এআই খুঁজে দিচ্ছে হারিয়ে যাওয়া শুক্রাণু, এখন বাবা হতে পারবেন বন্ধ্যাত্ব পুরুষ

দিগন্ত প্রতিবেদন
দিগন্ত প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬ | রাত ৯:৫৬

বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা।

চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।

এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে।

গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে।

স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে।

চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান।

গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে।

কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খবরঃ বিবিসি বাংলা

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

বিশ্লেষন থেকে আরো

আরো দেখুন
এআই খুঁজে দিচ্ছে হারিয়ে যাওয়া শুক্রাণু, এখন বাবা হতে পারবেন বন্ধ্যাত্ব পুরুষ

বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা

দিগন্ত প্রতিবেদন ১৩ মে, ২০২৬ 0
ফোনে পানি ঢুকলে চালের মধ্যে রাখলে কি আসলেই কাজ করে?

ফোনে পানি ঢুকলে চালের মধ্যে রাখলে কি আসলেই কাজ করে?

পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি

পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি

নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে

নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে? প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো এক নজরে

পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

যদি আপনি সর্বোপরি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? তাহলে তার একটা উত্তর হবে তা হলো দুজাহানের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব , সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব , খাতামুন নাবিইয়ীন -  প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) শুধুমাত্র মুসলমানদের কাছেই নয় তদারকি পৃথিবীর অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছেই ইহকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বকালীন ভালো ব্যক্তিত্ব বলতে একটা মানুষকেই নির্দেশনা করে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। তিনি শুধুমাত্র একজন নবী এবং রাসুল নন, তিনি মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বোত্তম আদর্শ। তাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বলার কারণ কেবল তার ধর্মীয় অবস্থান নয় বরং তার অনন্য চারিত্রিক গুণাবলী, মানব কল্যাণ ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে ২৩ বছরের জীবনে সমগ্র আরবে যে আমুল পরিবর্তন তিনি এনেছিলেন এজন্য।  মাইকেল এইচ হার্ট যিনি একজন ঐতিহাসিক নিরপেক্ষ গবেষক এবং খ্রিস্টান ধর্মালম্বী তাদের মতো অনেক গবেষকরাও হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য তাদের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের রেংকিংয়ে প্রথম স্থানে রেখেছেন।  কেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ বলা হয় কেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ পৃথিবীর সবথেকে ভালো মানুষ ছিলেন তার ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। পৃথিবীর সবথেকে ভালো মানুষ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং আজীবন থাকবেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত দুত , সর্বশেষ নবী বা শেষ নবী। মুসলিম উম্মাহ তাকে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে গণ্য করে। তিনি ছিলেন উত্তম আদর্শের ধারক। তার জীবনকে সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরবরা তাকে আল আমিন হিসেবে উপাধি দিয়েছিল, নবুওয়াত লাভের আগে মক্কার লোকেরা তার সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য তাকে এই নামে ডাকতো।  এক নজরে হযরত মুহাম্মদ সাঃ হযরত মুহাম্মদ সঃ ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী এবং মানবজাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত মহান পথপ্রদর্শক। তাকে সর্বশেষ্ঠ মানুষ বলা হয় কারণ তিনি চরম অরাজকতার যুগে সততা ন্যায় বিচার ও মানবতার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন একজন স্নেহপরায়ণ স্বামী ও পিতা ছিলেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন বিচক্ষণ ও ন্যায় পরায়ন শাসক। চরম শত্রুকেও তিনি হাসিমুখে ক্ষমা করেছেন এবং সমাজের নিপীড়িত নারী ও দাসদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তা রেখে যাওয়া আদর্শ ও পবিত্র কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তির অনন্য উৎস।  একটা সময় আরবজাহান ছিল ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত।  তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। মূর্তি পূজা,  মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত ছিল মানুষ । এ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে, তাদের আলোর পথ দেখাতে আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এই পৃথিবী সৃষ্টি হতো না স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআনের মধ্যে এটি ঘোষণা দিয়েছেন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের মক্কায় কুরাইশ গোত্রের বনি হাসিম বংশের মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান এবং ছয় বছর বয়সে মাকে হারান। এতিম হিসেবে তার শৈশব শুরু হয়।  এরপরের প্রথমে তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং দাদার মৃত্যুর পরে চাচা আবু তালিব তাকে লালন পালন করেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ধৈর্য, কষ্ট সহিষ্ণুতা, এবং স্বাবলম্বিতার শিক্ষা লাভ করেন। তিনি চাচাদের সাহায্য করেন এবং মক্কায় পাহাড়ের ছাগল চরাতেন, পরে ব্যবসায়ী কাজে বিভিন্ন কাফেলায় অংশগ্রহণ করতেন। এরই মাঝে তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন এবং হেদায়েতের বার্তা নিয়ে মানুষকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।  তিনি ছিলেন ক্ষমা ও দয়ার মূর্ত প্রতীক মক্কা বিজয়ের পর যখন তিনি বিজয়ী বেশে সর্ববস করলেন তখন তার হাতে ছিল সকল পুরনো শত্রুর বিচার করার ক্ষমতা। কিন্তু তিনি সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করলেন। যারা তাকে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে অকথ্য নির্যাতন করেছে, যাদের কারণে তিনি তার এলাকা ত্যাগ করে অন্য এলাকায় হিজরত করেছেন, তিনি সকলকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন। আবার আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, তিনি যখন দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তায়েফবাসীর কাছে গেলেন তখন তাকে তায়েব বাসীরা পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিলেন, তখন তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেস্তা প্রেরিত হয়, তবে তিনি ফেরেশতাকে থামিয়ে তায়েফবাসীর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।  আর এখান থেকেই ক্ষমা একটি মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ছিলেন অতুলনীয় নম্র এবং বিনয়ী তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং বিনয়ী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজের যত নিজে সেলাই করতেন, ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করতেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে মাটিতে বসে আহার করতেন, তিনি নিজে খালি পেটে থেকেও তার উম্মতদের নিয়ে চিন্তা করতেন, এবং সাহাবাগণদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি কখনোই নিজেকে নিয়ে অহংকার করতেন না এমনকি কাউকে নিয়ে হিংসাও করতেন না, এমনকি তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন " তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, আমি কেবল আল্লাহর একজন বান্দা" । তিনি ছিলেন নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ আইয়ামে জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগে যখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করা দেয়া হতো তখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ ছিলেন এক আলোর বার্তা, প্রাচীন আরবের সমাজে আরো গোত্রে কন্যা সন্তান জন্মদেয়া কে চরম অপমানজনক ও দারিদ্র্যের কারণ মনে করা হতো। পাষাণ হৃদয়ের বাবারা সামাজিক লজ্জার ভয় নিজেদের নিষ্পাপ কনা শিশুদের মরুভূমির বাড়িতে জীবন্ত দাফন করে ফেলত।  একবার এক ব্যক্তি যখন মহানবীর কাছে নিজের কন্যাকে অতীতে জীবন্ত কবর দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা বর্ণনা করেন তখন নবীজি সঃ তা শুনে অঝোরে কেঁদেছিলেন। এরপরে তিনি এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি ইসলামের মাধ্যমে কঠোরভাবে এই হত্যাযজ্ঞ নিষিদ্ধকরণ করেন। এবং ঘোষণা করেন যে কন্যা সন্তান বোঝা নয়, বরং জান্নাত লাভের মাধ্যম। তার এই পদক্ষেপেই সমাজের নারীরা বেঁচে থাকার সম্মানজনক অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।  তিনি ছিলেন মানবিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারক তিনি শুধুমাত্র ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেননি বরং ইসলামের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন আরবে সুদের মতো শাসন মূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করেন, তিনি শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করেন। এবং তখন তিনি একটি বাণী প্রদান করেন " শ্রমিকের মজুরি তার ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগে দিয়ে দাও"। তিনি ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতেন, এক্ষেত্রে তিনি বলেছিলেন যে তার মেয়ে ফাতেমা ও যদি চুরি করত তবে তিনি তার হাত কেটে দিতেন। এক্ষেত্রে তিনি ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে সারা পৃথিবীতে থাকবে।  তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত এবং সৎ ব্যক্তিত্ব তিনি নবুওয়ত লাভের আগেই তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মক্কা নগরীর বিভিন্ন মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। মক্কার মানুষ তাকে " আল আমিন" বা বিশ্বস্ত উপাধি দিয়েছিলেন। নবুওয়ত লাভের পরে যখন মক্কার লোকেরা তাকে মারতে চেয়েছিল, তখনও তারা তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র তার কাছে গচ্ছিত রাখতো, যা তিনি মদিনায় হিজরতের সময়ও ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।  হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার জীবনে এতিম হিসেবে শুরু হলেও ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে জ্ঞান, ন্যায় বিচার এবং একত্ববাদের আলোয় উদ্ভাসিত করেন। কষ্ট সহ্য করেও তিনি একটি আদর্শ সমাজ ও মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছেন।  তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যে নৈতিকতা, দয়া, ক্ষমা , বিনয় ও ন্যায় বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা ১৪০০ বছর পরেও কোটি কোটি মানুষের জীবনের প্রভাব ফেলেছে। একজন ধর্মীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতা হিসেবে তার সাফল্য এবং ঔদার্য তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শকে ধারণ করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।  ভুল ত্রুটি মার্জনীয় - লেখার মধ্যে কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন -  শফিক/ডিপি  

ডেস্ক রিপোর্ট ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ 0