পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীর মুসল্লিদের সুবিধার্থে এখানে পর্যায়ক্রমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। গতকাল ২১ ই মে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) পক্ষ থেকে এই পাঁচটি জামাতের সময়সূচি এবং এতে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম ও মুকাব্বিরদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদের সই করা এই তালিকা অনুযায়ী, সকাল ৭টার প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত এবং সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই জামাতে ইমাম হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান ও মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন এবং সর্বশেষ বা পঞ্চম জামাতটি শুরু হবে সকাল পৌনে ১১টায় (১০টা ৪৫ মিনিটে), যেখানে ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। আমাদের সংবাদকক্ষের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার মতো ব্যস্ত ও জনবহুল শহরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবার পক্ষে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার দিন সকালে পশু কোরবানি নিয়ে অনেককে ব্যস্ত থাকতে হয়, আবার জরুরি সেবায় নিয়োজিত অনেকের সকালে ডিউটি থাকে। তাদের জন্য বায়তুল মোকাররমের এই পর্যায়ক্রমিক জামাতের ব্যবস্থা বিশাল এক স্বস্তির জায়গা। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে প্রায় ১১টা পর্যন্ত একের পর এক জামাত চলার কারণে রাজধানীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ নিজেদের সুবিধামতো সময়ে জাতীয় মসজিদে এসে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। এটি শুধু ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যই বজায় রাখে না, বরং ঈদের দিনের ব্যস্ততাকে সুন্দরভাবে সামলে নিতে সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে সাহায্য করে। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো ইমাম উপস্থিত থাকতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থাও ঠিক করে রেখেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইফার সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের দিন সকালে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে, সবাইকে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আনন্দঘন ও পবিত্র খবর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আর এর মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত হয়ে গেল এবারের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ও কোরবানির ঈদের দিনক্ষণ। চাঁদ দেখার এই ঘোষণার ফলে দেশটিতে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আজ রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন অর্থাৎ আরাফাত দিবস পালিত হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে (মঙ্গলবার)। সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে দেশটির আকাশে চাঁদ দেখার এই খবর নিশ্চিত করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ রোববার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই বরকতময় জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ইসলামি শরিয়ত ও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত পবিত্র হজের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। আগামী ২৫ মে থেকে পবিত্র মক্কায় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে তা চলবে কয়েকদিন ধরে। ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে চাঁদ দেখার এই ঘোষণার সরাসরি একটি প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। ভৌগোলিক কারণে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে নতুন চাঁদ দেখা যায় এবং ঈদ পালিত হয়। সেই চিরাচরিত হিসাব অনুযায়ী, সৌদিতে ২৭ মে ঈদ হলে বাংলাদেশে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তবে বাংলাদেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ জানতে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা পর্যন্ত দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।
মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা কবে উদযাপিত হবে, তা নিয়ে সবার আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তিউনিসিয়া ও তুরস্ক। দেশ দুটি নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২৭ মে তাদের দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। আর এই হিসাব অনুযায়ী, কাল সোমবার (১৮ মে) শুরু হচ্ছে আরবি বর্ষপঞ্জিকার শেষ মাস জিলহজ। যেহেতু জিলহজ মাসের ১০ তারিখে কোরবানির ঈদ পালিত হয়, তাই ২৭ মে দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তিউনিসিয়া এই ঘোষণা দিলেও তুরস্কের ঘোষণার পেছনের প্রক্রিয়াটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। তুরস্ক সাধারণত খালি চোখে চাঁদ দেখার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। সমাজ ও ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদ দেখা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে যে প্রচলিত বিতর্ক রয়েছে, তুরস্কের এই বিজ্ঞাননির্ভরতা তার একটি আধুনিক সমাধান। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখনো খালি চোখে চাঁদ দেখার রেওয়াজকেই ধরে রেখেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতও ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে নিজেদের পূর্বাভাস জানিয়েছে। দেশটির আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি) বলেছে, গণনা অনুযায়ী আজ রোববার (১৭ মে) জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। আর সেই পূর্বাভাস সত্যি হলে, আগামী ২৭ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। বিশেষ করে কোরবানির পশু কেনা, কর্মজীবীদের ছুটির পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ মেলানোর ক্ষেত্রে এই আগাম তথ্য অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপনের রেওয়াজ রয়েছে, তাই মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ মে ঈদ হলে বাংলাদেশে ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাতেই থাকতে হবে দেশের মানুষকে।
ঈদুল আজহা আসলেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, “আমার উপর কি কোরবানি ওয়াজিব?” কেউ চাকরি করেন, কেউ ব্যবসা করেন, আবার কেউ পরিবারে নির্ভরশীল। ফলে কে কোরবানি দেবেন আর কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি দেখা যায়। ইসলামিক স্কলারদের মতে, কোরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাই না, বরং ত্যাগ, তাকওয়া এবং সামর্থ্যের পরীক্ষা। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব। অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করলে গুনাহ হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার সামর্থ্য আছে কিন্তু কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।” - সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩ অনেক মুহাদ্দিস হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। কোরবানি কাদের উপর ওয়াজিব ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যেসব মুসলমানের মধ্যে নিচের শর্তগুলো পাওয়া যাবে, তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। প্রথমত তিনি মুসলিম হতে হবে।দ্বিতীয়ত তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। তৃতীয়ত তিনি মুসাফির না হয়ে নিজ এলাকায় অবস্থানকারী হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ থাকতে হবে, যা নেসাব পরিমাণে পৌঁছে। নেসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে কী বোঝায় হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কারও কাছে যদি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। এই সম্পদের মধ্যে থাকতে পারে: নগদ টাকা, স্বর্ণ বা রূপা, ব্যবসার পণ্য, সঞ্চয়, অতিরিক্ত জমি। তবে বসবাসের ঘর, ব্যবহারিক আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় গাড়ি সাধারণত নেসাবের হিসেবে ধরা হয় না। নারীদের উপর কি কোরবানি ওয়াজিব অনেকেই মনে করেন কোরবানি শুধু পুরুষদের জন্য। কিন্তু ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকলে নারীদের উপরও কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। যদি কোনো নারীর নিজের স্বর্ণালংকার, সঞ্চয় বা সম্পদ নেসাব পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলে তার উপরও কোরবানি ওয়াজিব হবে। এ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, আল আজহারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের আলেমরা একই মত প্রকাশ করেছেন। প্রশ্নঃ বাবা জীবিত থাকলে সন্তানের উপর কোরবানি হবে? এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলোর একটি। ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি তার নিজের সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাবা ধনী হলেই সন্তানের উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। আবার সন্তান উপার্জনক্ষম ও নেসাবের মালিক হলে বাবার সঙ্গে থাকলেও তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। আরো স্পষ্ট তথ্যের জন্য একজন অভিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হবেন। আপনি আর্থিকভাবে ঋণী হলে কোরবানি ওয়াজিব নয় যদি কারও ওপর এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করার পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। ইসলামিক স্কলাররা বলেন, ইসলাম কখনো মানুষের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করে না। কোরবানির গুরুত্ব কেন এত বেশি যে কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম না। কোরআনে আল্লাহ বলেন: “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৭ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। কোরবানি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিজের সম্পদের হিসাব আগে থেকেই মিলিয়ে নিন ঋণ ও প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নেসাব নির্ধারণ করুন শুধু লোক দেখানোর জন্য কোরবানি করবেন না পশু কেনার আগে সুস্থতা যাচাই করুন কোরবানির মাংস আত্মীয় ও গরিবদের মাঝে ভাগ করে দিন কোরবানি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সমাজের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেকে ধার করে বা কষ্ট করে শুধু মানুষের কথা ভেবে কোরবানি দেন, আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ অবহেলা করেন। অথচ ইসলাম ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানি আপনার ওপর ওয়াজিব কি না, সেটি আবেগ দিয়ে না, বরং সহিহ মাসআলা ও আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .