সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা এবার বড় পরিসরে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১ জুলাই ২০২৫ থেকে নতুন ভাতা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এই সুবিধা উপভোগ করছেন। আর এই কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কিছুটা হলেও বেড়েছে।
গত ২৪ জুন ২০২৫ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারার আওতায় এই সংশোধনী আনা হয়। প্রজ্ঞাপন নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩৪.০৮৩.২৪-১৪৭, যা ৩ জুন ২০২৫ তারিখে জারি করা হয়। আর এই প্রজ্ঞাপনে নতুনভাবে একজন সরকারি চাকরিজীবীর নির্ধারিত নতুন মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য , দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের নির্দিষ্ট হারে যে অতিরিক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় এটাকে মূলত মহার্ঘ ভাতা বলা হয়।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ১৫ ধারার আওতায় দেয়া এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভাতা হিসেবে চাকরিজীবীরা বর্তমানে মাসে ১,০০০ টাকা পাচ্ছেন যা আগামী থেকে কমপক্ষে ১,৫০০ টাকা করা হবে। একইভাবে, পেনশনভোগীদের বর্তমান ৫০০ টাকা ভাতাও বৃদ্ধি করে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি পেনশনভোগীর মাসিক প্রাপ্য পেনশন ১৭,৩৮৯ টাকা বা তার বেশি হয়, তারা ভাতা হিসেবে ১০% পাবেন। আর ১৭,৩৮৮ টাকা বা তার নিচে পেনশনপ্রাপ্তরা ১৫% হারে ভাতার সুবিধা পাবেন।
একই দিনে অর্থ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, বিচার বিভাগ ও যৌথ বাহিনীসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির কর্মীদের জন্য আলাদা চিঠি পাঠিয়েছিলো,
চিঠিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধার নতুন নির্দেশনা জারি সহ অর্থ বিভাগের এই আদেশে ২০২৩ সালের আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল করে পদমর্যাদা ও গ্রেড অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট অফিসার ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মূল বেতনের ১০ শতাংশ এবং সার্জেন্টসহ নিচের পদের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন। পেনশনভোগীরাও বেসামরিক সরকারি বিধি অনুযায়ী এই সুবিধা পাবেন। বিচার বিভাগে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।
অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যারা ৯ম গ্রেড বা তার ওপরে আছেন তারা ১০ শতাংশ এবং ১০ম গ্রেড বা নিচের ধাপে কর্মরতরা ১৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধার পরিমাণ সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে পারেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্ট ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিগত ৬ মাসের গড় বিনিময় হার এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের ১০ শতাংশ সারচার্জসহ সংশোধিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ক্যাটাগরির জন্য ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট এখন ১৬৪ রিঙ্গিত লাগবে, যা আগে ছিল ১৪০ রিঙ্গিত। একই ক্যাটাগরিতে ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য ২৭৩ রিঙ্গিত দিতে হবে, যা আগে ছিল ২৩৩ রিঙ্গিত। ৬৪ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৬৯৫ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৮১৭ রিঙ্গিত হয়েছে এবং ১০ বছর মেয়াদির ক্ষেত্রে ৮১০ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৯৫৩ রিঙ্গিত হয়েছে। অন্যদিকে পেশাজীবী ও অন্যান্য ক্যাটাগরির জন্য ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৪৬৫ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৫৪৫ রিঙ্গিত হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদির জন্য ৫৮০ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন ৬৮১ রিঙ্গিত দিতে হবে। ৬৪ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৮১৭ রিঙ্গিত এবং ১০ বছর মেয়াদির জন্য ৯৫৩ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ হিসেবে আবেদন ফরম পূরণ, ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ, ইন্টারভিউ, বায়ো-এনরোলমেন্ট, স্ক্যানিং এবং পাসপোর্ট ডেলিভারির অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবার জন্য সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের ৩২ রিঙ্গিত এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের ৬০ রিঙ্গিত প্রদান করতে হবে। হাইকমিশন জানিয়েছে, ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় সরকারি ফি এবং কল্যাণ তহবিলের সারচার্জ সমন্বয় করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখের পর থেকে নতুন হারে ফি পরিশোধ করে সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব রাজনৈতিক দলের জন্য পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রদান করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তা প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বাসভবন, কার্যালয়, যাতায়াত, জনসভা এবং সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .