মাগুরার মহম্মদপুরে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ৪৩৪ কেজি চাল পাচারের সময় একটি ইজিবাইকসহ চাল আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার নাগড়া এলাকার হাটবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগড়া বাজারের টিসিবির ডিলার বাবু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বাবু উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া চাল গোপনে বিক্রি করেন। পরে ওই চাল ইজিবাইকে করে অন্যত্র নেওয়ার সময় হাটবাড়িয়া বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ইজিবাইকটি আটক করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করে।
একজন ক্রেতা, মাগুরার বাহারবাগ এলাকার মো. ফারুক বিশ্বাস জানান, তিনি বস্তা কিনতে বাজারে গেলে তাকে চাল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনলেও পরে জানতে পারেন এটি টিসিবির বরাদ্দকৃত সরকারি চাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ডিলার দীর্ঘদিন ধরেই টিসিবির পণ্য গোপনে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে আসছিলেন। তারা গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে তার ডিলারশিপ বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ডিলার রফিকুল ইসলাম বাবু অবশ্য চাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি নিজের জমাকৃত চাল বিক্রি করেছেন। সরকারি চাল বাইরে বিক্রি করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, অনেক উপকারভোগী চাল নিতে চান না বলেই তিনি তা বিক্রি করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডিলারের ঘরে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সেখানে টিসিবির চালের খালি বস্তা, চিনি ও তেল মজুত পাওয়া যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. শাহনুর জামান বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত বিষয়গুলোর একটি হলো আসন্ন ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল)। এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামো না আসায় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে কৌতূহল ও প্রত্যাশা দুই-ই তুঙ্গে। সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমান বেতন কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল সর্বশেষ ২০১৫ সালে, অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের মাধ্যমে। তারও আগে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি পে স্কেল চালু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়ায় এবার ৯ম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক চলছে। ইতিমধ্যে একটি বেতন কমিশন তাদের প্রাথমিক সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা গেজেট প্রকাশ হয়নি, তবুও সম্ভাব্য কাঠামো ফাঁস ও আলোচনায় কর্মচারীদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল (২০২৬ ধারণা) সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনায় থাকা একটি সম্ভাব্য গ্রেডভিত্তিক কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো গ্রেড ১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত) গ্রেড ২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ গ্রেড ৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ গ্রেড ৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ গ্রেড ৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ গ্রেড ৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ গ্রেড ৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ গ্রেড ৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ গ্রেড ৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ গ্রেড ১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ গ্রেড ১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ গ্রেড ১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ গ্রেড ১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ গ্রেড ১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ গ্রেড ১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ গ্রেড ১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ গ্রেড ১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ গ্রেড ১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০ গ্রেড ১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ গ্রেড ২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ এটি এখন পর্যন্ত একটি প্রস্তাবিত ও আলোচনাধীন কাঠামো মাত্র। সরকার আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত বেতন স্কেল হিসেবে গণ্য হবে না।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের সব বাজার, শপিং মল ও খুচরা দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ক্রেতাদের কেনাকাটার সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। নতুন এই সময়সূচি আজ থেকেই কার্যকর হবে এবং ঈদুল আজহার আগের রাত পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট সাধারণত সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার চাপ বাড়ায় সেই সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধা বিবেচনায় এনে এই বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবার ১৩ মে থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে এবং সব টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রেলওয়ে জানিয়েছে, আগামী ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট এবং ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীরা শুধুমাত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অনলাইন ওয়েবসাইট ও ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, টিকিট কেনাবেচার নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এজন্য যাত্রীদের নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোথাও আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের ভাষ্য, অননুমোদিত মাধ্যমে টিকিট কিনতে গেলে অনেকেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তাই নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে টিকিট সংগ্রহে সবাইকে সরকারি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনের টিকিট নিয়ে ব্যাপক চাপ ও ভোগান্তি তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভিড় কমাতে কিছুটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .