দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চাল, ডাল, চিনি ও খেজুরসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর নতুন করে কোনো কর বাড়ানো হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন।
সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে এনবিআরের প্রস্তাবিত খসড়া পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এসব পণ্যের ওপর থাকা উৎসে কর আগের মতোই দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন বাজেটে ডাল বা চিনির মতো নিত্যপণ্যের দাম করের কারণে বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকছে না।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, সাধারণ মানুষের ব্যাংক জমার ওপরও থাকছে বিশেষ সুবিধা। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না গ্রাহকদের। তবে মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিলেও বিলাসবহুল জীবনযাপনে কড়াকড়ি আরোপ করছে সরকার। ৩ হাজার ৫০০ সিসির বেশি ব্যক্তিগত গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন গেমিং থেকে আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ কর বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন বাজেটে করের জাল বাড়াতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ভ্যাট কর্মকর্তার কোনো অনুমোদন ছাড়াই অনলাইনে তাৎক্ষণিক এই নম্বর পাওয়া যাবে। এনবিআর জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। চাল, ডাল ও চিনির মতো পণ্যে কর না বাড়ানোর ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের যে কৃত্রিম উল্লম্ফন দেখা দেয়, তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন মূল্যস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন এই সিদ্ধান্তকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য ‘অক্সিজেন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিত্যপণ্যে কর না বাড়ালেও মোটরবাইক বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, ৩ হাজার ৫০০ সিসির গাড়িতে কর ৫ গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে—সরকার রাজস্ব আদায়ের মূল চাপটি সাধারণ মানুষের বদলে উচ্চবিত্তদের ওপরই রাখতে চাইছে।
কোরবানির ঈদের আগে মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে ক্রেতাদের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে রূপালি ইলিশের দাম শুনেই চমকে উঠছেন সাধারণ মানুষ, কারণ এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে এখন পকেট থেকে খসছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা! আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে মাছের এই চড়া দামের চিত্রই চোখে পড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাইজ অনুযায়ী ইলিশের দাম ওঠানামা করছে। এক কেজি সাইজের ইলিশ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। এমনকি ২০০ গ্রাম সাইজের ছোট জাটকা ইলিশের কেজিও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়! ইলিশের পাশাপাশি চিংড়ির বাজারেও আগুন। আকার ও জাতভেদে এক কেজি চিংড়ি কিনতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কোরবানির ঈদের ঠিক আগে মানুষের আনুষঙ্গিক কেনাকাটার একটি বড় চাপ থাকে। ঠিক এমন সময়ে ইলিশ বা বড় চিংড়ির মতো সুস্বাদু মাছগুলো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে চলে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত মাছ থাকলেও দাম এতটা চড়া রাখা হয়েছে যে, সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে সস্তা মাছের দিকেই ঝুঁকছেন। উৎসবের আগে মাছের এমন আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারের বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। বড় মাছের দাম বেশি থাকলেও, বাজারে তুলনামূলক সস্তায় মিলছে চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়া। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া রুই মাছ ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা এবং দেশি টেংরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের স্বাদ নিতে চাইলে পাঁচমিশালি মাছ কেনা যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। মাছের বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া বলেন, "মাছের দাম আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। তবে বাজারে বেশি মাছ এলে দাম কিছুটা কমে যায়। যেমন আজ পাঙাশ বেশি এসেছে বলে আমরা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। তবে ইলিশসহ অন্য সব মাছের দাম আগের মতোই বাড়তি।
টানা তিন দফা দাম কমানোর পর আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ দামের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবার সেই দাম বাড়ানো হলো। এদিকে আজ স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ডলারের দামের ওঠানামার প্রভাব দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম বাড়া-কমার ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে অনেকেই স্বর্ণ কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়ছেন।
অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের কারণে দেশের ব্যাংক খাত এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশের ২০টি ব্যাংক এখন গুরুতর মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও ভয়াবহভাবে বেড়ে রেকর্ড ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক খাত নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকির সংকেত। তিন মাসে কিছুটা কমেছে ঘাটতি, তবে স্বস্তি নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা ছিল ২৩টি। তখন মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা কমে ২০টি ব্যাংকে দাঁড়ালেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি প্রকৃত উন্নতির চিত্র নয়। তাদের মতে, পুনঃতফসিল ও বিশেষ নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো দেখানো যাচ্ছে। বাস্তবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য এখনো দুর্বলই রয়ে গেছে। কী এই মূলধন ঘাটতি? একটি ব্যাংকের নিজস্ব মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার নিচে নেমে যায়, তখন সেটিকে মূলধন ঘাটতি বলা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন ধরে রাখতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের মূল আর্থিক সক্ষমতার সূচক সিআরএআর (Capital to Risk Weighted Assets Ratio) গত ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। খেলাপি ঋণই সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্লেষকদের মতে, লাগামহীন খেলাপি ঋণই এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা, যাচাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বড় সংকটে গত ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যার ঘাটতির পরিমাণ ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এছাড়া— অগ্রণী ব্যাংক: ৬ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা রূপালী ব্যাংক: ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক: ৪ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে ভয়াবহ অবস্থা সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংক। সাতটি ইসলামী ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের, যার পরিমাণ ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ৩০ হাজার ৫৩ কোটি টাকা ইউনিয়ন ব্যাংক: ২৯ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা এক্সিম ব্যাংক: ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ১৫ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংক: ২ হাজার ১২ কোটি টাকা বেসরকারি ব্যাংকেও বড় ধাক্কা বেসরকারি খাতের সাতটি ব্যাংকও বড় ধরনের মূলধন সংকটে পড়েছে। এসব ব্যাংকের মোট ঘাটতি ৩৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক: ৯ হাজার ৩২ কোটি টাকা এবি ব্যাংক: ৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা পদ্মা ব্যাংক: ৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংক: ৪ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা আইএফআইসি ব্যাংক: ৪ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা সিটিজেনস ব্যাংক: ৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকেও সংকট বিশেষায়িত দুই সরকারি ব্যাংকেও বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ৩০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: ২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা পুনঃতফসিলে সাময়িক স্বস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে। এতে এসব ঋণের বিপরীতে কম প্রভিশন রাখতে হয়েছে। যেহেতু প্রভিশন মূলধন থেকেই সংরক্ষণ করা হয়, তাই সাময়িকভাবে মূলধনের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কেবল সাময়িক স্বস্তি। বাস্তব সমস্যার সমাধান নয়। অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা ব্যাংকারদের মতে, ক্রমাগত মূলধন সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেন ও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুনঃতফসিল বা কাগুজে সমাধান দিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা এবং শক্তিশালী তদারকি ছাড়া ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করা কঠিন হবে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .