পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।আগামী ২৩ মে থেকে এই ‘ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস’ চালু হবে। আর এসব বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৭ মে থেকে।
বিআরটিসির জনসংযোগ দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদকে সামনে রেখে বাড়ি ফেরা মানুষের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, বিশেষ এই সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীরা তুলনামূলক কম ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হবেন। এ সময় বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে সরকারি পরিবহন সংস্থার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যাত্রীরা।
বিশেষ করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট সংকট এবং ভোগান্তির অভিযোগের মধ্যে বিআরটিসির সাশ্রয়ী সার্ভিস সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ঈদকে ঘিরে দেশের সড়কপথে প্রতি বছরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং অনিরাপদ যাত্রা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগও থাকে নিয়মিত।
এ অবস্থায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হলে সাধারণ যাত্রীরা নির্ভরযোগ্য ও তুলনামূলক নিরাপদ পরিবহন সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে বেসরকারি পরিবহনেও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশ্লেষকেরা।
দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি নাগরিকের এনআইডির মূল তথ্য ফরম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নেই বলে জানা গেছে। এসব ফরম কোথায় আছে, আদৌ সংরক্ষিত আছে কি না তা নিয়েই এখন খোঁজে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৪ কোটি নাগরিকের ফরম-২ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল তথ্য ফরম সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় যেসব নাগরিক ভোটার হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ের বহু এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। পরে সংশোধনের জন্য আবেদন করলে অনেককেই জানানো হয় তাদের ফরম-২ সার্ভারে নেই। ইসি কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এসব ফরম স্থানীয় নির্বাচন অফিসে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ফরম নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও বৃষ্টির পানিতে, কোথাও উইপোকা ও ইঁদুরে, আবার কোথাও অগ্নিকাণ্ডে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে ফরম-২ স্ক্যান ও সার্ভারে আপলোডের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় নাগরিকের দেওয়া মূল তথ্য সঠিক থাকলেও এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। এমন ক্ষেত্রে ফরম-২ থাকলে বিনা ফিতে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু ফরম না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় স্ক্যানিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। তবে কত ফরম হারিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ফরম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো কাজ শেষ হলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার উপজেলায় প্রায় দুই লাখ নাগরিকের ফরম-২ আপলোড করা ছিল না। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার ফরম পাওয়া গেছে এবং এখন আপলোডের কাজ চলছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ফরম-২ সার্ভারে আপলোডের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এখন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।” জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “আট কোটি নাগরিকের তথ্য স্ক্যান ও আপলোড করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। কত তথ্য হারিয়েছে, তা আপলোড শেষ হলে বোঝা যাবে। উল্লেখ্য এই যে বাংলাদেশে এনআইডি এখন শুধু ভোটার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সিম নিবন্ধন, চাকরি, জমি কেনাবেচাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে এটি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নাগরিকের মূল তথ্য ফরম অনুপস্থিত থাকা বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ডিজিটাল সংরক্ষণ ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। খবরঃ দৈনিক কালের কন্ঠ
সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেছেন, যারা তরুণদের অনিয়মিত অভিবাসনের নামে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন ও বিদেশফেরত অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সাগরপথে যাওয়ার চেষ্টা এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, “বিদেশফেরতদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পগুলো অনুপ্রেরণাদায়ক। তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কারণ এই প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।” প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের অনেক অর্থ অপচয় হলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। তাই তাদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনরেকত্রীকরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তার মতে, শুধু এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো নয়, মানভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে দক্ষ কর্মী তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বিদেশফেরতদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বিদেশে যেতে গিয়ে অনেক কর্মী বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা নেন। ফলে বিদেশে পৌঁছেই দ্রুত কাজ পাওয়ার চাপে অনেক সময় বৈধ-অবৈধ পথের পার্থক্য তারা বিবেচনা করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, অনেকেই ভাঙা স্বপ্ন ও মানসিক আঘাত নিয়ে দেশে ফেরেন। তাই তাদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। অনুষ্ঠানে বিদেশফেরত অভিবাসী সেলিনা বেগম ও সোহেল রানা নিজেদের সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দর নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যেখানে গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। গরুর পাশাপাশি ছাগলের চামড়ার দামও নির্ধারণ করেছে সরকার। খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সারা দেশে কার্যকর থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এবার কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ী, মসজিদ ও মাদরাসার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির পর কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ও মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি শেখানো হবে, যাতে বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .