আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের বিশাল ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের এই ছুটি কার্যকর থাকবে।
তবে এখানে একটি মজার বিষয় হলো, ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা ছুটির মাঝে ২৪ মে মাত্র একদিন অফিস খোলা থাকায় ওইদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে অনেকেই হয়তো নৈমিত্তিক ছুটি (ক্যাজুয়াল লিভ) নিয়ে নেবেন। এর ফলে অনেকেই কার্যত ৯ দিনের বিশাল ছুটির ফাঁদে পা বাড়াবেন, যা ঈদের আগে গ্রামের বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য মহাসড়কে যানজট এড়াতে পরোক্ষভাবে বেশ সহায়ক হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পেলেও, বেশ কিছু পেশার মানুষকে ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
অর্থাৎ, ঈদের ছুটির সময়ও বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাক বিভাগ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছুটি পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে চিকিৎসাক্ষেত্রের মানুষদের; হাসপাতাল খোলা থাকায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ পরিবহনে নিয়োজিত কর্মীদের ঈদের দিনগুলোতেও মানুষের সেবায় ডিউটি করতে হবে।
মূলত দেশ যখন ছুটির আমেজে থাকবে, তখন সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্ত, যা এই পেশার মানুষদের ত্যাগের এক বড় উদাহরণ।
অন্যদিকে, সরকারি ও জরুরি সেবার কর্মীদের ছুটির হিসাব পরিষ্কার হলেও ব্যাংক, আদালত এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা কারা কতদিন ছুটি পাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুপ্রিম কোর্ট তাদের নিজ নিজ খাতের ছুটির বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে। আর বেসরকারি শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের বিশাল ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের এই ছুটি কার্যকর থাকবে। তবে এখানে একটি মজার বিষয় হলো, ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা ছুটির মাঝে ২৪ মে মাত্র একদিন অফিস খোলা থাকায় ওইদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে অনেকেই হয়তো নৈমিত্তিক ছুটি (ক্যাজুয়াল লিভ) নিয়ে নেবেন। এর ফলে অনেকেই কার্যত ৯ দিনের বিশাল ছুটির ফাঁদে পা বাড়াবেন, যা ঈদের আগে গ্রামের বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য মহাসড়কে যানজট এড়াতে পরোক্ষভাবে বেশ সহায়ক হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পেলেও, বেশ কিছু পেশার মানুষকে ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ, ঈদের ছুটির সময়ও বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাক বিভাগ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছুটি পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে চিকিৎসাক্ষেত্রের মানুষদের; হাসপাতাল খোলা থাকায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ পরিবহনে নিয়োজিত কর্মীদের ঈদের দিনগুলোতেও মানুষের সেবায় ডিউটি করতে হবে। মূলত দেশ যখন ছুটির আমেজে থাকবে, তখন সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্ত, যা এই পেশার মানুষদের ত্যাগের এক বড় উদাহরণ। অন্যদিকে, সরকারি ও জরুরি সেবার কর্মীদের ছুটির হিসাব পরিষ্কার হলেও ব্যাংক, আদালত এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা কারা কতদিন ছুটি পাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুপ্রিম কোর্ট তাদের নিজ নিজ খাতের ছুটির বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে। আর বেসরকারি শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি নাগরিকের এনআইডির মূল তথ্য ফরম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নেই বলে জানা গেছে। এসব ফরম কোথায় আছে, আদৌ সংরক্ষিত আছে কি না তা নিয়েই এখন খোঁজে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৪ কোটি নাগরিকের ফরম-২ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল তথ্য ফরম সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় যেসব নাগরিক ভোটার হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ের বহু এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। পরে সংশোধনের জন্য আবেদন করলে অনেককেই জানানো হয় তাদের ফরম-২ সার্ভারে নেই। ইসি কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এসব ফরম স্থানীয় নির্বাচন অফিসে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ফরম নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও বৃষ্টির পানিতে, কোথাও উইপোকা ও ইঁদুরে, আবার কোথাও অগ্নিকাণ্ডে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে ফরম-২ স্ক্যান ও সার্ভারে আপলোডের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় নাগরিকের দেওয়া মূল তথ্য সঠিক থাকলেও এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। এমন ক্ষেত্রে ফরম-২ থাকলে বিনা ফিতে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু ফরম না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় স্ক্যানিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। তবে কত ফরম হারিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ফরম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো কাজ শেষ হলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার উপজেলায় প্রায় দুই লাখ নাগরিকের ফরম-২ আপলোড করা ছিল না। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার ফরম পাওয়া গেছে এবং এখন আপলোডের কাজ চলছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ফরম-২ সার্ভারে আপলোডের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এখন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।” জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “আট কোটি নাগরিকের তথ্য স্ক্যান ও আপলোড করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। কত তথ্য হারিয়েছে, তা আপলোড শেষ হলে বোঝা যাবে। উল্লেখ্য এই যে বাংলাদেশে এনআইডি এখন শুধু ভোটার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সিম নিবন্ধন, চাকরি, জমি কেনাবেচাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে এটি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নাগরিকের মূল তথ্য ফরম অনুপস্থিত থাকা বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ডিজিটাল সংরক্ষণ ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। খবরঃ দৈনিক কালের কন্ঠ
সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেছেন, যারা তরুণদের অনিয়মিত অভিবাসনের নামে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন ও বিদেশফেরত অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সাগরপথে যাওয়ার চেষ্টা এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, “বিদেশফেরতদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পগুলো অনুপ্রেরণাদায়ক। তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কারণ এই প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।” প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের অনেক অর্থ অপচয় হলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। তাই তাদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনরেকত্রীকরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তার মতে, শুধু এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো নয়, মানভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে দক্ষ কর্মী তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বিদেশফেরতদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বিদেশে যেতে গিয়ে অনেক কর্মী বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা নেন। ফলে বিদেশে পৌঁছেই দ্রুত কাজ পাওয়ার চাপে অনেক সময় বৈধ-অবৈধ পথের পার্থক্য তারা বিবেচনা করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, অনেকেই ভাঙা স্বপ্ন ও মানসিক আঘাত নিয়ে দেশে ফেরেন। তাই তাদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। অনুষ্ঠানে বিদেশফেরত অভিবাসী সেলিনা বেগম ও সোহেল রানা নিজেদের সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .