আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই আশ্বাস দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে; আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।"
সিলেট জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হবে। বিশেষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।"
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।"
এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী চারটি বিশালাকায় ট্যাংকার পৌঁছানোর খবরে দেশের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা কাটতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার বন্দরে পৌঁছাচ্ছে তিনটি জাহাজ এবং আগামী রোববার ভিড়বে আরও একটি। সব মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন নতুন ডিজেল যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় মজুতে, যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ধরণের স্বস্তি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেল মজুত ছিল। নতুন এই চারটি চালানের তেল খালাস সম্পন্ন হলে মোট মজুতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। অর্থাৎ, এই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে কোনো ধরণের বিঘ্ন ছাড়াই সারা দেশের প্রায় ২৫ দিনের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আজ 'এমটি ওকট্রি', 'এমটি কেপ বনি' ও 'এমটি লিয়ান সং হু' জাহাজ তিনটি বন্দরে ভিড়ছে এবং রোববার পৌঁছাবে 'এমটি গোল্ডেন হরাইজন'। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ করে ডিজেল, যা মূলত পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের প্রাণভোমরা। বিশেষ করে কৃষিখাতের সেচ এবং পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের চলাচল সরাসরি এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই বিশাল আমদানির ফলে তা পুরোপুরি কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাহাজগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তেল খালাস করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরবরাহ বাড়ার এই খবরে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ পরিবহন মালিক ও কৃষকদের মাঝেও।
সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি এখন চাকরিপ্রার্থীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো - ৫ লাখ পদের এই বিশাল নিয়োগের আবেদন আসলে কবে থেকে শুরু? জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগের এই পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে শুরু না হয়ে বরং সরকারের ‘থ্রি-স্টেপ’ বা তিন ধাপের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপ: আগামী ৬ মাসের মধ্যেই শুরু জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সবথেকে আশার দিক হলো, প্রথম ধাপের নিয়োগের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২৮৭৯টি শূন্যপদের নিয়োগ কার্যক্রম আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই এই পদগুলোর জন্য অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার আসা শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপ: এক বছরের মেগা সার্কুলার সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ৪৪৫৯টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এই পদগুলোর জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এছাড়া দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ফলে আগামী এক বছর দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরেই নতুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যাবে। তৃতীয় ধাপ: ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বিশাল এই ৫ লাখ নিয়োগের বড় অংশটি সম্পন্ন হবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ৩১১০টি বিশেষ পদের কথা উল্লেখ করা হলেও, পর্যায়ক্রমে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্যপদ পূরণের কাজ চলবে। এটি মূলত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হবে, যেখানে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের অধীনে বড় বড় সার্কুলার আসবে। আবেদন করবেন যেভাবে সরকারি নিয়োগের এই মহোৎসবে অংশ নিতে প্রার্থীদের সব সময় নজর রাখতে হবে মন্ত্রণালয়গুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সরকারি চাকরির টেলিটক পোর্টালে। বেশিরভাগ নিয়োগই এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেহেতু ৫ লাখ নিয়োগের ঘোষণা চলে এসেছে, তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের নিজস্ব জনবল কাঠামো অনুযায়ী খুব দ্রুতই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া শুরু করবে।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে পারেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .