জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল শুরু - অর্থ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:২৪
আপডেট: ১৭ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:২৬
পে স্কেল

দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনারদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে আসছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অর্থনীতিতে যেন হঠাৎ কোনো বড় চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকরের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করার বিষয়ে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই বৈঠকেই তিনি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে আগামী জুলাই থেকেই যে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পেতে যাচ্ছেন, তাতে আর কোনো সংশয় নেই।

নতুন এই বেতন কাঠামোটি মূলত তিনটি অর্থবছরে বা তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক স্যালারি) ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দেওয়া হবে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ। আর চূড়ান্ত ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতাগুলো।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। একসাথে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে হঠাৎ করেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যেত, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ পড়ত। ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড়ের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর যেমন চাপ সামলানো যাবে, তেমনি সরকারের জন্যও এই বিপুল অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি সহজ হবে।

হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আর আগামী অর্থবছর থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের অর্ধেক কার্যকর করার জন্য বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত সংস্থান রাখা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর খসড়া বাজেট বক্তব্যে এই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখাটি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই যৌক্তিক প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে তিনি তাতে তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়ে জুলাই থেকেই তা কার্যকর করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

অর্থনীতি ও বাণিজ্য থেকে আরো

আরো দেখুন
কোরবানির আগে রেমিট্যান্সের ঢল: ১৬ দিনেই দেশে এলো ২৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি মাসের শেষেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আগেভাগেই দেশে অর্থ পাঠাতে শুরু করেছেন। ফলে মে মাসজুড়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে দারুণ এক ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। মূলত কোরবানির পশু কেনাসহ ঈদের বাড়তি খরচের জোগান দিতেই প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ১৬ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ১৯৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। দেশীয় মুদ্রায় হিসাব করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)। এই হিসাবে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রবাসী আয়। আজ রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১২৯ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ঈদ নয়, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধপথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবার মান উন্নয়নও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি প্রমাণ করে যে, বৈধ চ্যানেলগুলো যখন প্রবাসীদের জন্য সহজ ও লাভজনক করা হয়, তখন তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ হুন্ডির পথ এড়িয়ে ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে কত রেমিট্যান্স এলো, তারও একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে, যার পরিমাণ ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (২৩ কোটি ৮১ লাখ ডলার), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (২৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার), ট্রাস্ট ব্যাংক (১৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার) এবং অগ্রণী ব্যাংক (১৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার)। চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে রেমিট্যান্সের একটি ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে আসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এরপর আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ এবং এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মে মাস শেষে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে পারে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসের বাকি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডলার সংকট কাটাতে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
পে স্কেল

জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল শুরু - অর্থ মন্ত্রণালয়

আয়কর রিটার্ন অডিটে আপনার নাম পড়লে কী করবেন জানুন

TAKA

৩৩ ব্যাংকে মালিক বিহীন পড়ে আছে ৫৩ কোটি টাকা, নেওয়ার মতো কেউ নেই

Bangla QR
১ জুলাই থেকে লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করলো সরকার

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে টাকা লেনদেনের নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে টাকা ট্রান্সফার বা কেনাকাটার বিল মেটানোর ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত দেশজুড়ে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ‘ক্যাশলেস’ সমাজ গড়তে এবং কাগুজে নোট ছাপানোর বিপুল খরচ বাঁচাতেই এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি কেমন হবে, তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ক্যাশলেস বা ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আগামী জুনের মধ্যে সবার অন্তত একটি লেনদেন হলেও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা উচিত।" নগদ টাকার বদলে ডিজিটাল লেনদেনে জোর দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে গভর্নর জানান, প্রতি বছর দেশে শুধু কাগজের নোট ছাপাতেই সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। মানুষ যদি ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, তবে এই খরচের অর্ধেক অর্থাৎ অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা অনায়াসেই বাঁচানো সম্ভব। এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। বাংলা কিউআর হলো এমন একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট) মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। এটি চালু হলে মুদি দোকান বা ছোট ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা কোম্পানির কিউআর কোড ঝোলাতে হবে না। এতে সাধারণ মানুষের নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে। আর নোট ছাপানোর ১০ হাজার কোটি টাকা বেঁচে গেলে তা জনকল্যাণে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। সভায় খুলনার ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ঋণ পাওয়া এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পথে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর জবাবে গভর্নর কৃষক ঋণ এবং সম্প্রতি আলোচিত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়েও কথা বলেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চমৎকার উদ্যোগটি শতভাগ সফল করতে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্মার্টফোন এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনা। প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের অভ্যস্ত করতে না পারলে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’-এর সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার নির্বাহী পরিচালক মো. রুকনুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং মুদ্রানীতি নিয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ সালাহ্উদ্দিন নাসের।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে, ২০২৬ 0

দেশের বাজারে আজ সোনার পাশাপাশি বড় পতন রুপার দামেও

ডিম

ডিমের দাম বাড়ল ডজনে ৩০ টাকা

মুরগী

সোনালীর কেজি ৩৫০, ব্রয়লার ২০০: বাজারে চরম অস্বস্তিতে ক্রেতারা

দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম, জানুন আজকের রেট কত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারেও এর সুফল পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের খরচ হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে 'তেজাবি' বা পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণেই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুসের নতুন বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, আজ থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনা কেনা যাচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি নেমে এসেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায়। তবে সোনার দাম ক্রেতাদের স্বস্তি দিলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের দামেই ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ত্রিমুখী উত্তেজনার জেরে বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল লাগামছাড়া। তবে আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম 'গোল্ডপ্রাইস'-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে এখন প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬০০ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারের এই শীতল হওয়ার প্রভাবই সরাসরি পড়েছে দেশের বাজারে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিয়ের এই ভরা মৌসুমে সোনার দাম কমার খবরটি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য দারুণ স্বস্তির। দীর্ঘদিন ধরে সোনা আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি থাকায় অনেকেই গয়না কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন বা বাজেট কাটছাঁট করছিলেন। ভরিপ্রতি দুই হাজার টাকার বেশি এই দরপতন খুচরা বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়াবে। বিশ্ববাজারের এই পড়তি ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সামনের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের গয়না কেনার স্বপ্ন আরও কিছুটা সহজ হতে পারে।

অর্থনীতি ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬ 0

চাল-ডাল ও চিনিতে কর নিয়ে যা জানালো এনবিআর

বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যবসায়ীদের চাপ কমাতে ঋণের জরিমানা সুদ কমালো বাংলাদেশ ব্যাংক

এবার ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ঋণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

এবার ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ঋণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত