কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে বিজ্ঞানীদের মাথায়। পরের মহামারী আসার আগেই কি আমরা সতর্ক হতে পারব? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার মাঠে নামছে ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর। এর ফলে ভবিষ্যতে মহামারীর পূর্বাভাস দেবে এআই।
ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশনের আওতায় সংস্থাটি চালু করছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোগজীবাণু নজরদারি সরঞ্জাম, যা নিপাহ, জিকা, করোনাভাইরাসের নতুন প্রজাতি থেকে শুরু করে অ্যানথ্রাক্স ও কালাজ্বরের মতো রোগের হুমকিও আগেভাগে শনাক্ত করতে পারবে। বিশেষ বিষয় হলো, এটি কেবল হাসপাতালের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে না — একসঙ্গে বিশ্লেষণ করবে পশুপালনের স্বাস্থ্য তথ্য, বৃষ্টিপাত, বন্যা ও মশার ঘনত্বের মতো পরিবেশগত সূচকও। কারণ বিশ্বে যত নতুন সংক্রামক রোগ আসে, তার প্রায় ৬০ শতাংশই পশু থেকে মানুষে ছড়ায় কোভিড, নিপাহ, বার্ড ফ্লু সবই তার প্রমাণ।
তবে আইসিএমআর একা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্যান্ডেমিক ইন্টেলিজেন্স হাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসিও একই লক্ষ্যে কাজ করছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইতিমধ্যে এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন যা সিডিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দশ সপ্তাহ আগেই ভেরিয়েন্টের আধিপত্য পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে।
আইসিএমআরের এই এআই সরঞ্জামটি মূলত কাজ করে বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলোকে একই ছাদের নিচে এনে। হাসপাতালের রোগী ভর্তির তথ্য, ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফলাফল, পশুপালন বিভাগের রিপোর্ট, আবহাওয়ার তথ্য এবং এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া উপসর্গ-সংক্রান্ত পোস্ট
এই সব ধরনের তথ্য একসঙ্গে প্রতিনিয়ত বিশ্লেষণ করে সরঞ্জামটি। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ জ্বর-কাশির রোগী বাড়লে, একই সময়ে সেখানকার পোলট্রি ফার্মে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটলে এবং আবহাওয়ায় অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে এই তিনটি সংকেত আলাদাভাবে হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে না, কিন্তু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে এটি একটি বড় বিপদের আভাস হতে পারে।
এআই ঠিক এই কাজটাই করে প্যাটার্ন খোঁজে, অস্বাভাবিকতা ধরে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। মানব বিশেষজ্ঞের পক্ষে এত বিপুল ও বিচ্ছিন্ন তথ্য একই সময়ে প্রক্রিয়া করা সম্ভব নয়, কিন্তু এআই সেটি করতে পারে রিয়েল-টাইমে । এটাই এই প্রযুক্তির মূল শক্তি।
তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তথ্যের ঘাটতি। বিভিন্ন দেশ স্বাস্থ্য তথ্য ভাগ করতে অনিচ্ছুক, বিভিন্ন বিভাগের ডেটার ফরম্যাট আলাদা এই প্রতিবন্ধকতা না কাটলে সেরা মডেলও অকেজো। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের ভারতের সঙ্গে যাতায়াত এবং নিপাহ ও ডেঙ্গুর মতো রোগের নিয়মিত প্রকোপ মিলিয়ে দেশটি সবসময়ই ঝুঁকির কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই-চালিত আঞ্চলিক নজরদারি নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের যোগ দেওয়াটা এখন আর শুধু সুযোগ নয় , এটি এখন অপরিহার্য।
ফেসবুক প্রোফাইল কে কে ভিজিট করছে সেটা জানার ইচ্ছা প্রায় সবারই থাকে। বিশেষ করে কোনো পুরনো বন্ধু বা পরিচিত কেউ হয়তো প্রোফাইল দেখছে, এই কৌতূহল মাথায় ঘুরতেই থাকে। কিন্তু সত্যিটা একটু ভিন্ন। ফেসবুকে আপনাকে কে সবচেয়ে বেশি দেখে জানার উপায় আছে? সরাসরি উত্তর হলো, না। ফেসবুক কখনোই এই তথ্য প্রকাশ করে না। এটা ফেসবুকের নিজস্ব প্রাইভেসি পলিসির অংশ। কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ, ব্রাউজার এক্সটেনশন বা ওয়েবসাইট যদি দাবি করে যে তারা দেখাতে পারবে আপনার প্রোফাইল কে কে ভিজিট করেছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ধরনের অ্যাপ বা লিংকে ক্লিক করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং ব্যক্তিগত ডেটা তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যেতে পারে। তবে কিছু পরোক্ষ ইঙ্গিত থেকে ধারণা করা যায়। ফেসবুক স্টোরি দেখলে কারা দেখেছেন তার তালিকা পাওয়া যায়, তবে পোস্ট বা প্রোফাইল ভিজিটের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। যদি কেউ হঠাৎ আপনার পুরনো পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করে, বুঝতে পারবেন তিনি প্রোফাইল ঘাটছেন। ফ্রেন্ড সাজেশনেও মাঝে মাঝে প্রোফাইল ভিজিটের প্যাটার্ন কাজ করে বলে ধারণা করা হয়, তবে ফেসবুক এটা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে না। সহজ কথায়, যে অ্যাপ বা সাইট বলছে "দেখুন কে আপনার প্রোফাইল ভিজিট করেছে", সেটা থেকে দূরে থাকুন। এগুলো কৌতূহলকে পুঁজি করে ডেটা চুরি করার ফাঁদ।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .