দেশের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও তহবিলের পরিমাণ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পেনশন তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর অর্জিত মুনাফাসহ এই তহবিলের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে পেনশনের চাঁদা জমা দেওয়া যাচ্ছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোও নিবন্ধন কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচারণা জোরদার এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নতুন নির্দেশনায় শিক্ষকদের সরকার, সরকারি দপ্তর বা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার কিংবা আপত্তিকর পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য, কটূক্তি এবং অপপ্রচারমূলক পোস্ট করছেন বা সেগুলো শেয়ার করছেন, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯’ বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী রাষ্ট্র, সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, মন্তব্য বা শেয়ার করতে পারবেন না। এ ধরনের নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তা সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কটূক্তি, অপপ্রচার বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আযহা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে এখন থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা। সর্বশেষ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা আগামী ২৮ অথবা ২৯ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০ এপ্রিল থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হয়েছে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলকদ মাস শেষ হওয়ার পর শুরু হবে জিলহজ মাস। আর জিলহজের ১০ তারিখে উদযাপিত হয় কোরবানির ঈদ। জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব বলছে, যদি জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হয়, তাহলে বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহা হতে পারে। আর যদি মাসটি ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, তাহলে ঈদ হতে পারে ২৯ মে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে দুবাই ও সৌদি আরব ভিত্তিক জ্যোতির্বিদরা ধারণা দিয়েছেন, সেখানে ২৭ মে ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। সে হিসেবে বাংলাদেশে একদিন পর ঈদ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য তারিখের বদলে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এদিকে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কোরবানির পশুর হাট, যাতায়াত ও সরকারি ছুটির সম্ভাব্য সূচি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডার ও আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী, এবার ঈদকে ঘিরে টানা কয়েক দিনের ছুটি থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
দেশে টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে এবার বড় পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহে নেমেছে সরকার। ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে টিকার কোনো ঘাটতি থাকবে না। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকার ইতোমধ্যেই ইউনিসেফকে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। সংগ্রহ করা ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে রয়েছে এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও (ওপিভি) এবং পেন্টাসহ মোট ১০ ধরনের জীবনরক্ষাকারী টিকা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে কয়েকটি বড় চালান বাংলাদেশে এসেছে। গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি, ৬ মে ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং ৯ লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছায়। ১০ মে পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ টিকা সরকারের হাতে এসেছে বলে জানানো হয়। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী কয়েক মাস টিকার কোনো সংকট থাকবে না।” তিনি আরও জানান, ভ্যাকসিনের মান ঠিক রাখতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। হামের টিকা কার্যক্রম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এরপরও কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে তাদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিকা দেওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিশু মৃত্যু রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তথ্যও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)’ প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৮ মে থেকে ইআরএল পুনরায় চালু হয়েছে। এছাড়া ১১ মে পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলেও দাবি করা হয়। ঈদুল আজহা সামনে রেখে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। পাশাপাশি ১২টি সেতুর টোল প্লাজায় ২০ মে’র মধ্যে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য পিওএস মেশিন বসানো হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে টিকার চাহিদা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরকারের এই বড় উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .