ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়। ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা। তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়? অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে। আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল আইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজই চলে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি কাজ—সবখানেই এনআইডি লাগে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন হঠাৎ এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় অথচ কার্ডটি সাথে থাকে না। এই বিপদে পড়লে আপনি কিন্তু চাইলে নিজের ফোন দিয়েই মাত্র ২-৩ মিনিটে মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মোবাইলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যেতে হবে। সেখানে 'রেজিস্ট্রেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর বা এনআইডি নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখটা সঠিকভাবে বসিয়ে দেবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যগুলো যেন আপনার ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া তথ্যের সাথে একদম মিলে যায়। পরের ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বাছাই করার পর আপনার মোবাইলে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হবে। আপনার নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি এখানে ব্যবহার করাই ভালো। মোবাইলে আসা কোডটি পোর্টালে বসিয়ে দিলেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরের ধাপে যেতে পারবেন। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে 'ফেস ভেরিফিকেশন' বা মুখ যাচাই করতে হবে। এর জন্য আপনার ফোনে আগে থেকে 'NID Wallet' নামের অ্যাপটি নামিয়ে রাখতে হবে। ব্রাউজারের কিউআর কোডটি ওই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলেই আপনার ক্যামেরা চালু হবে। এরপর ক্যামেরার সামনে আপনার মুখটা একবার সোজা, একবার ডানে এবং একবার বামে ঘুরালে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন হয়ে গেলেই আপনি আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়বেন। সেখানে আপনার ছবি ও নাম দেখা যাবে। প্রোফাইলের নিচের দিকে একটা 'ডাউনলোড' লেখা অপশন পাবেন। এই ডাউনলোডে ক্লিক করলেই আপনার এনআইডি কার্ডের আসল কপিটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এরপরে এটি আপনি যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন। এখন আর এনআইডির কপি পাওয়ার জন্য মেম্বার বা নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার কোনো ঝামেলাই নেই। ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আপনি যখন-তখন আপনার পরিচয়পত্র বের করে নিতে পারছেন।
সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান। জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা? এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২৩৭ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকিগুলো জোটের শরিকদের জন্য এবং কিছু আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করার জন্য রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ঘোষণার আগে, দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করতে পারে এবং নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো–
By using this site, you agree to our Cookie Policy .