পে স্কেল

নবম পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠক বৃহস্পতিবার, কোন গ্রেডে কত বাড়বে বেতন?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠকে বসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৈঠক থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে না। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা, বাড়তি আর্থিক সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ যুক্ত হবে। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় আর্থিক চাপ পড়বে না। জানা গেছে, আগামী জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ সুবিধাসহ নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর পড়ছে। তাই নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা আসতে পারে। এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় সুখবর আসতে পারে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাঁদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়াবে না, বাজারে অর্থ প্রবাহও বাড়াবে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব নিয়েও সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ মে, ২০২৬ 0
পে স্কেল
জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল শুরু - অর্থ মন্ত্রণালয়

দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনারদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে আসছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অর্থনীতিতে যেন হঠাৎ কোনো বড় চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকরের কৌশল নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করার বিষয়ে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই বৈঠকেই তিনি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে আগামী জুলাই থেকেই যে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পেতে যাচ্ছেন, তাতে আর কোনো সংশয় নেই। নতুন এই বেতন কাঠামোটি মূলত তিনটি অর্থবছরে বা তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক স্যালারি) ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দেওয়া হবে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ। আর চূড়ান্ত ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতাগুলো। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। একসাথে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে হঠাৎ করেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যেত, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ পড়ত। ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড়ের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর যেমন চাপ সামলানো যাবে, তেমনি সরকারের জন্যও এই বিপুল অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি সহজ হবে। হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আর আগামী অর্থবছর থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের অর্ধেক কার্যকর করার জন্য বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত সংস্থান রাখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর খসড়া বাজেট বক্তব্যে এই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখাটি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই যৌক্তিক প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে তিনি তাতে তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়ে জুলাই থেকেই তা কার্যকর করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে, ২০২৬ 0
নবম পে-স্কেলের দাবিতে ১৬ মে ঢাকায় বড় কর্মসূচির ডাক

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সরকারি কর্মচারীদের। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ঝুলে থাকা নতুন পে-স্কেলের দাবি এবং বেতন বৈষম্য দূর করতে এবার রাজপথে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন তারা। "পে-স্কেল আমাদের প্রাপ্যতা" এই দাবি নিয়ে আগামী ১৬ মে রাজধানী ঢাকায় এক বিশাল প্রতিনিধি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। খবর নিয়ে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল দেওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করেনি সরকার। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল দেওয়ার কথা থাকলেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন কয়েক লাখ সাধারণ কর্মচারী। আন্দোলনকারীরা বলছেন, গত ১০ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও তাদের বেতন বাড়েনি এক পা-ও। আগামী ১৬ মে’র এই সমাবেশ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান বাজারদরের সাথে মিল রেখে দ্রুত নতুন পে-কমিশন গঠন, গ্রেডগুলোর মধ্যে থাকা বিশাল বেতন বৈষম্য দূর করা এবং নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত সম্মানজনক মহার্ঘ ভাতা প্রদান। আন্দোলনের আয়োজকরা সাফ জানিয়েছেন, “আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি, কিন্তু বর্তমান বেতনে এখন আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘরে বসে থাকার সময় শেষ, এবার দাবি আদায় করেই ছাড়ব।” এই সমাবেশকে সফল করতে ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রস্তুতি সভা শেষ হয়েছে। ১৬ মে’র এই জমায়েত থেকে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ১১ বছর একটি দীর্ঘ সময়। বিশেষ করে যখন চাল, ডাল আর তেলের দাম আকাশছোঁয়া, তখন নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের স্থির বেতনে টিকে থাকা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই আন্দোলন কেবল বেতনের লড়াই নয়, বরং এটি জীবনযাত্রার মান রক্ষার লড়াই। তবে সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ৬ লাখ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা, অন্যদিকে কয়েক লাখ কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর চাপ। যদি ১৬ মে’র সমাবেশ থেকে বড় কোনো অচলবস্থার ডাক দেওয়া হয়, তবে প্রশাসন ও জনসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরকার কি বাজেটের আগেই অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সুখবর দেবে, নাকি কর্মচারীরা আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবে এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ মে, ২০২৬ 0
নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে
পে স্কেল বাস্তবায়নে সুখবর এলো

দীর্ঘদিন ধরেই নতুন পে স্কেলের অপেক্ষায় ছিলেন দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবী। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়তে থাকায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। অবশেষে সেই অপেক্ষার মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং আগামী বাজেটকে সামনে রেখে বড় ধরনের আর্থিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুধু মূল বেতন না, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাতেও পরিবর্তন আনার চিন্তা রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে কিছু বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় অনেকটাই কমে গেছে। বেতন বাড়লেও বাজারদরের সঙ্গে সেটির সামঞ্জস্য থাকছে না। বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে বাসাভাড়া এবং দৈনন্দিন খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে পুরোনো বেতন কাঠামো দিয়ে অনেক পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ কারণেই নতুন পে স্কেলকে এখন শুধু চাকরিজীবীদের দাবি নয়, বরং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বাস্তবায়ন কবে হতে পারে এখন পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বাজেট ঘোষণার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একসঙ্গে বড় অঙ্কের ব্যয় বাড়ালে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। আর অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়বে। এর প্রভাব বাজারেও পড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর চ্যালেঞ্জও সামনে আসবে। আবার দেশের অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না, বাজার ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী করতে হবে। না হলে বাড়তি বেতনের সুফল সাধারণ কর্মচারীরা পুরোপুরি পাবেন না।

ডেস্ক রিপোর্ট ১৪ মে, ২০২৬ 0
৯ম জাতীয় পে স্কেল: কোন গ্রেডে কত বেতন হতে পারে প্রকাশিত হলো
৯ম জাতীয় পে স্কেল: কোন গ্রেডে কত বেতন হতে পারে প্রকাশিত হলো

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত বিষয়গুলোর একটি হলো আসন্ন ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল)। এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামো না আসায় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে কৌতূহল ও প্রত্যাশা দুই-ই তুঙ্গে। সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমান বেতন কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল সর্বশেষ ২০১৫ সালে, অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের মাধ্যমে। তারও আগে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি পে স্কেল চালু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়ায় এবার ৯ম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক চলছে। ইতিমধ্যে একটি বেতন কমিশন তাদের প্রাথমিক সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা গেজেট প্রকাশ হয়নি, তবুও সম্ভাব্য কাঠামো ফাঁস ও আলোচনায় কর্মচারীদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল (২০২৬ ধারণা) সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনায় থাকা একটি সম্ভাব্য গ্রেডভিত্তিক কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো গ্রেড ১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত) গ্রেড ২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ গ্রেড ৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ গ্রেড ৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ গ্রেড ৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ গ্রেড ৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ গ্রেড ৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ গ্রেড ৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ গ্রেড ৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ গ্রেড ১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ গ্রেড ১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ গ্রেড ১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ গ্রেড ১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ গ্রেড ১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ গ্রেড ১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ গ্রেড ১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ গ্রেড ১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ গ্রেড ১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০ গ্রেড ১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ গ্রেড ২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ এটি এখন পর্যন্ত একটি প্রস্তাবিত ও আলোচনাধীন কাঠামো মাত্র। সরকার আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত বেতন স্কেল হিসেবে গণ্য হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ মে, ২০২৬ 0
নতুন পে স্কেল: ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাজেট নিয়ে সরকারের বড় প্রস্তুতি
নতুন পে স্কেল: ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাজেট নিয়ে সরকারের বড় প্রস্তুতি

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বিশাল অঙ্কের অর্থ লাগবে। আর সেই কারণেই আগামী বাজেটে বড় ধরনের বরাদ্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি দপ্তর থেকে জানা গেছে, নবম পে স্কেলের জন্য নতুন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা চলছে। অর্থাৎ, চলতি ব্যয়ের কাঠামোতে একটি বড় ধরনের সমন্বয় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা বেশ জোরালো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ঠিক রাখতে নতুন পে স্কেল এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া এবং চিকিৎসা ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে বর্তমান বেতন কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা যেমন বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতার কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। এদিকে, অর্থনীতিবিদদের অনেকে সতর্ক করে বলছেন, বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো না গেলে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, হঠাৎ বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি হলে তা পরোক্ষভাবে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে। অন্যদিকে প্রশাসনিক পর্যায়ের একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে পে স্কেল না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন পে স্কেল শুধু একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, বাজার পরিস্থিতি এবং জনজীবনের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। ফলে সরকার এখন বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ১২ মে, ২০২৬ 0
নবম পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন যারা
নবম পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন যারা

দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল নিয়ে বড় আপডেট সামনে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার সর্বনিম্ন মূল বেতন বাড়িয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।  বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।  অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্রব্যমূল্যের চাপ, বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের দিকেই এবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সচিবালয় সূত্রে প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ ভাতাও বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।  ডিপি / এস এস

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ মে, ২০২৬ 0
আলাদা পে স্কেলের দাবি পুলিশের
আলাদা পে স্কেলের দাবি পুলিশের, আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ সদস্যদের জন্য আলাদা পে-স্কেল, ঝুঁকিভাতা, ওভারটাইম বিল এবং চাকরির শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনারারি পদোন্নতির দাবি উঠেছে পুলিশ সপ্তাহের কল্যাণ প্যারেডে। রোববার (১০ মে) দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন পুলিশ সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাসও দিয়েছেন। কল্যাণ প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র পে-স্কেল পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি। তার ভাষায়, দেশে বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীর জন্য আলাদা পে-স্কেল রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পুলিশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা চাওয়া হয়েছে। কল্যাণ প্যারেডে বিমানবন্দর থানার ওসি এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার তদন্ত কাজে নিয়োজিত উপ-পরিদর্শকদের (এসআই) জন্য মোটরসাইকেল কেনায় সুদমুক্ত ঋণ এবং জ্বালানি খরচের বিল দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে মামলার তদন্ত ব্যয় বেড়েছে, অথচ তদন্ত কাজে ব্যবহারের জন্য থানাগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহন নেই। মোটরসাইকেল সুবিধা দিলে তদন্তের গতি বাড়বে। এছাড়া এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ঝুঁকিভাতাসহ ওভারটাইম ডিউটির জন্য ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাতার দাবি উত্থাপন করেন। প্যারেডে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক নারী কনস্টেবল অনারারি পদোন্নতির দাবি জানান। তিনি বলেন, অনেক পুলিশ সদস্য কনস্টেবল বা ইন্সপেক্টর পদ থেকেই অবসরে যান। অন্তত অবসরের আগে এক ধাপ পদোন্নতি দিলে তা সদস্যদের জন্য সম্মানের বিষয় হবে। সেনাবাহিনীতেও এমন ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেওয়া এক ডিআইজি জানান, পুলিশের থানা, ব্যারাক ও ফাঁড়িসহ বিভিন্ন ইউনিটের নতুন ভবন নির্মাণে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সেটি আবার চালুর অনুরোধও করা হয়েছে। জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়।” পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ব পালনের প্রশংসাও করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর করতে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে বাহিনীর মনোবল ও পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়তে পারে। ডিপি/ এস এস

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ মে, ২০২৬ 0
জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন পে স্কেল
জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন পে স্কেল? যা জানা গেল

সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, নতুন পে স্কেল কবে থেকে কার্যকর হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।  তবে এখনো সরকারিভাবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যুগান্তর ও অন্যান্য পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন ইতোমধ্যে সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ মে, ২০২৬ 0
নতুন পে স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা ও পেনশন
নতুন পে স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা ও পেনশন

দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন এই পে-স্কেলের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী উপকৃত হবেন। শুধু কর্মরত চাকরিজীবীরাই নন, পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বড় ধরনের সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব, যা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। পে-স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি বর্তমানে সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ করছে। সরকারের কাছে খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নতুন প্রস্তাবনায় পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের পেনশন ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হতে পারে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তে পারে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। এছাড়া নতুন পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা মাসে ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন। ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একবারে নয়, তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে একইসঙ্গে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা সামাল দিতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়তি দক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইন ডেস্ক ১০ মে, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন মাত্র ২ মিনিটে!

আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন। 

বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

সপ্তাহের সেরা

বিনোদন

রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক? ভাইরাল সংলাপের পেছনের আসল রহস্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে, ২০২৬ 0