ছুটির দিন এলেই যেন বাজারের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের। শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। ২০০ টাকার নিচে মিলছে না ব্রয়লার মুরগির কেজি, দেশি মুরগির দাম তো রীতিমতো আকাশ ছুঁয়েছে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে বেড়েছে ডিমের দামও।
আজ আমাদের প্রতিনিধি রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এই উত্তপ্ত চিত্র খুঁজে পেয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, রোজার ঈদের পর ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় নেমেছিল। কিন্তু এই সপ্তাহের শেষ দিকে তা আবার ২০০ টাকায় ঠেকেছে। সোনালি মুরগির দামেও ১৫ থেকে ২০ টাকার ফারাক দেখা গেছে; গত মাসে যা ৩০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আকাল দেখা গেছে দেশি মুরগির। বাজারে দেশি মুরগি খুঁজেই পাওয়া দায়, আর পেলেও ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না দোকানিরা।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী রমজান আলী দাম বাড়ার কারণ হিসেবে জানান, বাজারে এখন মুরগির সরবরাহ কম, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা বেশি। তাছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবারে বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠান বেশি থাকায় মুরগির কাটতি বাড়ে, তাই দামও একটু চড়া থাকে।
সপ্তাহের শেষ দিনে পরিবারের জন্য একটু ভালো খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। ব্যবসায়ীরা ‘সরবরাহ কম’ ও ‘বিয়ের মৌসুম’-এর অজুহাত দিলেও, হুট করে এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়াটা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে মোটেও যৌক্তিক মনে হচ্ছে না।
প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস হলো ডিম ও ব্রয়লার মুরগি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো গোশতের চাহিদা মেটাতে এগুলোর ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে। ছুটির দিনগুলোতে এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বাজার তদারকি জোরদার না হলে এই দরদামের ওঠানামা অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটই ভারী করবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ডিমের দাম ডজনে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, আর ব্রয়লার মুরগির কেজি ঠেকেছে ২০০ টাকায়। আজ শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অস্বস্তিকর চিত্র দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহে যে ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে, আজ তা কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বাজারে ডিম বিক্রেতা বজলুর রশিদ জানান, সাইজ ও রঙের ওপর ভিত্তি করে ডিমের দাম ওঠানামা করছে। আজ বাজারে ব্রয়লারের বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, বাদামি ডিম ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের পাশাপাশি মুরগির বাজারও বেশ চড়া। রোজার ঈদের পর ব্রয়লারের কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় নামলেও, আজ তা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, বাজারে দেশি মুরগি তো পাওয়াই যাচ্ছে না; দু-এক দোকানে মিললেও দাম হাঁকানো হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর টাউন হলের ব্যবসায়ী রমজান আলী এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বলেন, "মুরগির চাহিদা বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবারে বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান বেশি থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় দাম একটু বাড়তি থাকে।"
ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারা গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ নিতে পারবে। আগে এই হার ছিল সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। পরে সেটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি আংশিক বা পুরোপুরি বকেয়া হয়ে গেলে ওই সময়ের জন্য দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে। চলমান ঋণ ও তলবি ঋণের ক্ষেত্রে পুরো ঋণস্থিতির ওপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বকেয়া কিস্তির ওপর এই সুদ হিসাব করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা ০ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এর আগে একই ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত দণ্ড সুদ নিতে পারত। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ মে জারি করা আগের সার্কুলারের কিছু অংশ সংশোধন করে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আগের বাকি নির্দেশনাগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে উচ্চ সুদের চাপের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ ঋণগ্রহীতা সাম্প্রতিক সময়ে কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত দণ্ড সুদ অনেক সময় বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দণ্ড সুদ কমানো হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অতিরিক্ত জরিমানার ভয় কমলে অনেক গ্রাহক পুনরায় নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে আগ্রহী হতে পারেন। তবে ব্যাংক খাতের কেউ কেউ বলছেন, শুধু দণ্ড সুদ কমালেই হবে না, ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। আজ শনিবার (৯ মে) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। এর আগে গত ৬ মে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় স্বর্ণের বাজারে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে, আর কমেছে ২৮ বার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা সোনার মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবেই দেশের বাজারে বারবার দাম পরিবর্তন হচ্ছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .