ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড়মাঠ থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার ৫০টি উত্তরপত্র উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের বড়মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে শহীদ মিনারের পাশ থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন যুবক মাঠে ঘোরাঘুরি করার সময় খাতাগুলো দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, এগুলো চলমান এসএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের উত্তরপত্র। পরে দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, গত ৫ মে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোতাহার উল আলম বলেন, পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়। পরে মূল্যায়নের জন্য সেগুলো শিক্ষকদের কাছে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “সম্ভবত বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত খাতাগুলো পড়ে গেছে। তবে যিনি খাতাগুলো নিয়েছিলেন, তার আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।”
পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব খাতা হারিয়ে যাওয়া বা বাইরে পড়ে থাকার ঘটনা পরীক্ষার নিরাপত্তা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপত্র পরিবহন ও সংরক্ষণে আরও কঠোর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, উদ্ধার করা বান্ডিলে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৫০টি উত্তরপত্র ছিল। বর্তমানে সেগুলো পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরদার মোস্তফা শাহীন জানিয়েছেন, কার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় খাতাগুলো মাঠে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে এক নারীর দাফনে আপত্তি জানিয়েছে স্থানীয়দের একটি অংশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য দাফন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সমঝোতার মাধ্যমে রাতে দাফন সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিকেলে মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে কিছু সময়ের জন্য দাফন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। সেখানে তিনি তার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ বাড়ি দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হয়। তবে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মহল্লাবাসীরা আলোচনায় বসেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে রাত ১০টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায়। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আগের সংসার ছেড়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন। আর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে আপত্তি ওঠায় সামাজিক সহনশীলতা, ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক বিচার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট আর বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ভিন্ন পথে হাঁটছে র্যানকন গ্রুপ। নিজেদের সি-ফিশিং ডিভিশনে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে সৌরশক্তিচালিত কোল্ড স্টোরেজ, যা তাদের দাবি অনুযায়ী দেশের প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামে র্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বাস্তবায়নে কোল্ড স্টোরেজের ছাদে এই সোলার প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র দুই মাসে কাজ শেষ করে গত এপ্রিল থেকে এটি চালু করা হয়। প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট ছাদজুড়ে বসানো হয়েছে মোট ৪৮২টি সোলার প্যানেল। প্রতিটি প্যানেলের সক্ষমতা ৬১৫ ওয়াট-পিক। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৯৬ কেডব্লিউপি ডিসি এবং ২৫০ কিলোওয়াট এসি। প্রতিটি প্যানেলের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৩৮২ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১ হাজার ১৩৪ মিলিমিটার। স্বাভাবিক রোদেলা দিনে একটি প্যানেল প্রায় ২.৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে মেঘলা বা বর্ষার দিনে সেই উৎপাদন কমে প্রায় ২.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টায় নেমে আসে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ টন মাছ সংরক্ষণের জন্য এই কোল্ড স্টোরেজে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সোলার সিস্টেমটি দিনের বেলার প্রায় পুরো বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর আগে কোল্ড স্টোরেজটির মাসিক বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বছরে প্রায় ২১০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটিতে এখনো কোনো ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপন করা হয়নি। ফলে রাতের বেলায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চ আমদানি শুল্ক ও যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত দামের কারণে ব্যাটারি স্টোরেজ এখনো বাণিজ্যিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ। র্যানকন সি-ফিশিং ডিভিশনের বেইস ইঞ্জিনিয়ার সাদ্দাম হোসেন বলেন, এই প্রকল্প একইসঙ্গে আর্থিক ও পরিবেশগত সুবিধা দিচ্ছে। তার ভাষায়, “এই ব্যবস্থাটি কোল্ড স্টোরেজে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ খাতে এটি রপ্তানিতে বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। র্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার সুবাইল বিন আলম বলেন, প্রকল্পটি প্রায় ২৫ বছর কার্যকর থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ভবনগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ কর ও আমদানি শুল্কের কারণে উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন। সুবাইল বিন আলম বলেন, “বাংলাদেশে এক অদ্ভুত বাস্তবতা বিরাজমান। আমাদের পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত বাধার কারণে উদ্যোক্তারা একে লাভজনক করে তুলতে পারছেন না।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমিয়ে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে। অথচ বাংলাদেশে এই খাতের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর। সুবাইল বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করার বড় সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুতের বাড়তি চাপ ও জ্বালানি ব্যয়ের সময়ে এ ধরনের সৌরভিত্তিক শিল্প উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের কোল্ড স্টোরেজ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। সরকার কর ও শুল্ক সুবিধা বাড়ালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আরও দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসএস / ডিপি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুর দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে সেই কবরে লুটিয়ে মারা গেছেন আরেক বন্ধু। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ সোমবার সকালে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া দুজন হলেন আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫)। তাঁরা দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। স্থানীয় লোকজন জানান, রোববার রাতেও দুজন একসঙ্গে বসে গল্প করেছেন। আজ ভোরে একসঙ্গে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজও আদায় করেন। পরে সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবুল হাশেম। পরে দাফনের জন্য কবরস্থানে গিয়ে নিজ হাতে বন্ধুর কবর খোঁড়ার কাজে নেমে পড়েন। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ তিনি কবরে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে তুলে দেখা যায়, তিনিও মারা গেছেন। আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁরা বিনা পারিশ্রমিকে গ্রামের মানুষের কবর খুঁড়ে দিতেন। সকালে চাচার মৃত্যুর খবর শুনে বাবা অনেক কেঁদেছিলেন। পরে বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে নিজেও চলে গেলেন। বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আমরা সবাই মিলে কবর খুঁড়ছিলাম। কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল। হঠাৎ হাশেম কাকা কবরে পড়ে যান। দ্রুত ওপরে তুলে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বন্ধুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে। অনেকে এটিকে আজীবন বন্ধুত্বের বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .