পূর্বাভাস, অন্যদিকে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো বইছে তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং খুলনায় ৩৬ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গরমের অনুভূতি এখনই পুরোপুরি কমছে না।
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষের জন্য অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়ও দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু এক জায়গাতেও অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের ওপর দিয়ে এখন মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাড়ছে। এর ফলে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় আজ পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের কিছু অঞ্চলে গরমের তীব্রতা এখনো কমেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহীর কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের শাখা-প্রশাখা কাটার কাজের জন্য এই সাময়িক বন্ধ রাখা হচ্ছে। রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ এর আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময় বনগ্রাম ফিডারের মোহনপুর আইসোলেটর থেকে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত কিসমত কুখন্ডি, কুখন্ডি, সোনারপাড়া ও বামনশিখড় (মা ভাটা) এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। নেসকো জানিয়েছে, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের খুব কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কেটে ফেলার কাজ করা হবে। ঈদের সময় যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট কম হয় এবং ঝুঁকি এড়ানো যায়, সেজন্য আগেভাগেই এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো।
কোরবানির ঈদ আসতে এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি, কিন্তু চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে এখনই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ীদের কপালে। মানুষ এখন অনলাইনে বা সরাসরি খামার থেকে গরু কিনতে বেশি পছন্দ করায় এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এমনকি কোনো কোনো হাটে ইজারা নেওয়ার জন্য কেউ দরপত্রই জমা দেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবার নগরের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে। এর মধ্যে নগরের সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি দামে ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। তবে মুরাদপুরের বিবিরহাটের দাম গত বছরের ১ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে এবার মাত্র ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি দামে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা অস্থায়ী হাটগুলোর। কর্ণফুলী এলাকার অস্থায়ী হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং মুসলিমাবাদ হাটে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দর উঠেছে। আর ওয়াজেদিয়া হাটে কেউ দরপত্রই জমা দেয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ এখন ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে বা খামার থেকে পশু কিনছেন। আবার খরচ কমাতে অনেকেই ভাগাভাগি করে কোরবানি দিচ্ছেন। এর ওপর পাড়া-মহল্লায় অবৈধ হাট বসায় বড় হাটগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। সাগরিকা হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, "এত টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি, টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে ভয়ে আছি। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।" অবৈধ হাটের বিষয়ে সিটি করপোরেশন এবার বেশ কঠোর। চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। পাশাপাশি বৈধ হাটগুলোতে জাল টাকা চেনার মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে।
রোববার (১৭ মে) রাত ১১টা থেকে সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ১৮ ঘণ্টা ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। মূলত পুরোনো গ্যাস পাইপলাইন বদলানোর কাজের জন্যই দীর্ঘ এই সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। তিতাস জানিয়েছে, পাইপলাইনের সংস্কার কাজের কারণে আমিনবাজার ডিআরএস থেকে নবীনগর পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশের এলাকায় গ্যাস থাকবে না। এর মধ্যে বলিয়ারপুর, হেমায়েতপুর, চামড়া শিল্পনগরী, সিংগাইর রোড, ফুলবাড়িয়া, নবীনগর, সাভার পৌর এলাকা, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, আশুলিয়া বাজার, গৌরীপুর, কুমকুমারী, রাজাশন, কলমা এবং এর আশপাশের সব এলাকার গ্রাহকরা এই ভোগান্তিতে পড়বেন। এই ১৮ ঘণ্টা উল্লিখিত এলাকাগুলোর আবাসিক বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার গ্যাস লাইন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া এসব এলাকার আশপাশের সংযোগগুলোতেও গ্যাসের চাপ বেশ কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কাজ শেষ হওয়ামাত্রই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে টানা ১৮ ঘণ্টা গ্যাস না থাকা মানেই সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে বড় ধরনের ধাক্কা। বিশেষ করে রোববার রাতের বেলা থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত গ্যাস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন চাকরিজীবী ও স্কুলগামী বাচ্চাদের মায়েরা। সকালের নাশতা এবং দুপুরের খাবার তৈরি করতে না পারায় অনেকেই বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁ বা বিকল্প চুলার (সিলিন্ডার বা মাটির চুলা) ওপর নির্ভর করবেন, যা মানুষের দৈনন্দিন খরচ ও ভোগান্তি দুটিই বাড়াবে। অন্যদিকে, সাভার, আশুলিয়া ও হেমায়েতপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও চামড়া শিল্পাঞ্চল। দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় এসব এলাকার শত শত কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে, যা অর্থনীতিতেও ছোটখাটো প্রভাব ফেলবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন কাজের জন্য রাজশাহীর বেশ কিছু এলাকায় টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি। সম্প্রতি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন কাজের জন্য শনিবার রাজশাহীর বনগ্রাম ফিডারের আওতাধীন বেশ কিছু এলাকায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে তার মধ্যে রয়েছে বনগ্রাম ফিডারের আওতাধীন হাজরাপুকুর, কালিয়াপাড়া, মোহনপুর হাজামপাড়া এবং মধ্য বুধপাড়া এলাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর।
চুয়াডাঙ্গায় নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে এক নারীর দাফনে আপত্তি জানিয়েছে স্থানীয়দের একটি অংশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য দাফন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সমঝোতার মাধ্যমে রাতে দাফন সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিকেলে মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে কিছু সময়ের জন্য দাফন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। সেখানে তিনি তার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ বাড়ি দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হয়। তবে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মহল্লাবাসীরা আলোচনায় বসেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে রাত ১০টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায়। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আগের সংসার ছেড়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন। আর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে আপত্তি ওঠায় সামাজিক সহনশীলতা, ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক বিচার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড়মাঠ থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার ৫০টি উত্তরপত্র উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের বড়মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে শহীদ মিনারের পাশ থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন যুবক মাঠে ঘোরাঘুরি করার সময় খাতাগুলো দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, এগুলো চলমান এসএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের উত্তরপত্র। পরে দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জানা গেছে, গত ৫ মে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোতাহার উল আলম বলেন, পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়। পরে মূল্যায়নের জন্য সেগুলো শিক্ষকদের কাছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “সম্ভবত বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত খাতাগুলো পড়ে গেছে। তবে যিনি খাতাগুলো নিয়েছিলেন, তার আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।” পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব খাতা হারিয়ে যাওয়া বা বাইরে পড়ে থাকার ঘটনা পরীক্ষার নিরাপত্তা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপত্র পরিবহন ও সংরক্ষণে আরও কঠোর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, উদ্ধার করা বান্ডিলে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৫০টি উত্তরপত্র ছিল। বর্তমানে সেগুলো পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরদার মোস্তফা শাহীন জানিয়েছেন, কার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় খাতাগুলো মাঠে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে আসতেই জামালপুরের পশুর খামারগুলোতে বেড়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটি গরু নাম তার ‘ক্রিস গেইল’। বিশাল আকৃতির এই গরুকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। ৮০০ কেজি ওজনের গরুটি ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার ময়না এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, গাঢ় লালচে-বাদামী রঙের বিশালদেহী গরুটি খামারের আলাদা আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। নেপালি ‘গির’ জাতের এই গরুর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। খামারে থাকা ২৬টি গরুর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে বেশি দেখতে আসছেন মানুষ। খামারের মালিক মো. দিয়া মিয়া জানান, তিন বছর আগে মাত্র ৬ মাস বয়সে ৬৫ হাজার টাকায় গরুটি কেনেন তিনি। ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের ভক্ত হওয়ায় নিজের প্রিয় খেলোয়াড়ের নামেই গরুটির নাম রাখেন ‘ক্রিস গেইল’। তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরুটাকে বড় করেছি। কখনো একটা বেত দিয়েও মারিনি। ওকে যখন খামার থেকে নিয়ে যাবে, তখন আমার কেমন লাগবে সেটা শুধু আমিই জানি।” সরেজমিনে দেখা গেছে, গরুটি কিছুটা রাগি স্বভাবের। অপরিচিত কেউ কাছে গেলে তেড়ে আসার চেষ্টা করে। তবে খামারের লোকজনের সঙ্গে বেশ শান্ত আচরণ করে। গরুটির গলায় ছোট ছোট কালো ও বাদামী দাগ রয়েছে, আর শিং দুটি ছোট ও পেছনের দিকে বাঁকানো। খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্রিস গেইলকে’ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে তাকে ১০ কেজি সাইলেজ, ৭ কেজি ঘাস এবং দেড় কেজি গমের ভুসি দেওয়া হয়। নিয়মিত গোসল ও বিশেষ যত্নও নেওয়া হয় তার। গরুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী ইমরান হোসেন বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই গরুর দেখাশোনা করি। এই গরুগুলোকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। ঈদের সময় যখন বিক্রি হয়ে যায় তখন খুব খারাপ লাগে।” বর্তমানে ‘ক্রিস গেইল’-এর দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা গরুটি দেখতে এলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করেননি মালিক দিয়া মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ভালো দাম পেলে তবেই বিক্রি করবেন, না হলে ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। গরুটি কিনতে আসা আব্বাস বেপারি বলেন, “গরুটি দেখতে খুব ভালো, মাংসও ভালো হবে। তবে মালিক যে দাম চাচ্ছেন, ওই দামে কিনে লাভ করা কঠিন।” জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ক্রিস গেইল’ সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং মেডিকেল টিম খামার পরিদর্শন করেছে। তিনি জানান, জেলায় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ৮২ হাজার ১৫টি। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যতিক্রমধর্মী নামের কারণে বড় আকৃতির গরুগুলো এখন কোরবানির বাজারে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করছে। এতে খামারিরা যেমন বাড়তি পরিচিতি পাচ্ছেন, তেমনি দেশীয় খামার শিল্পও নতুনভাবে উৎসাহিত হচ্ছে।
দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, হাম ও সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সফল হলে দেশের টিকা নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। এসেনশিয়াল ড্রাগস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় শুরুতেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা ও অ্যান্টিভেনমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা টিবিএসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দেশের জনস্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, সাপের কামড় ও হাম বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে, তাই স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও জানান, “আমরা এক বছরের মধ্যে এই চারটি টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।” এসেনশিয়াল ড্রাগস জানিয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। উৎপাদন শুরু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে এসব টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে উৎপাদন শুরু হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টিকা রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সামাদ মৃধা বলেন, বর্তমানে বিদেশ থেকে যে দামে টিকা আমদানি করা হয়, তার প্রায় অর্ধেক মূল্যে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে টিকার সহজলভ্যতা বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। এ বছর হামে ৩২০ জন শিশু মারা গেছে এবং প্রায় ৪০ হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাকেদা-র তৈরি ‘কিউডেঙ্গা (টিএকে-০০৩)’ টিকা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, যা ২০২৪ সালের মে মাসে প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করে। এসেনশিয়াল ড্রাগস এই টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনাও করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে দেশে অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিষেধকের সংকট রয়েছে। প্রতিবছর সাপের কামড়ে হাজারো মানুষ মারা যায়। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যায়। আক্রান্তদের বড় অংশ স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা ও অ্যান্টিভেনম দেশে উৎপাদিত হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং সরকারের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। এদিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমিতে ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিক ও ডায়াগনস্টিক রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ করছে এসেনশিয়াল ড্রাগস। ২০৩২ সালের মধ্যে সেখানে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। সংস্থাটির আরও চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধ ও টিকা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে বড় অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিস / সাইফ
বিদ্যুৎ সংকট আর বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ভিন্ন পথে হাঁটছে র্যানকন গ্রুপ। নিজেদের সি-ফিশিং ডিভিশনে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে সৌরশক্তিচালিত কোল্ড স্টোরেজ, যা তাদের দাবি অনুযায়ী দেশের প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামে র্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বাস্তবায়নে কোল্ড স্টোরেজের ছাদে এই সোলার প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র দুই মাসে কাজ শেষ করে গত এপ্রিল থেকে এটি চালু করা হয়। প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট ছাদজুড়ে বসানো হয়েছে মোট ৪৮২টি সোলার প্যানেল। প্রতিটি প্যানেলের সক্ষমতা ৬১৫ ওয়াট-পিক। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৯৬ কেডব্লিউপি ডিসি এবং ২৫০ কিলোওয়াট এসি। প্রতিটি প্যানেলের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৩৮২ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১ হাজার ১৩৪ মিলিমিটার। স্বাভাবিক রোদেলা দিনে একটি প্যানেল প্রায় ২.৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে মেঘলা বা বর্ষার দিনে সেই উৎপাদন কমে প্রায় ২.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টায় নেমে আসে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ টন মাছ সংরক্ষণের জন্য এই কোল্ড স্টোরেজে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সোলার সিস্টেমটি দিনের বেলার প্রায় পুরো বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর আগে কোল্ড স্টোরেজটির মাসিক বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বছরে প্রায় ২১০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটিতে এখনো কোনো ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপন করা হয়নি। ফলে রাতের বেলায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চ আমদানি শুল্ক ও যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত দামের কারণে ব্যাটারি স্টোরেজ এখনো বাণিজ্যিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ। র্যানকন সি-ফিশিং ডিভিশনের বেইস ইঞ্জিনিয়ার সাদ্দাম হোসেন বলেন, এই প্রকল্প একইসঙ্গে আর্থিক ও পরিবেশগত সুবিধা দিচ্ছে। তার ভাষায়, “এই ব্যবস্থাটি কোল্ড স্টোরেজে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ খাতে এটি রপ্তানিতে বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। র্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার সুবাইল বিন আলম বলেন, প্রকল্পটি প্রায় ২৫ বছর কার্যকর থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ভবনগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ কর ও আমদানি শুল্কের কারণে উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন। সুবাইল বিন আলম বলেন, “বাংলাদেশে এক অদ্ভুত বাস্তবতা বিরাজমান। আমাদের পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত বাধার কারণে উদ্যোক্তারা একে লাভজনক করে তুলতে পারছেন না।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমিয়ে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে। অথচ বাংলাদেশে এই খাতের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর। সুবাইল বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করার বড় সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুতের বাড়তি চাপ ও জ্বালানি ব্যয়ের সময়ে এ ধরনের সৌরভিত্তিক শিল্প উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের কোল্ড স্টোরেজ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। সরকার কর ও শুল্ক সুবিধা বাড়ালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আরও দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসএস / ডিপি
ঢাকাঃ বিয়ের ১১ বছর পর ঘরে এসেছিল ছোট্ট ফাইয়াজ হাসান তাজিম। অনেক অপেক্ষা, অনেক কষ্ট আর ঝুঁকির পর আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হয়েছিল শিশুটির। ছেলেকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন মা ফারজানা ইসলাম ও বাবা হেলাল ভূঁইয়া। সেই সন্তানই মাত্র ৮ মাস ১৮ দিনের মাথায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাজিমের মা নিজের ফেসবুক আইডির নামও রেখেছিলেন ‘তাজিম এর আম্মু’। ছেলেকে নিয়েই ছিল তার পৃথিবী। এখন সেই ফেসবুকজুড়ে শুধু ছেলের স্মৃতি আর মায়ের কান্না। গত ২২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাজিম। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছেন মা-বাবা। প্রথমে নিউমোনিয়া, পরে পাতলা পায়খানা, এরপর হাম একটার পর একটা জটিলতায় ভুগছিল শিশুটি। ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এটা ছিল আমার বাবুর জীবনের শেষ হাসির ছবি।’ মেসেঞ্জারে ছেলের একটি ছবি পাঠিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, শুধু হামের চিকিৎসাতেই ১৭ দিনে চার লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন। কোথাও বেড পাননি, কোথাও আইসিইউ খালি ছিল না। কখনো অ্যাম্বুলেন্সে, কখনো কোলে করে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ছুটেছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। ১৮ মার্চ প্রথমে নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাজিমকে। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২৫ মার্চ বাড়ি ফিরলেও চার দিনের মাথায় আবার জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। ৫ এপ্রিল ছেলেকে নিয়ে যান রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। সেখানে বেড না পেয়ে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে সেখান থেকে আরও কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কোথাও স্থায়ীভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেননি। ফারজানা বলেন, এক হাসপাতালে ক্যানোলা দেওয়ার পর ছেলের পা ফুলে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার কোথাও পিআইসিইউতে মা-বাবার থাকার অনুমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল আবার নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাজিমকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি। হাসপাতালের অনেক কাগজপত্র থাকলেও শেষ ছাড়পত্রের নথিটা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। ফারজানা বলেন, ‘ছেলের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার সময় কারও আর ওই কাগজটার কথা মনে ছিল না।’ ফেসবুকে এখনো ছেলের ছবি, পায়ের ছবি আর স্মৃতিগুলো পোস্ট করেন তাজিমের মা। তিনি জানান, ১ মে ছিল তাজিমের হামের প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার তারিখ। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ছোট্ট শিশুটি। ক্ষোভ আর কষ্টে ফারজানা লিখেছেন, ‘দুই মাস ধরে নিষ্পাপ শিশুরা মরে যাচ্ছে, এ নিয়ে সংসদে আলাপ নেই। কারও কোনো দায় নেই। কেউ ব্যর্থতা স্বীকার করছে না। সব দোষ মা ও শিশুর। শিশুরা এই দেশে জন্ম নিল কেন? মা সন্তানের জন্ম দিল কেন?’
জন্ম থেকেই দুই পা অকেজো। তাই অন্যদের মতো দৌড়ে বেড়ানো, স্বাভাবিকভাবে হাঁটা কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো চলাফেরা—এসব কখনোই ছিল না আশির উদ্দিনের জীবনের অংশ। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাকেই শক্তি বানিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আস্থার নাম। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের কলিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আশির উদ্দিন। প্রায় দেড় যুগ ধরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন তিনি। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদন, সরকারি বিভিন্ন ফরম পূরণ—এসব কাজের জন্য প্রতিদিনই তার কাছে ভিড় করেন এলাকার মানুষ। দুই পায়ে দাঁড়াতে না পারলেও থেমে থাকেননি আশির। বিশেষ ধরনের জুতা ও দুই হাতের ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন একসময়। এখন একটি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন কর্মস্থলে যান। তবে পুরোনো গাড়িটি মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। আশির উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। হোসেনগাঁও ইউনিয়নের মুন্সি আব্দুল জব্বার দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর কৃষিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে টিউশনি করিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণও নেন। সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়ে গত ১৫ বছর ধরে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো নিজেকে অসহায় ভাবিনি। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন মানুষের কাজে লাগতে পারি, এটাই বড় পাওয়া। তবে পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। যদি সরকারি আরও সহযোগিতা পেতাম, তাহলে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারতাম।’ স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার পাঁচ সদস্যের সংসার। মানুষের দেওয়া সম্মানী দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের জীবন। সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আশির উদ্দিন শুধু একজন উদ্যোক্তাই নন, তিনি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণাও। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি, বরং নিজের যোগ্যতায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। হোসেনগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আশির উদ্দিন কখনো নিজেকে দুর্বল ভাবেননি। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি মানুষের সেবা দেন। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার কাজে সন্তুষ্ট।’ রাণীশংকৈল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, সমাজসেবা অফিস থেকে আশির উদ্দিনকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঋণ সুবিধা নিয়েও তিনি নিজের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তার সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে কয়েক বছর আগে তাকে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসেবেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাইক কেড়ে নেওয়া ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল ১৯ এপ্রিল রোববার দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর সংক্ষিপ্তভাবে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার উদ্দিন বলেন, অনুষ্ঠানের মধ্যে সারোয়ার আওয়াল নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর লোকজন এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা মাইক নিয়ে নেন এবং তাঁর কক্ষে তালা দেন। তবে সারোয়ার আওয়াল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি গালাগাল করেননি। অভিভাবকদের অনুরোধে সেখানে গিয়েছিলেন এবং তালা দেওয়ার বিষয়েও কিছু জানেন না। এ ঘটনায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুর দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে সেই কবরে লুটিয়ে মারা গেছেন আরেক বন্ধু। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ সোমবার সকালে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া দুজন হলেন আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫)। তাঁরা দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। স্থানীয় লোকজন জানান, রোববার রাতেও দুজন একসঙ্গে বসে গল্প করেছেন। আজ ভোরে একসঙ্গে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজও আদায় করেন। পরে সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবুল হাশেম। পরে দাফনের জন্য কবরস্থানে গিয়ে নিজ হাতে বন্ধুর কবর খোঁড়ার কাজে নেমে পড়েন। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ তিনি কবরে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে তুলে দেখা যায়, তিনিও মারা গেছেন। আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁরা বিনা পারিশ্রমিকে গ্রামের মানুষের কবর খুঁড়ে দিতেন। সকালে চাচার মৃত্যুর খবর শুনে বাবা অনেক কেঁদেছিলেন। পরে বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে নিজেও চলে গেলেন। বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আমরা সবাই মিলে কবর খুঁড়ছিলাম। কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল। হঠাৎ হাশেম কাকা কবরে পড়ে যান। দ্রুত ওপরে তুলে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বন্ধুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে। অনেকে এটিকে আজীবন বন্ধুত্বের বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .