দেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে আবারও পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের ওপরই ভরসা রাখতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু ভ্যাট খাত থেকেই ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই লক্ষ্যমাত্রা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় অর্ধেক।
মূলত আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত পূরণ এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতেই সরকার এই বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বাজেটে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান তৈরি এবং বর্তমানের প্রধান সমস্যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী বাজেটের আকার প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে আয়কর থেকে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি এবং শুল্ক খাত থেকে ৬৭ হাজার কোটি টাকা আসার কথা। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও কর আদায় না হওয়ায়, আগামী বছরের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবারো বেড়েছে দেশের রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে। ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করলে এই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর নির্ধারিত ‘বিপিএম-৬’ পদ্ধতি অনুসরণ করে বর্তমানে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০.৩৭ বিলিয়ন ডলারে। সাধারণত আমদানিসহ বিভিন্ন দায় মেটানোর সক্ষমতা যাচাইয়ে আইএমএফ-এর এই নিট রিজার্ভের হিসাবটিকেই বিশ্বব্যাপী বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা ১৫ এপ্রিলঃ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম যেন রকেটের গতিতে বাড়ছে আবার হুটহাট কমে যাচ্ছে । সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্যবান ধাতুর দাম আবারও এক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ ১৫ এপ্রিল থেকে নতুন এই আকাশচুম্বী দাম কার্যকর করা হয়েছে। আপনি যদি এখন গয়না কেনার কথা ভাবেন, তবে পকেটের দিকে তাকিয়ে আরেকবার হিসেব কষে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আগে যেখানে ২২ ক্যারেটের দাম ছিল ২,৪৭,৯৭৭ টাকা, এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫০,১৯৩ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ভরিতেই দাম বেড়েছে ২ হাজার টাকার বেশি। এই মানের স্বর্ণ মূলত সর্বোচ্চ বিশুদ্ধতার গহনা তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। পিছিয়ে নেই অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও। প্রচলিত গহনা তৈরির জন্য জনপ্রিয় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২,৩৬,৭২১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৩৮,৮২০ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট বা মিশ্র সোনার গহনার দাম ভরিপ্রতি ২,০২,৮৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০৪,৭০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি পুরনো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির বা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও ১,৬৫,২৭৯ টাকা থেকে বেড়ে ১,৬৬,৭৩৭ টাকায় ঠেকেছে। স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করছে বাজুস। বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট এবং ডলারের দামের ওঠানামার কারণে স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা এই নতুন দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন স্বর্ণ কেনা একটি দুঃসাধ্য কাজে পরিণত হয়েছে। আপনারা যারা এই সময়ে স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছেন, তারা দোকানে যাওয়ার আগে বর্তমান রেটটি অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নেবেন। বাজারের অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে, তাতে বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনা এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গয়না কেনার আগে অবশ্যই হলমার্ক করা স্বর্ণ কিনছেন কি না, সেটি যাচাই করে নিতে ভুলবেন না।
দেশের অর্থনীতিতে একটি উজ্জ্বল খবর এসেছে। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে এক মাসে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের মার্চে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার। সেই তুলনায় এবার বৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। এই কারণেই এই বিশাল রেকর্ড। তার আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার, সেই তুলনায়ও মার্চের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২১ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে এই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ডলার। রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী ধারার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। বিভিন্ন আমদানি দায় পরিশোধের পরও ১ এপ্রিল শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.২৫ বিলিয়ন ডলারে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .